| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কাওসার জামান
আমি একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ পেশাজীবী। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজচেতনা ও সমাজপরিবর্তন নিয়ে লেখালেখি করার অনুপ্রেরণা আমি আমার মানবকল্যাণকামী মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। অবিরত ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে মানবসমাজ উন্নততর অবস্থানে পৌঁছুবে এ আমার আন্তরিক চাওয়া।
১৯৯১ এর আগ পর্যন্ত শফিক রেহমান জামাত-বিএনপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরোধিতা করেছেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ অনুগত থেকেছেন।
১৯৯১ এ ভাঁওতাবাজির মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর শফিক রেহমানের চিন্তা ও আনুগত্যে বিরাট পরিবর্তন আসে। বিএনপির খারাপ কাজগুলিকেও তখন তিনি ইনিয়ে বিনিয়ে সমর্থন করেছেন।
এর পিছনে কোন্ বিষয়টি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে তা একটি তথ্যে পরিষ্কার হয়ে যাবে। ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপির ৫ বছরের শাসনে যে ৪টি প্রিন্ট মিডিয়া সবচেয়ে বেশি সরকারী বিজ্ঞাপন পেয়েছে সেগুলির একটি ছিল শফিক রেহমানের যায়যায়দিন ম্যাগাজিন।
দেশের খ্যাতনামা সব সংবাদপত্রকে বাদ দিয়ে বিএনপি তাদের অনুগত দিনকাল, যায়যায়দিন, ইনকিলাব আর দৈনিক বাংলাকে সর্বাধিক সরকারী বিজ্ঞাপন দিয়েছে। সেই হিসেবে বিএনপির সেবা করা শফিক রেহমানের জন্য ফরয হয়ে গিয়েছিল।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত শফিক রেহমান আওয়ামীলীগবিরোধী একচেটিয়া অবস্থান নেন। তখন তিনি আওয়ামীলীগের ভালো কাজগুলিরও অভব্য সমালোচনা করেছেন।
কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির দু:শাসনকালে শফিক রেহমান বিএনপির বিরুদ্ধে একটি শব্দও খরচ করেন নি, এমনকি ২১শে আগস্টের হামলারও নিন্দা করেন নি। বরং সেই হামলায় শেখ হাসিনার কানের কোনো ক্ষতি হয় নি এমন কিছু প্রমাণের জন্য তিনি উঠেপড়ে লাগেন।
বিএনপির ঐ আমলে শফিক রেহমান ঢাকার তেজগাওয়ে শতকোটি টাকা মূল্যের সরকারী জায়গা দখল করে নেন তথাকথিত এক মিডিয়া ট্রাস্টের নামে।
১/১১ তে জরুরী অবস্থা জারির রাতেই শফিক রেহমান দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে গোপনে এয়ারপোর্টে চলে যান। খবর পেয়ে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সেখানে গিয়ে বিমান থেকে নামিয়ে তাকে ধরে আনে। তার পকেটে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বেশ কয়েকটি টিকেট পাওয়া যায়।
বছরখানিক আগে একটি জামাতি পত্রিকায় তার এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয় যেখানে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের শুটিং প্র্যাক্টিসে মন দেয়া উচিত যাতে করে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর উপর তাদের শুটিং দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ বাড়ে।
বিএনপি-জামাত যাকে তাকে নাস্তিক ঘোষণা করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে। কিন্তু স্বঘোষিত নাস্তিক শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে তারা টুঁশব্দটিও উচ্চারণ করে নি। কারণ ধর্ম নয়, স্বার্থোদ্ধারই তাদের কাছে বড়।
সর্বোপরি, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কাউকেই গ্রেফতার করতে পারে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বয়স বা পেশা এক্ষেত্রে কোনো ফ্যাক্টর নয়। জার্মানি ৯০ ঊর্ধ্ব বয়সের যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, আমেরিকায় জড়ো হয়ে কিছু সন্ত্রাসী প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র করেছিল তার সাথে শফিক রেহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। কেনো তাহলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না?
ঐ ষড়যন্ত্রের সাথে তিনি জড়িত না থেকে থাকলে তা প্রমাণের দায় শুধু তার। বয়স বা পেশা তাকে নির্দোষ প্রমাণ করবে না।
©somewhere in net ltd.