নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কাওসার জামানের ব্লগ

কাওসার জামান

আমি একজন সনদপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষণ পেশাজীবী। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজচেতনা ও সমাজপরিবর্তন নিয়ে লেখালেখি করার অনুপ্রেরণা আমি আমার মানবকল্যাণকামী মা-বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। অবিরত ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে মানবসমাজ উন্নততর অবস্থানে পৌঁছুবে এ আমার আন্তরিক চাওয়া।

কাওসার জামান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অপরাধীর সমর্থক হওয়ার অধিকার দেয় না

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮

আরেকজনের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলায় নাকি তার নিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে। এ বক্তব্য ইমরান সরকারের।

সে শফিক রেহমানের গ্রেফতারের নিন্দা করেছে। অথচ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, শফিক রেহমানকে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রয়োজনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাহলে এ গ্রেফতারের নিন্দা করা কোন্ মাপকাঠিতে সঠিক? এটা কীভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত হয়?

কোনো অপরাধী সরকারবিরোধী মতের অনুসারী হলে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না? কোন্ আইন এটা বলেছে?

কিংবা ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির বয়স বা পেশা কি কখনো কোনো ফ্যাক্টর? জার্মানি তাহলে ৯০ ঊর্ধ্ব বয়সের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে কেনো?

বিএনপি বা এর সঙ্গীরা যতই বলুক যে, শফিক রেহমান নির্দোষ তাতে তো আর শফিক রেহমানের অপরাধের প্রমাণগুলি মিথ্যে হয়ে যাবে না। এটা স্বাভাবিক যে, রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য বিএনপি তার সেবাদাস শফিক রেহমানের পক্ষ নেবেই।

কিন্তু ইমরান কেনো তা করবে গ্রেফতারের কারণ প্রকাশ্যে জানানোর পরও? কেনো সে এক অভিযুক্তের গ্রেফতারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত বলে অপপ্রচার করবে? তার মানে এ সন্দেহ ভুল নয় যে, ইমরান সুবিধাবাদী?

সে এখন বলছে, সে শফিক রেহমানের মুক্তি দাবী করে নি। কী চমৎকার! গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করা আর মুক্তি দাবী করার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? বুঝাই যাচ্ছে, ইমরানের মস্তিস্কে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন যায় না।

সে আরো বলেছে, দেশে অনেক অপরাধ হচ্ছে, সেগুলির বিচার হয় নি, প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের ষড়যন্ত্রের জন্য অভিযুক্ত একজনকে নিয়ে এত মাতামাতি কেনো? এক অপরাধের বিচার না হলে কি আরেক অপরাধের বিচার করা যায় না?

জিয়া-এরশাদের আমলে শত শত খুন হয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগটারই বিচার হয় নি। তাহলে ইমরান কেনো আরো পুরানো যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবী করছে?

এটা বলা যেতো যে, শফিক রেহমানের বিচার করার পাশাপাশি অন্য সব অপরাধেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু না, সে চাইছে শফিক রেহমানের অপরাধকে যেন উপেক্ষা করা হয়। তাকে যদি বিএনপির তল্পিবাহক বলা হয় তবে সেটা কি ভুল হবে?

তাকে ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিস্টে না রাখার আহবান জানানোকে সে তার মতপ্রকাশের অধিকারের উপর আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। সত্যি হলো, সে যেমন যে কাউকে ফ্রেন্ড বানাতে পারে তেমনি অন্যরাও তাদের ভক্তদের আহবান জানাতে পারে তাকে ফ্রেন্ড লিস্টে না রাখার।

এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়, বরং এক প্রচারলোভী ভন্ডের আইনবিরোধী অবস্থানের নিন্দা করা। কেউ যদি অপরাধীর সমর্থক হয় তাহলে তার পাল্লা থেকে নিজের ভক্তদের বের করে আনার চেষ্টা করা সুনাগরিকের কাজ।

রাজাকারদের বিচারাকাঙ্ক্ষী হিসেবে একসময় আমিও জোরালোভাবে শাহবাগ আন্দোলনের পাশে থেকেছি। কিন্তু ইমরানের দ্বিচারিতা লক্ষ্য করে সেই ২০১৩ সাল থেকেই তাকে উপেক্ষা করছি।

শুরুতে বললেও ধীরে ধীরে সে জয় বঙ্গবন্ধু বলা বাদ দিয়ে দেয়। অথচ শাহবাগ আন্দোলন শুরুই হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নামে। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু চিরকাল অবিচ্ছেদ্য। ইতিহাসের এ চিরন্তন সত্যকে যে এড়িয়ে যায় সে কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করবে?

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.