| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া কিংবা প্রযুক্তি আসার পর অনলাইন লাইব্রেরি—কোনো মাধ্যমই বাদ রাখিনি। এমনকি গত বছরও মীরের ইউটিউব চ্যানেলে ওনার কালজয়ী 'কালবেলা' উপন্যাসের অডিও প্রেজেন্টেশন শুনে নতুন করে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
তবে সমরেশ মজুমদারের জীবনের শেষভাগে এসে লেখা 'নবকুমার ট্রিলজি' (কলিকাতায় নবকুমার, ক্যালকাটায় নবকুমার এবং ফিল্মস্টার নবকুমার) সম্পর্কে এতদিন আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সম্প্রতি টানা পড়ে বই তিনটি শেষ করলাম।
সাধারণত দেখা যায়, কোনো ক্রিয়েটিভ রাইটার বয়সের একটা পর্যায়ে গিয়ে নতুন লেখালেখির উৎসাহ বা রসদ হারিয়ে ফেলেন। পুরনো সফল গল্প-উপন্যাস দিয়েই তারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পাঠকদের হৃদয়ে টিকে থাকেন। কিন্তু এই জায়গায় সমরেশ মজুমদার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম! জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তিনি যে এভাবে একটানা লিখে গেছেন, তা ভেবে অবাক হতে হয়।
অবশ্য সত্য বলতে কি, বিষয়বস্তুর দিক থেকে 'নবকুমার ট্রিলজি'-তে একদম নতুন কিছু পেয়েছি তা বলবো না। কারণ এই একই থিম নিয়ে তাঁর লেখা আরও দু-তিনটি উপন্যাস আমি বহু আগেই পড়েছি। একটি গল্প ছিল একজন নামকরা অভিনেত্রীর জীবনের উত্থান-পতনের করুণ রূপকথা নিয়ে। অন্যটির প্লট ছিল এক লাইটম্যানের ছেলেকে কেন্দ্র করে—বাবার মৃত্যুর পর যে ছেলে বাবার পেশায় ঢুকে লাইটম্যান থেকে ধাপে ধাপে নিজের যোগ্যতায় এক সফল ফিল্ম ডিরেক্টর হয়ে ওঠে। এছাড়া কোনো এক পুজোসংখ্যায় 'তিতীর' নামের এক মেয়ের টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে স্টার হয়ে ওঠার চমৎকার একটা ছোট উপন্যাসও পড়েছিলাম।
সুতরাং টপিক একই—গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পর্দার পেছনের স্ট্রাগল, সাফল্য, ক্ষমতার খেলা, আর জীবনের টানাপোড়েন।
উপন্যাস হিসেবে 'নবকুমার ট্রিলজি' সাহিত্যিক বিচারে কতটা সফল—তা সমালোচনা করার বড় কোনো যোগ্যতা আমার নেই। তবে একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে বলছি, পড়তে ভীষণ ভালো লেগেছে। গল্প এত চমৎকার গতিতে এগিয়েছে যে একটানে তিনটি বই পড়ে শেষ করেছি। প্রিয় লেখকের শেষ বয়সের সৃষ্টিতেও সেই পরিচিত জাদুকরী স্বাদটুকু পেয়ে সত্যিই ভালো লাগলো!
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যের জন্য। সময় করে পড়ে দেখতে পারেন।
২|
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮
রাজীব নুর বলেছেন: দীর্ঘদিন আমি বই পড়িনি।
এখন আবার পড়তে শুরু করেছি। পুরোনো বই গুলোই আবার নতুন করে পড়তে শুরু করেছি। এই তো কয়েকদিন আগে শেষ করলাম শীর্ষেন্দুর ''চক্র''। এখন ধরেছি সুনীলের পূর্ব পশ্চিম।
সমরেশ আমার খুব বেশি পড়া হয়নি। তবে 'প্রজাপতি' টা পড়েছি।
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: বাহ! জেনে ভালো লাগলো। আমিও একসময় পড়া বই বারবার পড়তাম। তবে সমরেশ বাংলা সাহিত্যে দুইজন আছেন। একজন বসু, অন্যজন মজুমদার। আপনি ‘প্রজাপতি’ উপন্যাসটির উল্লেখ করেছেন এটা সমরেশ বসুর লেখা উপন্যাস।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
৩|
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: উত্তরাধিকার , কালবেলা ও কালপুরুষ পড়েছিলাম । ভালো লেগেছে । বই পড়ার সময় খুব কম পেতাম ।
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গপাদ্ধায় এবং শীরশেন্দু মোখপাদ্ধায় এর বই পড়েনি এমন বাংলাভাষী পাঠক খুব কমই আছেন। বই পড়াটা আসলে নেশার মতো। একবার পেয়ে বসলে ছাড়তে চায়না।
৪|
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:১২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: প্রিয় লেখকের শেষ বয়সের সৃষ্টিতেও সেই পরিচিত
জাদুকরী স্বাদটুকু পেয়ে সত্যিই ভালো লাগলো!
......................................................................
এবার আপনাকে ভিন্ন আঙ্গিকে পেলাম, ভালো লাগল
চলতে থাকুক , আমরা সঙ্গে আছি ।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৯
সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: সমরেশ আমার ও প্রিয় লেখক, তাঁর অনেক লেখাই পড়েছি। নবকুমার পড়া হয়নি।