| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু
লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।
টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই নাকি বিআইডব্লিউটিসি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে এবং সরকারের ৭১৭ কোটি টাকার ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে!
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে সংস্থাটির মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি টাকারও বেশি। শুধু তা-ই নয়, একসময় আয়ের মূল উৎস মাওয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আয়ের গ্রাফ কেবল নিচের দিকেই নেমেছে। লোকসান সামাল দিতে তাদের বিলাসবহুল যাত্রীবাহী নৌযান এমভি বাঙালি, এমভি রূপসা, এমভি মধুমতি ও এমভি সুগন্ধাকে এখন ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তরের খাতা-কলমে পরিকল্পনা চলছে, সোনারগাঁওকে করা হয়েছে ভাসমান রেস্তোরাঁ, আর ঐতিহ্যবাহী চারটি প্যাডেল স্টিমারের তিনটিই এখন অলস পড়ে আছে।
এখন প্রশ্ন হলো, পদ্মা সেতু চালু হওয়াটাই কি বিআইডব্লিউটিসির এই করুণ পরিণতির একমাত্র কারণ? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে সরকারি আমলাতন্ত্রের চরম অনভিজ্ঞতা, অনিয়ম-দুর্নীতি আর বাণিজ্যিক ভিশনের অভাব?
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে প্রভাব পড়েছে—এটা সত্য। কিন্তু তাই বলে কি নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা একদম থমকে গেছে? তা তো নয়! বেসরকারি লঞ্চ মালিকদের দিকে তাকালেই তো আসল সত্যটা আয়নার মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। পদ্মা সেতু চালুর পরও কিন্তু বরিশাল রুটের লঞ্চ ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়নি। যদি এই খাত একেবারে অলাভজনকই হয়ে যেত, তবে কিছুদিন আগে বরিশাল রুটে বিশালাকার ও অত্যাধুনিক ‘এম. খান’ লঞ্চটি কেন সার্ভিসে নামানো হতো? বেসরকারি মালিকরা ঠিকই ব্যবসা বুঝে কৌশল বদলে লাভজনকভাবে লঞ্চ চালাচ্ছেন, অথচ সরকারি সংস্থা দিনশেষে লোকসানের জঘন্য অজুহাত দাঁড় করাচ্ছে।
আসলে মূল সমস্যাটা আমাদের সরকারি সিস্টেমে। সরকারি সংস্থাগুলো যাঁরা পরিচালনা করেন, সেই আমলা বা কর্মকর্তাদের বড় অংশই ব্যবসা বোঝেন না। তাঁরা শুধুই চাকরি করেন, মাস শেষে নিশ্চিত বেতন পকেটে পুরেন। প্রতিষ্ঠান লাভে চলুক কিংবা তলানিতে গিয়ে ঠেকুক—তাতে তো তাঁদের বেতন আটকায় না! এটি যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতো, তবে ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে যেকোনো মূল্যে একে লাভে ফেরানো হতো, অথবা অলাভজনক খাতটি বন্ধ করে নতুন সম্ভাবনাময় পথ খোঁজা হতো।
বিআইডব্লিউটিসির অলস বসে থাকা বা ভাসমান হাসপাতাল বানানোর নামে ফেলে রাখা এই মূল্যবান সম্পদগুলোকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার হাজারটা বাণিজ্যিক উপায় আছে। একটি চমৎকার উদাহরণ দেওয়া যাক—খুলনা থেকে সুন্দরবনে যেসব বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল পর্যটকবাহী জাহাজ চলে, সেগুলোর সার্ভিস যেমন দারুণ, তেমনই লাভজনক। পর্যটন মৌসুমে এই শিপগুলো খুলনা থেকে পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনে যায়, দুই-তিন দিন অবস্থান করে আবার ব্যাক করে। বিআইডব্লিউটিসির যে বড় বড় আধুনিক জাহাজগুলো আছে, সেগুলোকে ভাসমান হাসপাতাল বানিয়ে ফেলে না রেখে পর্যটন মৌসুমে ঢাকা থেকে সুন্দরবনে রুট করে চালানো যেতে পারে, অথবা চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে নামানো যায়।
একইভাবে, তাদের পুরনো যে ঐতিহ্যবাহী রকেটগুলো অলস পড়ে আছে, সেগুলোকে ভাসমান রেস্তোরাঁ বা ট্যুরিস্ট ক্রুজে রূপান্তর করে ঢাকা থেকে চাঁদপুর কিংবা মেঘনা নদী পর্যন্ত চালানো যায়। আর বর্ষা মৌসুমে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে চমৎকার 'হাউসবোট' হিসেবেও তো পরিচালনা করা সম্ভব! এমনকি সরকারি ব্যবস্থাপনায় যদি একান্তই চালানো সম্ভব না হয়, তবে এই বড় জাহাজগুলোকে উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া যেতে পারে, কিংবা পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভাসমান আবাসিক হোটেল হিসেবে ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করা সম্ভব।
সম্প্রতি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের পেছনের আসল কারণ ও অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়ে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কেবল কমিটি গঠন আর অজুহাতের সংস্কৃতি দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাঁচানো যাবে না। আমলাতান্ত্রিক স্থবিরতা ঝেড়ে ফেলে বেসরকারি খাতের মতো ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা ও সঠিক পরিকল্পনা প্রয়োগ করতে না পারলে, পদ্মা সেতুর দোহাই দিয়ে বিআইডব্লিউটিসিকে একসময় পুরোপুরি ইতিহাসের জাদুঘরে ঠাঁই নিতে হবে।
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৩
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইবিএ এবং বিআইএম থেকে অনেক গ্রাজুয়েট বের হন যারা ব্যবসা ভালো বুঝেন এবং তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতা দেখিয়েছেন। এই সব সফল ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সরকার চাইলে অনেককেই কাজে লাগাতে পারেন। সরকারী যেসকল ব্যবসা বানিজ্য আছে সেগুলোতে এই ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া যেতে পারে, প্রয়োজনে তারা লাভের অংশ পাবেন এমন শর্ত থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের মুখ দেখাতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।
আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
২|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এখন আইবিএ থেকে পাশ করা আশিকুর রহমান । বিনিয়োগের কি অবস্থা ? আশিক ভাই এখন হেলিকপ্টারে করে চলাফেরা করেন । এদিকে সরকার প্রধান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান ।
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৮
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: ভাই আশিক সাহেব যেকোনো আমলার থেকে ব্যবসা ভালো বুঝেন। ফরেন ইনভেস্টমেন্ট আনা আর দেশের মধ্যে বসে চালু ব্যবসা পরিচালনা করা কি এক বিষয়?
মন্তব্যের জন্য আবারো ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বিসিআইসি ৯১৩ কোটি টাকা লসে রয়েছে , তবু সরকার আবার তিন সার কারখানা করতে চায়। দেশের অধিকাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠান লসে আছে । বিটিভি ৪৩৮ কোটি টাকা লস করেছে , এরপরও মহাপরিচালক করা হয়েছে কাজী জেসিন কে । দেখা যাক কি হয় ।