নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাথা পাগলা

মাথা পাগলা › বিস্তারিত পোস্টঃ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CIDI?

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি ছিল। বিলিভ করেন আর নাই করেন, সাধারণ জনগণের মধ্যে যারা লীগ সাপোর্ট করে, তাদের মধ্যেও অনেকে এই বিপ্লবকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ যদি টের পেত এই বিপ্লবের পেছনে রাজাকার-জাশির হাত ছিল, তাহলে জনগণ কি এই আন্দোলনকে সমর্থন দিত? সমন্বয়কদের দুই বছর আগের গ্রহণযোগ্যতা আর বর্তমানের গ্রহণযোগ্যতা কম্পেয়ার করলেই বিষয়টা বোঝা যায়। আগে এরা লীগের ছত্রছায়ায় ছিল, বিপ্লবের সময় বুঝিয়েছে তারাই একমাত্র দেশপ্রেমিক, এখন জাশির ছত্রছায়ায় থেকে বোঝাচ্ছে পাকিস্তানই যেন তাদের মাতৃভূমি। গণভবনের লুটপাট-এসব রাজাকার জঙ্গিরাই আগে থেকে প্ল্যান করে রেখেছিলো বলে আমি মনে করি। এটা বলতে গিয়েই হঠাৎ আরেক সমন্বয়কের কথা মনে পড়ল। কারফিউ তুলে নেবার পর তিনি লাইভে এসে বেশ উত্তেজিতভাবে হাসিনার পতনের ডাক দিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দেখিনি। তিনি কি বেঁচে আছেন?

এখন আসা যাক জুলাই বিপ্লবের পরের ঘটনা নিয়ে। মাহফুজ আলম ৭ মার্চের ভাষণ ব্যান থেকে শুরু করে শেখ মুজিবের ছবি সমস্ত মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেন। অথচ মাহফুজ রিসেন্ট টক শোতে মুজিবের বন্দনা করতে বাধ্য হয়েছেন, এখন বলছেন "খেলা শেষ, খোদা হাফেজ।" বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ আর হাসিনার বাবা বলে শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করলে, যে কোনো রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশের জনগণের কাছে শেষ পর্যন্ত দেশবিরোধী দল হিসেবেই পরিচিতি পাবে।

হাসিনা পতনের পর ইউনুসের মব পার্টি মুক্তিযুদ্ধকে যখন-যেখানে সুযোগ পেয়েছে, ছোট করে দেখানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানো, মামলা দেওয়া থেকে শুরু করে ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা, স্বাধীনতার ভাস্কর্যের ওপর হামলাযজ্ঞ চালানো, মাজার ভাঙ্গার উৎসব - এসব জুলাই জঙ্গিদের দেশপ্রেমের নমুনা। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে এমন কোনো সেক্টর খুঁজে পাবেন না, যেখানে জুলাই জঙ্গিরা তাদের দেশ প্রেমের ছাপ রাখে নাই।

জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে আলোচিত শহীদ হচ্ছেন হাদী। অথচ হাদী বারবার বলেছেন, ৭১ ছিল দেশবিরোধী অ্যাক্টিভিটি এবং জুলাই হয়েছে ৭১-এর ভুলকে ঠিক করার জন্য। বহু চেষ্টা করা হয়েছিল ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এই শহীদের নাম স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার, জনগণের চাপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।



জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষের অভিযোগে শাওন ও মাহিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদ মাধ্যমে এক জঙ্গি গর্ব করে বলেছে, সামনে পেলে এদের দুই পা ছিঁড়ে ফেলবে। বাংলাদেশের এসব রাজাকার জঙ্গিদের কাছে '৭১/জাতীয় সংগীতকে অসম্মান করা (সংসদে হাসনাতের অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর সন্মান জানিয়েছিলো), "বঙ্গবল্টু" বলা, স্বজন হারানোর বেদনা "CIDI NA", জিন্নাহর স্মরণসভা করা - এসবই দেশপ্রেমের নিদর্শন - এগুলা কোন ক্রিমিনাল অফেন্স না। কিন্তু "জুলাই CIDI" বললেই সেটা নাকি ক্রিমিনাল অফেন্স হয়ে যাবে। আমি মনে করি, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণের কাছে - যারা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল এখন তাদের কাছে জুলাই বিপ্লব মানেই "জুলাই CIDI"।

দিনশেষে, সরকারি উদ্যোগে "জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস" চালু হলেও ১৯৭১-এর স্বাধীনতা দিবস বা বিজয় দিবসের মতো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিবেশ দেখা যায়নি। বরং "জুলাই বিপ্লব" না "ঝুলাই CIDI" সেই বিতর্কই বেশি চোখে পড়ছে।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সাধু সাবধান... :)

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৩

মাথা পাগলা বলেছেন: সাধু... হা হা! যত গণ্ডগোল, সব ২৪-এর আগে ছিলো - এখন নাই, প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা মনে করে ২৪-এর আগে দেশে একটাও ভালো কাজ হয় নাই। =p~

২| ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের
রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ।

.........................................................................
সাধারন জনগন এভাবে ভাংচুর বা লুট তরাজ করেনা ।
মেটিকুলাস ডিজাইন ও আর্মীর সহায়তা ছাড়া এই বিষয়টি
অন্যরকম হতে পারত ।

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৬

মাথা পাগলা বলেছেন: সাধারন জনগন এভাবে ভাংচুর বা লুট তরাজ করেনা।

ঠিক বলেছেন। গনভবনের লুটপাটের কথা সেজন্যই বলেছি। ভাঙচুর আর সাধারণ মানুষের সমর্থন দুইটা এক জিনিস না। সাধারণ মানুষের সমর্থন ছাড়া এত বড় আন্দোলন সম্ভব ছিল না। তখনকার পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন। মেটিকুলাস ডিজাইনের ঘটনায় তখন হাসিনাকে নিয়ে একটা পজিটিভ কথাও শোনা যায়নি, চারদিকে শুধু সমালোচনা। আমার পরিচিতদের মধ্যে এমন কাউকে দেখিনি, যে তখনকার পরিস্থিতিতে হাসিনার পতন চায়নি। এখনকার ঘটনা দেখে অনেক কিছুই বিশ্লেষণ করা যায়, কিন্তু তখন পরিস্থিতি ছিল অন্য রকম।

৩| ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:১৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
ZooLieCDI

০৮ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:৩০

মাথা পাগলা বলেছেন: ইতিহাসে বড় বড় ক্ষমতার পতন ষড়যন্ত্র ছাড়া হয়নি। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি, শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে। পাকিস্তানপন্থীদের জয় হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.