| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে ভরা দৃশ্য দেখলাম। নিজের কলিজার টুকরো, তরুণী মেয়ে কারিনা কায়সারের নিথর লাশের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে একজন মাকে বারবার বলতে হচ্ছে—"আমরা চুরি করিনি।আমরা জুলাই যোদ্ধা না। আমরা গণভবনে সেদিন যাইনি। আমাদের কে অপবাদ দেবেন না।" একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষিকাকে যখন নিজের মেয়ের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে সততার প্রমাণ দিতে হয়, তখন বুঝতে হবে এই সমাজের কোথাও একটা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটে গেছে।
ক্যাপ্টেন কায়সার হামিদের পরিবার এদেশের কোনো সাধারণ নাম নয়। এই নামের পেছনে জড়িয়ে আছে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বলতম ইতিহাস। যার মা রানী হামিদ এই উপমহাদেশের দাবা জগতের এক জীবন্ত কিংবদন্তি, সারা বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কায়সার হামিদ নিজে বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক সফল অধিনায়ক এবং কোটি মানুষের প্রিয় তারকা। আর উনার স্ত্রী লোপা হামিদ দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা। এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান কারিনা কায়সার, যিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কনটেন্ট ও অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন।
যেকোনো সরকারের পতনের আন্দোলনে যেকোনো নাগরিক অংশ গ্রহন করতে পারে সেটা তার সাংবিধানিক অধিকার। অন্যন্য নাগরিকের মতো সরকার বিরোধী আন্দোলনে এই পরিবারেরও সংহতি প্রকাশের অধিকার ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর লুটপাট, অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর করা এগুলো ফৌজদারী অপরাধ। এই পরিবার সেই ফৌজদারী অপরাধ কে উপজীব্য করে উৎসাহিত করে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করেছিল।
কিন্তু ৫ই আগস্টের পর গণভবনে সাধারণ মানুষের প্রবেশের স্রোতে গা ভাসিয়ে এই পরিবারটি যে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেছিল, তা এক চরম ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। হয়তো নিছক কৌতূহল বা দুষ্টুমির ছলে, আনন্দের আতিশয্যে তারা সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। কিন্তু একটি সম্ভ্রান্ত ও সমাজকে পথ দেখানোর মতো পরিবারের কাছ থেকে সংকটকালীন মুহূর্তে এই ধরনের অপরিপক্ব আচরণ কাম্য ছিল না।
যে সময়ে রাষ্ট্র অভিভাবকহীন, যখন চারদিকে থানা, উপজেলা, ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে একদল সুযোগসন্ধানী লুটেরা তাণ্ডব চালাচ্ছিল—তখন সমাজের আইকনদের প্রতিটি পদক্ষেপ হওয়া উচিত ছিল সতর্ক ও দায়িত্বশীল। দেশের সম্পদ রক্ষা করা, আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের সেই আনন্দঘন ভিডিওটি অবচেতনভাবেই হোক কিংবা পরোক্ষভাবে, সাধারণ অপরাধপ্রবণ মানুষকে এক প্রকার লাইসেন্স বা উৎসাহ জুগিয়েছিল। সাধারণ মানুষ ভেবে বসেছিল—কায়সার হামিদের মতো পরিবারের মানুষেরা যদি সেখানে যেতে পারে, তবে আমাদের অপরাধ কোথায়? এই মনস্তত্ত্ব ফৌজদারি অপরাধকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক করে তোলার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল।
আজ সেই ভুলের, সেই সাময়িক অসতর্কতার এক চরম এবং নির্মম প্রায়শ্চিত্ত করতে হলো পরিবারটিকে। চোরের অপবাদ যে কতটা ভারী, চোরের অপবাদ যে কতটা কলঙ্কজনক—তা আজ একটি সম্ভ্রান্ত পরিবার তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। তারা আজ চিৎকার করে বলছেন তারা লুণ্ঠন করেননি, কিন্তু ডিজিটাল যুগের নির্মম বাস্তবতা হলো—ভিডিওর সেই ফ্রেমগুলো সমাজ সহজে ভুলে যায়নি। কোথায় থামতে হবে, আবেগের রাশ কোথায় টানতে হবে—এই বোধটুকু সময়মতো জাগ্রত না হলে নিয়তি কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, কারিনার অকাল মৃত্যু আর তার মায়ের এই আর্তনাদ আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়ে গেল।
সবচেয়ে ঘৃণ্য ও কুৎসিত বিষয় হলো, এই লাশের রাজনীতি। যে সমস্ত রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিবর্গ আজ 'জুলাই বিপ্লব'কে নিজেদের পকেটে পুরে আখের গোছাতে ব্যস্ত, যারা সাধারণ মানুষের এই তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণাকে সস্তা চশমা দিয়ে আড়াল করতে চায়, তারা আজ সহমর্মিতার ভান করে কায়সার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে আসছে। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশে যাওয়ার পর, তাদের এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে যারা নতুন করে নিজেদের স্বার্থের 'ধান্ধাবাজি' করতে চায়, তাদের প্রতি রইল তীব্র ধিক্কার ও ঘৃণা। এরা সহমর্মী নয়, এরা লাশের ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়া রাজনীতির শকুন।
কারিনা কায়সারের এই অকাল ও রহস্যময় চলে যাওয়া এবং তার পরবর্তী জানাজায় পরিবারের এই আকুতি আমাদের সমাজের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আভিজাত্য কিংবা তারকাখ্যাতি কোনো কিছুই সমাজের কাছে দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়।
আমরা কারিনা কায়সারের আত্মার শান্তি কামনা করছি। ভুলভ্রান্তি ও অপবাদের ঊর্ধ্বে উঠে পরম করুণাময় যেন তাকে ক্ষমা করেন। আর তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় দগ্ধ এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। এই নির্মম ট্র্যাজেডি যেন আমাদের সবাইকে আবেগ আর বিবেকের মধ্যকার সীমারেখাটা চিনে নিতে শেখায়।
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আপনার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং উত্থাপিত প্রশ্নগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক ও চিন্তার খোরাক জোগায়, সাইয়েদ কুতুব ভাই। তবে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার—মূল পোস্টে জুলাইয়ের গণআকাঙ্ক্ষা বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়নি, বরং আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে সমাজের তথাকথিত আইকন ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ এবং ভুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আপনার এই প্রশ্নের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত যে, পতনের বীজ আওয়ামী লীগ নিজেই বপন করেছিল। মাত্র নির্বাচনের কয়েক মাস পর কোটা পুনর্বহালের মতো সংবেদনশীল ইস্যু সামনে আনা, রিটকারীর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং গোয়েন্দা তথ্যের চরম ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে তৎকালীন সরকার এক ধরনের আত্মতুষ্টি ও ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ ছিল। রাশিয়া যেখানে প্রকাশ্যে 'কালার রেভ্যুলেশন'-এর সতর্কবার্তা দিচ্ছিল, সেখানে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পারা এবং অতি-আত্মবিশ্বাসের খেসারত তাদের দিতে হয়েছে। এমনকি সেনাপ্রধানের মতো অতি বিশ্বস্ত ও পারিবারিক সম্পর্কের জায়গা থেকে যে ক্ষমতার স্থানান্তর বা ভোলবদল হলো—সেটাও ক্ষমতার চিরন্তন নির্মম বাস্তবতা।
কিন্তু আমাদের মূল প্রশ্নটি অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগ সরকার তার রাজনৈতিক ভুল, দমনপীড়ন ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার কারণে পচেছিল এবং তার পতন হয়েছে—সেটা ইতিহাসের অংশ। কিন্তু সরকার পতনের ঠিক পরমুহূর্তে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে (গণভবনে) ঢুকে কায়সার হামিদদের মতো একটি সম্ভ্রান্ত, সুশিক্ষিত ও সেলিব্রিটি পরিবার যখন নিছক 'কনটেন্ট' বা সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে ভিডিও বানায়, তখন তা কোনো বিপ্লবের অংশ থাকে না। তা হয়ে দাঁড়ায় এক চরম অবিবেচক ভুল।
শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা বা ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দিয়ে এই পরিবারের সেই নির্দিষ্ট দিনের ভুলকে আড়াল করা যায় না। কারণ, তাদের মতো আইকনদের এই আচরণই মাঠপর্যায়ের অপরাধপ্রবণ মানুষকে থানা, ব্যাংক বা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা করতে অবচেতনভাবে উৎসাহিত করেছিল। সরকার ভুল করেছে বলেই কি নাগরিক হিসেবে আমাদের সব সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যায়? এই প্রশ্নটাই মূলত পোস্টে তোলা হয়েছে। চমৎকার ও তথ্যবহুল মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
২|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৫০
মোগল সম্রাট বলেছেন:
কারিনা কায়সারের দাদা কর্নেল হামিদ একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, রানি হামিদ বিশ্ব সেরা দাবারু আর কায়সার হামিদ দেশ সেরা ফুটবলার ছিলেন। এসবের কোন কিছুতেই কারিনা হামিদ মনে হয় প্রভাবিত হয়নি। বীরত্ব যাদের প্রভাবিত করেনা তাদের জন্য মানুষের মনে ভালো কিছু পয়দা হওয়ার কথা না। গনভবনের ঘটনাতো লাইভ দেখানো। অস্বীকার করার উপায় আছে?
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৪
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: মোঘল সম্রাট ভাই,আপনার পর্যবেক্ষণটি একেবারে নিখুঁত। আপনি যে ঐতিহাসিক সত্যগুলো সামনে এনেছেন, সেটাই আসলে এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে অন্ধকার দিক।
কর্নেল হামিদের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধার রক্ত, রানী হামিদের বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার গৌরব, কিংবা কায়সার হামিদের মতো দেশসেরা ফুটবলারের যে লড়াকু ঐতিহ্য—তার বিন্দুমাত্র যদি কারিনা কায়সার বা তার পরিবার ধারণ করতে পারতো, তবে ৫ই আগস্টের সেই মুহূর্তে তারা কখনো অমন সস্তা আর অবিবেচক আচরণ করতে পারতেন না। বীরত্ব বা আভিজাত্যের মূল শিক্ষা হলো সংকটকালে দায়িত্বশীল হওয়া, সমাজকে পথ দেখানো। অথচ তারা বেছে নিলেন সস্তা কনটেন্ট আর হুজুগের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়ার পথ।
আপনার এই কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই যে—গণভবনের ঘটনাটি 'লাইভ' ছিল, যা কোটি কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছে। ডিজিটাল যুগে এই প্রামাণ্য দলিলকে অস্বীকার করার বা ধামাচাপা দেওয়ার কোনো উপায় নেই। আর এই কারণেই আজ সন্তানের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে মায়ের 'আমরা চুরি করিনি' বলে চিৎকার করাটা এত বেশি বেদনাদায়ক ও নির্মম শোনায়।
তারা হয়তো সত্যি সত্যি লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে যাননি, হয়তো গিয়েছিলেন নিছক কৌতূহল বা হুজুগে ভিডিও বানাতে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছিলেন, তাদের মতো একটি আইকনিক পরিবারের প্রতিটি পদক্ষেপ সমাজ অনুসরণ করে। তাদের সেই ভিডিওটি সাধারণ অপরাধপ্রবণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও থানা-উপজেলা লুটপাটে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক লাইসেন্স বা উৎসাহ দিয়েছিল।
পূর্বপুরুষের গৌরবময় অতীত যে পরবর্তী প্রজন্মের অপরাধ বা ভুলকে আড়াল করতে পারে না—কারিনা কায়সারের এই নির্মম পরিণতি এবং তার পরিবারের আজকের এই সামাজিক লাঞ্ছনা আমাদের সমাজকে সেই চরম শিক্ষাই দিয়ে গেল। মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
৩|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫১
নাহল তরকারি বলেছেন: কিসের জুলাই বিল্পব? মুক্তিযোদ্ধা নাতিদের কোটা বাতিলের আন্দোলন ছিলো এটা। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি কোটা বাতিল করে কয়জনের সরকারি চাকরি হইছে?
১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৯
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আপনার ক্ষোভ এবং প্রশ্নটির একটি বাস্তবমুখী দিক রয়েছে। সরকারি চাকরির সংখ্যা এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্তির হিসাব মেলালে সাধারণ মনে এই প্রশ্ন আসাটা অস্বাভাবিক নয়।
তবে জুলাই আন্দোলনটি কেবল কয়েক হাজার সরকারি চাকরির জন্য ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্রে সাধারণ নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার একটি প্রতীকী লড়াই। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের অহংকার, কিন্তু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোটার নামে যে একচেটিয়া সুবিধা এবং মেধার অবমূল্যায়ন চলছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীরা মূলত সেই অন্যায্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়েছিল।
আমাদের মূল পোস্টে কিন্তু এই সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামকে খাটো করা হয়নি; বরং প্রশ্ন তোলা হয়েছে তাদের নিয়ে, যারা এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। কারিনা কায়সারের মতো সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষেরা যখন আন্দোলনের সুফল ঘরে তুলতে বা সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে গণভবনে গিয়ে অবিবেচকের মতো ভিডিও বানায়, তখনই আন্দোলনের পবিত্রতা নষ্ট হয়। এই সুবিধাবাদীদের ভুলের কারণেই আজ সাধারণ মানুষের মনে আপনাদের মতো প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে। সুন্দর ও ভিন্নধর্মী একটি আলোচনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"
৪|
১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: নাহল তরকারি@যারা কোটা বাতিলের আন্দোলন করেছে এরা এখন বড়ো নেতা । সরকারি চাকুরি তাদের পোষাবে না । এরা এখন বড়ো কাজে বিজি । ![]()
৫|
১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭
নাহল তরকারি বলেছেন: ঠিক বলেছেন।
৬|
১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৯
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
রাজনীতি বিমুখ উচ্চবৃত্ত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া মোটামোটি সব ছেলে -মেয়ে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। কারিনা নর্থসাউথের এক্স স্টুডেন্ট; সে ও বন্ধু মহল নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলো। কিন্তু তার অসুস্থতা আর মৃত্যু নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সব ব্লগে ও ছাত্রলীগে কুত্তাগুলো যা করলো ...... এদের খুন, ধর্ষণ, শিক্ষার্থীদের গাঁয়ের কাপড় খোলা সহ পুরানো অপকর্ম গুলো আবারো সব মনে করিয়ে দিলো। বুঝে হোক আর না বুঝে হোক জুলাই আন্দোলনে অনন্ত ৩-৪ লাখ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রাজপথে ছিলো- এরা সবাই কি আওয়ামীলীগের শত্রু??
আবার অসুস্থ হবার পর খবর নাই; কারিনার মৃত্যুর আবেগ আর জানাজা নিয়ে জাশি- কিংসপার্টির এমন ভাব যে কারিনা জুলাই যোদ্ধা বা তাদের দলের সহকর্মী। রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজী মুলক কথাবার্তা আওয়ামীলীগ বিরুদ্ধে সবাই এক।
১৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
মহিউদ্দিন হায়দার বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, কালিমুদ্দি দফাদার ভাই। আপনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তব কিছু সত্য সামনে এনেছেন। জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে স্বতঃস্ফূর্ত ও নৈতিক অংশগ্রহণ ছিল, তা অনস্বীকার্য। কারিনাও হয়তো সেই আবেগের জায়গা থেকেই তার বন্ধুদের সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সমস্যাটা হয়েছে আন্দোলনের মূল স্পিরিট আর আন্দোলনের পরবর্তী 'হুজুগে আচরণের' মধ্যকার সীমারেখাটা গুলিয়ে ফেলায়।
একটি সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সন্তান হিসেবে ৫ই আগস্টের পর গণভবনের ভেতরে গিয়ে সস্তা ভিডিও কনটেন্ট তৈরির যে অবিবেচক ভুলটি কারিনা ও তার পরিবার করেছিলেন, তা কোনোভাবেই এড়ানো যায় না। তারা হয়তো নিছক কৌতূহল বা দুষ্টুমির ছলে সেটা করেছিলেন, কিন্তু সেই ভিডিওটি মাঠপর্যায়ের অপরাধপ্রবণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক লাইসেন্স বা উৎসাহ দিয়েছিল। সমাজকে পথ দেখানোর মতো একটি আইকনিক পরিবারের কাছ থেকে সংকটের মুহূর্তে এই ধরনের অপরিণত আচরণ কাম্য ছিল না।
আর সবচেয়ে বড় সত্যটি বলেছেন মন্তব্যের শেষ অংশে—মৃত্যুর পর এই লাশকে নিয়ে রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি। জীবিত অবস্থায় যার কোনো খোঁজ ছিল না, মৃত্যুর পর তাকে 'জুলাই যোদ্ধা' বা নিজেদের ঘরানার প্রমাণ করতে একদল রাজনৈতিক শকুন যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে, তা সত্যিই তীব্র ঘৃণার যোগ্য। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের চরমতম শোকের মুহূর্তকে এবং তাদের সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে যারা নিজেদের আখের গোছাতে চাচ্ছে, তারা মূলত এই ট্র্যাজেডিকে পুঁজি করে ধান্ধাবাজি করছে।
আমাদের মূল কথা এটাই—পরিবারটির ভুল যেমন সত্য এবং তার সামাজিক খেসারত তারা আজ দিচ্ছেন, তেমনি কারিনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক দেউলিয়াত্ব দেখা যাচ্ছে, তাও এক চরম বাস্তব। চমৎকার ও বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য কৃতজ্ঞতা।"
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লক্ষ করে দেখেছি আপনারা যারা আওয়ামী লীগের প্রতি সফট কর্নার রাখেন, তারা জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনকে সবসময় কাঠগড়ায় দাঁড় করান। জুলাইকে 'কনস্পিরেসি' বা ষড়যন্ত্র বলতে বলতে আপনাদের মুখে ফেনা উঠে যায়। আমার মনের সরল প্রশ্ন হলো: এই ষড়যন্ত্রে কি আওয়ামী লীগ নিজেও জড়িত নয়? মাত্র নির্বাচন শেষ হওয়ার ৩/৪ মাস পর পর-ই কোটা পুনর্বহাল করতে যাওয়ার কী দরকার ছিল? রিট যে করেছিল সে এখন কোথায়? সে তো নিজেকে আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান বলে দাবি করত। কিন্তু আজকে সেই আলাপটাই নেই।

রাশিয়া ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে বলেছিল যে দেশে 'কালার রেভ্যুলেশন' কিংবা আরব স্প্রিংয়ের মতো কিছু ঘটতে পারে। তারপরও শেখ হাসিনা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (টু প্লাস টু) বৈঠক হওয়ার পর কীভাবে ভেবে নিলেন যে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে? রাশিয়ার ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে ইরান কিন্তু আমেরিকাকে ঘোল খাওয়াচ্ছে। ওয়াকার-উজ-জামান শেখ পরিবারের আত্মীয়। তিনি যে উল্টে গেলেন, সেই কথাটা কিন্তু খুব কমই বলা হয় ।