| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নূর আলম হিরণ
ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না, কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের যে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়, তার প্রধান নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবং এই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধারা রাষ্ট্র থেকে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে, তা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সময়ই পেয়েছে। একটা সময় এসে এই দলটি মুক্তিযুদ্ধকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি, যার দরুন মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব হ্রাস পেতে থাকে। তার ওপর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব কমাতে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালায়। একটা সময় এসে এই দলটি মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের রাজনীতিতে খুঁটি হিসেবে আর ব্যবহার করতে পারছিল না।
দ্বিতীয়ত, এই দলটি ক্ষমতায় অথবা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চাকারী লোকজন নিরাপদ বোধ করে।
এ বিষয়টি কিছুটা সঠিক হলেও যখন আওয়ামী লীগ থাকে, তখন এটা সেভাবে অনুভব করা যায় না। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে সরে গেলে বিষয়টি বেশ দৃষ্টিগোচর হয়। আওয়ামী লীগের সময়ে বাঙালি সাংস্কৃতিক চর্চাকারী লোকজন নির্ভয়ে তাদের সংস্কৃতি চর্চা করতে পারে বলেই মনে হয়।
তৃতীয়ত, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই দলটির সরব ভূমিকা থাকে।
এ দেশের সংখ্যালঘুরা পাকিস্তান আমল থেকেই সময়ে অসময়ে নির্যাতিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ যতটুকু সময় ক্ষমতায় থাকে, এ সময় তারা অনেকটাই নিরাপদ বোধ করে। আওয়ামী লীগের সময় যে তাদের উপর নির্যাতন হয় না, তা কিন্তু নয়। তবে এ নিরাপদ বোধ করাটা অনেকটা আওয়ামী লীগের সাথে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চতুর্থত, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে তাদের ভালো সম্পর্ক। এ বিষয়টি আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই বিষয়টিই আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য বেশ বিব্রতকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগবিরোধী শক্তিরা এই আওয়ামী লীগ-ভারত সম্পর্ককে এমনভাবে রিভার্স খেলেছে, যা আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। কিছু অযাচিত মন্তব্য ও কার্যকলাপের কারণে তাদের এই শক্তির জায়গা শেষ দিকে এসে খুব দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়।
এবার আমি পঞ্চম বিষয়টি বলি, যেটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত উন্নয়নের মডেল শক্তি। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে যত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বড় অবকাঠামোগত অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, তার বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে। এটা ঠিক, বিশ্ব যেভাবে এগিয়েছে, আমাদের অর্থনীতি সেভাবে এগোয়নি; তবে যতটুকুই এগিয়েছে, সেটা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই বেশি টুকু এগিয়ে গিয়েছে।
জাতিকে আওয়ামী লীগ যতটুকু এগিয়ে নিয়েছে, সেটা তাদের কাছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। কিন্তু এটি চোখে লাগে বা বেশি মনে হয়, যখন বাকিরা জাতিকে এতটুকুও এগিয়ে নিতে না পারে।
বাকি চারটি বিষয় উপরে যেভাবে বলেছি, সেগুলো আওয়ামী লীগের ফেভারে আবার নতুন করে ফিরে আসতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। তবে পঞ্চম যে বিষয়টি বলেছি, সেটা খুব দ্রুতই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং মানুষ সেটা বোঝার চেষ্টা করছে। যারা ক্ষমতায় আছে, তারা যদি এটাকে ছাড়িয়ে যেতে না পারে, তাহলে মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে এই পঞ্চম বিষয়টিও গেঁথে নেবে।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৭
নূর আলম হিরণ বলেছেন: এটা ঠিক আওয়ামী লীগ আরো ভালো করতে পারতো। তাদের কাছে যে পরিমাণ ক্ষমতা ছিল সেটাকে তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সময়কে আমার কাছে নিরাপদ মনে হচ্ছে।
২|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩০
শ্রাবণধারা বলেছেন: বিগত ১৬ বছরে যে আওয়ামী লীগকে দেখেছি, সেই আওয়ামী লীগের কথা মনে করে আমি আতঙ্কিত হই; পজিটিভ চিন্তা তো দূরের কথা।
তবে ইতিহাসের জাদুঘরে যে আওয়ামী লীগ তার সত্যিকারের ইতিহাস নিয়ে এখনো অম্লান, তাকে নিয়ে আমি কিছুটা আশাবাদী হই। যদিও সেই ইতিহাসের আওয়ামী লীগকে আবার কেউ এসে বাঙালির অন্তঃসত্তায় জাগিয়ে তুলতে পারবে, এমন কাউকে দেখি না।
আপনি যে পয়েন্টগুলো লিখেছেন, তার মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং আংশিকভাবে চতুর্থ পয়েন্ট মোটামুটি ঠিক আছে। পঞ্চম পয়েন্টটা একেবারেই বাজে কথা। অন্য ছাত্র পরীক্ষায় গোল্লা পেলে আমার পাওয়া ১০-১২ নম্বর বেড়ে যায় না; সেটা ফেলই থাকে।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৮
নূর আলম হিরণ বলেছেন: আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা সব সময় বেশি থাকে। এ সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কেমন? যা প্রত্যাশা করছেন তা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন?
৩|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: আওয়ামী লীগের নির্বাচন ব্যবস্থা বাজে ছিল। এ একটা বিষয়ের পর আমি আর আওয়ামী লীগ নিয়ে ভাবতে চাই না। হাত-পা বাঁধা অবস্থার উত্তম খাবারের চেয়ে মুক্ত অবস্থার ডাল-ভাত উত্তম। জেনজি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে স্বাধীন হওয়ার নামে। তাদের প্রতি জেনজির ঘৃণা কি পরিমাণ বুঝতে পারেন? ভোট চোরের গুষ্ঠি জেনজির ভোট চুরি করেছে এটা তারা মানতে পারছে না।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৯
নূর আলম হিরণ বলেছেন: ১৪ ও ১৮ সালে আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে নির্বাচন দিলেও তারা সরকার গঠন করতে পারতো।
৪|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সাফল্য নতুন কোনো অর্থনৈতিক মডেল তৈরি না করা। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে নতুন কোনো খাত দাঁড় করিয়ে ডলার আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। রেমিট্যান্স আছে প্রবাসীদের কারণে, গার্মেন্টস আছে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের কারণে। গ্যাস ছিল, বিদ্যুৎও ছিল, কিন্তু দুটোরই স্থায়ী সমাধান যেন ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য রেখে যাওয়া হয়েছে। এত বছর ক্ষমতায় থেকেও যদি অর্থনীতির মূল কৌশল হয় পুরোনো খাতের ওপর ভর করে টিকে থাকা, তাহলে এটাকে অর্থনৈতিক মডেল বলা যায় কি ?
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২
নূর আলম হিরণ বলেছেন: অন্যান্য সরকারের মত আওয়ামী লীগও জনসংখ্যা কে বোঝা মনে করছে, এটাকে জনশক্তি ভাবেনি। প্রায় সব দেশেই তাদের ডলার আয়ের বৃহৎ দুই একটিই খাত থাকে। গার্মেন্টস শিল্পে উদ্যোক্তারা এগুলিকে আধুনিক করার কথা ভাবেনি। তারা পদক্ষেপ নিলে সরকার সহযোগিতা না করলে তখন বলা যেত। তবে জনশক্তিকে দক্ষ করার দায়িত্ব সরকারের।
৫|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩০
আমি নই বলেছেন: ভাই টাকা খরচ করার চাইতে ইনকাম করা অনেক বেশি কঠিন। বাংলাদেশের ইনকামের প্রধান যে দুইটা সোর্স তার একটাও আওয়ামিলীগের আমলের নয়, এবং ৩য় কোনো সোর্স আওয়ামিলীগ করতেও পারেনি। যেই অবকাঠামোর উন্নয়োনের কথা বলতেছেন এগুলো সব খরচের হিসাব, ইনকামের জন্যে কি করেছে?
আমার কাছে এটাই সবচাইতে গুরুত্বপুর্ন পজেটিভ দিক হতে পারতো, এখানে আওয়ামিলীগ পুরাই ফেইল।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৪
নূর আলম হিরণ বলেছেন: সরকার খরচই করে জনগণের ইনকামের ব্যবস্থা করার জন্য। সরকার খরচ না করলে ইনকাম বাড়বে না।
৬|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫০
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
অন্য সব দলের মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগেও অনেক ভালো মানুষ আছেন।
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৪
নূর আলম হিরণ বলেছেন: হ্যাঁ। বিএনপি ও জামায়াতের তুলনায় শতাংশে এর হার কেমন?
৭|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ। বিএনপি ও জামায়াতের তুলনায় শতাংশে এর হার কেমন?
----------------------------------------
আমার জানা-শোনা ১০০-জন আওয়ামী লীগার নেই।
আমি বড় জোর ৯-১০ জনকে চিনি।
৮|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২১
গেঁয়ো ভূত বলেছেন: আমাদের এখানে একপক্ষের সমালোচনা করা হয় মূলত আরেক পক্ষের খারাপ দিকগুলো জায়েজ করবার জন্য। আমিতো এই ভূখণ্ডে এমন কোনো দলই খুঁজে পাইনা যাকে সাপোর্ট করা যায়। এখানে প্রতিযোগিতা হতে পারে কে বেশি খারাপ সেই মানদন্ডে। আমাদের অবস্থা হয়েছে লোম বাছতে কম্বল উজাড় হবার দশা। আমাদের সার্বিক রাজনীতিই পচে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা যখন এক পক্ষের যখন দোষ দিতে যাই তখন অপরপক্ষ খুশিতে বগল বজায়।
কথায় বলে, "এক বউ ছাড়লাম আমি চাইল চাবানোর ডরে, আরেক বউ এখন দেখি তোষ সুদ্ধ গিলে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: জাতিকে আওয়ামী লীগ যতটুকু এগিয়ে নিয়েছে,
সেটা তাদের কাছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।
....................................................................
১৬/১৭ বৎসর যে দল ক্ষমতায় ছিল , অবশ্যই জনগণের মূল
প্রত্যাশার ২৫% ও পূরণ করে নাই । মূলত: নোংরা রাজনীতির
কারনে দেশের সব বড় বড় প্রতিষ্ঠান দূর্ণীতিগ্রস্হ হয়ে পড়ার
কারনে বিশেষ শ্রেণীর লোকজন সুবিধা নিয়েছিলো ।