নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রলয়শিখার মত জ্বলব আমি, তোমাতেই যাব নিভে।

প্রলয়শিখা

নিজের সীমাবদ্ধতা আবিষ্কার করছি প্রায় প্রতিদিন।

প্রলয়শিখা › বিস্তারিত পোস্টঃ

মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলো

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৪০

মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নগুলোর হোচট খাওয়ার সীমা থাকে না। আমরা ছোটবেলায় হোচট খেয়ে খেয়ে হাটা শিখেছি। একটা সময়ে এসে বড়ও হয়ে গেছি। কিন্তু হোচট খাওয়া মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলো কোনদিন বড় হয়ে উঠে না। বাচ্চারা বাচ্চা থেকে যায় চিরকাল। সম্পর্কের জটিলতায় মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলো আরো জটিল হয়ে উঠে। অথচ এই স্বপ্নগুলো খুবই সাধারণ। বাড়ি-গাড়ি কিছুই লাগে না। বাবা-মা ভালই ভাল সুখে থাকবে, ভাই-বোনেরা নিরাপদ থাকবে, আমিও একটু খেয়ে পরে জীবন পার করে দেব- মধ্যবিত্ত স্বপ্ন এটুকুই।

বড় পরিবার বা একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে সম্পর্কের জটিলতা তো আরো বেড়ে যায়। রসায়নের জারন-বিজারনের মত এক পক্ষ নিতে থাকে, আরেক পক্ষ দিতে থাকে। এভাবে কল কারখানার পুঁজিবাদি রাজনীতি চলে আসে নিজের ঘরের ছাদের নিচে। শ্রমিকেরা দিতে থাকে আর পুঁজিপতিরা নিতে থাকে। কখন যে এক পক্ষ দিতে দিতে নিঃশেষ হয়ে যায় তা সাইকেলের চাকা ফুটা হয়ে গেলেই বুঝতে পারা যায়। এর আগে না।

সম্পর্কের এরুপ জটিলতার চাপে পড়ে পরিবার প্রধানও থাকে অসহায় হয়ে। দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে গেলে পানিতে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। তেমনি বাবা রুপে পরিবার প্রধানও কোন একসময় চলে যায়। দায়িত্বের ভার সইতে না পেরে, কিংবা দুঃখে ছাই হয়ে যাওয়া কলিজার কম্পন বন্ধ হয়ে। বাপজান জীবন নামের যে ঠেলাগাড়ি টেনে নিতে না পেরে ব্যর্থ হয়েছে সেই ঠেলাগাড়ির হাতলেও একদিন আমাকে হাত রাখতে হবে।

ছোটবেলার অনেকগুলো ঈদ কাটিয়েছি নতুন জামা না পাওয়ার আশা ভঙ্গের হতাশায়। আর এখন প্রতিটি ঈদ কাটে নতুন নতুন শিক্ষা পেয়ে কিংবা জীবন প্রযোজিত, জীবন পরিচালিত কোন নাটকে মিথ্যে অভিনয় করে। হয়ত এ কারনেই বড় হয়ে ঈদের শপিং নিয়ে টেনশন থাকে না। আমরা কেউ জন্মগত অভিনেতা নই। তবে মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলোর ঠেলায় পড়ে অভিনয়ে আমরা পৃথিবী খ্যাত অনেক বড় বড় অভিনেতাকে হার মানিয়ে দিই। এই অভিনয়ে উপরি পাওয়ার আশা করা মানুষের জীবন তো ষোল আনাই বৃথা।

পৃথিবীতে কত শত যন্ত্র আবিষ্কার হল, মানুষ চাঁদে গেল, সবাই ডিজিটাল হয়ে গেল! আফসোস, কোন বিজ্ঞানী এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করতে পারল না যে যন্ত্রে কত ফোটা রক্তের বিনিময়ে এক ফোটা চোখের জল হয় তা মাপা যাবে। পারলে হয়ত দেখা যেত মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের হাজার ফোটা রক্তের বিনিময়ে এক ফোটা চোখের জল পাওয়া গেছে। এভাবেই মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলোর হৃতপিন্ডে প্রতিনিয়ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এ রক্তক্ষরণে রক্ত জমাট বাধে না। শুধু ঝরতেই থাকে। মধ্যবিত্ত স্বপ্নগুলো হোচট খাওয়া বাচ্চার মত একদিন আরো বড় হবে এই অপেক্ষায় আছি, এই অপেক্ষায় বাঁচি।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:৩৮

রুদ্র জাহেদ বলেছেন: মধ্যবিত্ত...উচ্চবিত্ত আর নিস্নবিত্তের মাঝখানে পড়ে প্রতিনিয়ত পিণ্ট হয়। অনেক সুন্দর লিখেছিস দোস্ত

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৬:০৬

প্রলয়শিখা বলেছেন: হাতির পায়ের নিচে পিপড়া যেমন, উচ্চবিত্ত আর নিম্নবিত্তের মাঝে মধ্যবিত্তরাও তেমন। @রুদ্র জাহেদ

২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২১

লিংকন১১৫ বলেছেন: |-)

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৬:০৬

প্রলয়শিখা বলেছেন: |-) |-) দুঃখ আর দুঃখ :( :( :( @লিংকন১১৫

৩| ০১ লা অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১১:২৮

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: মধ্যবিত্তের স্বপ্ন(দু'একটা ব্যাতিক্রম বাদে) সেই দশফুট বাই দশফুটের চৌহদ্দিতেই ঘুরে মরে।। স--বদিক থেকেই।।

২২ শে অক্টোবর, ২০১৫ ভোর ৬:০৭

প্রলয়শিখা বলেছেন: দশফুট বাই দশফুট চৌহদ্দিটা একদিন মহাকাশে পরিণত হবে এই আশাটা অন্তত করতে পারি। @সচেতনহ্যাপী

৪| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৩:৫১

বিদেশ পাগলা বলেছেন: মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠা ছেলে-মেয়েরা অনেক বাস্তববাদী এবং পুড়ে পুড়ে তারা এক সময় খাটিঁ সোনায় পরিণত হয় । চমৎকার লিখেছেন । ধন্যবাদ

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪১

প্রলয়শিখা বলেছেন: আপনাদের শুভ কামনা লেখার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে তুলে। ধন্যবাদ ভাই।

৫| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৭:৫০

চাঁদগাজী বলেছেন:

মধ্যবিত্ত বড় হওয়া দেশের জন্য ভালো।

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:০৫

প্রলয়শিখা বলেছেন: দেশের প্রয়োজনে তাদের অংশগ্রহণ আগে হবে এটা অন্তত মিথ্যে আশা নয়।

৬| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত নেই, আছে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও বেশী পয়সা-ওয়ালা; এটা সমস্যা

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১২:৩৮

প্রলয়শিখা বলেছেন: ঠিক ধরেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও বেশি পয়সা ওয়ালাদের সংখ্যাই বেশি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.