| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

বন্যপ্রাণীদের মধ্যে একসাথে ডাক দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। নেকড়ে কিংবা শিয়াল দলবদ্ধভাবে ডাকে। সভ্য মানুষের মধ্যে এমনটা দেখা না গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকাকে দিয়ে ইরানের ওপর আক্রমণের প্রশ্নে ইসরায়েলপন্থী লবির আশ্রয়ে থাকা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে এই ধরনের সমস্বরে ডাক দেওয়ার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
গতকাল ট্রাম্প-এর স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে, তিনি যখন নেতানিয়াহুর শিখিয়ে দেওয়া কুখ্যাত মিথ্যাটাই পুনরাবৃত্তি করলেন যে, ইরান আবার পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে এবং এমন অস্ত্র বানাচ্ছে যা পশ্চিম ইউরোপ ও আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তখন জায়নবাদী অর্থ ও প্রভাবের অধীনে থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও করতালিতে ফেটে পড়লেন।
এর কিছুদিন আগেই ইসরায়েলে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি বলেছিলেন, ইসরায়েল যদি পুরো মধ্যপ্রাচ্য দখল করে নেয়, তাতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই। ঘটনাগুলো একই সুরে বাঁধা একটি রাজনৈতিক ও সামরিক উন্মত্ততার প্রকাশ। এটি আমেরিকার নৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে যাবার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সব ধারণা অর্থ এবং ক্ষমতার রাজনীতির কাছে পরাজিত হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী আমেরিকার প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনী পরিচালনা করেন আর কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা রাখে। জাতীয় নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনী নিয়োজিত করতে পারেন। ইরান আক্রমণের বিষয়ে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তগুলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্য প্রেসিডেন্টের একক সামরিক সিদ্ধান্তে নিয়ম আরোপের দাবি তুলেছেন এবং প্রস্তাব করেছেন যেন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি লবির শক্তিশালী প্রভাবের কারণে এটি কার্যকর হয়নি।
ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। এই সম্ভাব্য চুক্তির আলোচনায় তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল - ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইসরায়েল বিরোধী দলের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা, এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা। ইরান বারবার স্পষ্ট করে বলে এসেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং তাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে গোলপোস্ট বদলেছেন; চুক্তির শর্ত ও লক্ষ্য বারবার পরিবর্তন করেছেন।
এই শর্তগুলো ও সময়সীমা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এগুলো ইসরায়েল থেকে ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে ইসরায়েলিদের ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী কারনও রয়েছে। আর কদিনের মধ্যে ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পুরিম। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই উৎসব ভিন্নভাবে পালিত হলেও, ইসরায়েলে এটি একটি জাতীয়তাবাদী উৎসব। জায়নবাদী ব্যাখ্যায়, এই সময় পারস্যের রাজা হামানকে উৎখাত করা হয়েছিল। যাকে ইহুদিদের নির্মূলের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। জায়নবাদী শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পুরিমকে ইরানবিরোধী এক উৎসবে রূপ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েলের দৃষ্টিতে রমজান মাসকে ইরানে হামলার জন্য কৌশলগতভাবে উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার দুটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। ইরাক আক্রমণের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এটিই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ফিলিস্তিনে গণহত্যা ও অবৈধ বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ব্যবহার করে আসলেও, এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড় - বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করা। এর অর্থ ফিলিস্তিন, জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া ও ইরাক সহ মিসর ও সৌদি আরবের কিছু অংশ দখল করা এবং এসব দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা।
আমেরিকার রাজনীতিতে জায়নবাদীদের ক্ষমতা অবিশ্বাস্য মনে হলেও, বাস্তবে সেটিই এখন আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। ইসরায়েলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমেরিকার মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ইরানে হামলার পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করতে নিয়মিত লেখা ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক ইসরায়েল সফরে প্রকাশ্যভাবে এই গণহত্যাকারী, দখলদার, বর্ণবাদী ও উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন। ভারতের ১.৪ বিলিয়ন মানুষ ইসরায়েলের পাশে আছে - ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্য যুদ্ধবাজ প্রাণীকূলের একসঙ্গে ডেকে ওঠার সর্বশেষ অশনি সংকেত।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০
শ্রাবণধারা বলেছেন: পাকি-আফগানদের মারামারিতে আপনি কার পক্ষে? : ) আমি আফগানদের পক্ষে আছি!! ![]()
২|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কসাই ।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫২
শ্রাবণধারা বলেছেন: এই কসাইয়ের সীমহীন ক্ষমতা দখলের বিষয়টা একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য হবে।
৩|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৬
রাজীব নুর বলেছেন: পড়লাম।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে আমার জ্ঞান শূণ্য। তাই মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫২
শ্রাবণধারা বলেছেন: সঠিক সিদ্ধান্ত জনাব!
৪|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২
নিমো বলেছেন: এপস্টিন ফাইলস্ কতটা ক্ষমতাশালী ভেবে দেখুন।
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, খুব ভালো একটা তুলনা। এপস্টিন ফাইল ক্ষমতাবানদের ব্লাকমেইলিংয়ের জন্য ইসরায়েলের একটা অস্ত্র।
এপস্টিন ফাইল ক্ষমতাবানদের নৈতিক পচনের পুতিদুর্গন্ধময় দলিল, আর ইসরাইল ক্ষমতাবান নরপিশাচদের পৈশাচিক শক্তির ঘাঁটি।
©somewhere in net ltd.
১|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পাক-আফগান এরা কি রোজার মাসে battle of বদর শুরু করে দিয়েছে নাকি ? এসব ঘটনা দেখলে হতাশা লাগে যে মুসলিম-মুসলিম মারামারি করছে যখন palestine নিয়ে সবাই এখন চাপে রাখার কথা ইসরায়েল কে ।