| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা বলছে, এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি। সারাদিনে ইসরায়েল দক্ষিন লেবাননে বোমা হামলা করে মানুষ হত্যা করলো এবং খবরগুলো চেপে যেতে সমর্থ হলো। আর রাতে তারা ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ও পাওয়ার-প্লান্টে হামলা করলো।
ট্রাম্প সকালে তার যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছিলেন: "আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিরোধ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনার ভিত্তিতে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোসহ সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে, যেটা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।"
ইরান পরে জানালো, এ ধরনের কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ট্রাম্পের কথার চেয়ে বিশ্ববাসী ইরানের বক্তব্যকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যে একজন মিথ্যাবাদী, এটা সকলে জানে। তবে এটা হতে পারে যে, ট্রাম্প ইরানের তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি থেকে সরে আসতে চাচ্ছে। কারন, তিনি এগুলোকে ভবিষ্যতে নিজের মালিকানাধীন সম্পদ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন! তাই ধ্বংস না করে এগুলো অক্ষত রাখা দরকার, যাতে তিনি ভবিষ্যতে এগুলোর মুনাফা ভোগ করতে পারেন।
ইসরায়েল একা ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, কিন্তু তারা যুদ্ধ চালু রাখতে মরিয়া। যতক্ষণ না ইরান লিবিয়া বা ইরাকের মত ধ্বংস হয়ে যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের এক্সিট প্লানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর থেকে তারা ইরানে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকাও এতে সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপশি, বৃহত্তর সংঘাত ধরে রাখতে তারা লেবাননে সামরিক হামলা বাড়িয়েছে।
তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর নাকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। তারা এমন একটি ধারণা দিচ্ছে যে, এতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু এর পক্ষে তেমন প্রমাণ নেই। বরং সম্ভাবনা হলো, আমেরিকার মতো তারাও বাজার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে চাচ্ছে ও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা ধ্বংস করেছে, ইরান সেগুলো আবার গড়ে তুলতে পারবে। আমেরিকার স্থল আক্রমণের হুমকি বাস্তবসম্মত নয়। ইরানের বড় সেনাবাহিনী রয়েছে। স্থল পথে যুদ্ধ হলে দুই পক্ষেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটবে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং রাশিয়া ও চীনের সাথে তাদের মিত্রতা অটুট আছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো তারা পুনর্গঠন করতে পারবে।
ট্রাম্প আবার ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার দাবির দিকে ফিরছেন। পারমাণবিক ইস্যুটি ট্রাম্পের জন্য একটি সম্ভাব্য এক্সিট প্লান হতে পারে। ট্রাম্প তার পরিকল্পনার বিষয়ে আন্তরিক হলে, ইরান যদি আগের মতো চুক্তি নাও করে, তবু হয়তো ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই যুদ্ধের সমাপ্তি অনেকটাই ইরানের হাতে। আমেরিকা হয়তো শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারবে, কিন্তু এর মূল্য সারা পৃথিবীকে দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলো ইরানের ওপর যতই ক্ষুব্ধ হোক, তারা এখন এই যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধ হয় বড় বৈশ্বিক বিপর্যয়ে শেষ হবে, নয়তো ইরানের শর্তে শেষ হবে।
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমার তো ধারনা ছিল, পাকিরা আপনার ভাই! ![]()
২|
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রিপাবলিকান সব গুলো জাত হারামি আর বদমাশ ।
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:০৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: বলেন কি? আমরাও তো রিপাবলিক! পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ!
আর পাকিরা হইলো ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান! ![]()
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:১৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: তার চেয়ে বরং বলেন পোস্টের একেবারে শেষ প্যারাটা সম্পর্কে আপনার কোন বক্তব্য আছে কি না?
৩|
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: গালফ দেশগুলো একজোট হয়ে ইরানে হামলা করতে পারে; সহজে শেষ হবে না এই ওয়ার । ভাবসাব সেদিকেই যাইতেসে।
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০২
শ্রাবণধারা বলেছেন: ঠিক এটাই ইসরায়েল চাচ্ছে! এটা করলে ইরান শুধু লিবিয়া ইরাক নয়, পুরো গালফই লিবিয়া ইরাকে পরিনত হবে।
সাথে আমাদের দেশের অর্থনীতির উপর খুব বড় চাপ তৈরি হবে। এটা হলে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়বে। আমি আশা করি যুদ্ধ এতদূর গড়াবে না।
৪|
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২০
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: যুদ্ধ একদিন শেষ হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু যারা এই যুদ্ধে হারিয়ে যাবে তারা আর কোন দিন ফিরে আসবে না। তবে বিশ্ব বাসি একজন মিথ্যুকেই সম্মান করে যাবে, আগ্রাসনবাদীদের সমর্থণ করে যাবে।
২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি খুব সত্যি কথা বলেছেন। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি মৃত্যু। যাদের হত্যা করা হলো তারা কেউ ফিরে আসবেনা।
৫|
২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
ঠিকই বলেছেন যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ক্ষতি মৃত্যু । এই ক্ষতি কোন মতেই পুষাবার নয় অ
লেখাটির শেষ প্যরায় এসে মনে হল বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে একটি শক্তিশালী ও সরলীকৃত দৃষ্টিকোণ
থেকে বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ইরানকে কেন্দ্রীয় নিয়ামক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে একটি
গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ইরানের প্রভাব বৈশ্বিক
অর্থনীতি ও নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সেই অর্থে, সংঘাতের বিস্তার বা নিয়ন্ত্রণে ইরানের ভূমিকা
অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে উপসংহারটি কিছুটা একপাক্ষিক এবং সম্ভাবনাগুলোকে সীমিত করে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি
অত্যন্ত জটিল, যেখানে শুধু ইরান নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশসমূহ, এমনকি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর
বহুমাত্রিক স্বার্থ জড়িত। ফলে যুদ্ধের সমাপ্তি কেবল ইরানের শর্তে বা বৈশ্বিক বিপর্যয় এই দুই বিকল্পে সীমাবদ্ধ
থাকবে, এমনটি বলার সময় সম্ভবত এখনই নয় , দেখতে হবে মিথ্যুকটার অন্তর আর মুখের কথার মিল
কতটুকু থাকে কারণ মিথ্যুকটা বার বার পাল্টি খায় !!!
যাহোক লেখাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেও, বিষয়টির বহুমাত্রিকতা ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের
দিকগুলো আরও বিবেচনায় নিলে বিশ্লেষণটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হতো।
শুভেচ্ছা রইল
২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় আলী ভাই।
হ্যাঁ, আমার এই লেখাটায় কিছু সরলীকরণ আছে। এই লেখাটি সময় নিয়ে লেখা নয়। কাল রাতে হঠাৎ করেই মনে হল, ব্লগে যুদ্ধ নিয়ে একটা আপডেট দেওয়া দরকার। তাই সাম্প্রতিক পত্র-পত্রিকা থেকে পড়া খবর এবং যে সাংবাদিকদের আমি ফেসবুকে ফলো করি (যেমন: ব্রিটিশ সাংবাদিক ওয়েন জোনস এবং আমেরিকান সাংবাদিক গ্লেন গ্রিনওয়াল্ড। যদিও এই মূহুর্তে দুজনই তাদের লেখার টেবিল থেকে দূরে আছেন; ওয়েন আছে কিউবায় আর গ্রিনওয়াল্ড গেছে তার ভেড়ার ফার্মে
) তাদের বিশ্লেষণগুলোর উপর ভিত্তি করে এই পোস্টটা খুব দ্রুত লিখেছি।
আপনি বলার পরে উপসংহারটি আমি আবারও পড়লাম। মনে হল, এটা একটু সংক্ষেপে বলা হলেও আমার বিশ্বাসটা এখনও এমনই আছে। যদিও একটু আগে খবরে দেখলাম বোয়িংয়ের ভয়ঙ্কর বি-৫২ বোমাড়ু বিমান ইউকের আমেরিকান বেইস থেকে ইরান আক্রমনের জন্য রওনা দিয়েছে। আর সৌদির যুবরাজ নাকি পাকিস্তানি আনবিক বোমা ইরানে ফেলা যায় কিনা সেটা নিয়ে কাউবয়ের সাথে শলাপরামর্শ করছে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩
আলামিন১০৪ বলেছেন: বিশ্বাসঘাতক ও মিথ্যাবাদীকে কেউ বিশ্বাস করে না, পাকিদের অন্যের পিছে পিছন থেকে ছুরি মারার ইতিহাস আছে, তাদের মধ্যে মুনাফিকের লক্ষণ বিদ্যমান। গাজায় লক্ষ নারী-শিশু-সিভিলিয়ান হত্যা চলাকালে ট্রাম্পের প্রশংসা করেছে পাকি পাপেট সরকার। পাকিদের প্রমাণ করতে হবে তারা নিরপেক্ষ। ঈসরাইলী হুমকীর জবাবে হুঙ্কার ছাড়তে হবে যেমনটা মোদি ঈসরাইলে গিয়ে ওদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে বক্তব্য দিয়েছে। পাকিকে বলতে হবে, ঈসরাইল যদি ইরানের বিরুদ্ধে আনবিক বোমা ব্যবহার করে পাকিস্তান তার প্রতিশোধ নিবে, অন্যথায় বুঝতে হবে সব রসুনের গোয়া এক।
মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।