| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার মাঠ, কারো ঝরে পড়া বকুল ফুলফল, শিউলি আহরণ এবং অতঃপর মালাগাঁথা! এমনটাও অসংখ্য দিন-বার হয়েছে না বলেকয়ে ফুলফল আহরণ এমনকি বৃক্ষসমেত! আর অবকাশের বাইরের দিনগুলো ছিলো সাত সকালে বই নিয়ে বসে পড়া কেননা তখনো এতটা বৈষয়িক হতে শেখেননি পণ্ডিত মশাইরা! অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়ির গুরুজন বা নিকটজনরাই ছিলেন অত্যন্ত চড়া মেজাজের গৃহশিক্ষক সাথে বিচিত্র কিসিমের শাস্তি- আহা স্মৃতি!
অতঃপর সময় যৌবনপ্রাপ্ত হলেই স্কুলযাত্রার প্রস্তুতি।
এখনকার মতো তখন এতো রঙিন ও যুগোপযোগী কিছু বের হয়নি যাকে বলা যেতে পারে স্কুলব্যাগ! অধিকাংশেরই বাহন ছিলো বিচিত্র বাহারের পলিথিন- নাইলন সুতা নির্মিত ব্যাগ! অবস্থাপন্নদের জন্য বরাদ্দ ছিলো টিনের তৈরি একধরনের ক্ষুদ্রাকার সুটকেস যা আবার তালা-চাবি সমৃদ্ধ! কারো কারো টিফিন নেয়ার বালাই, কারো যৎসামান্য অর্থ আর সবার জন্য বরাদ্দ ছিলো স্কুল কর্তৃক টিফিন- আহা সেকালের টিফিন- কী যে নির্ভেজাল মজাদার- এখনো জিহবা ভিজে যায় জলে!
সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার তার আগে শনিবার অর্ধদিবস নাকি শুক্রবার সেটা নেই ঠিক স্মৃতি অন্তর্গত।
তবে পরস্পরের মধ্যে ব্যাপক বিনিময় হতো আউটবই- যা মূলত গল্প- উপন্যাস! স্কুল থেকে ফিরেই বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে চলতো খেলার জন্য মাঠ ভাগাভাগি বা দখলবাজি- শীতে ক্রিকেট আর গ্রীষ্মে ফুটবল- হাত -পা ছিলে যাওয়া ছিলো নেহায়েতই মামুলি ঘটনা! তবে জারি ছিলো কঠোর অনুশাসন- সন্ধ্যার পূর্বেই গৃহ প্রত্যাবর্তন নতুবা বিচিত্র ধরনের শাস্তির নেমে আসতো খড়গ! জন্ডিস আলোর নিচে পড়তে বসা, হোমওয়ার্ক ও ঘুমানোর পূর্বে কখনো কখনো কিভাবে যেনো মিলে যেতো টিভিদর্শন- এই সপ্তাহের বাংলা সিনেমা ও পরবর্তীতে মুভি অব দ্য উইক!
বৈচিত্র্যময়তার মধ্যে আরো যোগ হয়েছিল স্কুল ফাঁকি, ক্লাশ ফাঁকি-
ছুটিতে মাতুতালয় যাত্রা- আহা আমার উল্কা এক্সপ্রেস! ভালো লাগে না একালের ঝলমলে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেন! তখন বিভিন্ন উৎসব- পার্বণে একধরনের রীতি অনুসৃত হতো- শুভেচ্ছাস্বরূপ পিঠেপুলি- মিষ্টান্ন বিনিময় আর ছিলো অপরিসীম সহমর্মিতা! ছিলো না জাতপাত কিংবা গোত্রসংঘাত। মূলত আমাদের সবার শৈশব- কৈশোরের গল্প অভিন্ন; জনপ্রিয় হয়নি এখনকার মতো বৈষম্য- বিভেদ! ঘরে ঘরে প্রাচুর্য না থাকলেও খেলা করতো ব্যাপক সরলতা।
সেই সময়ের গল্প শোনা-
জানা মানুষগুলো এখন সময়ের স্রোতে যে যার মতো আছে সুখে- অসুখে! তাবৎ বিষয়াদি ফ্রেমবন্দী করতে একদিন বসে পড়বো পড়বো করে বসা হয় না বলেই লিখে রাখলাম সারাংশ! হয়তোবা সারাংশই থেকে যাবে- যেনবা একালের রূপকথা! রূপকথা আমরা ইদানিং খাই বটে কিন্তু মাখাই না! যে যার মতো রান্না করে খাক, পুড়িয়ে খাক বা সেদ্ধ করে খাক- খেতে খেতে না হয় মেখে যাবে একআধটু!
২|
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:৫৯
ঢাকার লোক বলেছেন: আপনার এমন সুন্দর লেখা আগে পড়েছি মনে পড়ে না ! অবিশ্বাস্য শব্দ চয়ন আর লেখার গাঁথুনি !!
৩|
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৪২
জিনাত নাজিয়া বলেছেন: ফিরে যেতে পারতাম যদি সেই আনন্দ মধুর শৈশবে। আপনার লেখা পড়ে আমিও চলে গিয়েছি সেই বন্ধুদের মাঝে। কোথা আজ তারা ভুলিয়া ও গেছি নাম। অনেক ধন্যবাদ রাজীব ভাই শৈশব মনে করিয়ে দেয়ার জন্য।
৪|
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৩৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অতঃপর সময় যৌবনপ্রাপ্ত হলেই স্কুলযাত্রার প্রস্তুতি।
............................. .................................................
এমন কথা শুনিনি , যে
যৌবনপ্রাপ্ত হবার পর স্কুল যেতে হবে ???
৫|
০৮ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৪৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: দারুণ লিখেছেন ।
৬|
০৯ ই মে, ২০২৬ রাত ১:১১
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
সময় নিয়ে যৌবনের প্রথম প্রেম নিয়ে এমনি করে লিখেন একদিন।
৭|
০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১২
ইসিয়াক বলেছেন: ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর মুসলিম ধর্মীয় অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯৮৪ সালে রবিবারের ছুটি বাতিল করে শুক্রবারকে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন। আমি অবশ্য রবিবার ছুটি কাটিয়েছি। কারণ ১৯৮৪সালে আমি তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তাম।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬
সাইফুলসাইফসাই বলেছেন: চমৎকার লাগলো পড়ে