নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

...............

শ্রাবণধারা

" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

শ্রাবণধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের "ঘাস কাটা" এবং "মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" কৌশল

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩৩


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ভৃত্যসুলভ মিত্র মধ্যস্থতা করে আমেরিকা-ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে - এই খবর শুনে মনে সংশয় তৈরি হলেও, এটাই সত্য হোক এমনটা চাচ্ছিলাম। বিশেষ করে, গতকাল যখন ট্রাম্প পুরো সভ্যতাকে মুছে ফেলার হুমকি দিলেন, যেটি ইরানে পারমাণবিক হামলার ইঙ্গিত বলে মনে হচ্ছিল, তখন যুদ্ধবিরতির খবর শোনার জন্য মন লালায়িত ছিল। মনে হয়েছিল, ভৃত্যের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি, এমনটা কি একেবারেই অসম্ভব?

পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলো যে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব আমেরিকা মেনে নিতে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। খবরটি এত বেশি ভালো যে, এটি মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি! কী এই দশ দফা? লেবাননসহ সব ফ্রন্টে ইসরায়েল-আমেরিকার সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে; মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে; ইরানের উপর পাশ্চিমাদের অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে; যুদ্ধের জন্য আমেরিকার দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ও ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।

শর্তগুলো ইরানের জন্য এতটা অনুকূল যে মনে হলো, ট্রাম্প নিজেই কি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজকে দিয়ে যুদ্ধবিরতির খবর প্রচার করিয়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন? আমেরিকার জনগণ এমন একজনকে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে, যে শেয়ারবাজারে কারসাজির জন্যও এ ধরনের ঘোষণা দিতে পারেন, যার নজির অতীতে একাধিকবার দেখা গেছে।

আজ যখন ১২ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ইসরায়েল বৈরুতে বোমা হামলা করে আড়াইশোর বেশি মানুষ হত্যা করল, এবং তারপর ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিল, তখন স্পষ্ট হয়ে গেল, এটা ট্রাম্পের আরেকটা জালিয়াতি ছাড়া আর কিছু নয়। যতদিন আমেরিকা ইসরায়েলকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাবে, ততদিন এই ধরনের যুদ্ধবিরতি ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না।

ইসরায়েল কীভাবে যুদ্ধবিরতিতে যায়, তার একটি পরিচিত ধরণ আছে। যেমন, গাজায় হামাসের সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি সামরিক কৌশলের অংশ, যাকে তারা নাম দিয়েছে "মোয়িং দ্য লন" বা "ঘাস কাটা"। পশ্চিমা দেশগুলোতে বাড়ির উঠোনের ঘাস পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে নিয়মিত কেটে ছোট করে রাখা হয়। ঘাস একটু বড় হলেই আবার কাটা হয়। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও ঘাস কাটার মত বারবার চালানো হয়। এটি একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া। ঘাস যেমন একবার কাটলে আবার বড় হয়ে ওঠে, তেমনি প্রতিরোধ শক্তিকেও স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়, এমন ধারণার ভিত্তিতে এই সামরিক কৌশল।

সামরিক অভিযান চলাকালীন সময়ে মাঝে মাঝে বিরতি দেওয়া হয়। এসব যুদ্ধবিরতির শর্ত সাধারণত প্রায় একই রকম থাকে। দেখা যায়, হামাস চুক্তি মেনে চলে, আর ইসরায়েল তা অমান্য করে। এভাবেই পরিস্থিতি চলতে থাকে, যতক্ষণ না ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায় এবং তার প্রতিক্রিয়ায় হামাস সাড়া দেয়। এরপর হামাসের প্রতিক্রিয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল আরও ভয়াবহ হামলা করে।

একজন মার্কিন সামরিক অফিসার ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনকে আরও নির্ভুলভাবে নামকরণ করেছেন। সেটা হল "উপরের মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" (রিমুভিং দ্যা টপসয়েল)। টপসয়েল হলো মাটির সবচেয়ে উপরের উর্বর স্তর। এটি সরিয়ে ফেললে জমি অনুর্বর হয়ে যায়। এটাতে বোঝানো হয় যে, হামলা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুরো অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বসবাসের পরিবেশ, স্কুল-কলেজ-হাসপাতালসহ সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হবে। যাতে ভবিষ্যতে সেই সমাজের মানুষদের জন্য কোন সম্ভাবনা আর অবশিষ্ট না থাকে। ফলে, শুধু সামরিক বাহিনীর ওপর নয়, হামলা করা হয় বেসামরিক মানুষদের উপর; তাদের সমাজ, জীবনযাত্রা এবং ভবিষ্যত কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইসরায়েল ইরানে এখন যে হামলার পরিকল্পনা করছে, তা সম্ভবত এই "উপরের মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" হামলা। যেখানে পুরো অবকাঠামো, বসবাসের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে ফেলা হবে। এরপর যুদ্ধবিরতির ভান করা হবে। তারপর ইসরায়েল কোন একটা কারণ দেখিয়ে সেটা ভঙ্গ করবে। ইরান যদি সেই প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দেয়, তখন সেটিকে বড় অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েল আরও বড় ও ভয়াবহ হামলা কররে।

ইসরায়েল তার আগ্রাসী ও সহিংস কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা হিসেবে নিরাপত্তার অজুহাত দেয়। গত এক শতাব্দী ধরে, জায়নবাদীরা তাদের গণহত্যা, দখলদারিত্ব ও উপনিবেশায়নে এই কৌশল অনুসরন করেছে। সারা বিশ্বকে তারা বুঝিয়েছে, এটাই তাদের একমাত্র রাস্তা।

নোম চমস্কি বলেছিলেন "যারা নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আমেরিকার নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা।" এই কথাটি আজ শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, ইরান সহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

রাসেল বলেছেন: জি, হয়তো ফিলিস্তিনের পরিণতি হতে যাইতেছে ইরানের, ভবিষ্যতে পর আরবের একি দশা হবে।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

শ্রাবণধারা বলেছেন: ফিলিস্তিন আর ইরান এক নয়। ইরান ফিলিস্তিনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই ইরানের একই দশা হবে না বলেই আমার মনে হয়। তবে, ইসরায়েল আমেরিকাকে ব্যবহার করে সেরকম করতে পারবে বলে মনে করেছে।

২| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১০

ধুলো মেঘ বলেছেন: ধনী রাষ্ট্র সৌদী আরব, আমিরাত আর কাতার প্রচন্ড রিস্কে আছে। ইরান ধ্বংস করার পরে ট্রাম্প প্রশাসন এই তিন দেশের দোষ খোঁজার দিকে মনযোগ দেবে।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৪

শ্রাবণধারা বলেছেন: তিনটা তিন ধরনের দেশ। সৌদী আরবের ভূমিকা আমি খুব বেশি পরিষ্কার বুঝতে পারছি না। যদিও তাদের ঝোকটা আমেরিকার দিকে, বা সুবিধাবাদী একটা দিকে। কাতার অনেকটাই ইরানের পক্ষে - কাতার এবং ওমান মোটামুটি তাদের নৈতিক জায়গাটা দূর্বলতা সত্ত্বেও প্রকাশ করেছে বলে মনে হয়।

আমিরাত হচ্ছে আমেরিকা-ইসরায়েলের দোসর। পাজিদের আখড়া। তবে ইসরায়েলের কাছে এই দেশগুলো মোটের উপর একই রকমের এবং ইসরায়েল-আমেরিকা সুযোগ পেলে এদের সম্পদ লুটপাট করবে।

৩| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকার ঘাড় থেকে ইসরায়েল নামক ভুত না নামলে নীতি বদলাবে না ।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, এটাই মূল পয়েন্ট। খুব দীর্ঘমেয়াদী একটা বিষয়, সহসা পরিবর্তনের সুযোগ আছে বলে আশা দেখি না।

৪| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



বাংলাদেশের অনেক মানুষ ইসরায়েলীদের নিজেদের পিতামাতা সমতূল্য মনে করে! ইসরায়েল আমেরিকার মানুষের মতো এতো ছোট মন মানসিকতার মানুষ আর হয় না। যুদ্ধবিরতি বলে কথা রাখেনি, তাহলে এদের কথায় আস্থা রাখার মতো আর কোনো ব্যবস্থাও নেই। অতীতেও তারা এই কাজ করেছে।

দুইবারের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অর্থবিত্ত অঢেল কিন্তু লোকটা মানুষ হতে পারেনি, খুনি বর্বর হয়ে নর্দমার কীটের মতো বেঁচে আছে।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১১

শ্রাবণধারা বলেছেন: সংক্ষেপে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অতি সত্যি কথা উল্লেখ করেছেন। ফেব্রুয়ারীর ২৭ তারিখে প্রথম যখন আমেরিকা-ইসরায়েল ইরানে বোমা হামলা করে শিশুদের স্কুলে ১৬৫ টি মেয়েকে হত্যা করলো তখনও ইরানের সাথে আমেরিকার আলোচনা চলছিল।

তখন তার দুদিন বাদেই ছিল ইহুদীদের ধর্মীয় উৎসব পুরিম। আমি ধারনা করেছিলাম, পুরিমের আগেই ইসরায়েলে ইরান আক্রমন করতে পারে। কিন্তু আমেরিকাও যে ইসরায়েলের পরামর্শে সেই দিনই ইরানে হামলা করবে, এটা ভাবিনি। এই ঘটনা দেখার পরে বুঝলাম, ট্রাম্পের চেয়ে নর্দমার কীটও অনেক উত্তম।

৫| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
ইসরায়েল এই বিশ্বের জন্য অভিশাপ।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: হ্যাঁ, এটা বহুভাবে প্রমাণিত হয়েছে। হয় ইসরায়েল, নয় শান্তি। দুটো একসাথে সম্ভব নয়।

৬| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: যুদ্ধ বিরতি, এটা জাস্ট একটা মশকরা।

০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

শ্রাবণধারা বলেছেন: বিষয়গুলো আপনি কিন্তু এখন বেশ অনেকটাই বুঝতে পারছেন। অভিনন্দন!

৭| ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১৯

মাথা পাগলা বলেছেন: আগের কিস্তিতে ট্রাম্পের আমলে বিশ্বে আম্রিকা বড় ধরনের কোন যুদ্ধ করেনি। ক্যাপিটালিস্ট নীতির কারণে সবসময় তাকে সাপোর্ট করেছিলাম। এখন তো মনে হচ্ছে তিনি নর্দমার কীটের থেকেও অধম। সৌদী আরব আম্রিকা ঘেঁষা থাকবে কারন তাদের তেলের সাম্রাজ্য/ভূরাজনৈতিক সিকিউরিটি মূলত আম্রিকাই দেখাশোনা করে। বিশ্ব রাজনীতিতে নীতির থেকে স্বার্থটাই বড়। আমার মনে হয় না সমস্যার সমাধান খুব তাড়াতাড়ি হবে। শক্তির পরীক্ষায় ইরানও বুঝতে পেরেছে তাদের ক্যাপাবিলিটি কেমন। আম্রিকার কথা এতো সহজে মানবে বলে মনে হয় না। একটা জিনিস ভেবে অবাক হই - বাইরের দেশেগুলোর সাথে ডিসকানেক্ট থেকেও ইরান আম্রিকা-ইজরায়েলের সাথে টক্কর দিতে পারছে। তবে ইরানের দিক থেকেও অনেক অ্যাক্টিভিটি আছে যেগুলো আমি সমর্থন করি না।

আমি মারামারি, যুদ্ধ-হিংসাত্বক মূলক কর্মকান্ডে বিশ্বাসী না, তবে আশা করি বিভিন্ন দেশের অ্যাক্টিভিস্টরা প্রোটেস্ট করে প্রেশার ক্রিয়েট করে যুদ্ধ অবসানে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। কিছুদিন আগে ইউটিউব রিলে দেখলাম জাপানের দোকানে ইজরায়েল ইজ নট ওয়েলকাম টাইপের ভিডিও বানিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.