| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাওন আহমাদ
এটা আমার ক্যানভাস। এখানে আমি আমার মনের কোণে উঁকি দেয়া রঙ-বেরঙের কথাগুলোর আঁকিবুঁকি করি।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে আমাদের অসচেতনতার কারণে অনেক পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাঁধভাঙা খুশির বদলে ভেসে যায় কান্নার নোনা জলে। রাস্তার বেপরোয়া বাইক রাইড, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান, ট্রেনযাত্রা কিংবা গ্রামে গিয়ে অতি উৎসাহে সাঁতার না জেনে পানিতে নেমে পড়ার মতো ঘটনাগুলো আনন্দের উৎসবকে নিমিষেই বিষাদে রূপ দেয়।
প্রতি বছরই খবরের কাগজ, টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা এ ধরনের অনেক দুর্ঘটনার খবর দেখি, যা দেখে আমাদের গা শিউরে ওঠে। আমরা চাই না এ ঘটনাগুলো বারবার ভিন্ন রূপে ফিরে আসুক। তাই একটি সুন্দর ও নিরাপদ ঈদ নিশ্চিত করতে আমাদের প্রত্যেকের সচেতনতা জরুরি। আসুন, উৎসবের দিনে নিজের এবং প্রিয়জনদের সুরক্ষায় কিছু জরুরি বিষয় মেনে চলি।
১. ভ্রমণ হোক নিরাপদ ও সুপরিকল্পিত
ঈদযাত্রার পথে তাড়াহুড়ো করা বা অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
• বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় দেখলে ঝুঁকি নিয়ে সেই বাহনে উঠবেন না। পরবর্তী নিরাপদ বাহনের জন্য অপেক্ষা করুন।
• শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়াতে আগেভাগে টিকিট সংগ্রহ করুন। এতে হট্টগোল ও তাড়াহুড়ো কম হয়।
• দীর্ঘ যাত্রায় মূল্যবান জিনিসপত্র ও নথিপত্র সবসময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
২. বাইক রাইড ও রাস্তায় চলাচলে সাবধানতা
ঈদের ছুটিতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাইক নিয়ে দ্রুতগতিতে চলার প্রবণতা দেখা যায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
• বাইক চালানোর সময় অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। রাস্তার মোড়গুলোতে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালান।
• ক্লান্ত অবস্থায় বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকুন। আপনি যদি নিজে না চালিয়ে অন্য কারও বাইকে চড়েন, তবে নিশ্চিত করুন চালক দক্ষ ও সুস্থ আছেন কি না।
৩. জলাশয় ও পানিতে সাবধানতা
গ্রামের বাড়িতে বা বেড়াতে গিয়ে অনেকেই পুকুর বা নদীতে নামেন। তবে এখানে সতর্ক থাকা জরুরি।
• সাঁতার না জানলে গভীর জলাশয়ে নামার সাহস করবেন না। সাঁতার জানলেও পানির স্রোত বা গভীরতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নামা উচিত নয়।
• বাড়ির ছোট শিশুদের সবসময় বড়দের নজরদারিতে রাখুন। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা নদী থাকলে শিশুদের সেখানে একা যেতে দেবেন না।
• লঞ্চে ভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট কোথায় রাখা আছে, তা যাত্রার শুরুতেই জেনে রাখুন।
৪. জরুরি প্রস্তুতি
• প্রাথমিক চিকিৎসা কিট: সঙ্গে ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, প্যারাসিটামল এবং নিয়মিত খাওয়ার প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ রাখুন।
• বাড়িতে ফেরার পথে নিজের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাউকে নিয়মিত আপডেট জানান। ফোনের চার্জ ও ব্যালেন্সের দিকে খেয়াল রাখুন, যাতে জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়া যায়।
মনে রাখবেন, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আপনার একটি সচেতন সিদ্ধান্তই পারে আপনার পরিবারকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে। ঈদ হোক আনন্দময়, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত। চলুন, আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করি, যাতে আজীবন আমাদের সবার পরিবারের মুখে হাসি অমলিন থাকে।
২|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩
শায়মা বলেছেন: আমিও এটাই ভাবছিলাম। ঈদের ছুটিতে যেন আর কোনো দূর্ঘটনার কথা না শুনি।
৩|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:০১
করুণাধারা বলেছেন: ঈদ আসলেই আমার অস্থির লাগে। প্রতিদিন কতগুলো করে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যায়! কত মানুষের জন্য ঈদের আনন্দ গভীর দুঃখে পরিণত হয়।
আশা করি শিগ্রি এই অবস্থা বদলাবে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:২৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় দেখলে
ঝুঁকি নিয়ে সেই বাহনে উঠবেন না।
...............................................................
অনেকগুলো সতর্কতার মধ্যে এটা গুরুত্বপূর্ণ
সকলের যাত্রাপথ সুন্দর হোক এই কামনায় ।