| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."
ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল ও প্রভাবশালী ঘটনাগুলোর একটি। দীর্ঘদিন আমেরিকা ও তার মিত্ররা ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। হরমুজ প্রণালীকে অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরান এখন পশ্চিমাদের সেই অন্যায়ের জবাব দেবার একটা সুযোগ পেয়েছে।
এই ঘটনা কি বিশ্বব্যাপী আমেরিকার আধিপত্যের অবসানের ইঙ্গিত দেয়? এর বদলে কী ধরনের নতুন বিশ্বব্যবস্থা আসতে পারে? ১৯৫৬ সালে মিশর পাঁচ মাসের জন্য সুয়েজ খাল বন্ধ করে দিয়েছিল, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অর্থনীতিকে দুর্বল করে ফেলে। তখন প্রথমবারের মতো বোঝা যায় যে, ছোট একটা দেশও বিশ্বব্যবস্থাকে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
সেসময় ব্রিটেন ইউরোপের বড় জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত তেলক্ষেত্র থেকে তেলবাহী জাহাজ সুয়েজ খাল দিয়ে ইউরোপে যেত। মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরায়েল মিশরে আক্রমণ করে। নাসের তখন সুয়েজ খাল বন্ধ করে দেন। এতে ব্রিটেনে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, তেলের রেশনিং চালু হয় এবং তারা আইএমএফ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। এই সংকট ব্রিটেনকে দুর্বল করে ডলারের আধিপত্য তৈরির পথ খুলে দেয়।
বর্তমান সংকটে হরমুজ প্রণালী কার্যত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব শুধু তেলে সীমাবদ্ধ নয়। তরল গ্যাস সরবরাহ, সার উৎপাদনের ইউরিয়া, সেমিকন্ডাক্টরের হিলিয়াম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সালফার সরবরাহও এতে ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রভাব বিশ্বজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
উন্নত ও উন্নয়নশীল, দুই ধরনের অর্থনীতিতেই এই সংকট চাপ সৃষ্টি করছে। যুক্তরাজ্যে সুদের হার বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছেছে। আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও তারা বড় তেল উৎপাদনকারী হওয়ায় সুরক্ষিত আছে। চীন অনেকটা স্থিতিশীল আছে।
হরমুজ সংকট বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার একটি চাপ-পরীক্ষা হিসেবেও কাজ করছে। ডলার-ভিত্তিক ব্যবস্থাকে এটি চ্যালেঞ্জ করছে, যেখানে তেলের দাম ডলারে নির্ধারিত হয় এবং বৈশ্বিক ঋণ ব্যবস্থাও ডলারের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পদ ডলারে কেন্দ্রীভূত হয়েছে এবং দুর্বল অর্থনীতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্ব যদি ধীরে ধীরে পেট্রো-ডলারের বাইরে যায়, তবে এটি সুয়েজ সংকটের মতো একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে, যখন ব্রিটেনের স্টার্লিং আধিপত্য শেষ হয়েছিল। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা এই পরিবর্তনে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বিগত বছরগুলোতে আমেরিকান আধিপত্য ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছিল। এর পেছনে ছিল ডলার নির্ভরতা নিয়ে অসন্তোষ, চীনের উত্থান, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাড়তি রাজনৈতিক প্রভাব।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ একে ত্বরান্বিত করে। আমেরিকা রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে রাশিয়া ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়, ফলে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। ইউরোপ বাধ্য হয়ে আমেরিকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপের প্রায় অর্ধেক গ্যাস আমেরিকা থেকে আমদানি করা শুরু হয়। একই সময়ে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ালে ডলার আরও শক্তিশালী হয়।
রাশিয়াকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় অনেক দেশ সতর্ক হয়ে যায়। ফলে, ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার অনুসন্ধান বাড়ে। চীন তার লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ায় এবং ব্রিকস জোট বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। যদিও এসব উদ্যোগ যদিও ডলারের পূর্ণ বিকল্প নয়, তবু তারা একটি সম্ভাব্য বিকল্পকে এগিয়ে নেবার ভিত্তি তৈরি করছে।
বর্তমানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিস্তার, সৌর, বায়ু, ব্যাটারি ও সবুজ প্রযুক্তি - উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছে। নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে খরচ কমে যাওয়ায় এটি একটা টেকসই বিকল্প হয়ে উঠছে এবং নতুন বিনিয়োগের বড় অংশ এখন এই খাতে যাচ্ছে। এতে দেশগুলোর স্বনির্ভরতা বাড়ছে। কারণ স্থানীয়ভাবে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমছে।
হরমুজ সংকট জীবাশ্ম জ্বালানি-নির্ভর বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং আমেরিকার শক্তির সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। তবে এটি আমেরিকার ক্ষমতার হঠাৎ পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। এটি দেখায় যে উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন নতুন বৈশ্বিক কাঠামো গড়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ইচ্ছা ও ভাবনার দিক থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম।
(লেখাটি মিশরীয়-আমেরিকান অধ্যাপিকা মোনা আলীর "The Reckoning- Hormuz and the end of American hegemony: Mona Ali" এর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ। আমি অদল-বদলজনিত কিছু মাতবরি করেছি মাত্র।)
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: মূল লেখাটিতে ইউয়ানের প্রসঙ্গ এক-দু’বার এলেও সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। লেখাটার মূল ফোকাস ছিল ব্রিকসের সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক পেমেন্ট সিস্টেমের বিকাশ এবং জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের সম্ভাবনা।
ফসিল ফুয়েল থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের যে উত্থান, তা আমার কাছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুব প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখবেন যে বাংলাদেশের ডলার ব্যয়ের একটি বড় অংশই বিপিসির মাধ্যমে তেল আর এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়।
২|
১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:০১
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা হরমুজ নিয়ে সরাসরি সংকট নেই তবে যে সব দেশ থেকে তারা আমদানি করে তাদের অসুবিধা আছে । তাই পরোক্ষ ভাবে আমেরিকাও টেনশনে পড়ে গেছে ।
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:০৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকা হরমুজ নিয়ে সরাসরি সংকট নেই।
না আছে। প্রথমত জিসিসির কোম্পানীগুলোতে তাদের খুব বড় অংশিদারিত্ব আছে। কাতাররের এলএনজিতে তাদের অংশিদারিত্ব ২৫-৩০% হবে।
এখন এটা মোটামুটি বোঝা যাচ্ছে যে আমেরিকা নিজের শুরু করা যুদ্ধে এত সহজে জিততে পারবে না এবং এই অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়াও ট্রাম্পের জন্য কঠিন।
৩|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৩
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
লেখাটি সমসাময়িক ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সুসংগঠিতভাবে তুলে ধরেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য অবরোধকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে সুয়েজ সংকটের সাথে তুলনা করে
বিশ্লেষণ করার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এতে বোঝানো হয়েছে যে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব
ক্ষমতার ভারসাম্যে কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বাস্তবে বৈশ্বিক শক্তির পরিবর্তন সাধারণত ধীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে সামরিক, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক
ক্ষমতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা যেত।
সব মিলিয়ে, এটি একটি চিন্তাশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ লেখা, যা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন
করে।
শুভেচ্ছা রইল
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: শ্রদ্ধেয় আলী ভাই, ধন্যবাদ। আপনার এই মন্তব্যটা পুরোটাই মনে হয় এআই দিয়ে লেখা, তাই এটির উত্তরও আমার এআই দিয়ে দেওয়া উচিত, তাই নয় কী? হা হা ![]()
আসলে ব্যাপারটা কি, পাঠকের মন্তব্য হলো এক ধরনের প্রতিক্রিয়া। একটা পোস্ট এআই দিয়ে লিখলে কিছুটা মানা যায়। কেননা, পোস্টে আমরা অনুভুতি ছাড়াও প্রায়ই তথ্য উল্লেখ করি, কিছু বিশ্লেষণ করি। তথ্য পুল করা এবং গতানুগতিক বিশ্লেষণ এআই মোটামুটি ভালোই করতে পারে।
কিন্তু মন্তব্য যখন এআই দিয়ে লেখা হয়, সেটা পড়তে যান্ত্রিক ও বিরক্তিকর লাগে। বিষয়টা নিয়ে আপনি ভেবে দেখবেন এই আশা রইল।
৪|
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
রাজীব নুর বলেছেন: আমি চাই সমাধান। আমি চাই শান্তিতে বসবাস করতে।
এজন্য যা যা করার প্রয়োজন তা করা হোক। ইরাক আর আমেরিকা এক সাথে বসুক। আলোচনা করুক। আলোচনা করলেই সমাধানের পথ বেড়িয়ে আসে।
১৩ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: রাজীব নুর বলেছেন: ইরাক আর আমেরিকা এক সাথে বসুক।
![]()
যুদ্ধটা এবার ইরানে হচ্ছে। ইরাকে হয়েছিল যখন আমরা তরুন।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১
নিমো বলেছেন: কারও সারা হলে কারও শুরু হয়। এখানে কার আধিপত্যের শুরু হবে বলে মনে করেন?