| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
বইটার নাম "জনম জনম"। চমৎকার একটা বই।
আমার মনে আছে, বইটা শেষ করার পর আমার মন ভীষণ খারাপ হয়েছিল। চোখে প্রায় পানি চলে আসছিলো। ছেলেদের কাদতে হয় না, তাই কান্না করি নাই। হুমায়ুন আহমেদ হলেন ওস্তাদ লোক। দেশে তার সমতুল্য কয়জন আছে! উনার আত্মবিশ্বাস এত তীব্র ছিলো যে লেখালেখি করার জন্য চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
হুমায়ুন আহমেদ বইটা শেষ করে নাম দিয়েছিলেন, রাত্রি।
এই নামে বইটা ছাপাও হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু একদিন বইটার নাম রাত্রি বদলে রাখেন, জনম জনম। 'জনম জনম তব তরে কাদিব' গানটা শুনেই হুমায়ুন আহমেদ বইটার নাম জনম জনম রাখেন। হুমায়ুন আহমেদের আরো কিছু বই আছে, যেগুলো দুর্দান্ত। যেমন- 'আজ আমি কোথাও যাব না', 'শুভ্র গেছে বনে', 'তেতুল বনের জোছনা', 'মেঘ বলেছে যাব যাব, রুপার পালঙ্ক, নক্ষত্রের রাত।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র তিথি।
দরিদ্র পরিবারের কন্যা। তিথির বাবা অন্ধ। তিথির একটা বড় বোন আছে অরু। অরুর বিয়ে হয়ে গেছে। তিথির ছোট ভাইয়ের নাম টুকু। টুকু ক্লাস সেভেনে পড়ে। তিথির বড় ভাইয়ের নাম হীরু। ফটকা টাইপ ছেলে হীরু। আমি বলল, হীরু চরিত্রটা দারুন! আমার দারুণ পছন্দ হয়েছে। পুরো উপন্যাসে অনেক দুঃখ কষ্ট আছে। কিন্তু তিথির বড় ভাই হীরু আপনাকে আনন্দ দিবে।
উপন্যাসের নায়িকা আসলে তিথি।
তিথি একজন নিশিকন্যা। তার উপার্জনেই সংসার চলে। কিছু বই আছে। একদম বুকে এসে ধাক্কা দেয়। বিষন্ন করে তোলে। বুকের মধ্যে হাহাকার জাগিয়ে তোলে, জনম জনম ঠিক এরকমই একটা বই। জাস্ট গ্রেট। বইটা পড়লেই বুঝা যায়, লেখক বইটা অনেক যত্ন নিয়ে লিখেছেন।
২|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- অনেক আগে পড়া উপন্যাস।
৩|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:০৯
হুমায়রা হারুন বলেছেন: আরেকটু বিশদ লিখুন।
কারণ আমরা যারা বইটি পড়িনি তারা একটা ডিটেইল ধারণা পাবো আপনার রিভিউ থেকে। ।
৪|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
এসব বই ছাত্র জীবনে প্রচুর পড়েছি।
এমনকি পরীক্ষার আগের রাত্রেও পড়েছি।
৫|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কিছু বই গল্প বলে, আর কিছু বই নীরবে হৃদয়ের ভেতর বসে যায়। জনম জনম ঠিক তেমনই একটি উপন্যাস
নীরব, গভীর এবং অদ্ভুতভাবে মানবিক।
হুমায়ূন আহমেদের সহজ অথচ আবেগঘন লেখনী এই বইটিকে করেছে আলাদা। গল্পটি মূলত মানুষের সম্পর্ক,
ভালোবাসা, অপেক্ষা এবং ভাগ্যের অদৃশ্য টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এখানে নাটকীয়তা নেই,
আছে জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহ যা পাঠকের নিজের জীবনকেই যেন আয়নার মতো সামনে তুলে ধরে।
উপন্যাসের চরিত্রগুলো খুব বাস্তব মনে হয়। তাদের আনন্দ, দ্বিধা, ভালোবাসা এবং নীরব কষ্ট পাঠকের মনে
ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়। লেখক খুব সাধারণ ঘটনাকে অসাধারণ অনুভূতিতে রূপ দিতে পারেন এটাই তাঁর
লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি।
এই বই পড়তে পড়তে মনে হয়, মানুষের জীবনে কিছু সম্পর্ক হয়তো সময়ের নয়, জন্ম জন্মান্তরের। ভালোবাসা
কখনো উচ্চারণে নয়, বরং অনুভবে বেঁচে থাকে এই সত্যটিই উপন্যাসের মূল সুর।
যারা শান্ত, আবেগময় এবং হৃদয়স্পর্শী গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য জনম জনম একটি অনন্য পাঠ অভিজ্ঞতা।
শুভেচ্ছা রইল
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: বইটা পড়েছি; আপনার লেখাও পড়লাম। নিশিকন্যাদের নিয়ে লেখা আমার প্রিয় বই দস্তভয়েস্কির ক্রাইম এন্ড পানিশমেন্ট ! বাংলা কারো বইয়ে সেভাবে নিশিকন্যাদের নিয়ে লেখা আমার ভালো লাগে নি।