| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তো হইল কি যে, রাতে আমি বাড়ির বাইরে বাইরাইসি আর বর্ষণ আরম্ভ হইসে। আমি দেখলাম বাসার সামনের স্ট্রিটলাইটের নীচে খাড়াইয়া এক লোক ভিজতেছে। আমি ভিজতে ভিজতে ভদ্রলোক পানে যাইয়া একটু নজর কইরা দেখলাম। দেখিলাম চিনি উহারে। উনি খোর্শেদ। আমাগো পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন। বাট ভদ্রলোক তো মারা গেছিলেন গত বছর। উনার কুলখানিতে মুরগীর বিরানী করা হইসিল কারণ কিছু কিছু হিন্দু লোকজনও আসছিলেন অনুষ্ঠানে।
আমি গিয়া কইলাম যে
- আপনে খোর্শেদ বাই না?
ভদ্রলোক উত্তর দিলেন
- হ। স্যালি কি অবস্থা?
- আমি তো আছি আরকী। কিন্তু আপনে এখানে কেমনে? আপনে না মারা গেছিলেন?
- তা তো গেছিই তবে মাঝে মধ্যে রেইনি ডে গুলিতে ভিজতে ইচ্ছা করে বড়।
মৃত মানুষ সামনে খাড়ায় আছে বইলা আমার একটু ভয় ভয় করল। ভদ্রলোকরে স্পষ্ট কইরা বোঝা যায় না। কেমন অন্ধকার অন্ধকার ঝাপসা একটা ব্যাপার। অবশ্য রাত্রকালে এমনি লোকজনরেই অস্পষ্ট বোধ হয় আর ইনি তো মইরাই গেছেন। আমরা বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে লাগলাম।
আমরা বইলাম গিয়া একটা চা’র দোকানে তাই দোকানদার আমগোরে সিগ্রেট খাইতে দিল। কইল যে চা-টা কিছু হইব না। চুলার ভিত্রে বলে পানি ঢুকছে। আমরা দোকানের ছাউনির নীচে খাড়ায়ে ধোঁয়া ছাড়তে লাগলাম। খোর্শেদ কইলেন যে
- আমার বউ কেমন আছে?
- ভাল আছে। ওনার শুনসি আরেকটা প্রণয় হইছে। যার লগে হইসে সেই পোলার ওয়াইফ মারা গেছিল বিয়ার এক বছরের মধ্যে এন্ড হি’জ গট আ সান।
- শুনছেন মানে কি? ঠিক কইরা কন।
- কাহিনী এইডাই রে ভাই। একটু ঘুরায়ে বললাম আরকী।
- তাইলে তো ভালোই। ওর বয়স কম ছিল আর আমগো তো পোলাপাইনও কিছু ছিল না। একটা সম্পর্কে জড়াইতেসে এটা ভাল।
তারপর এইসব ক্ষেত্রে লোকেরা যেমন বইলা থাকে আরকি, তেমন আমিও বললাম যে, “ জীবন তো আর থাইমা থাকে না”। খোর্শেদ সাহেব বা খোরশেদ সাহেবের মরণোত্তর সত্তা জবাব দিলেন না। তার তেমন কোন এক্সপ্রেশনও বুঝা গেল না। এমনে লোকজনেরই এক্সপ্রেশন বুঝা জটিল আছে আর ইনি তো মইরাই গেছেন।
রাতে ঘরে ফিইরা আমার খুব জ্বর আইল। একজন মৃত ব্যাক্তির লগে বইয়া সিগ্রেট খাইসি মনে কইরা শরীর কাঁপতে লাগল। আমার এমন লাগতেছিল যেন খোর্শেদ সাহেব ঘরের মধ্যে ঢুইকা পড়ছেন। জিনিসপত্র নাড়াচাড়া করে দেখতেছেন। নানান কথা জিগাইতেছেন। কিন্তু আমি কোন কথাই পরিস্কার কইরা শুনতেছি না। আমি খালি শুনতেসি বর্ষনের অবিরাম অক্লান্ত শব্দ। আমার শীত করতেছিল। মনে হইল ঘরের মধ্যেই বৃষ্টি পড়তেছে। আমার জ্বর কমল পরদিন দুপুর নাগাদ। কমল মানে চইলাই গেল। আমি গোসল টোসল কইরা দেখলাম ঘরে খাওনের কোন ব্যাবস্থা নাই আর ক্ষিধাও লাগছে ভাই সেই। আমি নীচে নামতে গিয়া সিড়ির গোড়ায় খোর্শেদ সাহেবের ওয়াইফরে দেখলাম। লগে হ্যার নতুন প্রণয়। নতুন আর কওয়া যায় না অবশ্য। চার মাস তো হয়ে গেছে। মহিলা আমাকে দেখে আড়ষ্ঠ হলেন যেন আর বয়ফ্রেন্ড লোকটার মুখে বিরক্তির ভাব আসল। কেমন চোখ ছোট ছোট করে মুখ কুঁচকে আমাকে দেখতেছেন। মহিলার গায়ে লাল শাড়ি , কপালে টিপ, চোখে কাজল আর ঠোঁটে লিপস্টিক। শহুরে ললনা বৈধব্যের সাদা রং ধারণ করার মত বিষয়ের মধ্য দিয়ে কোনকালেই যান নাই কিন্তু খোর্শেদ সাহেব মারা যাওনের পরের কয়দিন মেকাপ টেকাপ কিছু দিতেন না। তাতে তারে খারাপ দেখাইত না, যদি আমারে জিগান।
ওনারা উঠতেছেন সিড়ি দিয়া। আর আমি নামব। আমগো বাড়ির সিড়িডি চিপা ও সরু বিধায় পরস্পর বিপরীতমুখী লোকেরা একই সময়ে সিড়ি ব্যবহার করতে পারেন না। আমি ভদ্রতা কইরা খাড়ায়া আছি। কিন্তু বয়ফ্রেন্ড লোকটি এমন মুখভংগি করতেছেন যেন আমার খাড়ায়া থাকাটা ইচ্ছাকৃত। আমি ওনারে বিশেষ পাত্তা দিলাম না। তারা আরেকটু নিকটবর্তী হইলে আমি বয়ফ্রেন্ডরে টপকাইয়া মহিলারে উদ্দেশ্য কইরা কইলাম যে
- ভাবী আছেন তো ভালই, না?
মহিলা কিছু না কয়ে মাথা নীচু কইরা কেমনে হাসলেন জানি। আমি বিভ্রান্ত হইলাম। এমনে লোকজনেই বিভ্রান্ত করে আর ইনি তো সুন্দরী মেয়েমানুষ।
বয়ফ্রেন্ড লোকটা ফোঁস ফোঁস শব্দ করতে লাগলেন।
নীচে নাইমা দেখলাম বৃষ্টি থামছে বটে বাট আবারও শুরু হইব হইব একটা ভাব আকাশে বাতাসে বিরাজমান। আমি গতরাতের স্ট্রীটলাইটের নীচে আইসা খাড়াইলাম। আমার মনে হইল আমি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতেসি।
২|
১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:২৮
সালেহ মুহাম্মাদ বলেছেন: থ্যাংক্স ম্যান।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:২১
গ্রেট উৎস বলেছেন: apnar lelhar hat valo. chaliye jan. bangla te ektu problem hoyece . tai eng tei likhlam.