| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইংরেজী দৈনিক ডেইলী স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে করা ৭২ টি মামলার কার্যক্রম একযোগে স্থগিত করেছে উচ্চ আদালত। একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১১ এপ্রিল সোমবার এ আদেশ দেন।পাশাপাশি মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে এই ৭২টি মামলার কার্যক্রম কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন আদালত। এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।
শুধু বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করাই নয় আরও চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ উচ্চ আদালত। এ রায়ের আগে ৩ এপ্রিল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে ৬৬টি মামলায় চার সপ্তাহ করে আগাম জামিন পান মাহ্ফুজ আনাম। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা আদালত থেকে তিনি ১০টি মামলায় জামিন পেয়েছেন।
এক সঙ্গে এতোগুলো মামলায় জামিনের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল সন্দেহ নাই। মাহফুজ আনাম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনার বিষয়ে এর আগে ইউরো বার্তায় ২৫ ফেব্রুয়ারী ‘হাসিনার বাউন্সার এবং মাহফুজের হুক শট’ শিরোনামে একটি মতামত প্রতিবেদন লেখা হয়েছিলো।
সেখানে লেখা হয়েছিলো, গত ২২ ফেব্রুয়ারী শেখ হাসিনা মাহফুজ আনামকে একহাত নিয়েছেন। বোলারের বাউন্সার ছোড়ার মতো হাসিনার বাউন্সার হচ্ছে মাফ চান নইলে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। গত ২০ বছরে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কি করা হয়েছে তাও বলেছেন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচন না হলে মাহফুজ আনামরা কিভাবে উপকৃত হতেন তার ফিরিস্তি ও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
এ সময় শেখ হাসিনা ক্ষমা না চাইলে তাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন করার হুমকি দিয়েছেন।
একই দিনে শেখ হাসিনার ছোড়া বাউন্সারের জবাব দিয়েছেন মাহফুজ আনাম হুকশট খেলে। বিবিসি বাংলার সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “এখনো তো আমরা র্যাবের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর খবর ওরা যেভাবে দেয়- সেভাবেই ছেপে যাচ্ছি। এটা তো একটা বিরাট ইস্যু যা গভীরভাবে দেখা দরকার।”
এ কথার মাধ্যমে মাহফুজ আনাম যা বলতে চেয়েছেন মোটা দাগে বললে সেটা হলো র্যাব অপরাধীকে বিচারের সম্মুখীন না করে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করছে এবং সেটা খতিয়ে না দেখেই হুবহু ছাপানো হচ্ছে। সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় একই কায়দায় ডিজিএফআইয়ের প্রতিবেদন শেখ হাসিনার ভাষায় সুবোধ বালকের মতো ছাপানো হতো।
শেখ হাসিনার বাউন্সারের জবাবে মাহফুজ আনামের হুক শটকে দুর্বল ভাবা যাবে না। মোটামুটি ভালই হুক দিয়েছেন তিনি। এখন দেখা যাক বাউন্ডারী লাইনে দাড়ানো কোন খোলোয়াড় ক্যাচ লুফে মাহফুজকে আউট করতে পারেন কিনা?
সে নিবন্ধে পুনশ্চ দিয়ে লেখা হয়েছিলো : বাউন্ডারী লাইনের খেলোয়াড়টি হলো আইন। শেখ হাসিনার কথায় আইনের মারপ্যাচে এখন মাহফুজ সাহেব কট আউট হলে বিস্ময়ের কিছু নেই।
এখন সব তর্ক বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বাউন্ডারী লাইনের খেলোয়াড় অর্থাৎ আইনের হাত গলে মাহফুজের হুক করা বল সীমানার ওপারে গিয়ে ছক্কায় পরিনত হলো। শেখ হাসিনার কথামতো বিচারের সম্মুখীন হতে হলো না মাহফুজ সাহেবকে।
পাদটীকা: সরকার প্রধানের দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্য দৈন্যতার পরিচায়ক।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৪৩
প্রামানিক বলেছেন: ছক্কাই বটে