নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্যদের সেভাবেই দেখি, নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই। যারা জীবনকে উপভোগ করতে চান, আমি তাঁদের একজন। সহজ-সরল চিন্তা-ভাবনা করার চেষ্টা করি। আর, খুব ভালো আইডিয়া দিতে পারি।

সত্যপথিক শাইয়্যান

আমি একজন চিন্তুক, সমাজ নিয়ে চিন্তা করি! সমাজের ভালোর জন্যে গান-গল্প-ছড়া লিখি ও আইডিয়া শেয়ার করি। আপনি?

সত্যপথিক শাইয়্যান › বিস্তারিত পোস্টঃ

খালিদ বিন ওয়ালিদের জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন বদর যুদ্ধের সাহাবী হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫

প্রথমেই বলে নিতে হবে, ইসলামে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন এই বদর যুদ্ধে নবীজির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন একদল মুষ্টিমেয় সাহাবী। সেই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)।

নবীজী পর্দা নেওয়ার পরে, খলিফা আবু বকরকে মানতে অস্বীকার করে আরবের অনেক গোত্র। সেই সময়ে, আবু বকরকে যাকাত দিতে মালিক ইবনে নুওয়ায়রা (রাঃ) অস্বীকার করেছিলেন কি না তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। ইবনে কাসীর আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকরের নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তামীম গোত্র আক্রমণের সুযোগ গ্রহণ করলে, মদীনার আনসারী সাহাবীরা সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।

সেই গোত্র আক্রমনের এক পর্যায়ে মালিক ইবনে নুওয়ায়রা (রাঃ)-কে হত্যা করে বসেন খালিদ বিন ওয়ালিদ এবং সেই রাত্রেরই মালিকের স্ত্রীকে বিয়ে করেন ইদ্দৎ পালনের সুযোগ না দিয়েই যা স্পষ্টত ধর্ষন ছিলো।

খালিদের এসব কাজের বিরোধিতাকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) যিনি বদর যুদ্ধের সাহাবী ছিলেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে আছে যে - নবীজী বলেন - "তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত করে দেওয়া হয়েছে।"

সেই অভিযানের সময়ে হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) খালিদকে বলেছিলেন যে - হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) ও তাঁর দল নামাজ আদায় করেছিলেন। কিন্তু, খালিদ বিন ওয়ালিদ ও তার দল তাতে কর্ণপাত করেন নাই। অর্থাৎ, খালিদ একজন বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীর কথা শুনেন নাই।

যেই অভিযানের পরের দিন, হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.) সেই জায়গা ত্যাগ করে মদীনায় চলে যান। তারপরে, খলিফা আবু বকরের কাছে অভিযোগ করেন যে - খালিদ বিন ওয়ালিদ একজন মুসলিমকে হত্যা করেছেন। এটা ছিলো স্পষ্ট একটা জুলুম।

===================
এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এসব আলোচনা করে এখন কি লাভ?
আসলে, ইসলামের ভালো অনুসারীরা যদি জুলুমকারীদের অনুসরণ করে নিজেরাই জুলুম করা আরম্ভ করে দেন, তাহলে সমাজে ফেতনা ফ্যাসাদ আরম্ভ হবে না? সমাজ কি অন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে না?

তাই, প্রয়োজন, সঠিক ইতিহাস জেনে, নিজেদের কি করতে হবে তা ঠিক করে নেওয়া।
================================================================



সূত্রঃ

১) ইবনে কাসির, আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ, দার আবি হায়্যান, কায়রো, ১ম এডিশন, ১৪১৬/১৯৯৬, ভলিউম ৬ পৃষ্ঠা ৩৯৪
২) ইবনে কাসির, আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ (বাংলা), ভলিউম ৬ পৃষ্ঠা ৪৮৩ - ৪৮৫
৩) আত তাবারী, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা ৫০১-৫০২


মন্তব্য ৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:২৮

অগ্নিবাবা বলেছেন: খালিদ (গনীমাত হিসাবে) নারী বন্দীদের মধ্য থেকে মালিক ইব্‌ন নুওয়ায়রার স্ত্রীকে বেছে নেন। তার নাম ছিল উম্মু তামীম, মিনহালের কন্যা। দেখতে অত্যন্ত সুন্দরী। ঋতু থেকে পাক হওয়ার পর খালিদ তার সাথে মিলিত হন। কেউ কেউ বলেন যে, খালিদ মালিক ইব্‌ন নওওয়ায়রাকে ডেকে এনে সাজাহর মতাবলম্বন এবং যাকাত প্রদানে বিরত থাকার কারণ জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন, তোমার কি জানা নেই যে, যাকাতের বিধান সালাতের বিধানের সাথে মিলিয়ে একত্রে দেয়া হয়েছে? মালিক বলল, তোমাদের সাথী (নবী) তো এ রকমই মনে করেন। খালিদ বললেন, তিনি আমাদের সাথী, তোমার সাথী (নবী) নন কি? হে যিরার! এর গর্দান উড়িয়ে দাও! তারপর মালিকের গর্দান উড়িয়ে দেয়া হয়। খালিদের নির্দেশে তার শির ছিন্ন করা হল। তারপর দু’টি পাথর ও মালিকের মস্তক এই তিনটির উপর ডেকচি বসিয়ে খাবার রান্না করা হয়। এই খাবার দিয়ে খালিদ ঐ রাত্রের আহার সারেন। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল, আরবের মুবতাদ ও অন্যান্য লোকদেরকে ভীত ও শংকিত করা। কথিত আছে যে, মালিকের মাথার চুলও রান্নার আগুনে দেয়া হয় এবং চুল এত বেশি ছিল যে, গোশ্ত পাকান শেষ হবার পরও চুল অবশিষ্ট ছিল। আবূ কাতাদা খালিদের এই কাজের সমালোচনা করেন এবং এ নিয়ে দু’জনের তর্ক-বিতর্কও হয়। এমন কি আবূ কাতাদা খলীফা হযরত সিদ্দীকের নিকট হাযির হয়ে অভিযোগ পেশ করেন। হযরত উমর (রা)-এ বিষয়ে আবূ কাতাদা থেকে অবগত হয়ে খলীফাকে বলেন, খালিদকে অপসারণ করুন-কেননা তার তরবারীর মধ্যে যুলুম আছে। কিন্তু হযরত আবূ বকর বললেন, যেই তরবারীকে স্বয়ং আল্লাহ্ কাফিরদের জন্য উন্মুক্ত করেছেন আমি তাকে কোষবদ্ধ করতে পারি না। এরপর মুতামমিম ইব্‌ নুওয়ায়রা এসেও খালিদের বিরুদ্ধে খলীফার নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। হযরত উমর তাকে সাহায্য করেন।
হযরত উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রা) খালিদ ইব্‌ন ওলীদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণের জন্য খলীফাকে অব্যাহতভাবে চাপ দিতে থাকেন এবং বলতে থাকেন যে, তার তরবারী যুলুমের সাথে জড়িত হয়ে গেছে। অবশেষে খলীফা খালিদকে ডেকে পাঠালেন। তিনি মদীনায় এসে পৌঁছলেন। তখন তিনি লৌহ বর্ম পরিহিত ছিলেন। প্রচুর পরিমাণ রক্ত লাগার কারণে তাতে মরচে ধরে গিয়েছিল। খালিদ তাঁর মাথার পাগড়ির উপর রক্তমাখা একটি তীর গেড়ে রেখে ছিলেন। মসজিদে প্রবেশ করতেই হযরত উমর উঠে তার পাগড়ি থেকে তীরটি নিয়ে ভেংগে ফেললেন, এবং বললেন, তুমি কি দাপট দেখানোর উদ্দেশ্যে একজন মুসলমানকে হত্যা করে তার স্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছ। আল্লাহর কসম, তোমাকে আমি পাথর মেরে হত্যা করব। খালিদ হযরত উমরের সাথে কোন কথা বললেন না । তিনি শুধু লক্ষ্য করলেন যে, খলীফার মত এ ব্যাপারে হযরত উমরের মতের অনুরূপ কিনা। তারপর তিনি হযরত আবূ বকরের কাছে গেলেন এবং ওযর পেশ করলেন। খলীফা তাঁর ওযর গ্রহণ করলেন ও ক্ষমা করে দিলেন এবং মালিক ইব্‌ নুওয়ায়রার রক্তপণ আদায় করে দিলেন ।
তিনি যখন খলীফার নিকট থেকে বের হন তখন হযরত উমর মসজিদে বসা ছিলেন। খালিদ তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে উম্মে শামালার পুত্র, এবার আমার কাছে এসো! উমর কোন উত্তর দিলেন না। তিনি বুঝতে পারলেন যে, খলীফা তার প্রতি প্রসন্ন হয়ে গেছেন । আবূ বকর (রা) খালিদকে সেনাপতির পদে বহাল রাখেন। আসলে মালিক ইব্‌ নুওয়ায়রাকে হত্যার ব্যাপারে খালিদ ইজতিহাদ করেছিলেন, এবং তাতে তাঁর ভুল হয়েছিল । আর একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা) আবূ জুযায়মাকে দমন করার জন্য খালিদকে প্রেরণ করলে তিনি সেই সব বন্দীদেরকে হত্যা করেন যারা বলেছিল “আমরা ধর্ম ত্যাগ করেছি, আমরা ধর্ম ত্যাগ করেছি।” আসলে তারা আমরা মুসলমান হয়েছি- কথাটি বলতে অভ্যস্ত ছিল না। তারপর রাসূলুল্লাহ্ (সা) তাদের রক্তপণ আদায় করেন-যার পরিমাণ ছিল বনূ কালবের পশু পালের সমান। রাসূলুল্লাহ্ (সা) দু’হাত তুলে দু’আ করেছিলেন, হে আল্লাহ্! খালিদ যে কাজ করেছে, আমি তা থেকে মুক্ত। তা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ্ (সা) খালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করেননি ।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:





বর্ণনা সঠিক আছে।
ধন্যবাদ।

২| ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৭

অগ্নিবাবা বলেছেন: এইবার কইবেন এসব ফালতু কথা কই পাইছেন? এইখানে পাইছি, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৮৩-৪৮৫, বই পয়সা দিয়ে কিইন্না পইড়া দেখেন।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আমি পড়েছি।
বইটির পিডিএফ ভার্সন ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।

ধন্যবাদ।

২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯

সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:




আর, সেই ঘটনার সময়ে নবীজি ছিলেন না।
আবু বকর খলিফা হয়েছিলেন নবীজির পরে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.