| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিচ্ছিন্ন ঘটনা (রম্য রচনা)
বহু বছর পর এক প্রবাসী ভদ্রলোক দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই এক পুরোনো পরিচিত লোকের সঙ্গে দেখা।
ভদ্রলোক: কিরে, দেশের খবর কী? সব ভালো তো?
লোক: আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সবই ভালো।
ভদ্রলোক: বিচ্ছিন্ন ঘটনা! আবার কী হলো?
লোক: তেমন কিছু না। শুধু বাজারে গেলে মানুষের পকেট একটু হালকা হচ্ছে।
ভদ্রলোক: পকেট হালকা হলো কেন?
লোক: বাজার যে ভারী হয়েছে, স্যার! শসার কেজি আজ ১৬০ টাকা চাল, ডাল, তেল, মাছ- সবাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উপরের দিকে যাচ্ছে।
ভদ্রলোক: সরকার কী বলছে?
লোক: বলছে, বাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
ভদ্রলোক: মানুষ কী বলছে?
লোক: মানুষ বলছে, বাজারের নিয়ন্ত্রণ বাজারের মধ্যেই আছে, মানুষ ধারে কাছে যেতে পারেনা।
ভদ্রলোক: আচ্ছা, রাস্তাঘাট?
লোক: চমৎকার! শুধু গাড়িগুলো মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকে।
ভদ্রলোক: কেন?
লোক: যানজট, স্যার, যানজট! তবে এটাকে এখন আর যানজট বলে না- 'ধৈর্যচর্চা কর্মসূচি' বলে।
ভদ্রলোক: বিদ্যুৎ-পানি?
লোক: দুটোই আছে। শুধু মানুষ আর বিদ্যুতের দেখা- সাক্ষাৎ সব সময় একসঙ্গে হয় না।
ভদ্রলোক: আইন-শৃঙ্খলা?
লোক: খুব ভালো। কোনো ঘটনা ঘটলেই সঙ্গে সঙ্গে বলা হয়-"দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না" তবে দোষীদের তারা খুজেও পায় না কারণ মব নামের নতুন সংস্কৃতির জন্য।
ভদ্রলোক: তারপর?
লোক: তারপর তদন্ত কমিটি হয়।
ভদ্রলোক: তদন্তের ফল?
লোক: ফল বেরোনোর আগেই নতুন ঘটনা ঘটে। তখন নতুন তদন্ত কমিটি হয়। পুরোনো কমিটির ওপর নতুন কমিটি, তার ওপর উপকমিটি- এভাবেই রাষ্ট্রযন্ত্রের চাকা সচল থাকে।
ভদ্রলোক: রাজনীতির খবর কী?
লোক: আহা! সে তো আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি। সকালে এক পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে, বিকেলে বিরোধী পক্ষ তার প্রতিবাদ করে, আর এক বড় পক্ষতো রাজনীতি কি সে্টাই ভুলে যাচ্ছে আর রাতে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন- কে কী বলতে চেয়েছিলেন।
ভদ্রলোক: সংসদ?
লোক: চলছে।
ভদ্রলোক: গণতন্ত্র?
লোক: সেটাও চলছে।
ভদ্রলোক: মানুষ?
লোক: তারাও চলছে। কেউ রিকশায়, কেউ বাসে, কেউ লাইনে, কেউ আশায়।
ভদ্রলোক: আচ্ছা, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
লোক: সমস্যা নয় স্যার- পরিভাষা। আগে যাকে সংকট বলা হতো, এখন তাকে 'চ্যালেঞ্জ' বলা হয়, আগের সরকার সব নষ্ট করে গেছে। আগে যাকে দুর্ভোগ বলা হতো, এখন বলা হয় 'সাময়িক অসুবিধা'। আর আগে যাকে প্রতিশ্রুতি বলা হতো, এখন তাকে 'ভিশন' বলা হয়।
ভদ্রলোক: তাহলে মানুষ বাঁচে কীভাবে?
লোক: মানুষ বড় আশাবাদী প্রাণী, স্যার। সকালে খবর দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, দুপুরে চায়ের দোকানে রাষ্ট্র বাঁচায়, বিকেলে ফেসবুকে বিপ্লব করে, রাতে বলে-"ইনশাআল্লাহ, কাল থেকে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
ভদ্রলোক: তাহলে সত্যিই সব ভালো?
লোকটি একটু হেসে আকাশের দিকে তাকাল।
লোক: অবশ্যই ভালো, স্যার। আমাদের দেশে আশার কখনো অভাব হয় না। শুধু আশার সঙ্গে বাস্তবতার দেখা-সাক্ষাৎটা একটু কম হয়।
তারপর গামছা দিয়ে কপালের ঘাম মুছে শান্ত গলায় বলল-
"তবে যাই বলুন স্যার, এই কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেশের সব খবরই কিন্তু ভালো!"
২|
১৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন:
খবর এলো আকাশ ভেঙে উপচে পড়ে জল,
ভেসে গেছে রাস্তাঘাট আর চাষের ক্ষেতের ফসল।
তবুও মোরা বুক ফুলিয়ে হাসছি পরম সুখে,
এমন ভালো খবর শুনে আহ্লাদ জাগে বুকে!
একটু আধটু জল জমেছে, এ তো কিছু নয়!
নদী নালা এক হয়েছে, রাস্তার হলো ক্ষয় ।
তবুও বলো "সবই ভালো, চমৎকার সব দিক,
"মিথ্যে গুজব ছড়ায় যারা, দিচ্ছে নাকো ঠিক!
৩|
১৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মজা পেলুম।
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: রম্যটা ভালোই হয়েছে।