| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
লিখতে চাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে। রাজনীতি,সাংস্কৃতিক বা ধর্মের ব্যাপারে মতামতের ভিন্নতা থাকা সত্বেও মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আক্রমনাত্বক বা উষ্কানীমূলক কিছু না লিখে সকলের সহনশীলতার পরিচয়ই লেখার উৎকর্ষ সাধনের একমাত্র হাতিয়ার।যদিও লেখার হাত পাকা না। বাংলা মাতৃভাষা হলেও বানানে হয় অনেক ভুল। তার পরেও চেষ্টা করছি কিছু লেখার। সত্য বলার মতো সাহসী লোকের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন দেখি সবাই দু\'ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেউ আওয়ামী লীগ কেউবা বিএনপি। সঙ্গত কারণেই লেখা হয়ে উঠে আওয়ামী পন্থী অথবা বিএনপি পন্থী।পন্থী নিয়ে লিখতে লিখতে আমরা মূল স্রোতধারা থেকে ছিটকে পড়ছি। কি লিখছি বোঝাই দায়। মনে হয় কোন দলকে গালি দিচ্ছি।
সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন যে, এই পরিচয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে এবং এখন তারা নিজেদের 'আদিবাসী' (Indigenous) বলে পরিচয় দিচ্ছে।
আদিবাসী হওয়ার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড:
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে (যেমন: উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড) আদিবাসীদের যে স্বীকৃতি রয়েছে, তার পেছনে চারটি প্রধান শর্ত কাজ করে: কলোনিয়াল দখলদারিত্বের ইতিহাস, ভূমি থেকে উচ্ছেদ, সার্বভৌমত্ব হারানো এবং আন্তর্জাতিক আইনে প্রান্তিক হিসেবে স্বীকৃতি। কিন্তু এই মানদণ্ডগুলো এশিয়া বা আফ্রিকার সব গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয় অর্থাৎ তারা এই সঙ্গার মধ্যে পরেনা।
জাতিসংঘের ভূমিকা ও বিভ্রান্তি:
একটি বড় ভুল ধারণা হলো জাতিসংঘ কোনো জনগোষ্ঠীকে 'আদিবাসী' হিসেবে লাইসেন্স বা সার্টিফিকেট দেয়। বাস্তবে এমন কোনো আদালত বা মাস্টার লিস্ট নেই। জাতিসংঘ কেবল কিছু নির্দেশিকা (যেমন: মার্টিনেজ কোবো স্টাডি বা 'থ্রি-আই টেস্ট'
অনুসরণ করে। শুধু নিজে নিজেকে আদিবাসী দাবি করলেই আন্তর্জাতিক আইনি স্বীকৃতি পাওয়া যায় না।
আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি:
UNDRIP (২০০৭) এবং ILO 169-এর মতো আন্তর্জাতিক সনদে অনেক দেশই স্বাক্ষর করেনি, কারণ এতে 'স্বাধিকারের অধিকার' (Self-determination) এবং 'ফ্রি প্রায়র অ্যান্ড ইনফর্মড কনসেন্ট' (FPIC)-এর মতো ধারা রয়েছে। এই ধারাগুলো কোনো রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, খনিজ সম্পদ এবং সীমান্ত সুরক্ষার ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে ILO 107 অনুমোদন করলেও, বর্তমানের জটিল আইনি ফাঁদগুলোতে পা দেয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীর ইতিহাস:
ত্রিপুরা, চাকমা, মারমা এবং কুকি-চিন গ্রুপের মাইগ্রেশনের ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, এরা বিভিন্ন সময়ে (১৫০০ থেকে ১৯০০ শতকের মধ্যে) বার্মিজ যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেছে। তাই একদলকে 'আদিম বাসিন্দা' আর অন্যদলকে 'বহিরাগত' বলা ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ।
রাজনীতি ও এনজিওর প্রভাব:
১৯৯০-এর দশক থেকে বিশেষ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর থেকে 'পাহাড়ি' বা 'জুম্মা' পরিচয়ের পরিবর্তে 'আদিবাসী' শব্দটির ব্যবহার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বাড়ছে। এর পেছনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এনজিও ও ফান্ডিং নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে, যা মানবাধিকারের মোড়কে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে।
রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক অবস্থান:
বাংলাদেশ সরকার ও সংবিধান কেন 'বাংলাদেশে আদিবাসী নেই' বলে অবস্থান নিয়েছে, তার চারটি কারণ রয়েছে:
১. সাংবিধানিক অবস্থান: সংবিধানের ৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সবাই বাংলাদেশি এবং ২৩(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. জাতীয় নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক আইনের 'স্বাধিকার' ধারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদের উস্কানি দিতে পারে।
৩. ভূমির অধিকার: আদিবাসী মর্যাদা দিলে সামরিক বা রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয়দের অনুমতির বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
৪. বাঙালি এথনোজেনেসিস: বাঙালি জাতি নিজে হাজার বছরের মিশ্রণে গঠিত, তাই কাউকে একক আদিবাসী তকমা দিয়ে অন্যদের বহিরাগত বানানো অবাস্তব।
পরিশেষে, রাষ্ট্র কোনো আবেগ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-খণ্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সংবেদনশীল বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
Del H K এর বিশ্লেষণ থেকে সারসংক্ষেপ।
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৮
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: না পাহাড়িরা কোন ভাবেই আদিবাসী না।
২|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯
কিরকুট বলেছেন: আদিবাসী বলতে যা বোঝায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠি আদি জনগোষ্ঠি না । তবে তাদের পাহাড়ি জনগোষ্ঠ বলা হয় মূলত তারা পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস করে এবং তাদের অনেকের নিজস্ব ভাষা ও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নানা ধরনের দুর্যোগ ও জীবন রক্ষার তাগিদে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী এসে বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে এবং সেখানে বসতি গড়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের ফলে সেই অঞ্চল তাদের জীবন, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৩|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৬
দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: পাহাড়ে যারা বসবাস করে বিশেষ করে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠি তারা উপজাতি কিন্তু তারা কোনভাবেই আদিবাসী না। পাহাড়ীরা আগে নিজেদেরকে উপজাতিই দাবি করতো কিন্তু হঠাৎ করে কিছু এনজিও ও পড়শী দেশের উসকানীতে নিজেদেরকে আদিবাসী দাবী করছে। এর পিছনে সুদূরপ্রসারী লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়ে এই কূটচাল চেলেছে পড়শী দেশ। তাদেরকে আদিবাসীর মর্যাদা দিলে পার্বত্য চট্রগ্রাম একদিন স্বাধীনতার আওয়াজ তুলবে। সুতরা এবিষয়ে খুবই কঠোর অবস্থান বজায়ে রাখতে হবে সরকারকে।
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন --তাদেরকে আদিবাসীর মর্যাদা দিলে পার্বত্য চট্রগ্রাম একদিন স্বাধীনতার আওয়াজ তুলবে।
৪|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:২১
দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: ওখানে এনজিও-র ওপর কঠোর নজরদারী রাখা প্রয়োজন।
৫|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩
অরণি বলেছেন: ছোট বেলায় আমরাও উপজাতি শুনেছি কিন্তু বিগত ১০/১২ বছর হলো হঠাৎ করে আদিবাসীর গান উঠলো কোথা থেকে?
৬|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৩৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এদের নিয়ে সবার এত চুলকানি কেন ? তারা কত শতাংশ ভালো চাকুরি পায় ?
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
সামিউল ইসলাম বাবু বলেছেন: পাহাড়ি জনপদ আসলেই কি আদিবাসী?