| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সব রং বের করে দিলে যেমন সাদা ছাড়া আর কোন রং পাওয়া যায় না, তেমনি সব রং দিয়ে দিলে কালো অন্ধকারে আর কিছু দেখা যায় না। মন, অন্তর অথবা নফসটাও সেরকম।
চারদিকে লোহালক্কড় আর ভাঙ্গারির শব্দ যেন কান ঝালাপালা করে দেয়। সামনে রাখা একটা পুরোনো আলমারি স্থবির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দেখে বালকটিও তারদিকে তাকালো। দেখল হ্যান্ডেলটাতে ছোট্ট একটা কাগজে লেখা, 'বিক্রি হইবে। যোগাযোগ করেন সামনের দোকানে।' তারপাশে লাগানো আয়নাতে বালকটির নিজের ছবি ফুটে উঠেছে।
হ্যাংলা পাতলা ছেলেটা তার লেন্সের চশমা দিয়ে আয়নার দিকে তাকাতে গিয়ে দেখলো তার কাঁধের ব্যাগটা দেখলে যে কেউ তাকে বিশ্বছাত্র মনে করবে! হাঁটতে হাঁটতে তার তার গাল বেয়ে বেয়ে ঘাম পড়ছে। তবুও তার মুখে এক টুকরো সহজাত হাসি রাখার একটা প্রবণতা আছে। চাক বা না চাক! যেন এক সহজ দুনিয়ায় সে এসে পড়েছে। অন্তত সে তাই মনে করে। বালকটি কতক্ষণ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজমনেই বললো, আমি আসলেই এক আল্লাহতা'য়ালার বান্দা।
তারপর আয়নাটাতে আর বালকটাকে দেখা গেলো না। সে জায়গায় একটা বুকে একরাশ চুল নিয়ে রাশভারি একটা লোককে চা খেতে দেখা গেল দোকানের সামনে। আয়নাটা হতাশ হলো। সে চশমাওয়ালা বালকটিকে আপনভেবে নিয়ে ছিলো।
দোকানটার পাশেই একটা কবরস্থান। কবরের দিকে তাকিয়ে আয়নাটা ভাবতে লাগলো, আশ্চর্য তো! ছেলেটা এ কি করে দিয়ে গেছে! তার ছেলেটিকে আরো জানার ইচ্ছেটা ক্রমশ বাড়তে গেলো। এবং এ ইচ্ছাটা থেকে সে কিভাবে নিস্তার পাবে সেটা সে জানে না। আর ইচ্ছেটা পূরণ করবার সুযোগও তার কাছে নাই।
কেননা সে মানুষ না।
বালকটি তুচ্ছ দাস।
তবে মানুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছে।
এই তার পরিচয়।
এই বালক আর আয়নাটির পার্থক্য।
![]()
©somewhere in net ltd.