বাবার ডায়েরীতে ১৯৭১ (৫ম পর্ব)
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪২
আগের পর্ব
Click This Link
এপ্রিল ২০, ১৯৭১
আওয়ামী লীগ এর এম.পি খাজা আহমেদের নেতৃত্বে ফেনীর পুলিশ ও মহকুমার উপর তাদের নিয়ন্ত্রন অক্ষুন্ন রেখেছিলেন। এই সময়ে পাক আর্মি চৌমুহনী, কুমিল্লা ও চট্রগ্রাম সীমান্তের ভুড়ভুড়িয়ার তিন দিক থেকে ফেনী শহর ঘিরে ফেলে। অবস্থা বেগতিক দেখে সম্মিলিত মুক্তি ফৌজ খাজা আহমদের নেতৃত্বে ভারতে চলে যায়। ফেনী শহর লোক শূণ্য হয়ে যায়। এবং ফেনী পাক সৈন্যদের দখলে চলে যায়। খাজা আহমদ এম.পি ও মুক্তি ফৌজগন উত্তরে ভারতীয় ভূখন্ড চোত্তাখোলায় আশ্রয় লাভ করে।
চট্রগ্রাম থেকে বিপুল টেঞ্চ ও মর্টার শেলিং করে অদ্য পাক বাহিনী মস্তান নগর আক্রমণ করে। মুক্তিফৌজ মেজর রফিকের নেতৃত্বে বহু পাক সেনাকে হত্যা করে হিঙ্গুলীতে অবস্থান নেয়। পরে হিঙ্গুলীরও পতন ঘটে।
এপ্রিল ২১, ১৯৭১
অদ্য সন্ধ্যায় পাক সামরিক বাহিনী ফেনী শহরের তিনটি প্রধান প্রবেশ পথে আগাইয়া আসে। ফাইট লে. আ. রৌফ এতদিন ফেনীতে মুক্তিফৌজর কমান্ডর ছিলেন। তিনিও ভারতে চলে যান।
এপ্রিল ২৩, ১৯৭১
শুক্রবার পাক সৈন্য বাহিনী ফেনী শহরে প্রবেশ করে বিকাল ৪ ঘটিকায়। ইতিপূর্বে বাঙ্গালী ইপিআর জোয়ান ও এমপি খাজা আহমদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা শহর ছাড়িয়া উত্তর দিকে ভারত সীমান্ত অভ্যন্তরে চোত্তাখোলা চলে যায়। এবং ছাগলনাইয়ার এমপি ওবায়েদুল্লা মজুমদার সাহেব ও সদলবলে ভারতে চলে যান। ফেনী শহর প্রেতপুরী হয়ে আছে। সব লোক গ্রামাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।
এপ্রিল ২৬, ১৯৭১
যুক্তরাষ্ট বাঙ্গালী কুটনীতিক পাকিস্তান দূতাবাসের ভাইস কন্সাল জনাব এ. এইচ মাহমুদ আলী অদ্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।
এপ্রিল ৩০, ১৯৭১
অদ্য অপরাহ্ন বেলায় হরিপুর আমাদের বাড়ী থেকে দেখতে পাই পাক ফোজের সৈন্যরা ফেনী থেকে মার্চ করে রেজুমিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কারন ইতিপূর্বে বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা রেজুমিয়া সেতু ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষিপ্ত হয়ে পাক সৈন্যরা মুহুরী নদীর উপর রেজুমিয়া সেতুর উভয় পার্শ্বস্থ গ্রামগুলি আগুন লাগিয়ে ভস্মিভূত করে দেয়।
মে ২, ১৯৭১
রামগড়ে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত বাহিনী পাকিস্তানী সৈন্যদের সাথে এক ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এই যুদ্ধে মেজর মীর শওকত আলী মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দেন। পাক বাহিনীর প্রচন্ড আক্রমনে বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধারা এই দিন সন্ধ্যার পূর্ব মূহুর্তে ফেনী নদী পার হয়ে ভারতীয় মহকুমা শহর সাব্রুম চলে যায়।
মে ১০, ১৯৭১
পাক বাহিনী ছাগলনাইয়া এসে তাদের অগ্রবর্তী ঘাটি স্থাপন করে। তবে শুভপুর এলাকা এখনো মুক্তিযোব্ধাদের হাতে আছে।
মে ১১, ১৯৭১
পাকবাহিনী শুভপুরের দিকে যাচ্ছে খবর পেলাম।
মে ১২, ১৯৭১
শুভপুর সেতুর দক্ষিনে করেরহাট। চট্রগ্রাম জেলার করেরহাট পাক বাহিনীর বিরাট ঘাঁটি। ঐ এলাকা তারা গত এপ্রিলেই আগুন লাগিয়ে পুঁড়ে দেয়।
শুভপুর সেতুর উত্তর পাড়ে ফেনী নদীর তীরে কয়েকজন বাঙ্গালী ইপিআর ও মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেঞ্চ এ ছিল। করেরহাট ও ছাগলনাইয়া থেকে পাক সৈন্যরা যুগপৎ কামান দাঁগিয়ে শুভপুর সেতুর কাছে আসে এবং এক প্রচন্ড যুদ্ধ বেঁধে যায়। অপরাহ্ন ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রচন্ড গোলা গুলির শব্দ আমাদের গ্রাম থেকে শোনা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর পাক বাহিনী প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি স্বীকার করে শুভপুর সেতু দখল করে নেয়।
মে ১৩, ১৯৭১
এখানে উল্লেখ্য যে গত ২৫শে এপ্রিল করেরহাট পাক বাহিনী দখল করে নিলে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত শুভপুর সেতুর দক্ষিনাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়। এবং ঐ পুলের উত্তর প্রান্তে বাংকার তৈরী করে পাহারা দিতে তাকে। এদিকে পাকবাহিনী একেরপর এক হেঁয়াখো, রামগড়, প্রভৃতি দখল করে নিলে মুক্তিবাহিনী শুভপুর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে এসে জমায়েত হয়। কিন্তু ২০শে এপ্রিলের পর থেকে পাক বাহিনী ফেনী শহর দখল করে ক্রমশ ছাগলনাইয়া পর্যন্ত এসে যায়। অতপর ১২ মে বুধবার পাক বাহিনী ট্রেঞ্চ ও ভারী অস্র নিয়ে করেরহাট থেকে শুভপুর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে ভিষন ভাবে আক্রমণ চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি ভেঙে দেয়। এখানে প্রায় দুই তিনশ ইপিআর মুক্তিবাহিনীতে নিযুক্ত ছিল। তারা ঐদিন সন্ধ্যার পরই শুভপুর ছেড়ে ভারতের সাব্রুম চলে যায়।
মে ১৬, ১৯৭১
পাক বাহিনী রাস্তায়। মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে অদ্য ভোর ৭টার দিকে হরিপুর নিজবাড়ি থেকে পদব্রজে চট্রগ্রাম যাত্রা করি। আমার সাথে ছিল আমাদের উত্তর পার্শ্বের বাড়ির ফয়েজ আহমদ, সে একজন টালী ক্লার্ক-হালি শহর খাদ্য গুদামের। এবং ফোরাক কাকা। ভুড়ভুড়িয়া খেয়াঘাট হয়ে পায়ে হেঁটে দুপুর ১২ টায় জোরারগঞ্জ আসি। সেখান থেকে বাস যোগে বিকাল ৪টায় সিতাকুন্ড আসিয়া পৌঁছি। ফয়েজ চট্রগ্রাম চলিয়া যায়। সিতাকুন্ড ইতিমধ্যেই পাক বাহিনী কর্তৃক অগ্নিদগ্ধ। সন্ধ্যায় কার্ফু চিল। আমার বাসার জিনিষপত্র ঠিক ছিল।
মে ২৪ ১৯৭১
মুক্তিবাহিনীর ক্যাপ্টেন আ. আহমদের নেতৃত্বে পাক বাহিনীকে চাঁদগাজীতে আক্রমণ করে চাঁদগাজী দখল করে নেয়। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ দূত নিউ ইয়র্ক পৌঁছেছেন। খবর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।
চলবে..........
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মুক্তিযুদ্ধ ;
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৩৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
লেখক বলেছেন: এক জবা ফুলটা দিয়া এত জনেরে শুভেচ্ছা জানাইলেন, এইটার তো দশা কাহিল প্রায়![]()
সহেলী বলেছেন:
চলুক তোমার হাতের কাজ , বাবার কীর্তি তুলে ধরে ।
লেখক বলেছেন: বন্ধু পাশে আছো। নির্ভরতা পাই। ধন্যবাদ দিলাম একশ একটা।
স্বজন বলেছেন:
আছি সাথে.......
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ স্বজন। অনেক থ্যাংকস।
জেরী বলেছেন:
পড়ছি......।
লেখক বলেছেন: আপুমনিকে ধন্যবাদ। তোমরা পড়ছ বলে জোর কদমে আগাচ্ছি।
সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন:
নিজের বেড়ে ওঠার স্থানে মুক্তিযুদ্ধ-তার কাহিনী-আবেগ-উত্তেজনা সবই ব্যস্ততার কারণে দূরবর্তী হয়ে পড়েছে। আপনার লিখাও। তুলে নিয়ে গেলাম। সময় করে যদি পড়া যায় সেই আশায়।
ভালো থাকবেন সবসময়।
লেখক বলেছেন: তুলে নিয়েছ বলে ধন্যবাদ, নিজের জিনিষইতো তোমার। বাড়ি ফেনী, মনতো ফেনীর পথ থেকে পথেই থাকবে।
জিনাত বলেছেন:
চলুক ......
লেখক বলেছেন: চলবে.......
লেখক বলেছেন: কি মিয়া চোখ মারেন ক্যান![]()
লেখক বলেছেন: চলবে। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।।
মুহম্মদ জায়েদুল আলম বলেছেন:
চলুকনা।
লেখক বলেছেন: চলবে.........
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
পড়ছি। আপনাকে জন্মযুদ্ধ গ্রুপের সদস্য হতে অনুরোধ করছি, সেখানে এই পোস্টগুলো রাখলে খুশী হবো
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। জন্মযুদ্ধের সদস্য হবো এবং পোস্টগুলোও ওখানে রাখবো।
দুরের পাখি বলেছেন:
পড়তাছি । চালায়া যান ।
লেখক বলেছেন: চালাইতেছি। আপনারেও ধন্যবাদ।
পারভেজ বলেছেন:
লেখায় বিভিন্ন সময়ে যাদের কথা আসছে। তারা পরবর্তীতে কে কোথায় গেল, কি করেছিল, একটা রেফারেন্স থাকলে ভালো হবে। কাজটা কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ যদিও।এক আর্মি অফিসারকে করাচী ধরে নিয়ে নির্যাতনের কথাটা পড়ে, (গত পর্বে) জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল, পরে কি হয়েছিল।
খাজা আহমেদ ই বা কি করলেন ?
লেখক বলেছেন: আপনার অনুসন্ধিৎসু মনোভাব আমাকে উৎসাহিত করে, এই ডায়েরীটার উপস্থাপনকে নিখুঁত করতে আরো সাবধান করে। অমি পিয়াল ভাইও এক জায়গায় বাবার সাথে শিওর হতে বলেছেন। বাবাকে এখনো ফোন করতে পারিনি।
আপনার প্রস্তাবগুলো গ্রহন করা হলো। আমি তাই এই যাত্রা একটু বিরতী নিলাম। এই মাসেই ছুটি নিয়ে ফেনীতে যাবো। ল্যাপটপ নিয়ে যাবো। বাবার সাথে বসে পুরো বিষয়টা শিওর হয়ে, ফুটনোট গুলো লাগিয়ে একবারে এই লেখার বাকি পর্বগুলোর ইতি টানবো। আপনার প্রতি অশেষ শুভেচ্ছা।।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মাইমুনা আপনাকে।
আগের মন্তব্যের জবাবে দেখেছেন নিশ্চয়ই, একটু বিরতী দিলাম। ফুটনোট লাগাবো। যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের সম্পর্কে বর্তমান প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ আরো সুষ্পষ্ট ভাবে আসবে পরের পর্বগুলো। তাই আগামী মাসে আবার হাজির হবো ডায়েরীর বাকী দিনগুলো নিয়ে। সে পর্যন্ত বিদায়..............(পারভেজ ভাইকে ধন্যবাদ সহ)
মেহবুবা বলেছেন:
লিখে যাও এগিয়ে । সাথে আছি ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বন্ধু।।
লেখক বলেছেন: বসন্ত এসেছে বুঝেছি, তোমার লেখায় বুঝেছি।।
সাইফ শিশির বলেছেন:
মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।।
সাইফ শিশির বলেছেন:
তবে পারভেজ ভাইয়ের সাথে সুর মিলিয়ে বলি রেফারেন্সের কথাটা মাথায় রাখবেন যেনো।
লেখক বলেছেন: জ্বি অবশ্যই। যতটা তথ্য বহুল করা যায়। যতটা নিখুঁত করা যায়। যতটা বিশুদ্ধ করা যায়। যতটা অমূল্য করা যায়--আমি তাই করবো। একটু সময় নিচ্ছি।
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
পড়তে দেরি হয়ে গেল। আবারো আপনাকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ দিতে দিতে ক্লান্তও লাগছে না।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকেও ভারাক্রান্ত করতে ক্লান্ত লাগছেনা। মন্তব্যের জায়গায় দেখেছেন নিশ্চয়ই, আমি এ সিরিজে বিরতী টেনেছি, ফেনী যাবো মার্চের প্রথমে, বাবার সাথে বসে যাদের কথা বলা হয়েছে সবার আপডেট দিয়ে লেখাটা শেষ করবো।
ফকির ইলিয়াস বলেছেন:
সকল প্রান্তিক মানুষের সম্মিলিত অক্ষরের সমন্বয়েই লিখাহতে পারে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস।
যা জানবে এই প্রজন্ম , উত্তর প্রজন্ম।
আমি মনে করি , এই লেখাগুলো নিয়ে একটা চমৎকার গ্রন্থ
হতে পারে। যা অবশ্যই সমৃদ্ধ করবে আমাদের মহান
মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস।
আমি সবগুলো লেখা পড়লাম।
আপনি ধারাবাহিক লেখাগুলো প্রকাশ এবং পরে মলাটবন্দী
করার ব্যবস্থা করবেন বলে আমি আশাবাদী।
আপনার প্রচষ্টা সার্থক হোক।
লেখক বলেছেন: আপনার শুভকামনা আমার আগামীর পরিকল্পনাকে সার্থক করতে সহায়তা করবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।।
ত্রিশোনকু বলেছেন:
"যুক্তরাষ্ট বাঙ্গালী কুটনীতিক পাকিস্তান দূতাবাসের ভাইস কন্সাল জনাব এ. এইচ মাহমুদ আলী অদ্য প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেন।"ইনি গত নির্বাচনে দিনাজপুর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন। অত্যন্ত্ সফলভাবে অনেকগুলো দেশের তিনি রাষ্ট্রদুতের দায়ীত্ব পালন করেন। অত্যন্ত সৎ এবং দেশপ্রমিক।
পিতাকে জানিয়েন, খুশী হবেন।
__________________________________________
হেঁয়াখো(হোঁয়াকো), রামগড়, শুভপুর সেতু, করেরহাট, জোরারগঞ্জ ......আমার আরেকটি তীব্র স্মৃতি জাগি্যে দিচ্ছে তবে তা অপ্রাসংগিক -জিয়া হত্যার ঠিক পরের ভয়াবহ দিনগুলো...............।
__________________________________________
"ফয়েজ আহমদ, সে একজন টালী ক্লার্ক-হালি শহর খাদ্য গুদামে..।"
-মনে হচ্ছে চিনি চিনি.।১৯৭৯-৭১ (২৬এ মার্চের আগে) আমি, আমার ছোট দুভাই বন্য কবুতর শিকার করতে মাঝে মাঝে ঐ খাদ্য গুদামে ঢুকে পরতাম। সং রক্ষিত এলাকা থাকায় ফয়েজ সাহেবের সাহায্য লাগতো ঢুকতে। আমাদের বাসা তখন সিডিএ আবাসিক এলাকায় ছিল, কাছেই।
ও আরেকটা কথা। হালিশহরের ঐ খাদ্যগুদামে, বহির্নোংগোর থেকে পাকিস্তানী যুদ্ধ জাহাজ "বাবর" অবিরাম গোলাবর্ষন করতো তখন। রাতের বেলা গনগনে, লাল গোলাগুলোর গতিপথ অনুসরন করতাম আমরা---চোখ দিয়ে।
লেখক বলেছেন: মানুষের জীবনে "যোগ" বলতে একটি বিষয় আছে। এক্ষেত্রে, আলোচ্য ডায়েরীর ব্যাক্তিদের কারো সাথে, উল্লেখিত স্থানের সাথেও আপনার যোগ ঘটেছে, অন্তরঙ্গ যোগ ঘটেছে। বাংলায় কাকতাল বলতে একটা শব্দ আছে, টালি ক্লার্ক সাহেবের যোগটা মজারও লাগল।
লেখক বলেছেন: আপনার প্রতি আমার অশেষ ধন্যবাদ প্রকাশ করলাম।
মেহবুবা বলেছেন:
তুমি যে এসব ফিরিয়ে এনেছো, কৃতজ্ঞতা জানাই ।এগুলো সবার জন্য ।
মানুষটা তুমি তাই মন খুব বেশী খারাপ করতে দাও নি ।
গত মঙ্গলবার আমার এক বন্ধুকে বলছিলাম তোমার দীর্ঘ অনুপস্থিতির কথা; সে বলেছিল " তুই ওকে এত মনে রাখিস ?"
আমার মেয়েটা আমার ধারাবাহিকের একটি চরিত্রের নাম পছন্দ করছিল না ' মনে করিয়ে দিলাম তার এক প্রিয় খালার কথা যার নাম "লীনা" , সেই মেয়েটা বড্ড ভাল । তারপর তোমার কথাও বলেছি আমার মেয়েকে , চিনতে পারেনি যদিও , তবে কৌতুহলী হল ।
এসব কথা এ পোষ্টের সাথে মানায় না ।
মুছে দিও ।
খুব করে ভাল থেকো ।
লেখক বলেছেন: এখানে নিজের ব্লগে কতদিন... কতদিন পর কমেন্ট করছি! ভুলে গেছি শেষ কবে...
তুমি আমাকে এভাবে মনে রেখেছো! আমি বাকহারা হয়ে গেছি।
তোমার সাথে আমার দেখা হবে, তখন অনেক কথা বলবো...
মামনীটাকে আদর পৌঁছে দিও, বাবুটাকেও।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















