আজ আমার দ্বিতীয় জন্মদিন। এমন না যে বয়েস হলো দুই বছর, ব্যাপারটা হলো যে আমি মানি যে বছরে আমার দুইটা জন্মদিন। একটা পিতৃ-মাতৃ-সূত্রে প্রাপ্ত, যেদিন পৃথিবীতে পদার্পণ হয়েছিল আমার। আর আজকেরটা অন্যরকম, ১২ বছর আগে আজকের দিনটায় আমি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম। আজকাল ক্যাডেট নিয়ে অনেক কথাবার্তা হয়, ভাল-মন্দ অস্তি-নেতি সবরকমের। আমার মনে আসলে ক্যাডেট কলেজ নিয়ে একটা আলাদা অনুভূতি কাজ করে। বড় হয়ে ওঠার সবচেয়ে দারুন স্পর্শকাতর সময়টা ওখানে কাটিয়েছি। বন্ধু-সিনিয়র-জুনিয়র, স্যার-ম্যাডাম, অ্যাডজুটেন্ট-স্টাফ, ভিপি-প্রিন্সিপ্যাল সবার সাথে ঐ সবুজ এলাকায় কৈশোরের মাতাল ভাবুক সময়টা পার করেছি। আমাদের কলেজের মাঠটা অনেক বড় ছিল। পাশাপাশি তিনটা তিনটা করে ছয়টা ফুটবল মাঠের সমান। কলেজের প্রথম বর্ষে থাকতে সন্ধ্যা হবার একটু আগে আমি মাঠের ধারে সিমেন্টের বেঞ্চিতে বসতাম। বেঞ্চিটার পাশে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। কমলা আকাশে গাঢ় সবুজ গাছের সারির পিছনে একটু একটু করে সূর্যটাকে টুপ করে চলে যেতে দেখতাম! স্টাফরা এসে বাঁশি দিত, মাগরিবের নামাজে মসজিদে যাওয়ার জন্য। কালো পিচের রাস্তাটা দিয়ে হালকা বাতাসে গা মিশিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যেতাম। তখন একবারও মনে হয়নি যে মাত্র সাত বছর পরেই ঐ মুহূর্তটুকুর জন্য হৃদয় আঁকুপাকু করবে!
এখন মাঝে মাঝে যখন খুব হতাশ, বিধ্বস্ত লাগে, মনে হয় যদি ঐ অবুঝ সময়টায় ফিরে যেতে পারতাম, সব জটিলতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে! বন্ধুগুলোকে দারুন মিস করি, ওরকম একপেশে ভালবাসা আর স্বার্থছাড়া বন্ধুত্ব বাইরে এসে খুব কম পেয়েছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এমন কিছু মানুষের খুব নিকট সান্নিধ্যে এসেছি যাঁরা আমার চিন্তাচেতনার জগতে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছেন। তখন নিজেই বুঝি নাই এই মানুষগুলোর কাছে কত ঋণী হয়ে থাকবো বাকিটা জীবন। আমার দ্বিতীয় জীবনপ্রাপ্তির এই দিনে সবাইকে শুভেচ্ছা দিলাম প্রাণ খুলে! জয়তু জীবন!!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


