কিছুই হয় না হয় না করেও কতকিছু হয়ে যায়! আমার জীবনটাই কেমন কেমন করে বদলে যাচ্ছে। প্রতিদিন দেখা হয় কিছু মানুষের সাথে। চেহারা অস্পষ্টের চেয়েও স্পষ্ট! গড়ন শরীরে তাদের চিনছি, তারা বিমূর্তের চেয়েও মূর্তিমান! আমার চারপাশে তারা ঘুরে ফিরে বেড়ায়, অশরীরী উপস্থিতিতেও আমি মুগ্ধতার সাথে তাড়িত হই। দরোজা খুলে তারা আসে, জানালা দিয়ে উঁকি দেয়।
"কি খবর হে?"
"কি হে? কি হে? কি হে?"
"কিরে দোস্ত কেমনাছিস?"
"ভাইয়া কী খবর?"
"ভাইরে, খুব ব্যস্ত আছি! তোমার খবর কি?"
এহেন ডাক আমার কানে আসে, কিন্তু সেখান থেকে পৌঁছে যায় সোজা হৃদয়ে।
সেদিন একটা আড্ডায় আলোচনা হচ্ছিলো, হৃদয় বলে কিছু আছে কী না?
একজনের মতে (মনে হয় আরো অনেকের মতেই), হৃদয় বলে কিছু নাই। সবই মস্তিষ্কের খেলা। হরমোনের দৌড়ঝাঁপ। স্নায়ুর অলিম্পিক!!
আরেকজনের মতে, হৃদয় বলে একটা বস্তু আছে, চেতন-অচেতনের বাইরে, মস্তিষ্ক আর সকল দেহজ অনুভূতি ছাপিয়েও তা কাজ করে।
আমি মূর্খের মতো আলোচনা শুনলাম, বেশি কিছু বুঝি নাই। তবে আমি মানি এরকম যে আমার অনেক অনুভূতিই আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তারা সব ছাপিয়ে, যুক্তি, ধারনা, মতামত, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, উপচে ওঠে। তাদের জন্ম কোথায়? হৃদয় নামক কোনও অপার্থিব ধারণার মাঝে? নাকি আমার চারপাশের এই মানুষগুলো অবলীলায় সেই আবেগের জন্মদাতা?
আমি খুব বাস্তববাদী বলে তাদেরকেই জিতিয়ে দিলাম। আমার কাছে তাদের মূল্যমান আমি আমার খারাপ সময় দিয়ে জেনেছি। ও হ্যাঁ, একটা প্রবাদও তো আছে, "এ ফ্রেন্ড ইন নীড..."...! আমি ক্রমশই তাদের কাছে টানি, গাঢ় আপনত্বে বন্দী করি। সেখানে হাসি রঙ তামাশা আর হট্টগোল জমে ওঠে। তারা আমাকে উজ্জ্বল করে, মুগ্ধ করে, বিস্মিত করে। শেষ পর্যন্ত এই ছোট্ট গ্রহের এই অকিঞ্চিৎকর মানুষটার জন্যে তারা হয়তো মায়াও অনুভব করে! কী জানি! সেখানে আমার প্রাপ্তিযোগ স্বীকার করে নেয়া ছাড়া আর কোনও কিছু করার থাকে না।
ক্ষণস্থায়ী জীবন। এখনই গড়পড়তা পেছনে তাকালে মনে হয় ঐ সময়টা, ঐ পল, ঐ মুহূর্ত, ঐ মানুষ, ঐ প্রিয়মুখ ফিরে পেতে চাই। বইয়ের পাতা উল্টানোর মতো অনায়াসে মনে পড়ে যায় কৈশোর, শৈশবের মুখেদের। তাদের হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগেই! কোথায় ছিটকে ছিটকে চলে গেছে সব। তবে যাওয়ার আগে সেইসময়ের স্মৃতি দিয়ে গেছে। পুরোনো শোকেসের অমলিন স্মৃতি! আমি খোলা ঘরে উদ্দাম হাওয়ায় সেই শোকেসের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই! এখন মনে হয় ওটুকুই প্রাপ্তি। এখানেও এখন আশেপাশের মানুষগুলোর প্রিয়তা পাচ্ছি। একটা সময়কাল পার হলে টের পাওয়া যায় কোন ক্ষণে আমি বদলে গেছি অনেকটাই, তাদের কারণে, তাদের আচরণের প্রতিক্রিয়ায়।
আমি খুব বেশি বর্তমানে বিশ্বাসী। ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হই না সহজে। অতীত নিয়ে স্মৃতিকাতরতা আছে, কিন্তু হায়-আফসোস নাই। তাই আমার শ্বাসপ্রশ্বাস বর্তমান নিয়েই। সেখানে এই লেখার উদ্দেশ্য সেই দরোজা জানালা দিয়ে উঁকি দেয়া প্রিয়মুখ গুলো। তাদের নিয়েই কাটছে দিনরাত! তাদের সবার জীবন ভরে যাক অনাবিল সুখে। দুঃখ মেখেও তারা যেন হেরে না যায়, হারিয়ে না যায়!
***
[আজকে খেয়াল করলাম। ৯৯টা ব্লগ লিখে ফেলেছি। এটা ১০০তম। সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাস নাই। তবে মনে হলো এই আশেপাশের মানুষগুলোর কাছে একটা কৃতজ্ঞতাপ্রকাশের দায় রয়েছে। তোমাদের সবার জন্যে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

