somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Antinoüs

০৮ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেখা গেলো প্রচুর রোদ। রোদে সেজে গেছে পাতা ও পথ। পথের পাশে পাথর। এসব ভালো লাগে না। জড়বৎ। এদের কোনো ঘটনা নেই। এবং সে কারণেই দুর্ঘটনাও নেই।
নেই বিপদ, আপদ, ঝঞ্ঝাট বা নিরাপত্তাবোধ। একেবারে বোধহীন শিশুও হয় না। তার চেয়েও অথর্ব এগুলো, চারপাশের উপাদানগুলো।

আমরা কেনো তবে এগুলোকে এতটা মূল্য দেই? এতটা নজর দেই। মানুষের দিকে তাকাই না, মেয়েটার জামা দেখি, জামার ওপরে লাল-নীল ফুল দেখি, জামার নিচে ঘনমেঘ দেখার শখ জাগে। শখের নাম সাধ, যেমন অভিলাষ, যেমন খায়েশ, অথবা যেমন কামনা।

ফুটপাতে হেঁটে গেলে রেলিং দেখি- ওখানে হাতের স্পর্শ করেছিলো কে? কারা যেন ওখানে ঠেশ দিয়েও দাঁড়িয়েছিল প্রতিদিন, বহুক্ষণ! আমাদের জানার আগ্রহ এত কম। তারপরে গাড়িগুলো চলে যাবে আমরা দেখবো হাস্যমুখি টেইল-লাইট। আর ট্র্যাফিকের ময়লা সবুজ পুলিশ। বৃষ্টি নামবে এবং তিনি বর্ষাতি খুলে ছাতার নিচে দাঁড়াবেন। আমরা দেখবো আর ভিজবো।

উপাদান ভুলে এখন বৃষ্টিকে ভালো লাগবে। ভিজে গেলে শব্দটা 'সিক্ত', শুনলে সব শীতল হয়ে আসে। বৃষ্টিও জড়- তবু তাকে নিয়ে কবিতা লেখা চাই। কেন। কেন। চাওয়ার কোনো শেষ নেই বোধহয়। তবে চাইলেই পাওয়া ঠিক নয়। পেলে লোভ বাড়ে। লোভের লেজে করে মেয়েগুলো ফিরে আসে।

এই লেখার মাঝে আমি পুরুষ হয়ে উঠি বারবার। মেয়েদের কথা চলে আসে। কেনো আমি ছেলেদের কথা লিখি না। সুপুরুষ ছেলেরাও সুন্দর, তাদের নিয়েও লেখা যায় তো! আমার লিঙ্গের ছায়া কেন শব্দের গায়ে পড়বে? শিশুদের কথাও তো লিখি বেশ, তারা রোদে দাঁড়িয়ে থাকে। তবে পুরুষেরা কেন রোদে যাবে না? তারা তো কালোই।

রোদগুলো চেনা গেছে। অন্তর্গত আঁধারের ছায়ায় এতক্ষণ চেনা যাচ্ছিলো না। মনে হচ্ছিলো ধাঁধাঁনো আলো। আলোতে সব রঙ থাকে বলে ভাবিনি লাল, কি নীল, কি সবুজ বা হলুদ হাসছে! এখন আঁধার সরিয়ে দেখি বিচিত্র বিভিন্ন রঙালো। নারী বা পুরুষ বা শিশু সকলে এসে গেছে আমার চোখের মাঝে। গোল গোল চোখের মাঝে তারা সকলে হাসিমুখে সেঁধিয়ে যাবে গতকাল থেকে আজ বা পরশুতক।

তারপর, অনেকদিন বাদে বৃষ্টি নামবে। নামার পরে আমরা সকলে কেঁদে ফেলবো। লিরিসিস্টগুলো ছাগলের মতো কেন বৃষ্টিকে আকাশের কান্না বলেছিলো? বেকুবি উপমা ছাড়াও তো জড়কে চেনা যায়। আকাশ কেন কাঁদবে। আকাশের কি লিঙ্গ আছে! অ্যামিবা কাঁদে না, এমনকি অণুজীবেরাও হর্ষবোধে ডুবে না। তবে আকাশ কেনো কাঁদার মতো নির্লজ্জ অধিকার পাবে।

বরং আমরা কাঁদি। ভ্রূণপর্ব থেকে কান্নার শুরু জলজ মাতৃকায় হাবুডুবু কেঁদেছি আমরা, জরায়ুঘর থেকে সেই অশ্রু হারিয়ে মায়ের শরীরে মিশে গেছে। তারপরে মায়ের চোখেও পানির ফোঁটাগুলো শিশুর মতো গড়িয়ে নামছিলো। আমাদের মা তখন কেনো কাঁদতেন রাত জেগে?

অদ্ভুত মাতৃকা শুকিয়ে গেলে আমাদের অশ্রুরেখা করতলে জমা হয়। সেখানে অনেক রোদ। না! সেখানে অনেক আঁধার।


***
- অনীক আন্দালিব
৭.১০.৯


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৯
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×