আমার প্রিয় পোস্ট
- নিজের ওয়েবসাইট বানানো ( অবুঝ প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের উপযোগী টিউটোরিয়াল) সূচীপত্র - ই য়া দ
- ইভটিজিং লইয়া ইহা কোন আলগা আলোচনা না। অপ্রিয় সত্যের আঘাতে আহত হইতে পারেন। (পর্ব-২) - পারভেজ আলম
- দেইল্যা রাজাকার ওরফে দেলোয়ার হোসেন সাইদী - পঙ্খিরাজ
- বিবর্তনের ফলে মানব দেহে রয়ে যাওয়া কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় অঙ্গ এবং মাস্ল। - হোরাস্
- বর্ষা-বরণ ও কতিপয় ব্লগারগণ - অন্যমনস্ক শরৎ
- হাইপেশিয়া—আলেকজান্ড্রিয়ার বাতিঘর - ম্যাভেরিক
- বাধ্যতামূলক ধর্মশিক্ষা এবং একজন নাস্তিক পিতার অসহায়ত্ব - সন্যাসী
- মেঘবাজি সমগ্র-১ - মেঘবাজি
- আমরা যা বলতে পারি না, সেখানে নীরবতাই উত্তম কথক - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- এ ধরনের যুদ্ধশিশুদের জন্য আমাদের করনীয় কি - শয়তান
- THE P A U S E . - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
- আমার রাজ রাজেশ্বরী - ফেরারী পাখি
- গটমট ডায়েরী - অনাহুত আগন্তুক
- আমি তোমাকে উপর থেকে দেখি - অন্যমনস্ক শরৎ
- ~ রুপকথা ২ ~ - ~স্বপ্নজয়~
- অপ্রকাশিত জীবনানন্দ - সুদীপ চৌধুরী
- কোন এক পশ্চিমা শহরের কবিতা বা গল্প - জামাল ভাস্কর
- আমিও লিখলাম - আকাশ_পাগলা
- Wish you were here-'RICK' (1943-2008) - ফয়সালরকস
- অস্পষ্ট শেষ পৃষ্ঠার হাসি - মুক্তি মণ্ডল
- অভিমান: আমার লেখা ব্ল্যাক-এর সেই অভিমানী গান ... - ইমন জুবায়ের
- অলৌকিক ইস্টিমারটা আর ফিরে এলোনা বন্দরে (শ্রদ্ধা হুমায়ুন আজাদ) - অন্যমনস্ক শরৎ
- বন্ধু, তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও - রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত
- একজন অপ্রকৌশলীর বুয়েট প্রেম - সাহোশি৬
- বৃত্ত অতিক্রমণের চেষ্টা (দুটি বেঞ্চিতে মুখোমুখি চারজন) - বৃত্তবন্দী
- অলৌকিক বৃষ্টি - প্রতিধ্বনি, তুমিতো
- ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো.... - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- * * ছ .*. ন্ন .* * ত .*. র ** . ঙ্গ . ** * - ঊশৃংখল ঝড়কন্যা
স্পর্শবিজ্ঞান
০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৮
তোমাদের যেখানে মন চায় চলে যাও, আজ আমি কোথাও যাবো না। আজকের দিন হোক কেবলই আমার নিজেকে নিয়ে। আমি নিজের ভেতরে খুঁড়ে দেখবো কতোটুকু তোমরা ছুঁতেও পারো নি। আমি এতোদিন আগলে রাখতে পেরেছি! এতো এতো সংগ্রাম অর্থবোধক ভীষণ, আমি কাউকে ছুঁতেও দিবো না সেই কয়েকটুকরো হৃদয়ের জমিন।
কাউকে স্পর্শ করার কামনা কতোটা তীব্র হতে পারে? এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি কখনই ভাবি নি। আর ভাবি নি বলেই আমার জানা নেই স্পর্শ করার আকুতিতে মনের ভেতর পুড়ে ছাই হয়ে যেতে বেশিক্ষণ লাগে না। বেশি না। শুধু হাতের আঙুলের আলতো ছোঁয়ার ইচ্ছার শক্তি এতোটাই! আমার বুকের 'পরে পাথরের মতো চেপে বসতে পারে। মনে হতে থাকে চারপাশে কোথাও কোনো বাতাস নেই। আদিগন্ত ভ্যাকুয়াম। জ্যাজ!
তাই সেদিন থেকে আমি জানার চেষ্টা করি স্পর্শকামনা কেমন। ঠিক কতোটা বিচিত্রভাবে কাউকে স্পর্শ করা যায়! আমি কি শুধু হাসি দিয়ে কাউকে ছুঁয়ে দেয়ার দুরূহ কাজটা করতে পারবো? মুখের হাসি, চোখের হাসি, এগুলো শুনেছি প্রবল সংক্রামক। এক চিলতে হাসি অনেক সময় তলোয়ারের মতো ঝিকিয়ে উঠতে পারে। এই সত্য সম্ভাবনা, কারণ আমি এমন অসংখ্য হাসির কোপে কাটা পড়েছি অনেকবার। বহুবার! তারপর, অবাক হয়ে দেখেছি আমার ভেতরে বিন্দু বিন্দু মুক্তোর কণার মতো ক্ল্যামেন্টাইনের হাসিমুখ। অথবা সুনয়নার, অথবা রাত্রির, হয়তো তোমার!
আমিও হয়তো ওর মতো, ওদের মতো হাসিতে স্পর্শ করতে পারবো যেমন আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে! তাই সেদিন থেকে আমার দিন রাত অবিরাম হাসিহুল্লোড়ে ভরে উঠলো। খলখল-ট্রেনে চেপে বসলো হাসির অমেয়কণিকা আমার... আমি বিস্ময়ে দেখি তারা কী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। তুমি দেখো না? তোমরা দেখো না? আমি আজ ঘরের ভেতরে গুটিশুঁটি খুব হাসছি অবিকল সেই শিশুটির মতো।
শিশুদের কথা আর না বলি? শিশুরা মোটেই ভালো নয়, তারা আমাকে ভুলে যাবে আর কিছু দিন পরেই। আমি জানি। সবাই তাদের বড়ো হয়ে ওঠার গল্প করবে আর এক ফাঁকে টুপ করে ঝরে পড়বে আমার একলা ঘরে বসে থাকার গল্পটা। ধুলোয় মিশে মিশে ওটার চেহারা আর চেনাই যাবে না। তারপরে একদিন জমাদারের ঠেলাগাড়িতে করে আমি হারিয়েই যাবো নির্ঘাত! উহ!
ওই ক্লিষ্ট খিন্ন মুখের দল। হা করে না থেকে আমার কথা শোনো। কান পেতে শোনো আমি হাসছি গ্রামারবিহীন। তোমরা বিরক্ত না হয়ে খেয়াল করলেই দেখবে আমার হাসির শব্দ আর গমক তোমাদের কোষে কোষে ঢুকে গেছে। অমল শিশুগুলো হাসছে, তাদের ওপরে আমার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ নেই কিন্তু!
কিন্তু আমি আদতে চাইছিলাম কাউকে স্পর্শ করতে, এমনভাবে ছুঁয়ে দিতে যেন সে একটুকরো রুমালের মতো আমার ছোঁয়াটুকু নিয়ে চলে যেতে পারে। সে আমাকে ভুলে গেলেও তার ভেতরে, বাইরে আমার দেয়া আঙুলের ছাপ থাকবে। ছাপ মুছে গেলে উত্তাপ থাকবে। উত্তাপও যেদিন চলে যাবে সেদিন হয়তো আমিই থাকবো না, তাই না?
কলমে আর পেন্সিলে লিখছিলাম। কাগজ আর শীষের শীর্ষের কত গভীর ছিনিমিনি প্রেম। আঠারো আর একুশের প্রেম যেমন! ষোলো আর বিশের প্রেম যেমন। চকিত আর ক্ষণিকেই বুকে গেঁথে ফেলে একশ' গোলাপ। সুবাসটুক বুক পকেটে নিয়ে অযথাই একুশ আর বিশ ঘুরে বেড়ায়। আঠারো আর ষোলোর কামিজপ্রান্তে তাদের গুমখুনের খবর কেউ জানতে পারবে না। কোথাও কোনো মামলা দায়ের হবে না। খালি বাদী-বিবাদীরা নিরন্তর ক্ষয়াটে এই গ্লোবে আরেকটু সবুজ হয়ে উঠবে। আরেকটু নীল করে তুলবে আমাদের আকাশ। কলম-পেন্সিল আরও কতো কী করে কাগজের বুকে। আমার অক্ষমতা যে আমি তা পুরো বুঝে উঠতে পারি না কখনোই!...
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সাদা কালো এবং ধূসর বলেছেন:
খুব আরাম লাগলো পড়তে লেখক বলেছেন: বিজ্ঞান আরাম দেয় না যে।
লেখক বলেছেন: হাহা, এইটা নার্সিসিজমের চাষ। কণা কণা নার্সিসিস্ট তো আমরা। এজন্যে।
হাসান মাহবুব বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো লেখাটা।
লেখক বলেছেন: আমার লিখতে পেরে ভালো লাগছে। এগুলো অর্থহীন লেখা, অবাক হই কেন পড়েন ভেবে! ধন্যবাদ হামা।
শিরীষ বলেছেন:
ওরে, একি লেখা !ওরে ব্বাস !!
>>কিন্তু আমি আদতে চাইছিলাম কাউকে স্পর্শ করতে, এমনভাবে ছুঁয়ে দিতে যেন সে একটুকরো রুমালের মতো আমার ছোঁয়াটুকু নিয়ে চলে যেতে পারে। সে আমাকে ভুলে গেলেও তার ভেতরে, বাইরে আমার দেয়া আঙুলের ছাপ থাকবে। ছাপ মুছে গেলে উত্তাপ থাকবে। উত্তাপও যেদিন চলে যাবে সেদিন হয়তো আমিই থাকবো না, তাই না?
আর কিছু বলার নাই।
>>সুবাসটুক বুক পকেটে নিয়ে অযথাই একুশ আর বিশ ঘুরে বেড়ায়। আঠারো আর ষোলোর কামিজপ্রান্তে তাদের গুমখুনের খবর কেউ জানতে পারবে না। কোথাও কোনো মামলা দায়ের হবে না। খালি বাদী-বিবাদীরা নিরন্তর ক্ষয়াটে এই গ্লোবে আরেকটু সবুজ হয়ে উঠবে। আরেকটু নীল করে তুলবে আমাদের আকাশ। কলম-পেন্সিল আরও কতো কী করে কাগজের বুকে। আমার অক্ষমতা যে আমি তা পুরো বুঝে উঠতে পারি না কখনোই!...
নির্বাক !
লেখক বলেছেন: আপনার 'না-বলা-কথা' আমাকে স্পর্শ করছে শিরীষ। জানেন তো নীরবতার ভাষা কতো তীব্র সংবেদী? শুভেচ্ছা নিবেন আমার।
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
এত রাতে এমন লেখা দিলেন !!! মনটা একটু বিষন্ন করে দিলেন। ৬/৭ বছর আগে আমাদের দ্বিতীয় দেখা করার দিন, উত্তরার হেলভেশিয়ায়.......তখনো ওকে প্রপোজ করেনি, সামনা সামনি চেয়ারে বসে আছি অনেকক্ষণ। তার একটা হাত টেবিলের উপর বিছানো ছিলো আর একটা কোলের উপর। হঠাৎ আমার মধ্যম আঙ্গুলটা টেবিলের উপর বিছানো তার হাতের মধ্যমায় ছোঁয়া লাগলো।যেন হাজার ভোল্টের কারেন্ট সারা শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। ঐদিন মুখে বেশি কথা কিছু বলিনি আমরা তবে ঐ একটু স্পর্শই অনেক অনেক কথা বলে দিয়েছিলো।
এই স্পর্শের অনেক অনেক শক্তি, অনেক......
আপনার লেখায় যে জিনিসটা আমাকে অবাক করে সেটা হলো, এত তিক্ষ্ণ ভাবে মনের ভিতরটা নাড়া দেয় যে কি বলবো ! গ্রেট.......
লেখক বলেছেন: আমার অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করছে, কিন্তু কীভাবে বলবো বুঝেই পাচ্ছি না। অনেকক্ষণ ভাবলাম... মনে হয় কিছু কথা উহ্য থাকাই ভালো!
আমি লিখি নিজের জন্যে, দেখেন তারপরেও আপনি সেটা কতো অনুপুঙ্খ অনুভব করেন। আমার মনে হয় এটা আপনার পড়ার রিসেপ্টিভিটির ক্ষমতা, যা আমার লেখার ডিফিউজ হবার ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।
(এমন নীরস কথা বলা জন্যে মার্জনা করবেন দেবদূত'দা। আমি আসলে অনেক আপ্লুত আপনার কমেন্টটা দেখে। আবোল-তাবোল বকছি বোধহয়)
শিরীষ বলেছেন:
>>মুখের হাসি, চোখের হাসি, এগুলো শুনেছি প্রবল সংক্রামক। এক চিলতে হাসি অনেক সময় তলোয়ারের মতো ঝিকিয়ে উঠতে পারে।শুধু স্পর্শবিজ্ঞান নয় হাস্যবিজ্ঞানও বটে !!
লেখক বলেছেন: হুম এটা আমার অদক্ষতা। কথা বলতে শুরু করলে বেলাইন হয়, রেলগাড়ি হওয়া শিখলাম না এখনো।
হাসি দিয়ে ছোঁয়ার চেষ্টা করলাম, বুঝলাম এভাবে হয় না। বিজ্ঞান তখন ফেল করলো ক্লাশে, সব সাবজেক্টে।
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
বিজ্ঞান এসব স্পর্শ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে ছন্ন, শিল্পই এখন নতুন মানব বিজ্ঞান। স্পর্শের শাখা সঞ্চার....। লেখা চমৎকার।
লেখক বলেছেন: এখন হয়তো বিজ্ঞান আর শিল্প কোনোটাই কুমারী নাই। বিজ্ঞানের ভেতরে শিল্প ঢুকে গেছে, আর শিল্পের ভেতরে নিখুঁত বিজ্ঞান। দোঁহে মিলে নতুন জন্ম হোক এমনই স্পর্শবিজ্ঞানের- নাকি?
তাসবির বলেছেন:
খুব সুন্দর লিখেছেন
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তাসবির।
ফেরারী পাখি বলেছেন:
স্পর্শ শুধু বিজ্ঞান নয়, ও ম্যাজিশিয়ান। কত কিছু যে কত ভাবে রোজ আমাদের ছুঁয়ে যায় নিজের মমৃমূল পর্যন্ত, তার হিশেব কি স্পর্থ জানে?এই যে তোর লেখাটা সকাল সকাল ছুঁয়ে গেল অনেককে, আমাকে---এটা কি শুধু বিজ্ঞান বলেই-----------------
ভালেঅ থাকিস। ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকিস তোর প্রিয়জনদের।
লেখক বলেছেন: উপরে শরৎকে বলেছি এইটা আসলে বিজ্ঞান নীরস অর্থে না, একেবারে বিশুদ্ধ শাস্ত্র এই অর্থে। সবাই স্পর্শ আর অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের কাজকারবারকে রহস্যময় মনে করে। আমি তা মানি না। আমি মনে করি সবই ভেঙে ভেঙে ব্যাখ্যা করা যায়, বিজ্ঞানে যেমন করে।
আমি অবশ্য বেশি কিছু জানি না। অনুভবগুলো ভেঙে দেখলাম এরকম হয়ে গেছে। ভিভিড।
প্রিয়জনদের ছুঁয়ে থাকা... বড়ো লোভ, বড়ো সাধ!
লেখক বলেছেন: দুঃখিত হবার কিছু নাই, তায়েফ। আবার পড়লে সেটা আপনার পাঠক হিসেবে একাগ্রতাই চিহ্নিত করে। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ!
শান্তির দেবদূত বলেছেন:
এখন হয়তো বিজ্ঞান আর শিল্প কোনোটাই কুমারী নাই। বিজ্ঞানের ভেতরে শিল্প ঢুকে গেছে, আর শিল্পের ভেতরে নিখুঁত বিজ্ঞান। দোঁহে মিলে নতুন জন্ম হোক এমনই স্পর্শবিজ্ঞানের -- চমৎকার উপলব্ধি !! আপনার চিন্তার গভীরতা দেখে অবাক হলাম !!! টুপি তো আগেই নামিয়ে ফেলেছি পোষ্ট পড়ে...... এইবার কি নামাবো? ন্যাড়া হয়ে গেলে কেমন হয় ?
লেখক বলেছেন: এই শীতে ন্যাড়া! বেলও পাকে নাই এখনও!
বরং আমি পৃথিবীর সাথে চুক্তি করি, সে কোনো ফাঁকফোকরে আমাকে জায়গা দিক।
আপনি তো মশাই... একে স্পর্শের কাহিনী শুনিয়ে মন উতলা করে দিয়েছেন। সত্যি বলি আপনার উপরের কমেন্টটা পড়ার পর থেকে একজনের কথাই ভাবছি। এখন এসব গভীরতার কথা কী যে বলেন!
কঁাকন বলেছেন:
ভালো লাগলো@ তায়েফ
লেখক কী বুঝাতে চেয়েছে অথবা এই লিখা পড়ে বিজ্ঞজনেরা কী বুঝেছেন সেটা বুঝতে চাইলে সারাজীবনি হাতরে মরতে হবে; আপনার পড়ে যা মনে হোলো সেটুকুই আপনার জন্য সত্য।
রবীন্দ্রনাথ জীবন-মৃত্যু এপার-ওপার নিয়ে সোনার তরী লিখতে পারেন আবার আমার কাছে তা শুধুই কোন এক বর্ষার বিকেলে সোনার ধানে ভরা ছোট তরীর টুকরো ছবিই হতে পারে
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
কাঁকন, ধন্যবাদ। কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: কবি এমনিতেই নীরব...
লেখক বলেছেন: ভাবলাম প্রথামতো বলে দেই, "ভালো"। পরে মুশকিলে পড়লাম ভাবতে বসে। এি বুঝতে পারছি না যে ভালো আছি না খারাপ অবস্থাটাকে কী বলা যায়? ![]()
লেখক বলেছেন: পুরা তাপবিজ্ঞানের ক্লাশ বসলো দেখি। হুমম!
কষ্ট না নস্টালজিয়া?
লেখক বলেছেন: ঠিক জানি না। মেলাঙ্কলিয়াও হতে পারে... স্মৃতিধর বা স্মৃতিহীন দুই অবস্থায়ই যা সদাসর্বদা ক্রিয়াশীল।
আবার এই সবকিছু একটা বিরাট অর্থহীন "কিছুই-না" ও হতে পারে। সম্ভাবনার অলীক সূত্র...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
ছন্ন একটা কাজ করি চলেন। আজ সকাল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত নিজেদের যত পুরোনো শীতের কাপড় আছে, টাকা দেবার সাধ্য আছে এসব নিয়ে টিএসসিতে মিলিত হই। কোন ওর্গানাইজেশনকে এগুলো দেই বা নিজেরা বিতরণ করি।
লেখক বলেছেন: শরৎ, খুব খুব ভালো উদ্যোগ! আপনি যখন কমেন্ট করেছেন আমি তার একটু আগে ঘুমিয়ে পড়েছি। সারা রাত জেগে থাকার ক্লান্তি এখনও যায়নি, ঘুম ভাঙলো এই দুপুর বারোটায়। খারাপ লাগছে, ভোরে কমেন্টটা দেখলে না ঘুমিয়ে বের হওয়া যেতো। আপনার পোস্টটাও তখন দেখি নাই। ...
শীতার্তদের সাহায্যে যতটা পারি করছি, করবো। সামনে সপ্তায় এমন উদ্যোগ হলে আগেভাগে বইলেন।
রাজর্ষী বলেছেন:
ভালো লাগলো।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রাজর্ষী।
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
ছন্নদা লিখতে পারে নাকি একটু আগে অমেদুল সাহেব উনার ব্লগে এইটা নিয়া প্রশ্ন তুলছে।আজকের সেরা জোক ছিল এইটা।
লেখক বলেছেন: অমেদুলের মৃদুল জোকস সামুর বেরসিক মডুরা বুঝলো না! আপসুস। ঢুঁ মেরে দেখি ব্লগ ডিলিটেড, পুরাটাই হাপিস।
প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে মডারেটর থাকে না, এই ধারণা থেকেই অমেদুলের মতো অপোগণ্ডেরা পোস্ট করতে আসে। সামুর ফ্যাসিবাদি মডু... হাহা।
লেখক বলেছেন: সবাই-ই টিঁকে থাকুক। বেঁচে থাকা তো অসম্ভব
হ্যামেলিন এর বাঁশিওয়ালা বলেছেন:
আমার অক্ষমতা যে আমি তা পুরো বুঝে উঠতে পারি না কখনোই!...
লেখক বলেছেন: অক্ষমতাই চোখে পড়লো বাঁশিওয়ালা?
একলব্য১৯৭১ বলেছেন:
আন্দাদা আমারে চিনছেন নি?আমি আপনেদের অতি আদরের মাস্ফ্যু।দুরো ওই ব্লগে কষ্ট কৈরা কত প্রমাণ ট্রমান দিলাম সব দেখি হাপিস
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
এগুলো ক্ষণিকের নিক। আসে, দু'টা পোস্ট করে, তারপরে ব্যান নয়তো হাওয়া। কষ্ট করে প্রমাণ দেয়ার নাই তো।
হিমালয়৭৭৭ বলেছেন:
স্পর্শ ব্যাপারটাই এখনো বুঝে উঠতে পারিনি, কারণ কোনকিছুই আমাকে সেভাবে স্পর্শ করেনা; এইটা একটা সমস্যা।।। তবে স্পর্শবিজ্ঞান টা অনেকগুলো সূত্র ভিজুয়ালাইজ করিয়েছে আমায়; যেমন ট্যাপ থেকে পানি পড়ছে, সেটা হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করছি, স্টেডিয়ামের এক কোণে বসে বাদামের খোসা ছাড়াচ্ছি, আর সবশেষে বুয়েট শহীদ মিনারে বসে ঝুম্পা লাহিড়ির উদ্ভট ইংরেজিতে লেখা বইয়ের একটা পৃষ্ঠা ছুয়ে আছি অনেক্ষণ ধরে.........এগুলোকেও তো স্পর্শই বলা যায়।।।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
এগুলোই শুদ্ধতম স্পর্শ। জীবিতের সাথে জড়ের সবচেয়ে নিকট সংযোগ এই স্পর্শ ছাড়া আর কি! আমরা তবু একে অপরকে পছন্দ/অপছন্দ করি, ভালোবাসি বা ঘৃণা করি, শ্রদ্ধা বা অপমান করি, বিচার করি বা ছাড় দেই। কিন্তু জড় আমাদের কখনই এরকম কিছু করে না। সে শুধু আমাদের স্পর্শই করে (নাকি আমরা তাদের স্পর্শ করি?)! অনেক অনেকদিন বাদে তোমার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগছে হিমেল। ভালো থেকো।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
এই লেখায় মন্তব্য করা কঠিন! কেন কঠিন সেটি ব্যাখ্যা করা আরো কঠিন। কিন্তু আমাদের ছন্ন আমার এই অক্ষমতা ও নীরবতার অনুবাদ করে নিতে জানে-- জানি আমি সে কথা!
লেখক বলেছেন: আপনার এই কমেন্টখানা বাঁধিয়ে রাখার মতোন! আমি নিজেও অনেকক্ষণ ভাবলাম কী জবাব দিলে যথাযোগ্য হয়। আমি তো লিখেছি, লেখায় অনেক কিছু বলেছি। কিন্তু আপনি কিছু না বলেই কতো গভীর প্রকাশ করে ফেললেন!
"আমাদের ছন্ন" সম্বোধনটা মারাত্মক 'সুখের মতো ব্যথা' দিলো...
মোস্তাফিজ রিপন বলেছেন:
পোষ্ট করবার পরপরই এই লেখাটি আমি পড়েছি। পড়ে মনে হল, লিখি, আমি যা লিখি আরকি, ছন্ন দারুণ!! পরে মনে হল, ছন্ন দারুণ লিখে- তথ্যটি কি নতুন? যেহেতু তথ্যটি নতুন নয়, সেহেতু ছন্নর স্পর্শবিজ্ঞান নিয়ে মারাত্মক কিছু বলি, দুর্দান্ত কিছু বলি, কিংবা এমন কিছু বলি- যা শুনে মনে হবে- 'এই ব্যাটাতো খুব বুজছে!'আজও হয়তো মন্তব্যের ঘরে কিছু লেখা হতোনা, যদি না, কামাল ভাইয়ের মন্তব্য পড়ে আমার চোখ না খুলত!
আসলেই তো কাজটি কঠিন...
ছন্ন, ওই যে বলেছিলাম, 'সব্যসাচী'... দারুণ সব তূণ আপনার...
(প্রতিবার যেইটা বলি, এইবারও সেইটাই জিগাই, মেয়েটা কে?)
লেখক বলেছেন: 'মেয়েটা কে?' প্রশ্নটা rhetoric হয়ে যাইতেছে! হা হা!
মেয়েটা খুব ভালো। তার জন্যেই সবকিছু। এমন কি এই লেখাগুলোর সময়ে তার স্থির উপস্থিতি অনুভব করি। আপনার সাথে একদিন মেয়েটার পরিচয় করিয়ে দিবো। সত্যি।
"সে আমাকে ভুলে গেলেও তার ভেতরে, বাইরে আমার দেয়া আঙুলের ছাপ থাকবে। ছাপ মুছে গেলে উত্তাপ থাকবে। উত্তাপও যেদিন চলে যাবে সেদিন হয়তো আমিই থাকবো না, তাই না?"... আমার কেন যেন মনে হয় স্পর্শ-উত্তাপ বা ছাঁপটা একসাথে থাকে! ওদের জন্ম-মৃত্যু-ও একসাথে হয়। সে ভুলে গেলে ওগুলোর বেঁচে থাকা দায় হয়ে উঠবে... মন যেমন বিমূর্ত, স্পর্শের অনুভূতিও তো বিমূর্ত! হাত ধরাধরি করে থাকে বিমূর্ত জগতের ওরা। আমাদের মতো অস্তিত্ব আলাদা না ওদের। তাই মূর্ত-বিমূর্ত মিলাতে গেলে দ্বিধায় পড়ে যাই!
লেখাটা পড়ে চমকে গেছি। তাই হয়তো বকলাম একটু বেশি!
লেখক বলেছেন: ছাপ আর উত্তাপ বিমূর্ত নয়। এগুলো বাস্তব, কিন্তু স্পর্শ বিমূর্ত। "একটা বিমূর্ত সত্ত্বার ভগ্নাংশটুকু মূর্ত উপাদান হতেও পারে" -এই ধারণাটাই প্রকাশ করতে চাইছিলাম ওখানে।
তোমার অনেক লম্বা কমেন্ট অনেকদিন পরে। স্পর্শ করলো!
ভগ্নাংশে মূর্ততা চলে এসেছে বলেই তুমি এমন অসাধারণ ব্যবচ্ছেদে বসে গেলে!
গ্রেট গোইং!
শেষে একটা প্রশ্ন... অনেকদিন কবিতা দেখছি না কেন বলোতো ??
লেখক বলেছেন: হা হা। কবিতা লেখার মতো মানসিক অবস্থায় নাই হয়তো। বা কবিতা লিখিত হচ্ছে মাথায়, কিন্তু সেগুলো শব্দে রূপ নিচ্ছে না। "হয়তো" বলছি কারণ আমি নিজেও জানি না!
ফনকিউজড্
লেখক বলেছেন: হাসিমুখে অনেকদিন পরে এলেন, আরাফাত ভাই!
অমিত চক্রবর্তী বলেছেন:
ভ্যাবাচ্যাকিয়ে গ্যাছি!পুরোপুরি।
এম্নিতেই ঘুম আসেনা আপনে তো আরো বাজিয়ে দিলেন।
মাইনাস!
লেখক বলেছেন: গভীর রাতে ছন্নছাড়ার ব্লগে পা রাখার জরিমানা: এখানে আপনার মানসের উপরে নির্যাতন করা হইতে পারে।
সুবিদ্ বলেছেন:
ঠিক কতোটা বিচিত্রভাবে কাউকে স্পর্শ করা যায়!----কাগজ আর শীষের শীর্ষের কত গভীর ছিনিমিনি প্রেম।---
তোমার দেখার এই চোখকে সালাম...
অদৃশ্য সত্তার বাক্যালাপ বলেছেন:
একটা বিশাল কমেন্ট লিখেছিলাম,,,কেন জানি আসলো না!!ভালো লাগলো,.মাঝে মধ্যে মনে হয়,,স্পর্শ আর অনুভুতিকে যদি বাক্স বন্দি করা যেত,,,যখন ইচ্ছা করবে ..খুলে খুলে দেখব,,আবারও স্পর্শ করব!!
আপনার লেখা দেখে খুব লিখতে ইচ্ছা করছে অনেক কিছু!!কিন্তু আমি তো এত গুছিয়ে বলতে পারিনা!!আমার অক্ষমতা!!
প্রথমবার পরে অনেক কিছুই বুঝিনাই,চোঁখ এড়িয়ে গেছে,,দ্বিতীয়বার পড়ে মনে হয়,,কিছুটা বুঝতে পেরেছি!মন্তব্যগুলোতে আরও পরিষ্কার হচ্ছিল,,,ধন্যবাদ তাই মন্তব্যকারীদের ও,,, ভাল থাকবেন,,,প্রিয়তে,,,আর ++++্
আেনায়ার এইচ ভূইয়া বলেছেন:
উপলব্ধির বেশ গভীর স্তরে বিচরন। ভালো।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















