আমার প্রিয় পোস্ট

চতুর্মাত্রিক.কম (choturmatrik.com)

যৌনকর্মীঃ একজন পেশাজীবীর স্বীকৃতি ও তদসংলগ্ন ছেঁড়া চিন্তা

১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪১

শেয়ারঃ
0 3 1

গত পরশু (১৮/৮/২০১০) বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন একটু খবরের শিরোনামে এসেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতা বলবৎ করার ব্যাপারে মূল আলোচনা বা বিতর্কের জায়গায় ছিলো সুপ্রীম কোর্ট। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভের একটাকে পুনর্বহাল করেছিলো তারা। আর এখন নির্বাচন কমিশন ভোটার আইডি'তে যোগ করেছেন বেশ কিছু পেশা। তাদের বক্তব্য, নতুন যোগ করা পেশাগুলোকে আগে চিহ্নিত করা হতো না। সেই পেশাজীবী মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ।

লিস্টিটা দেখলাম- যৌনকর্মী, ইমাম/পুরোহিত/যাজক(clerics), সেবিকা, হেয়ার-ড্রেসার, ধোপী, কাজের লোক (মেইড), মালী, ক্লিনার, বাবুর্চি, দর্জি, ড্রাইভার। তবে এই পেশাগুলোকে নিয়ে তেমন আলোচনা তৈরি হয় নি। বাঙালি মধ্যবিত্তের মননে 'তোলপাড়' তুলে ফেলেছে কেবল যৌনকর্মী পেশাটি। এই নিয়ে এরই মাঝে কিছু ব্লগে কয়েকটা লেখা দেখলাম, মূলত খবরটার প্রতিক্রিয়া নিয়ে। আশা করেছিলাম যেমন, ঠিক তেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সকলেই আমার ধারণাটিকে বদ্ধমূল করেছেন যে বাংলাদেশের সামাজিক চালচিত্র মোটেই এই পদক্ষেপের জন্যে অনুকূল নয়।


যৌনকর্মী সংক্রান্ত প্রাথমিক 'বুকিশ' আলোচনার দিকে যাবো না, সেদিকে আমি আপনার চাইতে বেশি কিছু জানি না। তাই চলুন একটু অন্যদিকে চোখ ফেরাই। ঐ যে বলছিলাম, নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রীম কোর্ট নিয়মিতই কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের মাঝে ঘুরে ফিরে উঠে আসছে। এই উঠে আসার কারণ হয়তো তাদের গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের সাথে আমাদের মনন, সামাজিক প্রথাবদ্ধতার অমিল মূলাংশে দায়ী। ধর্মপ্রবণ এবং মোটামুটি অশিক্ষিত এই জনপদে গিজ গিজ করছে মাথা, সেই মাথায় চুল গজায় আবার ঝরে পড়ে টাক বিস্তৃত হয় কিন্তু খুলির ভেতরে ধূসর-বস্তুতে খুব বেশি আলোড়ন ওঠে না। যে খুলিগুলোতে কিছুটা রসদ থাকে, সেগুলো ড্রেন দিয়ে বা প্লেনে চড়ে পাচার হয়ে যায় ফর্সা-চামড়ার দেশে। তার এখানকার কালো, কুৎসিত, কুশিক্ষিত মানুষের মনন একটা আধা-ধর্মান্ধ-আধা-সুশীল অবস্থানে আটকে থাকে (আছে)। এই অবস্থায় আমাদের রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা পরপর দুটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। "যুগের অন্ত" আক্ষরিকার্থেই! কারণ, জন্মাবধি কাগজে কলমেও বাংলাদেশ সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধর্মনিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারে নি।


পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির সময়ে যেমন ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছিলো যে এই ইসলামিক রাষ্ট্রটি ১০০ বছর বাঁচবে, যুগে যুগে এইখান থেকে তৈরি হবে নব্য-মুসলিম স্কলার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পথে ও সভ্যতার উৎকর্ষে তারা অবদান রাখবেন; সেই সুখ কল্পনা ছেঁড়া কাথার ফুট দিয়ে পালিয়েছে। পেছনে ছিলো সামরিক লাঠির বাড়ি। আধামূর্খ-আধামুসলিম বাঙালিত্বের লুঙ্গি খুলে খুলে যখন পাক-পবিত্র পাকিস্তানিরা চেক করেছে, তখনই বোঝা গেছে পলিমাটিতে মরু-রুক্ষ ইসলাম জমবে না। এখানে পীর-আউলিয়াদের হাত ধরে আগত ইসলাম কেবল আচারে, প্রথায় রাখা যেতে পারে, তার বেশি মানুষ তা মানবে না।


বাঙালি তখন লুঙ্গি ছেড়ে সবে রাস্তাঘাট বানাচ্ছে আর শার্ট-প্যান্টের সাথে জুলপি রাখতে শিখেছে। তাদের কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার গ্রহণযোগ্যতা একটা সামাজিক-রাজনৈতিক উল্লম্ফন ছিলো। কিন্তু পুরো শরীর এক সাথে না লাফালে যেমন গোত্তা খেয়ে পড়তে হয়, তেমনি সাড়ে চার বছরেই ধর্মনিরপেক্ষতার ঝুমঝুমি হাত ফস্কে গেছে, একেবারে নিচতলায়, বেইসমেন্টে ধুলো মেখে। আমরা শনৈ শনৈ সামরিক উন্নয়নে ডুবে গেছি, বন্যায় ডুবেও রাস্তাঘাট আর খাল কেটে স্বস্তি পেয়েছি। ব্রিটিশ জুতো, পাকিস্তানি জুতোর পরে বাংলাদেশী জুতোর পাড়া খেতে আমাদের কালো দেহে মন্দ লাগে নি। পরিবারতন্ত্রের রাশান রুলেৎ খেলা "রহমান ডাইনেস্টি" দুটোর ভগিজগিও গত বিশ বছরে সামরিক শাসনের 'সমসাময়িক' হয়ে উঠছে। তো, এবারে নতুন শতকের এক দশক পেরিয়ে গেলে কোন দৈববলে আবার সেই মানিকরতন ফিরে এলো, তাকে নিয়ে আমরা কী করবো; কোলে রাখবো নাকি ছুঁড়ে ফেলবো, এটাই এখনো ঠিকঠাক ঠাহর হচ্ছে না।


তার ওপরে নির্বাচন কমিশন চাপিয়ে দিলেন পেশা-স্বীকৃতির এই 'অভাবনীয়' বিজ্ঞপ্তি! এবারে আমাদের পুরুষালী রোম খাড়া হয়ে গেছে। এই উত্তেজনায় বাকি সবগুলো পেশাজীবীকে বাদ দিয়ে আমরা যৌনকর্মীদের নিয়ে পড়েছি। এমনিতেই তাদের ব্যাপারে ট্যাবু, চাপা-আগ্রহের কোনই কমতি নাই, তার ওপর নিঃকঃ এসে পেশা হিসেবে উন্মুক্ত করে দিলো যেন। এখন হিসেব উঠে আসছে, ঢাকায় ঠিক কতোজন যৌনকর্মী আছেন, ঠিক কোন কোন জায়গায় তাদের ডেরা, বাংলাদেশেই বা কতোগুলো 'নিষিদ্ধপল্লী' আছে ইত্যাদি।


খেয়াল করলাম, যে পেশাগুলোকে নতুনভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই নারীর পেশা। ইমাম/পুরোহিত/যাজক, মালী এবং ড্রাইভারের পেশাতে এখনও পুরুষের একচ্ছত্রতা। সেবিকা, যৌনকর্মী, কাজের লোক এগুলো পেশায় নারীর একচ্ছত্রতাও উল্লেখ করি। বাদ বাকি পেশাগুলোতে ধীরে ধীরে নারীকে জড়িয়ে পড়তে হচ্ছে। এই সবগুলো পেশার মধ্যে মিল হলো সচরাচর এগুলোকে সমাজ ও রাষ্ট্র 'চিনতে' চায় না। কাজের লোককে নামমাত্র বেতনে রাখা হয়। ইংরেজি খবরে "ক্লিনার" বলে সম্ভবত মেথর ও জমাদার বুঝিয়েছে, তাদেরকেই বা কতোটা দ্রষ্টব্য ভাবা হয়? সেবিকাদের নামের আশে পাশে 'মহামতি ফ্লোরেন্সে'র নাম নিয়ে তাদেরকেও শ্রমের ন্যায্যমূল্য দেয়া হয় না। হয়তো শুভ্র পোশাকের সেবিকাদেরকে ততোটা 'খেটে খাওয়া' বলে মনে করতে আমাদের 'সুশীল' চোখ অভ্যস্ত নয়। আর সেই সুশীল চোখের কাছে যৌনকর্মীর নাম দূরে থাক, উল্লেখমাত্রই একেবারে অচ্ছুৎ।


তবু নিষিদ্ধের কৌতূহল আর বিকৃত আগ্রহ আমরা নিশ্চিত লালন করি। তাদের জীবন ও জীবিকার খবর জানতে, পরিসংখ্যানের ভেতরে আরো খতিয়ে জানতে অনেকেই উৎসুক। এই ঔৎসুক্য জন্মেছে পারিবারিকভাবে শেখানো ঠুঁটো নিষিদ্ধতার কারণে। যৌনতা এ অঞ্চলে ট্যাবু হলেও অন্তরীণ নয়। সকলেই চর্চা করেন, এখন তথ্যপ্রবাহের ঢেউয়ে তার অনেকটাই জানা যায়। নারী বা পুরুষ কেউই এই চর্চার বাইরে নেই। হয়তো অংশগ্রহণের স্বাভাবিকতায় নারী যুগযুগ জিইয়ে রাখা জড়তা এখনও কাটাতে পারে নাই, তবু প্রায় সমানে সমানেই (আড়ালে বা প্রকাশ্যে) যৌনতার লালন ঘটছে।


সুতরাং এখানে কোন উন্নাসিকতার উপায় নেই, সুযোগ নেই উপেক্ষার। স্বীকার করেই নিতে হয় যে এই আদিমতম পেশাটি বঙ্গ-জনপদে প্রাচীনকাল থেকেই আছে, আছে এর "ভোক্তা" (পুরুষ) ও "কর্মী" (নারী)। সমাজে পুরুষ নিজের সামাজিক প্রতিপত্তি আর পরিচয়ের জন্যে রেখেছে স্ত্রী, আর ভোগ ও লালসার জন্যে রেখেছে যৌনকর্মী। এবং নিজেদের 'সম্মান' ধরে রাখতে এই কর্মীদের নাম দিয়েছে 'পতিতা', 'বেশ্যা' ইত্যাদি। নামগুলো দেখুন, নিছক শব্দ হিসেবেই প্রথম শুনেছিলেনঃ কিশোর বয়সের কথা মনে করুন। তারপরে শিখে গেছেন, এগুলো কতোটা নিকৃষ্ট শব্দ, অশ্লীল, অসভ্য, কুৎসিত। তারপরে পরিচিত হয়েছেন এই শব্দগুলো যাদের সাথে ব্যবহার করা হয়, তাদের সাথে - সেই নারীদের সাথে যারা পতিত, অস্পৃশ্য, নিষিদ্ধ ইত্যাদি। অথচ তারা কোথায় থাকে, কি করে, কারা তাদের কাছে যায় এটা জিজ্ঞেস করলে নিশ্চিত বড়ো একটা ধমক খেতেন। 'চুপ' বলে চেঁচিয়ে উঠতো আপনাকে আদর্শলিপির পাঠ দেয়া 'পুরুষ' চরিত্রটি।


এই চর্চা, আবহমান সংস্কৃতির মতো চলে আসছে। পুরুষ কখনই যৌনকর্মীর কাছে যাওয়া থামায় নি, এবং নিয়মিত খদ্দেরকেই দেখা গেছে তাদের বিপরীতে উচ্চকণ্ঠে। এই দ্বিমুখী আচরণ আসে কুশিক্ষা থেকে, প্রথাবদ্ধতা থেকে, অন্ধের মতো ক্ষমতা দখলের লিপ্সা থেকে। এখানে কেন ক্ষমতার কথা আনলাম? একটু ভেবে দেখলে আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন।


সমাজের ক্ষমতার পিরামিডে এই নারীদের অবস্থান কতোটা নিচে! হয়তো সবার নিচে। এমনিতেই অনগ্রসর ও দরিদ্র জনপদে গড়পড়তা নারীরা ২য় শ্রেণীর নাগরিক, তার ওপরে তাদের মধ্যে যারা দেহব্যবসার সাথে জড়িত, তারা না পান পরিচয়, না পান মূল্য - সামাজিক অবস্থান তো দূরাস্ত। এ অবস্থায় তাদেরকে আলাদাভাবে কেন 'পতিত' বলে চিহ্নিত করা হলো? কারণটা কি খুব স্পষ্ট না? কারণ সমাজের পুরুষের দুশ্চরিত্রের অনেকটা চেহারাই তাদের কাছে উন্মুক্ত। ভ্রষ্ট প্রথা মেনে সমাজে প্রতিপত্তি গড়ে তোলা উপরতলার বেশির ভাগ পুরুষ এই সকল নারীর ভোক্তা। কাঁচা বাজারে গেলে তারা যেমন প্যান্ট উঁচু করে চলেন, কাদা মাড়ালে যেমন তাদের নাক কুঁচকে যায়, সেই সকল উন্নাসিকের গতায়াত এই অঞ্চলে অহরহ। আর সেজন্যেই, যৌনকর্মীদেরকে সমাজের নিচু থেকে নিচুতলায় ঠেলে দিলে এই সব পুরুষদের স্বস্তি হবে। এতোটা নিচুতলা থেকে তারা আর কিইবা বলবে, আর সেটা কে-ইবা শুনবে?


বিষয়টা প্রবলভাবে রাজনৈতিক - ক্ষমতার বন্টনের মতো। কিন্তু সে দিকে না তাকাই। আমরা বরং 'আম' জনতা সেজে থাকি। অন্ধকারে আমাদের মাঝে কে কে এই পল্লীতে এগুবেন সেটা একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার। আমরা সেখানে কোন জাজমেন্টাল অবস্থান নিতে চাই না।


কিন্তু নির্বাচন কমিশন যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। যুগের পর যুগ ধরে তাদের প্রতি জমে ওঠা অবহেলা, নাক সিঁটকানোর স্বভাবটাকে বদলাতে তারা সমাজের আরো পাঁচজন পেশাজীবীর কাতারে উঠিয়ে নিয়ে আসছেন। এই পদক্ষেপটি যাদের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তারা স্বভাবতই উপরে উল্লিখিত মানুষদের মতো মন-মানসিকতা ধারণ করেন। যতোক্ষণ তাদের সেই কূপমণ্ডুক, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব তারা নিজেদের ভেতর রাখছেন, ততোক্ষণ সেটা নিয়ে মনে হয় না কারো মাথাব্যথা আছে। কিন্তু যখনই তারা গলাবাজি করে সমাজের নৈতিকতা, এবং অনুশাসনের বুলি আওড়াতে যাবেন, তখন মনে করিয়ে দেয়া জরুরি যে এই নারীদের পেশাবৃত্তির ভোক্তাশ্রেণীটি কারা।


যৌনকর্মীদের পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়াটা মূলত পুরুষ ভোক্তাদেরকে ভোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সমতূল্য। এই বিষয়টিই হয়তো কাঁটার মতো গলায় বিঁধছে অনেকেরই। তাদের জন্যে প্রেসক্রিপশন, দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। আপনার পুরুষতান্ত্রিকতার গলায়, মানবতার ফোরসেপ দিয়ে কাঁটাটি না তুললে অচিরেই সেপটিক হয়ে যাবে। তখন না গোটা গলাটাকেই কেটে ফেলতে হয়!


***


[*নির্বাচন কমিশনে এবং সরকারি কর্তাব্যক্তিদের মাঝে কোটি কোটি দোষত্রুটি আছে। এই সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন খাতে ব্যর্থতার পরিচয় 'সগৌরবে' রেখেছে। তারপরেও এরকম কিছু দুরন্ত উদ্যোগের জন্যে তারা সাধুবাদ দাবি করেন। বাংলাদেশে সামরিক ও ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়াশীলতার পিঠে এরকম প্রগতিশীল পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই!]

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): সাম্প্রতিক খবর ;
বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৪৫
বিডি আইডল বলেছেন: পোষ্টে প্লাস...পৃথিবীরই আদিমতম পেশা এটি...যৌনপেশা আইন করে রেগুলেটেড করা উচিৎ...এ খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হতে পারে...
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০৮

লেখক বলেছেন: আয়ের কথা বলতেছেন, সামাজিক স্বীকৃতিই নাই!

২. ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫০
রাতমজুর বলেছেন: আপনার মূল বক্তব্যটাই বুঝতে চাইবোনা আমরা, সমস্যা এটাই, বালিতে মাথা গুঁজে নিজেকে অদৃশ্য করবার সহজাত কুপমন্ডুকতা।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১১

লেখক বলেছেন: আমি নিজেই "আমরা" দলে পড়তে পারি, দলছুট করে দিয়েন না হে!

বালিতে কেউ মাথামুথাশরীর গুঁজে রাখুক, অসুবিধা নাই। কিন্তু সেটা তুলে উটের মতো হাউকাউ করলেই যতো সমস্যা। /:)

৩. ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৭
সমাস বলেছেন: রাতমজুর বলেছেন: আপনার মূল বক্তব্যটাই বুঝতে চাইবোনা আমরা, সমস্যা এটাই, বালিতে মাথা গুঁজে নিজেকে অদৃশ্য করবার সহজাত কুপমন্ডুকতা।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্যে ধন্যবাদ, সমাস। উপরেই জবাব দিয়েছি একটা। দেখেন।

২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৪

লেখক বলেছেন: জ্বে।

৫. ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৯
ইউনুস খান বলেছেন: নতুন নতুন পেশা সংযোজনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার একটি যুগপৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটা আমাদের সবাইকে সমর্থন করা উচিত।

গত কিছুদিনের অভাজার্ভাশেনা মনে হয়েছে দুই ধরণের মানুষ "যৌনকর্মী" পেশা হিসাবে দেখতে চায়না।

১। যারা আসলেই নিতান্ত সহজ, সরল, সাধারণ।

২। যারা ঐ সকল যৌনকর্মীদের দাসীর মতো, বান্দির মতো করে ব্যবহার করছে তারা।

পোস্টে প্লাস।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৬

লেখক বলেছেন: আমি এই শ্রেণীবিভাগটা একটু ভিন্নভাবে দেখি। যৌনকর্মীদেরকে সবাই 'পতিতা', 'বেশ্যা' হিসেবে দেখেন। কেউ সরাসরি তাদের ভোক্তা, কেউ ভোক্তা নন। এমন কি সমাজে চালু নাম বদলে তাদেরকে 'যৌনকর্মী' ডাকাটাও অধুনারপ্ত আচরণ।

সহমত জেনে ভালো লাগলো। :-)

৬. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০০
শয়তান বলেছেন: অর্ধেক পানিভর্তি গ্লাস এর চিত্র্র । B-)
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৮

লেখক বলেছেন: গ্লাস - পানি - এগুলোর চিত্রসহ ব্যাখ্যা দেন। B-)

৭. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০০
-ছন্নছাড়া- বলেছেন: নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২৩

লেখক বলেছেন: আমিও।

৮. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:০৫
শয়তান বলেছেন: বাই দ্য ওয়ে পেশা হিসাবে ছাগু আর গেলমান এর অন্তর্ভুক্তির জোর দাবী জানাই নিঃকঃ এএর নিকট । তারা কি ব্লগের ম্যাৎকার আর শিৎকার ধ্বনি শুন্তে পায় না :-B =p~ =p~ =p~
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: হা হা হা! সিরিয়াস পোস্টেও! :)

আগে এক কাজ করেন, নিঃকঃ-এর কাছে ব্লগারদের পেশা হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেন। আমরা খেয়ে না খেয়ে ব্লগাই, আর কেউ কেউ পেইড হয়। এটা করলেই সেই সাবগ্রুপে ছাগুরা পড়ে যাবে'নে! ;)

৯. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১০
হামাহুদ রোমেল বলেছেন:
জনগণ তো বাধ্য.......তার তো জাওয়ার জায়গা নেই।
জনগণ পতিতালয়েই পরে থাকুক। তারপর তাকে কখনো কখনো পুলিশে ধরে নিয়ে যাবে, আইন আদালত হবে.......জেল জরিমানা হবে। রাজস্ব আয় হবে। এই আয় এবং ভোগ........কলা বেচা সঙ্গে রথ দেখার বিষয়টি পুরোনো।

যারা এই পেশাটিকে বৈধ করলেন....ভালোই করেছেন.........তাদের হাতে বাংলাদেশের জিম্মি জনগণ শুধু কাম কলায় উদ্ধুদ্ধ হোক। গণপ্রজাতন্ত্রকামীদের সমাজ বিকাশের জন্য বিজ্ঞানী, সমাজ সেবী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, দেশপ্রমী হওয়ার কোন অধিকার/প্রয়োজন নেই।
...এই অধিকার তো নবাবের, জমিদারের, আমলার........তারপর....তারপর......এভাবেই চলতে থাকুক।.................যা হয় তা ভালোর জন্য হয়।


২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: রোমেল, "জনগণ তো বাধ্য.......তার তো জাওয়ার জায়গা নেই।
জনগণ পতিতালয়েই পরে থাকুক।"

>আপনার মন্তব্যে এরকম ধারণা হতে পারে যে জনগণ নাবালক। কিন্তু আদতে তা নয়, জনগণ চিন্তাভাবনাশীল কিছু মানুষের সমষ্টি। আমাদের দেশে চিন্তাহীনের দল ভারি, চিন্তাশীলেরাও ধান্দাবাজি করেন অনেকেই। এজন্যে সরকার মেষপালকের মতো কিছু কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়।

কামকলা বা পতিতাগমণ কিন্তু এক নয়। সুস্থ কামের জন্যে পয়সা দেয়া লাগে না, পারষ্পরিক কনসেন্ট নিয়েই সেটা চর্চা করা যায়। তারপরেও দেখবেন, পতিতাগামী 'জনগণ'-এর বড়ো অংশই বিবাহিত। এটা কেন হয়? একটু ভাবুন তো?

"গণপ্রজাতন্ত্রকামীদের সমাজ বিকাশের জন্য বিজ্ঞানী, সমাজ সেবী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, দেশপ্রমী হওয়ার কোন অধিকার/প্রয়োজন নেই।"

> তাহলে কি হওয়া দরকার? আমি তো জানতাম গণতন্ত্র শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রব্যবস্থা!

১০. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২১
নীরব অভিমান বলেছেন: বহুদিন পর একটা ভাল পোস্ট পেলাম,এই জন্য আপনাকে ধন্যবাদ,সব শুধু সরকারের ভুল নয়,কিছু আমাদের ভুলও আছে...আমরা হলাম সচেতন কিন্তু আধমরা,সাথে আছে বহু বছরের অন্ধ বিশ্বাস,,,,,,,,,
+++++++++++++
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪১

লেখক বলেছেন: সরকারকে আমরাই নির্বাচিত করি, আর সরকার গঠনকারীরা পঁচে যাওয়া মানুষ হলেও তাদেকে প্রতিনিধি আমরাই বানিয়েছি এগিয়ে না এসে। তাই, ড্রয়িংরুমে বসে সরকারকে এক তরফা গালি দিয়েও খুব একটা কিছু লাভ হয় না।

নীরব, আমাদের আসলেই এই বহু বছরের অন্ধ বাজে প্রথাগুলো ফেলে দেয়া দরকার।

১১. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:২৫
লড়াকু বলেছেন: কেউ যদি একে পেশা হিসেবে স্বেচ্ছায় বেছে নেয় তো নিক, কিন্তু এই পেশায় কেউ যেন বাধ্য হয়ে না আসে সেটা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব (একই কথা প্রযোজ্য ভিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রেও)। পশ্চিমা পুঁজিবাদী বিশ্বেও সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থানরতদের জন্যে রাষ্ট্র কর্তৃক নিরাপত্তা বলয় দেয়া হয় যাতে তারা ন্যূনতম মানবিক জীবন যাপন করতে পারে।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: রাষ্ট্রের চাইতেও ওটাকে আমি সমাজের দায়িত্ব বলে মনে করি। আমাদের সমাজে যখন একজন নারীকে জোর করে নারীত্বে পৌঁছানো মাত্রই যৌনকর্মী বানিয়ে ফেলা হয়, তখন আশেপাশের লোলুপ চোখ ছাড়া কিছু থাকে না। সকলেই হয় পরোক্ষ নয় প্রত্যক্ষভাবে দায়ী সেই নারীর ভবিতব্যের জন্যে।
আর আপনি ঠিক বলেছেন, এটা ভিক্ষাবৃত্তির ক্ষেত্রেও খাটে বৈ কি।

ন্যূনতম বলয় - - গড়ে ওঠার পরিসর এখানে নাই। এই জনপদে পীরের মাজারে যতো টাকা যায়, ততো টাকা এতিম/দুস্থ/পঙ্গু/বৃদ্ধদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে গেলে জীবিতেরা বাঁচতো।

এখানে মৃত ভণ্ডরা উপাসনা পায়, আর সেখানে কি আশা করা যাবে, বলেন?

২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, চতুষ্কোণ।

১৩. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৩০
শ।মসীর বলেছেন: দেখা যাক কি হয় শেষ পর্যন্ত, ভোক্তা পুরুষরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় !!!
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: যৌনকর্মীরা তবু নিজেদের পেশা জোর গলায় বলতে পারেন, কিন্তু তাদের ভোক্তা পুরুষেরা কি আর জোর গলায় বলতে পারবেন যে তারা ভোক্তা? সামাজিক ছিছিক্কারের ভয় তো তাদেরই বেশি, ঐ যৌনকর্মীদের চেয়ে!

১৪. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৩৫
মনির হাসান বলেছেন: বাংলাদেশে সামরিক ও ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়াশীলতার পিঠে এরকম প্রগতিশীল পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই!


স্যালুট ছন্নছাড়ার পেন্সিল .... অনেকদিন পর একটা মনের মত পোস্ট আসল ... এবং প্রয়োজন বুঝেই। ব্লগে উটের সংখ্যাবৃদ্ধি'তে আমি হতাশা, মুখ ফুটে গালিটা দিতেও আর ইচ্ছে করেনা ... "শুয়োরের বাচ্চা'রা তোরা তোদের বাপের দেশ পাকিস্তান আফগানিস্তান সৌদি যাগা ... এইখানে কি করছ?"

পোস্ট প্রিয়তে নিতে বাধ্য হলাম।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, মনির ভাই।

আমি মাঝে মাঝে ভাবি, উট যতোটা মরুপ্রেমী, আমাদের পললমাটিতে তেমন রুক্ষতাপ্রেমী কেমন করে জন্মালো? এ কোন জেনেটিক ডিজওর্ডার?

তবে এই ইস্যুর বিপরীতে অনেক উন্নাসিককেও জামাতে দাঁড়াতে দেখছি, যারা হয়তো ঠিক সেই 'শিবিরে' পড়েন না। এই জন্যেই পোস্ট লিখলাম।

১৫. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৩৫
লাবিব ইত্তিহাদুল বলেছেন: আমি আসলে চাই না "যৌনকর্মী" পেশা হিসাবে সিকৃতি পাক। কে কি বলল জানি না, আমি আমার চাওয়া টা বললাম শুধু।

আর আমার না চাওয়ার কারণ টা মূলত, ধরমীয় মূল্যবোধ বলতে পারেন।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার 'চাওয়া'টা তালগাছ আঁকড়ে ধরার মতো 'চাওয়া'। আপনার এই চাওয়ার পেছনে কি আদৌ কোন যৌক্তিক ভিত্তি আছে?

"ধর্মীয় মূল্যবোধ" (বানানটি ঠিক করে লিখুন অন্তত) একান্ত ব্যক্তিগত অনুভব। সমাজে সেটা দুই পয়সা মূল্য নাই। কারণ প্রত্যেক মানুষের ধর্ম-সংক্রান্ত ধারণা ভিন্ন। সেখানে আপনার চাওয়া দিয়ে তো একটা পুরো পেশাজীবী নাগরিককে অস্বীকার করা যায় না। এমন কি তাদের নিজস্ব মূল্যবোধ থাকতে পারে, সেটা কি ভেবে দেখেছেন?

আরেকটু ভাবুন, আপনার মতামতও আরো খোলাসা করে জানান। 'এটা চাই না' বলাটা অনেকটা ঐ সামরিক আইনের মতো হয়ে যায়।

১৬. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪৮
পিটার প্যান বলেছেন: @ লাবিব ইত্তিহাদুলঃ আসলে যৌনকর্মী না বলে মুত্তাহ কর্মী নাম দিলে মনয় হাবিব ভাইয়ের আর আপত্তি থাকব না।
১৭. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫৬
পিটার প্যান বলেছেন: @ লাবিব ইত্তিহাদুলঃ আসলে যৌনকর্মী না বলে মুত্তাহ কর্মী নাম দিলে মনয় হাবিব ভাইয়ের আর আপত্তি থাকব না।
১৮. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৫৯
টেলি সামাদ বলেছেন: কোন দুইখান উট এইখানে আইছিল /:)
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:০৮

লেখক বলেছেন: হা হা! এখন কি তবে উট-শুমারি করবো, বলেন?

আসুক। ভিন্নমত খালি মাইনাসে না দিয়ে মন্তব্যেও দেখাক, তাহলে অন্তত মতামতের সাদা-কালো ভেদ করা যাবে।

১৯. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:০৬
হামাহুদ রোমেল বলেছেন: ১। নাবালক নিয়াই দক্ষিণ এশীয় গণতন্ত্র।
২। জনগণ চিন্তাভাবনাশীল কিছু মানুষের সমষ্টি..
৩। আমাদের দেশে চিন্তাহীনের দল ভারি, চিন্তাশীলেরাও ধান্দাবাজি করেন অনেকেই।
৪। এজন্যে সরকার মেষপালকের মতো কিছু কিছু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়।
৫। কামকলা বা পতিতাগমণ কিন্তু এক নয়.............?
৬। পতিতাগামী 'জনগণ'-এর বড়ো অংশই বিবাহিত। এটা কেন হয়? একটু ভাবুন তো? .......................অপশন/আইন পাশ হলে যা হয়!
৭। আমি তো জানতাম গণতন্ত্র শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর রাষ্ট্রব্যবস্থা!
__________________________________
ছন্ন ছাড়ার পেন্সিল ভাই............আপনার সঙ্গে আমি একমত। একমত হয়েই আপনার পোস্টে'র সহযোগী হয়েছি মাত্র। আপনার পোস্টের উপরোক্ত যুক্তিতে দেখা যাচ্ছে 'সরকার/চিন্তাশীলেরা ধন্দাবাজ'..........যারা- জনগণ চিন্তাভাবনাশীল কিছু মানুষের সমষ্টি'র কথা জেনেও কিন্তু যৌনকর্মীকে পেশাজীবী হিসেবে বৈধতা দিয়ে দিলো।কারণ, তারা কি জানতো নাবালক মার্কা জনগণ এ নিয়ে ভেবেও দেখবে না। শুখু কিছু মানুষের সমষ্টি এ নিয়ে মন খারাপ করবে? তারপর সব ভুলে যাবে?

এবং আমরা যারা এখন বিষয়টি নিয়ে আজকের রাতের মতো আলোচনা করছি। কালকে এ নিয়ে আলোচনা নাও হতে পারে।

আপনার ৭ নং প্রশ্নর উত্তরের সঙ্গেও আমি একমত। কিন্তু আমি যা বললাম- সমাজ বিকাশের জন্য বিজ্ঞানী, সমাজ সেবী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, দেশপ্রমী হওয়ার কোন অধিকার/প্রয়োজন নেই।...........কথাটা কি সত্যি নয়? তবে? এই ব্যাপারে কোন উদ্দ্যেগের আলামত কই?


এনিওয়ে।............আলোচনা অন্য দিকে মোড় নিক তা আমি চাই না।

........আপনার পোস্ট পড়ে আমি আমার কথা বলতেই পারি। যেহেতু আপনার পোস্টটি খুব গুরুত্বপুর্ণ। আপনার পোস্টের মমার্থ আমি বুঝেছি, আপনিও বুঝেছেন আমি কি বলেছি।..............আপনার পোস্ট পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকবো। :)


২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:২২

লেখক বলেছেন: @রোমেল, "'সরকার/চিন্তাশীলেরা ধন্দাবাজ'..........যারা- জনগণ চিন্তাভাবনাশীল কিছু মানুষের সমষ্টি'র কথা জেনেও কিন্তু যৌনকর্মীকে পেশাজীবী হিসেবে বৈধতা দিয়ে দিলো।"

> এটা কিন্তু আমি বলি নি। আমি বলেছি চিন্তাশীলদের অনেকেই ধান্দাবাজ, যারা নিজেদের স্বার্থ বাদে কোন কথা বলে না। সরকারের মধ্যে এরকম লোকজন কখনই যৌনকর্মীদের পেশাস্বীকৃতির মতো প্রভোকেটিভ পদক্ষেপ নিতে যাবে না। সুবিধাবাদীর চরিত্র তো জানেন আশা করি।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে-ই থাকুন না কেন, তিনি যথেষ্ট সাহস দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ গরীব, অর্থনীতি ও মনন দু'দিকেই। কিন্তু তারপরেও আমাদের মাঝে কিছু প্রগতিশীল মানুষ আছেন যারা নানারকম ট্যাগিংয়ের ভয় ফেলে প্রান্তিক, অবহেলিত মানুষদের জন্যে কাজ করেন। তাদের মাঝেই কেউ হয়তো এরকম উদ্যোগের পেছনে আছেন। যৌনকর্মীদেরকে যেভাবে হেয় করা হয়, সেটা এক ধরনের অন্যায়। তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়ে পক্ষান্তরে সেই অন্যায়কেও চিহ্নিত করার অবকাশ হলো।

======
"শুখু কিছু মানুষের সমষ্টি এ নিয়ে মন খারাপ করবে?"

> এই মানুষগুলো কারা যাদের মন খারাপ হয়ে গেলো? মন খারাপ একটা মন ভালোর বিপরীত অনুভব। যদি ধরে নেই স্বীকৃতিপ্রাপ্তেরা খুশি, তাহলে অখুশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হলো কাদের জন্য বলে আপনার ধারণা?

====

সমাজসেবী, দার্শনিক বা চিন্তাবিদ ছাড়া কোন সামাজিক বদল সম্ভব নয়, আর আমাদের দূর্ভাগ্য যে ১৪ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ এর পর থেকে দেশে সেই ধারাটা সুস্থভাবে গড়ে ওঠে নাই। এখানে দর্শনের চাইতে ব্যবসায়-প্রসাশন জরুরি পাঠ্য, ঐ অনেকটা গবুচন্দ্র রাজার দেশের মতোন। সুতরাং...

২০. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৩৪
হুপফূলফরইভার বলেছেন: সভ্যতার শুরু থেকে যুগ যুগ ধরে চলে চলমান এই পেশাটার সামাজিক স্বীকৃতি কখনই ছিল না!
যদিও বর্তমান বিশ্বের অনেক দেশেই এটা স্বীকুতিপ্রাপ্ত!

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া দেখার আসায়!
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: ভোক্তারা কিন্তু জোর গলায় প্রতিক্রিয়া জানাইতে পারতেছে না। ব্যাপারটা বেশ মজার!

কারণ প্রতিক্রিয়া জানানোর পথে তাদের গোপন গতিবিধির উন্মোচন ঘটবে। এটা অনেক 'তথাকথিত' সুশীল ভোক্তাই চায় না।

২১. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৫৩
হামাহুদ রোমেল বলেছেন: সুতরাং...........ধান্দাবাজদের চিহ্নিত করা দরকার।
সরকারের সব ব্যক্তি ধান্দাবাজ নয়। কেউ কেউ ধান্দাবাজ। ১০ টা ভালো আমের মধ্য ৩ টা পচা থাকলে যা হয় তা হচ্ছে। জনগণকে বুঝতে হবে- আমের ঝুড়িটায় যতো গন্ডগোল। ৫ বছর আম না খেয়ে থাকতে পারলেই আমের বাহাদুরি থাকবে না।

ধন্যবাদ আপনাকে।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:০২

লেখক বলেছেন: আমজনতা আম খাবে না কেন? সেই পরিবারতন্ত্রের মধ্যে কোন সুস্বাদু আম নেই যে অদলবদল করে খাওয়া যায়। এমন কি, পরিবারতন্ত্রের বাইরেও কিছু দেখি না।

বাংলাদেশের রাজনীতি একটা ভয়ানক দীর্ঘশ্বাসের নাম।

২২. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: কেবল তো ভোক্তা আর কর্মীর কথা এলো, যদিও পেশা হিসেবে শুধু কর্মীর কথা এলো। আর যারা যৌনকর্মীদের দালাল হিসেবে কাজ করে, নারীপাচার, অপহরণের সাথে জড়িত -- তাদের পেশা কি হবে? যৌনকর্মীদের যেমন আইডি থাকবে, ভোক্তাদের আইডি বা ইনফরমেশন থাকবে কিনা? নাকি কেবল নারীত্বের অপমানকে আরো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া?
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৩২

লেখক বলেছেন: দুটো ব্যাপারে কথা বলিঃ

"আর যারা যৌনকর্মীদের দালাল হিসেবে কাজ করে, নারীপাচার, অপহরণের সাথে জড়িত -- তাদের পেশা কি হবে? "

>তাহলে বলতে চাইছেন, যারা জোর করে নারীদের যৌনকর্মী বানায়, তারা আর সেই নারীগুলো সমান? এজন্যে পেশাচিহ্ন দু'জনেরই দরকার? এটা তো একটু ভুল ভাবলেন। দালাল, নারীপাচারকারী, অপহরণের সাথে জড়িতেরা রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী। এই অপরাধের শাস্তি হয় বা হয় না সেটা বিচার বিভাগের ব্যর্থতা, সাথে পুলিশ ও আইন-সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিও আসতে পারে। বাংলাদেশের যে বিপুল পরিমাণ নারীট্রাফিকিং তার ব্যাপারে অনেকেই কিছু জানে না। এই সচেতনতাটুকু সামাজিকভাবে বেড়ে ওঠা দরকার।

কে জানে, হয়তো যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি দিয়ে সেই সচেতনতা তৈরি করার পথ হলো! চোখ না খুললে দেখবেন কিভাবে? এটা হয়তো সেই চোখ খোলার প্রক্রিয়া।

"নাকি কেবল নারীত্বের অপমানকে আরো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া?"

>যৌনকর্মীদের 'নারীত্বের অপমান' বিষয়টা খোলাসা করেন। নারীত্বকে কে অপমান করছে? এই অপমানিত নারীর মনে অপমান ঢুকিয়ে দেয়া কি পুরুষতন্ত্রের কাজ নয়? এগুলো সমাজের সৃষ্টি করা ভ্রান্ত প্রথা। নারীকে সব ঢেকে ঢুকে চলতে হবে যাতে পুরুষ শক্ত না হয়, এই ধরনের বস্তাপঁচা আইডিয়ার সমমানের চিন্তা।

নারী যদি নিজে এই পেশায় যুক্ত হতে চান (ধরে নিচ্ছি), তাহলে সেখানে অপমানের কি কোন অবকাশ থাকে? সেখানে সমাজ তার মনে কিভাবে অপমানের পরিসর তৈরি করবে?

২৩. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৫
হামাহুদ রোমেল বলেছেন: দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেই পরিত্রাণ। পরিত্রাণ হবে.......এটাই আশাবাদী'র গল্প।
২৪. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ২:৪৮
হামাহুদ রোমেল বলেছেন: নাজনীনের কথার গুরুত্ব আছে।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩১

লেখক বলেছেন: কোনটা? পেশাজীবীরা? নাকি নির্বাচন কমিশন? নাকি ভোক্তা?

২৬. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৭:৪৯
কালীদাস বলেছেন: ডিটেইল আলোচনা তো আপনি করেই ফেলেছেন, আমি আর নতুন কি বলব! পৃথিবীর আদিম পেশাগুলোর একটা এটা, কিন্তু সেটা স্বীকার করতেই সমাজগুরুদের যত এলার্জি!
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: উঁহু, এখন কিন্তু উলটপুরাণ ঘটনা ঘটছে। 'সমাজগুরু'-দলের কেউ কেউ চাইছেন সমাজ বদলাতে, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেই উশখুশ!

খুউব খিয়াল কৈরা।

২৭. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৯:৪৭
নাজনীন১ বলেছেন: দালাল, নারীপাচারকারীদের আপনি অপরাধ বলছেন, কোন নারী নিজে স্বেচ্ছায় যৌনকর্মী হতে চাইলে সেটাকে অপরাধ মনে করেন কি?

ঠিক যেমন কেউ যদি পেশা হিসেবে চুরি বা ডাকাতিকে পছন্দ করে আপনি সেটাকে কিভাবে নিবেন?

কোন নারী যদি নিজে স্বেচ্ছায় যৌনতাকে পেশা হিসেবে নেয়, তাহলে তার কাছে সেটা নারীত্বের অপমান না হলেও যারা তার ভোক্তা হবে তাদের দ্বারা অন্যান্য নারীদের প্রতারিত বা অপমানিত হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি শুধু ভোক্তাকে দায়ী করতে পারেন না, যৌনকর্মীরও সামাজিক দায় থাকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবার জন্য। ঠিক যেমন টোবাকো কোম্পানীগুলোকে অনেক বেশি পার্সেন্টেজের ট্যাক্স দিতে হয়, আবার লিখতে হয় "সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর"। তেমনি তাদেরও হয়তো প্রতিষ্ঠানের সামনে ঝোলাতে হতে পারে, "অবাধ যৌনতা যৌনরোগ ছড়ায় "। আবার তারা নিজেদের যৌনকর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়ার মতো সৎসাহসী হবে তো?

কিন্তু যেসব নারীদের এ পেশায় যেতে বাধ্য করা হয়, তাদের মাঝে অনেকেই আবার সুযোগ পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তখন তাদের আইডিতে যদি যৌনকর্মী উল্লেখ থাকে, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাটা আরো বেশি বাধাগ্রস্ত হবে কি, হবে না?

আবার ঐসব "নিষিদ্ধপল্লী"তে হাইরারকিক্যাল কিছু কর্তা বা খালা থাকে, [যেমন গৃহকর্মী যখন বলা হয় তখন গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রী নামকও দুটো পরিচয় থাকে, গৃহকর্মীরা যাদের তত্ত্বাবধানে থাকে, গৃহকর্মীরা কোনভাবে নির্যাতিত হলে গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীকে অভিযুক্ত বা জিজ্ঞাসাবাদ বা শাস্তির আওতায় নেয়া যায়], যৌনকর্মীরা যাদের তত্ত্বাবধানে থাকে, এমনকি আয়ের ভাগ পায়, তাদের পেশাগত পরিচয় কি হবে? যৌনকর্তা বা যৌনকর্ত্রী? কোন যৌনকর্মী যদি নির্যাতিত হয়, তাহলে কাদেরকে অভিযুক্ত করা হবে, দায়দায়িত্ব কাদের? নাকি এখানে ফ্রিল্যান্সের ব্যাপার হবে?

যদিও আমি ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণেই এ পেশাকে ঘৃণা করি, এসব যৌনকর্মীদের সামাজিকভাবে সম্মানের সাথে পুনর্বাসনের পক্ষেই আমার অবস্থান, তথাপি সমাজে এটা চলে আসছে, যারা সমাজ গেল, ধর্ম গেল, মূল্যবোধ গেল বলে চিল্লায় তাদের কারো তেমন কোন মাথাব্যাথা বা উদ্যোগ দেখি নাই এদেরকে পুনর্বাসিত করতে, আজ ইসি চেয়ারম্যান যখন এদেরকে সামাজিক স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছেন বাস্তবতা মেনে নিয়ে বা এক ধরণের প্রতিকারের কথা ভেবে, তখন এ পেশার সাথে জড়িত বাকীদেরও এড়িয়ে যাবেন না, এটা আশা করছি।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: প্রথম প্রশ্নটা আমি আপনাকে করেছিলাম। তবে মোটামুটি বুঝতে পারছি আপনার উত্তরটা। আপনি এটাকে স্বেচ্ছায় চুরিচামারি পেশায় যোগদানের সমতুল্য মনে করছেন।

এই একই তুলনা আরো একজনের কাছে পেয়েছি। ভালো লাগে নাই। চোরের সাথে যৌনকর্মীর তুলনা করা মানে হলো ভোক্তাকে ভিকটিম হিসেবে পজিশন দেয়া। চোর যেভাবে কারো বাসায় চুরি করে, তেমনি যৌনকর্মীও ভোক্তার থেকে "কিছু একটা" চুরি করে (!)।

এই তুলনার বালখিল্যতা আরো প্রকাশিত হয় যখন ভোক্তার পাশাপাশি আপনি অপর নারীদের কথাও বলছেন। কোন পুরুষ যখন যৌনকর্মীর কাছে যায়, তখন অপর নারীটি নিশ্চয়ই খুব "অসহায়বোধ" করেন। তিনি আর কি-ইবা করতে পারেন, তিনি তো "অবলা", "গতিহীন", "নিরুপায়"। তার না আছে চাল, না আছে চুলো। তাকে ঐ পল্লীগামী পুরুষের সেবাদাসী হয়েই থাকতে হয় ঘরে।

এখন খেয়াল করুন, এখানেও কিন্তু ভোক্তার কার্যকলাপ দায়ী। তার যৌনতাড়নার বিকৃতি থেকে দুই দিকে দুইজন নারী (আপনার ভাষায়) অপমানিত হচ্ছেন, অথচ নিজেদের অপমানের জন্যে একে অপরকে দায়ী করছেন। অ্যাবসার্ড!

টোব্যাকো কম্পানীর তুলনাটিতেও সেই একই ব্যাপার। মনে হচ্ছে যৌনকর্মী এবং একটা সিগারেটের মাঝে কোন ফারাক নেই। মুখে ধরিয়ে লাইটার জ্বালালাম, আফটার সেভারাল পাফস, মোথাটা ছুঁড়ে ফেলে দিলাম। মুখে তামাকের গন্ধ ছাড়া আর কোন চিহ্নও রইলো না!

আপনার যৌনকর্মীদের ব্যাপারে পারসেপশনে বলিহারি যাই!

এবং এটাও ঠিক -- পারসেপশন ইজ অলয়েজ সাবজেকটিভ। মানুষে মানুষে আলাদা। কিন্তু ব্যক্তিগত পারসেপশনের দায় কেন অপরের বা সমাজের ঘাড়ে পড়বে? সমাজের দায় প্রতিব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত করা, সেটা করতে গিয়ে অন্য কারো 'উন্নাসিকতা' বা 'পারসেপশনের ঘাপলা'কে সে কেন পাত্তা দিবে?

যৌনকর্মীদেরকে নিয়েও অনেকে কাজ করছেন। যাদের স্বীকৃতিই এতোদিন ছিলো না, তাদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নাম আপনি এজন্যে শুনেন নি। আশা, এখন হয়তো সেটা শুনতে পারবেন। ধীরে ধীরে এই দাবিগুলো সোচ্চারও হবে।

আশা, একদিন কেউ যৌনকর্মীদের চোর বা সিগারেট ভাববে না!

২৮. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩৯
ধীবর বলেছেন: চমৎকার লেখা। এর সাথে কিছু কথা আসতেই পারে। শুধু যৌন কর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতির মাধ্যমেই কয়েকটি ইস্যুর সমাধান ঘটবে না। যেমন কোন নারীই স্বেচ্ছায় এ পেশায় আসতে চাইবেন না। (ব্যাতিক্রম থাকতে পারে।) পত্রিকা মারফত যে সব খবর আসে, তার ভিত্তিতে বলা যায় যে নীচের কারণগুলিই একজন নারীকে এই ঘৃণীত পেশায় আসতে বাধ্য করে।

১। চরম অভাব অনটনে অনোন্যপায় হয়ে।
২। প্রতারক প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে।
৩। চাকরির লোভ দেখিয়ে জোরপুর্বক পতিতালয়ে বিক্রি হয়ে।
৪। অপহরনের পর ধর্ষনের শিকার হয়ে সামাজিক অত্যাচারে আর কোন উপায় না দেখে।

অর্থাৎ ইসি এই পেশাকে স্বীকৃতি দান করলেও, পেশাটি মহিমান্বিত নয়। আগেই বলেছি স্বেচ্ছায় তো নয়ই, বাধ্য হয়েই একজন নারী পতিতাবৃত্তিকে বেছে নিতে হয়। আমার ঘনিষ্ঠ কিছু বন্ধুর সেখানে যাতায়তের অভ্যাস আছে। ওদের কাছ থেকে যা শুনেছি, তাতে নারীত্বের অবমাননা বলতে যা বোঝায়, তার ষোলকলাই পুর্ণ হয় সেখানে।

একটা কথা মনে রাখা জরুরি যে, যতোই আমরা নিজেরা নিজেদের অশিক্ষিত মুর্খ বলে সমালোচনা করি না কেন, পতিতাবৃত্তির প্রতি আমাদের মনোভাবের সাথে কিন্ত প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যের সিংহভাগ মানুষের মনোভাবের তেমন কোন পার্থক্য নেই। অর্থাৎ পেশাটি যে সর্বজন অগ্রাহ্য তাতে সন্দেহ নেই।

তাই ইসির এহেন কর্মটি আমার কাছে "কাজ নেই তো খই ভাজার" মত মতই মনে হচ্ছে। এমন তো না যে ইসি বললো আর সুরসুর করে পতিতাবৃত্তির প্রতি মানুষের দরদ উৎলে পড়া শুরু করলো।

শুনে ভালো লাগলো যে আপনি এমন সংগঠনের সাথে জড়িত যারা এদের কথা শুনছেন। এর প্রয়োজন আছে। আরো ভালো হতো, যাতে পতিতাবৃত্তির মত ঘৃণিত পেশায় জড়িত হবার কারণগুলির দ্বার যেন বন্ধ করা যায় সে চেস্টা করা। তাতে অন্তত নুন্যতম সামাজিক মর্যাদা নিয়ে কিছু নারীকে তো বেচে যাবে।

আর ধর্মান্ধদের মত ইসলামকে খোচা দেয়া লাইনটা আপনার লেখার মাধুর্যকে নস্ট করেছে। সেটুকু ভালো লাগেনি, সেটা নিঃসংকোচে বললাম। তবে পোস্টে +।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০১

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটাও চমৎকার। নিঃকঃ স্বীকৃতি দিয়ে এই পেশাজীবি মানুষের পুনর্বাসন এবং অধিকারের পথ প্রশস্ত করেছে - এটা বুঝাতে আপনার কমেন্টটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকলো।

যে কারণগুলো বলেছেন, মোটামুটি সেগুলোই মূল কারণ। বিচ্ছিন্ন আরো দুয়েকটা কারণ আছে হয়তো, তবে আশেপাশের কিছু জঘন্য কীটের চাপে/প্রতারণায় নারীকে এই পেশায় আসতে হয়। এখন, তাদের যে পুনর্বাসন বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার প্রক্রিয়া, সেখানে আরো আরো পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

একটু ভুল হলো, আমি নিজে সরাসরি কোন সংগঠনের সাথে জড়িত নই। তবে আমার পরিচিত কিছু মানুষ জড়িত। তারা নিরলস কাজও করছেন এদের নিয়ে। আমরা মধ্যবিত্তেরা তো একটা বাব্‌লের ভেতর বাস করি। সব তুলোমাখা অনুভূতি নিয়ে। এমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন যাপন দেখলে সেই বাব্‌লটা ঠাশ করে ফেটে যায়।

"আর ধর্মান্ধদের মত ইসলামকে খোচা দেয়া লাইনটা আপনার লেখার মাধুর্যকে নস্ট করেছে। সেটুকু ভালো লাগেনি, সেটা নিঃসংকোচে বললাম।"
> নিঃসংকোচে বললেন দেখে ভালো লাগলো। খোচা বলেন বা খেদোক্তি বলেন, এটা আসলে আমার প্রতিক্রিয়া। মূল ক্রিয়াটা আশপাশ থেকে আমার উপরে এসেছে বলেই এভাবে বলেছি।

ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে 'কাফের' উপাধিও পাচ্ছি, তাই এটুকু ক্ষোভ মনে হয় জাস্টিফাইড।

২৯. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৫৮
আকাশের তারাগুলি বলেছেন: যৌনকর্মির স্বীকৃতি হোক, আপত্তি নাই।
কিন্তু আপত্তি আছে যৌনসেবা গ্রহনকারীদের স্বীকৃতি নাহলে।

পতিতালয়ে গিয়ে যেসকল ভোক্তা পাওয়া যাবে তাদেরকে ধরে নিয়ে তাদের চিহ্নিত করা উচিত। এবং তাদের আইডি কার্ডে সম্মান সুচক ভদ্র ভাষায় যৌনসেবা গ্রহনকারি খেতাব লাগিয়ে দেয়া হোক।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০৩

লেখক বলেছেন: হা হা হা! এক্কেবারে আমার মনের কথাটা বলছেন। এই কমেন্টে উত্তম জাঝা দিলাম!

৩০. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:০৫
ডিস্কো ঘোড়া বলেছেন: ২৯ নম্বরে ভোট দিলাম।
৩১. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১১:৩৮
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: একটু অন্যভাবে বলি, পেটে ক্ষুধা অথবা নিজের খুব মৌলিক চাহিদা মেটাবার জন্য একজন মানুষ (এখানে নারী কথাটাকে আরো ব্যাপক করলে হয়তো সাম্য হবে) তার নিজের শরীরটাকে অন্য মানুষের যৌন ক্ষুধা মেটানোর পন্য বানাবে, এটা ভাবতে আমার কাছে নিতান্ত অমানবিক মনে হয়।

রাষ্ট্র হলো অভিভাবকের মতো। একজন অভিভাবকের কাছে একজন সন্তান কি আশা করে, ঝড় এলে আগলে রাখবে, ক্ষুধা লাগলে তার অন্নের সংস্হান করবে এবং তাকে নিরাপত্তা দেবে। প্রয়োজনে অভিভাবক তাকে শেখাবে কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, মন্দকাজে বাধা দিবে বৈকি!

পতিতাবৃত্তি মন্দ কাজ, এর ভোক্তারা হলো কিছু পার্ভার্টেড। যাদের নিজের মনের বাড়ন্তকে আচ্ছন্ন রেখে টাকা দিয়ে অন্যের শরীরটাকে পন্য বানাচ্ছে। একসময় এই বাংলায় ঘেটু পালনের প্রচলন ছিলো, থ্যান্ক গড এটা এখন নেই!

স্ক্যান্ডিনিভিয়ান দেশগুলো সেখানে বেশ সৎ সাহস দেখিয়ে পতিতাবৃত্তি নিষিদ্ধ করেছে। তবে নিষিদ্ধ করবার ধরনটা অসাধারন, রাস্তায় যদি কাউকে পাওয়া যায় টাকা দিয়ে সেক্স কিনছে তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এখানে একজন পতিত মানুষকে নানাভাবে পুনর্বাসনের ব্যাবস্হা করা আছে এবং সবগুলো ওদের নীতি আদর্শের সাথে সামন্জ্ঞস্য রেখে। যদিও এখানে সবকিছুতে নাস্তিকতার চল এসেছে তবু বলবো ব্যাপারটা প্রশংসার দাবীদার। আমাদের সরকার দ্বারা কোনো ভালো কিছু সম্ভব হয়েছে এটা ভাবতেই অলীক লাগে। তবুও বেসরকারী উদ্যোগে যদি এসব মেয়েদের পতীতাবৃত্তী থেকে সরিয়ে অন্যকোনো কাজে সরিয়ে নেয়া যেতো তাহলে কি ভালো হতো না?

যদিও এটা ইসির ভাবার বিষয় নয়। বাংলাদেশের গুটিকয়েক স্বতন্ত্র বা অটোনোমাস ক্ষমতা ভোগ কারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসি এখনো টিকে আছে। তারা সৎ সাহস দেখিয়েছে ঠিক আছে কিন্তু তাতে মনে হয় আমাদের বাঙ্গালী মননের সাথে আধুনিক সমাজের কালো রূপের সামন্জ্ঞস্যটাই ফুটে উঠেছে। আমরা যেখানে এদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যাবস্হা করতে পারি সেটা না করে এটাকে স্বীকৃতি দিয়ে এর উপর বেনিফিসিয়ারীদের আরও আস্পর্ধা বাড়ালাম আর কি!

যাই হোউক, এসব রাস্ট্রীয় বা সামাজিক যুক্তি তর্কের সাথে আমার নিজের মনের কথা গুলো কখনোই খাটেনি!
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৪৮

লেখক বলেছেন: বাঙালি সমাজে, আর দশটা সমাজের মতোই সমান পরিমাণ কালো এবং সাদা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি দিয়ে সেই কালোটাকে সামনে এনেছে, এটা ভালো উদ্যোগ।

কারণ, কোন সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপই হচ্ছে সমস্যাটাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা। বাংলাদেশে এখনও হাজারটা সমস্যা রয়েছে যেগুলোকে চিহ্নিতই করা হচ্ছে না। ক্রমাগত উপেক্ষিত হতে হতে আমরাও সেই সমস্যার সাথে মানিয়ে নিয়েছি।

যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ব্যাপারে আলোচনার একটা পরিসর তৈরি হলো। অবশ্যই সেই আলোচনা তাদের 'রেট' নিয়ে নয়, তাদের পুনর্বাসন নিয়ে। আপনিও যেমন ভালো ভালো কিছু পয়েন্ট বলেছেন, যদি পাশ্চাত্যেও এভাবে পুনর্বাসন করা হয়ে থাকে, আমরা কেন সেটা এডপ্ট করবো না?

তবে বেনিফিশিয়ারীর বিষয়টিতে একমত নই। যৌনকর্মীদের সামাজিক স্বীকৃতি নেই, কারণ যৌনতা বাংলাদেশে একটা ট্যাবুর বিষয়। এখনও দাম্পত্যের মাঝে যৌনতাও খোলামেলা আলোচনা হয় না, সেখানে নিষিদ্ধপল্লীর কথা তো একেবারেই উহ্য থাকে।

বেনিফিশিয়ারি বা ভোক্তাদের বরং একটু অসুবিধাই হলো। এখন এই পেশাজীবী শ্রেণীটাকে স্বীকার করে নিয়ে মতান্তরে পতিতাগমন করা পুরুষকেও চিহ্নিত করা হলো। ২৯ নং কমেন্টে 'আকাশের তারাগুলি' চমৎকার একটা প্রস্তাবনাও দিয়েছেন!

৩২. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:৫৫
মাহফুজশান্ত বলেছেন: সেই সব হতভাগ্য নারীদের (তথাকথিত যৌনকর্মী বা পতিতা) মধ্যে যারা বাধ্য হয়ে এরূপ অবমাননাকর ও অসুস্থ কর্মে লিপ্ত হয়েছে সেটাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে আরও অসুস্থ বাননোর পক্ষপাতি আমি নই। বরং আসুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই হতভাগ্য মা, বোনদেরকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার সকল প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার সাথে সাথে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করি।

শধুমাত্র যৌনকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করা কোন মানুষের জন্য সম্মানের হতে পারে না। সুতরাং স্বেচ্ছায় যদি কোন নারী এ ধরনের অবমাননাকর কর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নেয় তবে তাকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ নয় বলেই আমি মনে করি। মাদসেবিদের মত তাদের জন্যও কাউন্সিলিং ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে আমি দৃঢ় মত প্রকাশ করছি।
২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: মাহফুজ শান্ত, আপনার উল্লেখিত "পতিতাবৃত্তি" পৃথিবীর আদিমতম পেশা। এখন পর্যন্ত এই ইস্যু নিয়ে আপনি কি কি করেছেন? প্রমাণসহ জানান। ফালতু বড়ো বড়ো বুলি না আওড়ে যেটা বুঝেন না সেটা নিয়ে কথা বলার কোন মানে নাই।

আপনি যৌনকর্ম নিয়ে যে পরিমাণ ট্যাবু আর সংকোচে ভুগতেছেন, তাতে আপনাকেই আমার মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে।

অথবা এর বেশি আর কি-ইবা আশা করবো! আপনার পোস্টগুলো দেখেছি। শূক্রাণুকে আপনি যেভাবে ব্যাখ্যা করেন, যেন সেটা আজগুবি কোন এলিয়েন বস্তু! হা হা হা!

৩৩. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১০:১০
নাজনীন১ বলেছেন: আমার দুটো কমেন্টে আপনি ভোক্তাদের দায়ী করার কোন লাইনই দেখতে পেলেন না? এবার তো আমি বলিহারি যাই।

আকাশের তারাগুলির প্রস্তাবের মতো ভোক্তাদের আইডি বা ইনফরমেশনের কথা আমি আমার প্রথম কমেন্টেই বলেছি, কেন জানি তা আপনার নজর এড়িয়ে গেছে। আজব!



আমি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যারা পতিতা হতে বাধ্য হয়, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই সহানুভূতিশীল এবং এর জন্যই যৌনকর্তা বা দালালদের চিহ্নিত করার কথা বলেছি। কিন্তু নারী স্বাধীনতা বা আধুনিকতা বা প্রগতিশীলতার নাম করে স্বেচ্ছায় কেউ যৌনকর্মী হবে, তাদেরকে আমি অপরাধীই বলবো, এরা সমাজ ধ্বংসকারী অপরাধী।




আর কেন মনে হলো যৌনকর্মীদের নিয়ে যেসব সংস্থা কাজ করে তাদের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিভিন্ন সময়েই তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে, পুনর্বাসন নিয়ে কাজ হয়েছে, হচ্ছে এটা আমার জানাই আছে। এখন আবার বাচ্চাদের মতো কয়েকটি সংস্থার নাম বলেন তো টাইপ প্রশ্ন করবেন না আশা করি। তবে পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে তাদের দাবীকে আমি কখনোই সমর্থন করি না।আমার দ্বিতীয় কমেন্টের শেষ প্যারা থেকে যদি আপনার ওরকম ধারণা হয়ে থাকে, তাহলে বলবো আপনি বোঝেননি আমার কথা। ওখানে যারা যৌনকর্মীদের অস্পৃশ্য মনে করে মানে ধর্মীয় ব্যক্তিদের কথা বলেছি।
২১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৮:২৩

লেখক বলেছেন: ১ম কমেন্টে দায়ী করেন নি, প্রশ্ন করেছেনঃ
"যৌনকর্মীদের যেমন আইডি থাকবে, ভোক্তাদের আইডি বা ইনফরমেশন থাকবে কিনা?"

২য় কমেন্টে ভোক্তাদের নিয়ে যা বলেছেনঃ
"কোন নারী যদি নিজে স্বেচ্ছায় যৌনতাকে পেশা হিসেবে নেয়, তাহলে তার কাছে সেটা নারীত্বের অপমান না হলেও যারা তার ভোক্তা হবে তাদের দ্বারা অন্যান্য নারীদের প্রতারিত বা অপমানিত হবার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। এক্ষেত্রে আপনি শুধু ভোক্তাকে দায়ী করতে পারেন না, যৌনকর্মীরও সামাজিক দায় থাকে সুযোগ সৃষ্টি করে দেবার জন্য। "

>উভয় কমেন্টেই আপনার অ্যাপ্রোচটা এপোলোজেটিক, যৌনকর্মীদের কাতারে ভোক্তাদেরকে নিয়ে আসার, যেহেতু 'কর্ম'টা দুজনে মিলেই করছে। যেন আমি পোস্টে ভোক্তাদের বিপরীতে অনেক কথা বলে ফেলেছি, এখন একটু ব্যালান্স আউট করতে হবে!

কিন্তু এখানে দুজনের মধ্যের পার্থক্যটা বুঝতে চেষ্টা করুন। একজনকে জোর করে এই পেশায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আরেকজন নিজের ফ্রি-উইলে (অনেক সময় ঘরে বউ থাকার পরেও) সেখানে যোগ দিচ্ছে। কোন স্ট্যান্ডার্ড দিয়েই এদেরকে সমান "অপরাধী", সমান "দায়ী" করা যায় না!

আপনি এ'রকম সংগঠনের ব্যাপারে জানেন না মনে হয়েছিলো দুই পক্ষকে এক কাতারে ফেলার প্রবণতা দেখে। আর সংগঠনের খবর জেনেও যদি তাদের জীবিকাকে পেশার সম্মান দিতে না চান, তবে সেটা একান্তই আপনার দৃষ্টিভঙ্গি।

ভালো থাকুন।

৩৪. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:১৬
শয়তান বলেছেন: গ্লাস = সমাজ । পানি = যৌনকর্মীরা । বাতাস = ভোক্তা বা খদ্দের রা ( এই উহ্য অংশটারই আঁতে ঘা লাগছে বেশী ) B-)
২১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৮:৩৩

লেখক বলেছেন: কি যে হইলো, ঘা দিয়ে মনে হয় নেট-দেবতাকে ক্ষিপ্ত করে তুললাম। একটা কমেন্ট পোস্ট করতেই ২০ মিনিট লাগতেছে! /:)

৩৫. ২০ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:২২
শয়তান বলেছেন:

নাজনীন এর জন্য একটা হিউম্যান ট্রাফিকের উপর সিরিজঃ

Click This Link

Click This Link

Click This Link

Click This Link

Click This Link

৩৬. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:৪৪
মাহফুজশান্ত বলেছেন: মিষ্টি কথার মারপ্যাচে বিষ ঢেলে দেয়ায় যে আপনি খুবই পটু তা আপনার লেখায় প্রমাণতি হয়েছে। এই বিষ পান ও হজম করে যারা + দিয়েছেন তারা “দুষ্ট লোকের মিষ্টি কথায় কখনও ভুলিও না” এই প্রবাদ বাক্যটি খনিকের জন্য হলেও হয়ত ভুলে গেছেন। কিন্তু আমার পে এই বিষ গলধকরন করা তো দূরে থাক, বমন করতেও ঘৃনা বোধ করি। আপনার লেখার স্টাইলটি বাহবা পাবার যোগ্য বটে। আপনি ধর্মনিরপেতার ঢোল পেটালেও মানসিকতায় ধর্মনিরপেতা নয়, বরং ধর্মহীনতার হাতছানি পরিষ্কারভাবি ফুটে উঠেছে। কারন কোন ধর্মেই যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আপনার ফাঁকা-বুলিতে “মানবতার উপর ধর্ম নাই” ভাবটা প্রকাশ করার চেষ্টা করলেও শেষতক অমানববিক দিকটিই কিন্তু ধরা পড়েছে।
আপনি বলছেনে:- সমাজে পুরুষ নিজের সামাজিক প্রতিপত্তি আর পরিচয়ের জন্যে রেখেছে স্ত্রী, আর ভোগ ও লালসার জন্যে রেখেছে যৌনকর্মী।
তাই যদি হয় তাহলে আপনি নিজেও একজন পুরুষ হয়ে তো একই কথাই ভাবছেন। পুরুষের ও যৌন ব্যাবসায়ীদের লালসার স্বীকার হতভাগ্য নিরুপায় নারীদের এই আঁধার জগত থেকে মুক্তির কথা না ভেবে বরং সেই আঁধারেই কবর দেয়ার বা চিতা জ্বালানোর অমানবিক পরিকল্পণাকে আমি ধিক্কার জানাই। যারা এ পেশাকে স্বীকৃতি দেয়ায় ধেই ধেই করে নাচছেন তারা খুব মুক্তমনা ভাব দেখালেও আসলে তাদের বক্রমনের পরিচয়টা অনেক চেষ্টা করেও তারা ঢাকতে পারেননি। আদিম কাল থেকে অনেক অপকর্মই তো অনেক পুরুষ, নারীরা চালিয়ে যাচ্ছে। তাহলে তো মানবতার ধ্বজাধারীরা সব অপকর্মকেই ধীরে ধীরে স্বীকৃতি দেবার কথা বলতে পারে।
আপনি বলছেনে:- ধর্মপ্রবণ এবং মোটামুটি অশিক্ষিত এই জনপদে গিজ গিজ করছে মাথা, সেই মাথায় চুল গজায় আবার ঝরে পড়ে টাক বিস্তৃত হয় কিন্তু খুলির ভেতরে ধূসর-বস্তুতে খুব বেশি আলোড়ন ওঠে না। যে খুলিগুলোতে কিছুটা রসদ থাকে, সেগুলো ড্রেন দিয়ে বা প্লেনে চড়ে পাচার হয়ে যায় ফর্সা-চামড়ার দেশে।
আপনি তো এ জনপদেরই বাসিন্দা। নাকি অন্য কোন ভিন দেশের? যদি এদেশেরই বাসিন্দা হয়ে থাকেন তবে আপনার বর্ণীত দুটি দলের প্রথমটিতে, নাকি ড্রেন দিয়ে বা প্লেন দিয়ে খুলির রসদ পাচারের দলে? এদেশে নারী পাচারেরও একটি দল আছে কিন্তু। মনে হয় ওদের ব্যবসা এখন বেশ মন্দা যাচ্ছে। তাই কলম-পেন্সিল হাতে নেমে পড়েছে। ভাবটা এমনই যেন এই সুযোগে ইনিয়ে বিনিয়ে তাদের পেশাটার স্বীকৃতিও আদায় করে ছাড়বে।

সরকারের কাছে জোর আবেদন জানাই- "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই অপমানকর পরিস্থিতি থেকে নারীদের উদ্ধার করে তাদের পুণর্বাসন করার পাশাপাশি পতিতা বৃত্তির সাথে জড়িতদের (নারী ও পুরুষ উভয়ের) বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির বিধান করা হোক।"
২১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৮:৫১

লেখক বলেছেন: হায়! খালি একটা প্রশ্ন করেছিলামঃ "এখন পর্যন্ত এই ইস্যু নিয়ে আপনি কি কি করেছেন?"

তার উত্তর না দিয়ে আমারে নিয়া পড়লেন কেন ভাইটু?

বুঝলাম, কিছু করেন নাই। বুঝলাম, আমার ব্যাপারে ধারণা আপনার একেবারেই নাই। এটাও বুঝলাম যে অনেকেই আপনার পদ্ধতিটা বুঝতে পারে। যেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলাতে আমাকে ধর্মহীন বানাতে চেষ্টা করলেন, তাতে এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাই।

ধর্মগুলোর হয়ে সাফাই গাইছেন দেখেও চমৎকার লাগলো। মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই এই পেশা আছে, আবার শুরু থেকেই ধর্ম আছে, এই দুইটা যদি এতোটাই সাপে-নেউলে হবে, তাহলে যৌন ব্যবসা উচ্ছেদ হলো না কেন? মুখে মুখে 'মানি না' বলে দিলেই কি সমাজ থেকে (পড়ুন পুরুষের মন থেকে) যৌনব্যবসা নির্মূল হবে?

আমি দেখেছি, যারা বেশি তড়পায়, তাদের তড়পানোর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। আপনার কারণটি কি?

"এদেশে নারী পাচারেরও একটি দল আছে কিন্তু। মনে হয় ওদের ব্যবসা এখন বেশ মন্দা যাচ্ছে। তাই কলম-পেন্সিল হাতে নেমে পড়েছে।"

হাস্তে হাস্তে শ্যাষ। আপনার কল্পনাশক্তির তুলনা নাই! জ্বে, ঠিক ধর্ছেন। আমি নারীপাচারের সাথে জড়িত, ব্যবসা ভালু যাচ্চে না বইলে এরাম কইরে লিখতেছি। আপ্নের মাতা ভর্তি বুদ্দি গিজগিজ করতেয়াছে। এত বুদ্দি নিয়া ঘুমান কেম্বায়? :D :D

"এই সুযোগে ইনিয়ে বিনিয়ে তাদের পেশাটার স্বীকৃতিও আদায় করে ছাড়বে।"

Hello, wake up! This decision has already been made. This profession has already been accepted by the laws of the People's Republic of Bangladesh. If you are not okay with that, go to some place else. /:)

৩৭. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ৭:১১
নাজনীন১ বলেছেন: ধন্যবাদ শয়তান লিঙ্কগুলোর জন্য। ঐ লেখাগুলো আমি আরো আগেই কিভাবে যেন পড়েছিলাম। বোধ হয় কারো প্রিয় লিস্টে ছিল। মাঝে মাঝে অবসর সময়ে অন্যের প্রিয় লিস্ট থেকে পুরোনো ব্লগ পড়ার অভ্যাস (সময় নষ্ট করার অভ্যাস) আছে। :)

আমাদের দেশে অতি জানা পতিতাদের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে আরো দুটি পোস্ট পড়েছিলাম,

Click This Link

Click This Link

৩৮. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১২:৩২
মাহফুজশান্ত বলেছেন: আমার ব্যাপারেও ধারণা আপনার একেবারেই নাই।

আমি কি কি করেছি তার ছাফাই গাওয়া আমার স্বভাব নয়।
শুধু শুনে রাখুন:- আপনার মত শুধু স্বীকৃতি দেয়ার আজগুবি মতাদর্শ নিয়ে আমি ক্ষান্ত নেই, আমি যেভাবে বলেছি স্বল্প পরিসরে হলেও ঠিক সেভাবেই কাজ করেছি। যাদের জন্য করেছি তাদের স্বার্থেই নিজের ঢোল নিজে না পিটিয়ে গোপন রাখাটাই সমিচিন মনে করি। তাও আপনি বার বার শুনতে চেয়েছেন বলেই এটুকু বললাম।
২১ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:১৪

লেখক বলেছেন: আইচ্ছা, লেখা বোল্ড করলেই কি খুব জোরালো হয়ে যায়? নাকি সেটায় খুব 'তর্কে জিতে গেছি' অবস্থান তৈরি হয় নিজের মনে?

যেইডাই হউক, আপনি সেইডা ধইরা বইসা থাকেন।

একটা যৌক্তিক আলোচনাতে আপনার ব্যক্তিগত ভালো লাগা, মন্দ লাগা, ধর্মীয় অনুভূতি (!) বাইরে রেখে আসতে না পারলে আসার দরকার নাই।

খুদাপেজ।

৩৯. ২১ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ২:৪৩
মাহফুজশান্ত বলেছেন: জেতা-হারা বড় কথা নয়। আপনি কি ভাবছেন, কেমন ভাবছেন এবং কেনইবা তা ভাবছেন- তার মর্ম ও সুদূর প্রসারী ফলাফল অনুধাবন করতে পারলেন কিনা সেটাই বড় কথা।
আবার দেখা হবে
২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৪৭

লেখক বলেছেন: না দেখা হইলেই খুশি হই। :)

আপনে যে ধরনের লেখা ব্লগে দেন, বা যে ধরনের মন মানসিকতা লালনপালন করেন, সেগুলো থেকে আমি দূরে থাকার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে হয়তো এরকম টলারেন্স না'ও দেখাতে পারি।

৪০. ২২ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৬
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন: আপাতত প্লাস ও প্রিয়তে। সময় করে আলাপে আসছি।
২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৮:৫৮

লেখক বলেছেন: ওকে। আপনার কথাগুলো শুনতে ইচ্ছুক।

৪১. ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:১০
আমি উঠে এসেছি সৎকারবিহীন বলেছেন: সামুতে এখন বহুক্ষণ পরপর দুয়েকটা ভালো পোষ্ট পাওয়া যায়, অনিয়মিত থাকলে তো টেরই পাওয়া যায় না। থ্যাঙ্কস আন্দালীব ভাই...এইটা শোকেসে রাখতে হচ্ছে।

কমেন্টগুলো পড়ে গোটা কয়েক ট্যিপিক্যাল সংকীর্ণমনা গোঁড়া বাঙালী চরিত্র খুঁজে পাইলাম, ইন্টারেস্টিং! অবশ্য নিজে কতখানি আলাদা তা জানি না :(

পরে আবার আসমু নে...
২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০৩

লেখক বলেছেন: শোকেসে রাখছো শুনে প্রীত হইলাম।

সামু'তে যে পরিমাণ গারবেজ আসে, রোজ, সেগুলো পড়ার, এমনকি দেখার ধৈর্য্যও কমে আসছে ইদানিং। এই সিদ্ধান্তটাকে নিয়েও যে পরিমাণ নোংরা কথাবার্তা দেখলাম (নিচে ডিস্কো ঘোড়ার কমেন্ট দ্রষ্টব্য) সেগুলো না দেখাই ভালো ছিলো। সেধে সেধে কে'ই বা মেজাজ খারাপ করতে চায়?

আর গোঁড়ামি সবার মাঝেই অল্পবিস্তর থাকে, এটা মানুষের চরিত্রের অংশ। সেটাকে চিহ্নিত করতে পারা'টা সচেতনতা, দূর করতে পারা'টা সক্ষমতা। আর মেনে না নিয়ে ঘাড় ফুলিয়ে তর্ক করা'টা নির্বুদ্ধিতা। ;)

২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার পোস্টে বলেছি, ডিস্কো। বেশি বলতে গেলে নিজের মেজাজ আরো খারাপ হবে। তাই অল্প কথায় চুপ গেলাম ওখানে।

৪৩. ২৩ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: এই পোস্ট আরো আগে দেখিনাই কেন? আলোচনা খুবই ভালো লেগেছে; তবে আপনি ঠিক যেখানে শেষ করেছেন আমি ঠিক সেখান থেকে শুরু করতে চাই।

* সন্দেহ নেই এটি আদিম পেশা; স্বীকৃতিও ন্যায্য; তা সমাজ যতই ভ্রু কুঁচকাক না কেন? কিন্তু কথা হলো এরপর কি করা উচিত?

* অনেকেই এমনকি বিশিষ্ট ব্লগার ফাহমিদুল হকও এরকম মতামত পোষণ করেন যে সমাজের প্রয়োজনে(কিছু বিকৃতকাম ভোক্তাদের জন্য মূলত) একটা এক্সস্ট পাইপ হিসেবে এই পেশাজীবিদের দরকার আছে। নইলে অনাচার, অবিচার ব্লা ব্লা ব্লা। তাহলে সিস্টেমেটিক উপায়ে এ পেশাকে নিরুৎসাহিত করে ও ছাড়তে আগ্রহীদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের ব্যাপারে সরকারী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সদাশয় আদালতের কোনো বিধান দেওয়া উচিত কি?

* হিউম্যান ট্রাফিকিং এ আমাদের নারীরা বিশ্বের শীর্ষস্থানে, ৯০%ই ব্যবহৃত হয় পতিতাবৃত্তিতে। এমনকি দেশের ভেতরেও দালালের খপ্পরে পড়ে এতে ঢোকার সংখ্যা অনেক বেশি। এব্যাপারে কার্যকরী কি ভূমিকা নেওয়া যায়? বা নেওয়া হয়েছে?

* প্রকারান্তরে এই স্বীকৃতি কি আমাদের সমাজকে পতিতাগমনের ট্যাবুকে ভেঙে দিতে উৎসাহিত করছে নাকি উল্টোটা? সবচেয়ে বড় কথা ভুল সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের মত আত্মঘাতি ব্যাপার কি হওয়ার সম্ভাবনা আছে এখানে? ভবিষৎতে আরেকটি টানবাজার বনাম শামিম ফলাফল শহরে বিপন্ন যৌনকর্মিদের ঢল! তখন সদাশয় আদালত কি করবেন?

* সবশেষে আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত- আমি পতিতাবৃত্তির বিরোধী। এটি অমানবিক। যৌনমিলন পারস্পরিক সম্মতিতে সঠক বয়সীদের মাঝে হওয়া একান্ত ব্যক্তিগত ও গ্রহনীয় আমার কাছে। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে একটা লাভজনক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান(যার কাঠামো জুড়ে আছে অসংখ্য কোটিপতি ব্যবসায়ী-দালাল-পুলিশ-প্রলোভনে ফেলা মিথ্যা প্রেমিক আর সবার নিচে ওই নারী) যার সবচেয়ে কঠোর শিকার নারীরা, তাকে আমি সমর্থণ করিনা। বিকৃতকামদের জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে; এটা কোন সমাধান নয়।(রেডিকাল ফেমিনিস্টরা হয়তো তেড়ে আসতে পারেন যে এটাও নারীর অধিকার! আমি অন্ততঃ এই একটি ক্ষেত্রে মেলশভেনিস্ট থাকতে চাই।)

ধন্যবাদ।
২৩ শে আগস্ট, ২০১০ রাত ৯:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটা খুবই জরুরি ছিলো এই পোস্টের জন্যে। আসলে ভাবনার সম্প্রসারণ ঘটা দরকার, কথারও। সেই একই গর্তে ঘুরপাক খেতে খেতেই আমাদের সময় চলে যায়। আমি যে টুকু বলেছি, আদতে তার পরেরটুকু এই পোস্টে আনা দুষ্কর ছিলো আমার পক্ষে।

* আমি ফাহমিদুল হকের সাথে একমত নই। সমাজে 'অনাচার' বলে যা চিহ্নিত আচরণ, সেটার চাইতে যৌনকর্মীদের পেশা মোটেই ভালো নয়। এখানে নারী নির্যাতন ঘটে, নারীর মানবাধিকারের লঙ্ঘন ঘটে, এরকম আরো হাজারটা অপরাধ সংঘটিত হয়। কেবল 'সামাজিক অনাচার' দূর করতে এরকম পল্লীর দরকার আছে বলাটা সেক্ষেত্রে খুবই অন্যায়।

খুব বেশি মাত্রায় যে দিকে নজর দেয়া জরুরি, সেটা হলো যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন। একই সাথে দরকার প্রখর মনিটরিং, এই কার্যক্ষেত্র নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা করেছে বা করছে এমন সংস্থার হাতে সরকার এই দায়িত্ব দিতে পারে।

প্রচুর কিশোরী এবং শিশু এই পেশার সাথে জড়িত। তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি আরো বেশি স্পর্শকাতর। খুব দ্রুত তাদেরকে পুনর্বাসনের পথটা খুলে যেতো, যদি তাদেরকে নিঃসন্তান দম্পতিদের দত্তক হিসেবে দেয়া যেতো। তবে মানুষের মন-মানসিকতা বদলানো দরকার, সঠিক জ্ঞান না থাকলে আর দশটা 'স্বাভাবিক' শিশুর মাঝে এদের বেড়ে ওঠার জন্যে গাইডেন্স দেয়া রীতিমত অসম্ভব!

* এরকম আশঙ্কাও আছে, যেটা আপনি বলেছেন, যে স্বীকৃতি কি আরো আরো পল্লী গড়ে ওঠার ছায়া হয়ে উঠলো কি না। সেক্ষেত্রে মনে হয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তৎপর হতে হবে। নতুন পল্লী তৈরি হতে গেলে মিডিয়া'গুলোতে এই বিষয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট হতে পারে কিন্তু। ঠেকানোর জন্যে সবচেয়ে ভালো উপায় দালালদের শাস্তি কার্যকর করা, বা স্পেশাল ইউনিট বসানো যাতে এই ট্রাফিকিংয়ের মাথাগুলোকে ধরতে পারে।

*এই সবই সেই 'বুকিশ' কথাবার্তা। প্রয়োগ করা না হলে যায় কানাকড়ি মূল্য নাই। তবু দেখলে ভালো লাগে, যে কেউ কেউ ব্যক্তি উদ্যোগেই এগিয়ে আসছেন। এই পেশাটা খুব মোহনীয় বা আকর্ষণীয় পেশা নয়। প্রতিদিন সেখানে মানবতার ওপর নির্যাতন হচ্ছে। সুতরাং যতো তাড়াতাড়ি এই বিষয়গুলো ফোকাসে আসবে, পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে, সমাজের সকলে এগিয়ে এসে সেটাকে সফল করবে, ততো তাড়াতাড়ি যৌনকর্মীদের সঠিক 'অধিকার' অর্জিত হবে।

৪৪. ২৯ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৪
আলী প্রাণ বলেছেন:
....গোনিকার যোনী জুড়ে জগতের স্বর্গীয় সুধা
লুটেপুটে পৃথিবী মিটাক তার জন্মের ক্ষুধা...

স্বীকৃতির দরকার কি?!
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৭

লেখক বলেছেন: কথাটা কি উপহাস করে বললেন নাকি সত্যিই আপনার মন মানসিকতা এমন?

যদি উপহাস হয়ে থাকে, তাহলে বলি, ঐ দুই লাইন আসলে পুরুষের নোংরামি এবং হিংস্রতার চিহ্ন।

আর যদি সিরিয়াসলি বলে থাকেন, তাহলে মানসিক ডাক্তার দেখান। আপনি বিকারগ্রস্ত।

৪৫. ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩১
পারভেজ বলেছেন: সরকার যদি লাইসেন্সিং প্রথার মাধ্যমে যৌণকর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতি দেয়, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই তদানুরূপ স্বীকৃতি দেয়া উচিত। চোর, ছিনতাইকারী, ডাকাত- এসব পেশা নয়- অপরাধ। এদের কাতার থেকে সামাজিকভাবে যৌণকর্মীদের উত্তরণের একটা পদক্ষেপ হতে পারে এই স্বীকৃতি। তবে খালি স্বীকৃতি দিয়েই সরকারের ও আমাদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এখনো নারীদের বাধ্য করা হয় এই পেশায় যোগদানের জন্য; স্বেচ্ছায় কি কেউ আসে?
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩০

লেখক বলেছেন: হুম। সরকার দায় এড়িয়ে গেছে। কিছুদিন আগেই খবর পেলাম, নির্বাচন কমিশন পেশার কলাম থেকে 'যৌনকর্মী' পেশাটি উঠিয়ে নিয়েছে। কারণ হিসেবে সেই সুশীল বিবৃতি, যেটার বাস্তবে কানাকড়ি মূল্য নাই। সমাজ ঠিক করতে পারে না, কারণ সমাজের লোকেরাই সেটা ঠিক করতে দেয় না। আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত নিঃকঃ-এর এই পিছু হঠে যাওয়ার কারণ চারপাশের তথাকথিত সুশীল লোকজনের ক্রমাগত চাপ।

সরকার আমরাই গঠন করি, সরকারে আমাদের নির্বাচিত লোকেরাই যায়। আমরাই যেখানে যৌনকর্মীদের 'তৈরি' এবং 'লালন' করছি, সেখানে একা একা আলাদাভাবে সরকার কী-ইবা করতে পারে (বা পড়ুন 'করবে')?

৪৬. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫২
আসিফ মহিউদ্দীন বলেছেন: লেখক বলেছেনঃ যারা বেশি তড়পায়, তাদের তড়পানোর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে।
================

এই পোস্টে কয়েকজনার তড়পানো দেখে মজা লাগলো। আপনার লেখা বরাবরের মতই চমৎকার।
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৫:৫২

লেখক বলেছেন: তড়পানো থেকে আলাদা পোস্টও আসছে। তবে সেটাকে পোস্ট না বলে পুস্ট বলা যেতে পারে। আলোচনার পরিসর তাহারা ছড়িয়ে দিতে চান। ছড়িয়েছিটিয়ে বলতে চান, "You should open your mind a little bit more."

তাদের জন্যে একটাই কথা আসলে, "If you open your mind too much, your brains will fall off."

=p~

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৬৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
লেখালেখির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত©লেখক

যোগাযোগঃ shunno.oronno@gmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই