ইসলামের প্রতি অবিচল বিশ্বাস
এ উদ্দেশ্য সম্পাদনে ব্রতী ব্যক্তির মধ্যে জ্ঞানের পর দ্বিতীয় যে অপরিহার্য গুণটি থাকতে হবে সেটি হচ্ছে, যে দ্বীনের
ভিত্তিতে সে জীবন ব্যবস্থা গড়ে তুলেতে চায় তার ওপর নিজেকে অবিচল ঈমান রাখতে হবে। ঐ জীবনব্যবস্থার সত্যতা ও নির্ভুলতা সম্পকে তার নিজের মন নিঃসংশয় হতে হবে। এ ব্যাপারে তার নিজের চিন্তা পুরোপুরি একাগ্র হতে হবে।
সন্দেহ, সংশয় ও দোদুল্যমান অবস্থায় মানুষ একাজ করতে পারে না। মানসিক সংশয় এবং বিশৃঙ্খল চিন্তা ও দৃষ্টিভংগী নিয়ে এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তির মন দোদুল্যমান, যার চিন্তা একাগ্র নয়, চিন্তা ও কর্মের বিভিন্ন পথ যাকে বিভ্রান্ত করে অথবা করতে পারে, সে ধরনের কোনো লোক এ কাজের উপযোগী হতে পারে না।
যে ব্যক্তি এ কাজ সম্পন করবে তাকে নিঃসংশয় চিত্তে খোদার ওপর বিশ্বাস করতে হবে এবং কুরআনে বর্ণিত খোদার গুনাবলী, ক্ষমতা ও অধিকারের ওপর অবিচল ঈমান আনতে হবে। তাকে আখেরাতের ওপর অটল বিশ্বাস রাখতে হবে এবং কুরআনে আখেরাতের চিত্র যেভাবে বর্ণিত হয়েছে হুবহু সেভাবে বিশ্বাস করতে হবে। তাকে বিশ্বাস করতে হবে,
মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সঃ) প্রদর্শিত পথই একমাত্র সত্যপথ এবং তার বিরোধী বা তার সাথে সামঞ্জস্যহীন প্রত্যেকটি পথই ভ্রান্ত। তাকে বিশ্বাস করতে হবে, মানুষের যে কোনো চিন্তা ও যে কোন পদ্ধতি যাচাই করার একটি মাত্র মানদন্ড আছে এবং তা হচ্ছে খোদার কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নত।
এ মানদন্ডে যে উতরে যাবে সে সত্য ও অভ্রান্ত আর যে
উতরে যাবে না সে বাতিল ও ভ্রান্ত। ইসলামী জীবনব্যবস্থা পরিগঠনের জন্যে এ সত্যগুলোর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে এবং চিন্তার পূর্ন্ একাগ্রতা লাভ করতে হবে। যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে সামান্য দোদুল্যমান অবস্থায় বিরাজ করে অথবা এখনো অন্যান্য পথের প্রতি আগ্রহশীল তার এ প্রাসাদের কারিগর হিসেবে অগ্রসর হবার আগে নিজের এ দূর্বলতার চিকিৎসা করা প্রয়োজন।
৩.চরিত্র ও কর্ম
তৃতীয় অপরিহার্য গুণটি হচ্ছে, কাজ কথা অনুযায়ী হতে হবে। যে বস্তুকে সে সত্য মনে করে তার অনুসরণ করবে, যাকে বাতিল গণ্য করে তা থেকে দূরে সরে যাবে, যাকে নিজের দ্বীন ঘোষণা করে তাকে নিজের চরিত্র ও কর্মের দ্বীনে পরিণত করবে এবং যে বস্তুর দিকে সে বিশ্ববাসীকে আহবান জানায় সবর্প থ্র ম সে নিজে তার আনগু ত্য করবে। সৎকাজের আনগু ত্য ও অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্যে তাকে বাইরের কোনো চাপ প্রভাবের মুখাপেক্ষী হওয়া উচিৎ নয়।
কোনো কাজ করলে খোদার সন্তুষ্টি লাভ করা যাবে, কেবল এতটুকু কারণেই তার আন্তরিক আগ্রহ ও ইচ্ছা সহকারে ঐ কাজ সম্পন্ন করা উচিৎ। আবার কোনো কাজ নিছক খোদার নিকট অপছন্দনীয় হবার কারণেই সে তা থেকে বিরত থাকবে। তার এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কেবল সাধারণ অবস্থায় হওয়া উচিৎ নয় বরং তার চারিত্রিক শক্তি এতই উন্নত পর্যায়ের হতে হবে যে, অস্বাভাবিক বিকৃত পরিবেশে তাকে সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও লোভ লালসার মোকাবেলা করে এবং সবরকম বিরোধিতা ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেও সত্যপথে অবিচল থাকতে হবে।
যার মধ্যে এ গুণ নেই সে সমাজ সংস্কার ও পরিগঠনের কাজে সাহায্যকারী হতে পারে কিন্তু সে প্রকৃত কর্মী হতে পারে না। ইসলামের জন্যে যে ব্যক্তি নিজের মধ্যে সামান্যতম ভক্তি, শ্রদ্ধা ও দরদ রাখে সে এ কাজে সাহায্যকারী হতে পারে।
এমনকি যে ব্যক্তি ইসলাম অস্বীকারকারী ও তার বিরোধী হওয়া সত্তেও¡ তার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে তৎপর নয় সেও অনেকটা এর সহায়ক হতে পারে কিন্তু এ ধরনের কোটি কোটি সাহায্যকারী থাকলেও কার্যতঃ ইসলামী ব্যবস্থা প্রবর্তিত হতে পারেনা এবং জাহেলিয়াতের বিকাশ ও পরিপুষ্টি সাধনের গতি রুদ্ধ হতে পারে না।
কার্যত: এ কাজ একমাত্র তখনই সম্পাদিত হতে পারে, যখন এর জন্যে এমন এক দল লোক অগ্রসর হবে যাদের জ্ঞান ও বিশ্বাসের সাথে চরিত্র ও কর্মশক্তি সমন্বিত হবে এবং যাদের ঈমান ও বিবেক এত বিপুল জীবনী-শক্তির ধারক হবে যার ফলে বাইরের কোনো উস্কানী ছাড়াই নিজেদের অভ্যন্তরীণ তাকীদে তার দ্বীনের চাহিদা ও দাবী পূরণ করতে থাকবে। এ ধরনের কর্মীরা যদি ময়দানে নেমে আসে তাহলে মুসলিম সমাজে এমনকি অমুসলিম সমাজেও সর্বত্র যে বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও সাহায্যকারী পাওয়া যায় তাদের উপস্থিতিও ফলপ্রসু হতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



