আরেকটি অস্ত্র মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও বহু ঘটনায় বিতর্কিত জয়নাল আবেদীন হাজারী।
বিচারপতি রেজাউল হক ও মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার হাজারীর মামলা বাতিলের আবেদন নিষ্পত্তি করে তাকে খালাস দেন।
রায়ের পর হাজারীর আইনজীবী এম সাইফুল আলম বলেন, “এর মাধ্যমে সকল দণ্ড থেকে খালাস পেলেন তিনি।”
পরে তিনি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আইনজীবী বলেন, ফেনীর পৌর এলাকার লাভ মার্কেটে হাজারীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে ৭টি বুলেট উদ্ধারের ঘটনায় ২০০১ সালের ১৭ অগাস্ট পুলিশ ফেনী সদর থানায় একটি মামলা করে।
চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার আদালত ২০০৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় জয়নাল হাজারীকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
এরপর তিনি মামলা বাতিলের আবেদন করলে ২০০৯ সালের ০৪ জুন হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে। কেন তার সাজা বাতিল করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।
রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটি বাতিল করে হাজারীকে দণ্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
আদালতে হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. ওয়াজি উল্লাহ এবং এম সাইফুল আলম। সরকার পক্ষে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম।
সাইফুল জানান, হাজারীর বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা ছিলো। এর মধ্যে ৫টিতে তার সাজার আদেশ হয়েছিলো। উচ্চ আদালত তাকে সবগুলোতেই খালাস দিয়েছে।
“এছাড়া ২১টি মামলায় তিনি বিচারিক আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে কেবল কুমিল্লার একটি আদালতে তার (হাজারী) বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন”, যোগ করেন এই আইনজীবী।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সাংসদ থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যপক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই বছর ১৬ অগাস্ট রাতে তিনি দেশ ছাড়েন।
হাজারীর কর্মকাণ্ডের কারণে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ আট বছর দেশের বাইরে থাকার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর দেশে ফেরেন হাজারী।
দেশে আসার পর অর্থ পাচারের একটি মামলায় জামিন চাইতে গেলে ২০০৯ সালের ১৫ এপ্রিল আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। ওই বছর ০২ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


