যাত্রাপথের গল্প
-অদ্বিতীয়া সিমু
এই সেদিনের কথা। মোহাম্মদপুর-১২/৩৬ বাস। লোকাল।বাসে চড়লাম। মহিলা সিটেই বসতে হবে,যেহেতু মহিলা।বসলাম।
-উঠেন।
-মানে!
-মানে,চাইপা বসেন।
পুরুষলোক, তারেতো কিছু কওয়া যায়না! চাইপাই বসলাম। পাশে জলজ্যান্ত পুরুষলোক বইসা গেল,তাও কিনা লেখা মহিলা সিট।বসুক,আমারইতো ভাই।
কতক্ষণ পর। ফার্মগেট।একটা মহিলা প্রাণন্তকর চেষ্টা করছে বাসটিতে উঠতে।ড্রাইভার বাস থামালো।
-আপারে উঠাইলো।
আমার পাশের ভদ্রলোকের অবস্থা দেখে আমিই আঁতকে উঠলাম। হেলপারকে প্রায় ঘুষি বসিয়ে দিলেন।
-শালা, মহিলা সিট নাই।তুই মহিলা উঠাস কেন?
আমি একটু অবাক হয়েই বললাম,'আপনি কোন সিটে ভাই?'
আগুন চক্ষু করে ভাইজান আমার দিকে তাকালেন।
-তোল্,ঐ মহিলারে তোল।আমি উঠতাম না।
-কেন?আপনিতো মহিলা সিটে বসে আছেন!
পাশ থেকে আরেক ভদ্রলোক ফোড়ন কাটলো-'ওনারা আবার সমঅধিকার চান!'
আরেকজন ফোড়ন কাটলো-'এটাইতো প্রমাণ করে ওরা পুরুষদের দযায় চলেন(মহিলা সিট)।'
শেষপর্যন্ত আমিই লজ্জায় পড়লাম মহিলা হয়ে।পুরো বাসে আমি একা মহিলা।বলতে ইচ্ছা করছে-'শালা,কার পেটেত্তে জণ্মাইছো?কে বড় করছে?মা বইলা ডাক কারে?আর মহিলা সিটতো তোমরাই লেইখা রাখছো!যদি সমঅধিকারের কথা কও তাইলেতো অর্ধেক সিট আগে খালি কইরা পরে কতা কইবা!' আগর-বাগর।মাথা ধরে যাচ্ছিলো।
এরইমধ্যে মহিলাটি বসে হাচড়ে উঠে পড়লেন। দাঁড়িয়েই শুরু করলেন-'ঐজমিদারের বচ্চারা, খালি পুরুষরাই মানুষ,মাইয়ারা মানুস না? তোরাই বাসে যাবি,আমরা যামু না।আবার দরদ দেহাইয়া মহিলা সিট লেখছস।লেওড়া টাইনা ছিড়া ফালামু।আতুর ঘরে কেন তগর মায় তগরে নুন খাওয়াইয়া মারর না! এই দিন দেখবার লাইগা!উঠ মহিলা সিট থেইকা।'
কলার ধরে টেনে আমার পাশে বসা ভদ্দরনোককে উঠিয়ে দিলেন মহিলা। যারা ফোড়ন কাটছিলো,তারাও চুপ করে রইলো।আমার খুব মজা লাগছিলো।
"জোর যার মুল্লুক তার।"আমারও জোর বাড়লো।
-চুপ করে কেন আছেন?
ফোড়নকাটাদের একজনই বললেন,'না,মহিলাদের সম্মানতো দেয়া উচিত।'
আমি মনেমনে প্রণাম জানালাম সাহসী এই মহিলা সঙ্গীকে।" দরকার তোমায়,মা।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


