somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিশরের পুরা-গল্প-২

২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিশরের পুরা-গল্প-২
দেবী আইসিস ও সাত কাঁকড়াবিছা
রূপান্তর: অদ্বিতীয়া সিমু



দেবী আইসিস ও শিশু হরাস


মিশরের দেবী আইসিসের এক ছেলে ছিল, যার নাম ছিল ’হরাস’। হরাস দেবী আইসিস আর দেবতা ওসীরীসের ছেলে। দেবতা ওসীরীসের এক ভাই ছিল, যার নাম ‘সেত’।

সেত


সেত সাম্রাজ্যের জন্য দেবতা ওসীরীসকে হত্যা করেছিল। সে জানতোনা দেবতা ওসীরীসের কোন ছেলে আছে । যদি জানে হরাস ওসীরীসের ছেলে, তাহলে সে তাকেও মেরে ফেলবে। তাই সেতের ভয়ে দেবী আইসিস হরাসকে লুকিয়ে রেখেছিল।
যখন দেবী আইসিস হরাসকে জলের ধারে প্যাপিরাস গাছের ধারে লুকিয়ে রেখে আসতে গিয়েছিল, এটা তখনকার গল্প। দেবীকে পাহারা দিতে সেসময় সঙ্গ দিয়েছিল সাত কাঁকড়াবিছা।

কাঁকড়াবিছা

তারাই দেবীকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, হরাসের জীবন বাঁচিয়েছিল। দেবীর সামনে থেকে পথ চলেছিল পেটেট, তিজেটেট আর মেটেট নামের তিন কাঁকড়াবিছা। তারা আগে আগে পথ চলছিল সামনে কোন বিপদ থাকলে পথ পরিষ্কার করতে। দেবীর দুই পাশে পথ পরিষ্কার রাখতে পথ চলছিল মেসেটেট আর মেসেটেটেফ নামের দুই কাঁকড়াবিছা। পিছনে দেবীর নিরাপত্তা দিতে পথ চলছিল টিফেন আর বিফেন।
প্রত্যেকটা রাতই ছিল তাদের জন্য সতর্কতার রাত। দেবী কোথায় আছে সেত যদি জেনে যায়! দেবী কাঁকড়াবিছাদেরও সতর্ক করে দিয়েছিল পথে কারও সাথে কথা না বলতে, কেউ কোন প্রশ্ন করলেও কোন উত্তর না দিতে। বিছারাও সে ব্যাপারে সাবধান ছিল।
এক রাতের কথা। তারা যাচ্ছিল নীল নদের ব-দ্বীপ দুই বোনের শহরের উপর দিয়ে।

নীল নদের ধার

এ রাতে তারা কোথায় আশ্রয় নিবে! এক ধনী মহিলার দরজায় তারা উপস্থিত হল। বিচিত্র এই দলটা দেখামাত্রই মহিলা দরজা বন্ধ করে দিল। তারা খুঁজতে লাগল আশ্রয়। শেষপর্যন্ত গরীব এক চাষী মেয়ে দেবীকে দিল রাতের আশ্রয়। এদিকে ধনী মহিলার আচরণে খুবই রেগে গিয়েছিল কাঁকরাবিছারা। দেবীকে এ ব্যাপারে তারা কিছুই বলল না। তারা নিজেরা মিলে ঠিক করল মহিলাকে শাস্তি দেবে। কি শাস্তি দেবে! ছয় কাঁকড়াবিছা নিজ নিজ বিষ দিল টেফেনকে। টেফেন সব বিষ একসাথে নিজের হুলে ভরে নিল। তারপর গভীর রাতে চুপিচুপি বের হয়ে পড়ল চাষী মেয়ের বাড়ি থেকে। দেবী এর কিছুই জানেন না। ধনী মহিলার বাড়িতে তখন সবাই ঘুমিয়ে। মহিলা আর মহিলার ছেলে ঘুমিযে আছে পরমনিশ্চিন্তে। টেফেন দেখল এইতো সুযোগ। দরজার নিচ দিয়ে দিল হুল ফুটিয়ে। মহিলা টেরই পেলনা যে, তার ছোট্ট ছেলেটিকে হুল ফুটিয়ে দিয়েছে কোন কাঁকড়াবিছা। বিষের যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল ফুটফুটে ছেলেটি।
সকালে মা যখন দেখল, তখন পাগলের মত ছুটতে লাগল ছেলেকে বাঁচাতে। বিষ তখন ছড়িযে পড়েছে পুরো শরীরে। কিছুই করার ছিল না কারও।

দেবী আইসিস

দেবী আইসিসেসের কানেও গেল মহিলার ছেলের সংবাদ। দেবী ছুটে গেলেন নিষ্পাপ বাচ্চাটিকে বাঁচাতে। বাচ্চাটিকে ছুঁয়েই দেবী বুঝতে পারলেন কি ঘটেছে। ডাকলেন কাঁকড়াবিছাদের। বললেন, ‘তোমরা মায়ের অপরাধের শাস্তি নিষ্পাপ শিশুকে দিতে পার না! কেন একাজ করেছ?’
দেবীর কথায় নিজেদের ভুল বুঝতে পারল কাঁকড়াবিছারা। তারা ফিরিয়ে ণিল নিজেদের বিষ। সুস্থ হয়ে উঠল ফুটফুটে ছেলেটি আবার। ধনী মহিলাও বুঝতে পারল নিজের ভুল । মহিলা ক্ষমা চাইল দেবীর কাছে। দেবী ক্ষমা করে দিলেন মহিলাকে। দেবীকে উপহারমরূপ অনেক টাকা-পয়সা দিতে চাইল মহিলা। দেবী মহিলাকে বললেন তাকে নয় গরীব চাষী মেয়েটিকে দিতে, কারণ গরীব মেয়েটিই আশ্রয় দিয়েছিল দেবীকে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৭
৫৩টি মন্তব্য ৫৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×