নারী দিবস চলে গেল। বরাবরের মতো কিছু সংগঠন মহা উৎসাহে গালাগাল দিলেন পুরুষদের। কেউ বললেন পুরুষতান্ত্রিকতাই নাকি সব কিছুর মূলে। কেউ বললেন পুরুষবাচক শব্দগুলি বাদ দেয়া দরকার অভিধান থেকে এবং জেন্ডার নিরপেক্ষ শব্দকোষের কথা বললেন। নারী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সমস্যা এর নেতৃত্ব। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে নারী আন্দোলনের মহান নেত্রীদের অধিকাংশই তাদের মূল কাজটি আজো করেন নাই।
পুরুষ কে? সেকি শত্রু, নাকি বন্ধু? কাকে আমরা পুরুষ বলবো? যে এসিড ছোড়ে সে পুরুষ? যে ধর্ষণ করে সে পুরুষ? নাকি সেই ছেলেটি পুরুষ, যে বলে "মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে, মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দুরে...... আমি যাচ্ছি রাঙ্গা ঘোড়ার পরে.... নাকি সেই ছেলেটি পুরুষ যার জন্য বোনটি গাইতে থাকে, আমায় গেঁথে দাও না মাগো... পলাশ ফুলের মালা..আমি জনম জনম রাখবো ধরে ভাই হারানোর জ্বালা।
পুরুষ মানে যেন একটা গালি। পুরুষ মানে নেতিবাচকতা। এভাবে কি আসলেই নারী আন্দোলন সফল হবে? নারীদের প্রথমেই যা করা উচিত, সেটি হলো পুরুষের একটি সংজ্ঞা নিরূপন করা। তারপর বলা,কেমন পুরুষ তার ভাই, প্রেমিক, বন্ধু, স্বামী বা বাবা হবেন।
পুরুষ মানে কি কোন বায়োলজিকাল বস্তু যার পরিচয় লিঙ্গ পার্থক্যে? নাকি পুরুষ আসলে এক ধরনের আচরন, নইলে বাংলা ভাষায় কাপুরুষ শব্দটি কেন থাকবে?
আমি কি পুরুষ? যদি আমি পুরুষ হই তবে যে ছেলেটি এসিড ছোড়ে সে কিভাবে পুরুষ হয়?
আমাদের মিডিয়াতে নারীর পণ্যসুলভ উপস্থাপন নিয়ে নারীবাদীরা কেউ কোন কথা বলেন না । যেমন একটি কন্ডমের বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় একজন পুরুষকে নারী সেবা যত্ন করছেন কারন... তারপর বলা হয়, সত্যিকার পুরুষরা নাকি এরকম...
বাহ বাহ, যেন নারীর একমাত্র চাহিদা ... শারিরীক সাফল্য, শীর্ষসুখ দিতে পারা পুরুষ। সেটা পারলে নায়িকারাও পা টিপে দেন...
আরেকটিতে দেখানো হয় একটি ছেলে একটি মেয়েকে উত্যক্ত করে এরপর মেয়েটি টুথপেস্টের সাথে সানগ্লাস দিয়ে দিলে ছেলেটি চারজন মেয়ের সাথে সানগ্লাস পরে ঘুরতে থাকে...
বাহ বাহ! ইভটিজারদের কি সৌভাগ্য!
কোকাকোলার একটি বিজ্ঞাপন স্যাটেলাইটে দেখানো হয় যেখানে নারীর শরীরের বাঁকের সাথে কোকের বোতলের মিল নিয়ে ইভটিজাররা কৌতুক করছে। লিটার বটল হলো দাদীমার ফিগার আর রেগুলার বটল তরুনীর। তার মানে কি মেয়েরা বোতল সদৃশ কোন বিষয় যার মুখ খুললে ফিজি ড্রিংকস বের হয়?
রঙ্গীলা বুইড়া নামে এই একই পণ্যের একটি বিজ্ঞাপনে একজন বয়স্ক মুদীর দোকানীকে অসম্মান করা এবং পাড়ায় আসা নতুন মেয়েটিকে উত্যক্ত করার দৃশ্য দেখানো হতো।
ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী সহ সকল কসমেটিকসের বিজ্ঞাপনের কোন না কোন ভার্সনে দেখানো হয় নারীর সৌন্দর্যের প্রধান লক্ষ্য পুরুষের মন জয়। পেঅফ লাইনে... কেউ চিনত না আমায়...... বলে বলা হচ্ছে লোকে চিনলেই হল... লেখাপড়া কি দরকার... যোগ্যতা হলো গায়ের রং...
রান্না মানেই নারী। রান্না মানে শ্বশুর শ্বাশুড়ীর মন রক্ষা। মসলা মানে নারী। সাবান মানে নারী। ফোন মানেও নারী... নিশিথে কল কইর.. যেন নারীর চাওয়া রাতভর ফিসফিস... নারী মানে ব্যবহার্য কোন বিষয়..
এগুলোর বিরুদ্ধে নারীবাদীরা কিছু বলেছেন বা করেছেন? লজ্জা করেনা আপনাদের যখন দেশের বড় দৈনিক পত্রিকাগুলোর একটিতেও নারী সম্পাদক খুঁজে পাওয়া যায় না, এমনকি উপ সম্পাদকও না!
দেশে ৭০ এর মত বিচারপতি, নারী মাত্র ৩ জন।
দেশে কোন নারী অ্যাটর্নী জেনারেল হয়েছেন? স্পীকার? কয়জন নারী সচিব? কেউ মুখ্য সচিব হয়েছেন?
জাতিসংঘে এখনো কোন নারী মহাসচিব হন নাই। সেই জাতিসংঘ পালন করে নারী দিবস।
এসবের জন্য দায়ী পুরুষ। তারা আপনাদের কিচ্ছু করতে দেয় না। তাদের মন ষড়যন্ত্রে ভরপুর। তারা কর্তৃত্ত্বপরায়ন। তাহলে যে দুজন নারী ১৫ বছর শাসন করলেন, বলতেই হয়, তারাও নারীর বেশে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অধিকারী ছিলেন...? কারন তারাও নারীদের জন্য তেমন কিছু করেছেন বলে মনে পড়ে না।
তারা দেন মোহরের বিপক্ষে বলেন না, বলেন যৌতুকের বিরুদ্ধে। আমি তো মনে করি দুটোই এক। একটা ছেলেরা চায়, আরেকটা মেয়েরা। কেন দুপক্ষ টাকা দেয়া নেয়া করবে? স্বাধীন নারীর তো দেনমোহরের টাকা নিতে লজ্জা পাওয়া উচিত। যেমন যৌতুক নিতে মাথা হেট হওয়া উচিত পুরুষ নামক প্রানীদের।
চলবে......
দেন মোহর ধর্মীয় বিষয়... সম্পত্তির ভাগ এর হিসাবটাও কিন্তু তাই, দেনমোহর প্রধানত নারীর জন্য একটি নিরাপত্তা, ...
নারী নিজেই এর পরিমান ঠিক করবে, এটাই বিধান
নারীবাদীরা ধর্মে সম্পত্তির হিসাবের বিরুদ্ধে বলেন কিন্তু দেনমোহরের বিরুদ্ধে বলেন না। তার মানে যেটা বেশী পান সেটার বিরুদ্ধে কিছু বলেন না, যেটা কম পান তার বিরুদ্ধে বলেন।
স্বাধীন নারী তার নিরাপত্তা নিজেই বিধান করতে পারেন, বিশেষ করে আর্থিক নিরাপত্তা তো তার রয়েছেই। তাহলে তার দেনমোহর তো প্রতীকি অর্থে ১ টাকা বা ১০ টাকা হওয়া উচিত, কারন নিয়ম মোতাবেক দেনমোহর বিবাহের সময়ই পরিশোধের নিয়ম।
এটা কি ৫,০০,০০০, ১০,০০,০০০ করে ছেলেদের কাছ থেকে আদায় করা ঠিক?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

