somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশকে ভালোবাসলে পড়ুন, না বাসলে ও পড়ুন

০৮ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লেখাটি আমার দুলাভাই লোকমান কে উৎসর্গ করলাম
আমি যখন হাই স্কুলে পড়ি তখন অভাব আমাকে তাড়া করে। অভাবের কষ্ট কাকে বলে তা কিছুটা হলেও টের পেয়েছিলাম। অভাবের কারনেই আমি হিসাব করে চলতে বাধ্য ছিলাম। তখন দিনের বেলা দু' তিন বার চকবাজার যাওয়া হতো। বাজার থেকে কিছু পকেট মানি পাওয়া যেত। পকেট মানি আসত এভাবে-সাধারণত যে দোকন থেকে মানুষ বাজার করত আমি ঐ সব দোকান থেকে বাজার করতাম না। বাজারের শেষের দিকে ধনিয়ার পুল নামক স্থানে রাস্তার ধারে বাজার পাওয়া যেত দোকানের চাইতে একটু কম দামে। ধরুন দোকানে আলু কেজি ১০ টাকা আর ঐ জায়গায় পাওয়া যেত ৮-৯ টাকা। ১০টাকার কমে পেলে বাকীটা আমার পকেটে রেখে দিতাম কাউকে না বলেই। (অবশ্য এটা অন্যায় কিনা জানিনা, কারন আমি আমাদের বাসার বাজারের সাথে অন্যদের বাজার ও করতাম।) বাজারে গেলেই আাসর সময় রুবিন বেকারী অথবা ফকির কবির থেকে বাটার বন ডাইনিস, ক্রিম রোল কিনে
নিয়ে আসতাম।

মূল বিষয়ে আসি, ছোট বেলা থেকে হিসাব করে চলতে বাধ্য ছিলাম। কাউকে অপচয় করতে দেখলে খুবই খারাপ লাগত। এখনও লাগে।
এস, এস, সি তে পড়া অবস্থায় এক টিচারের বাসায় প্রাইভেট পড়তাম রাত ১০-১১ টা। (এত রাতে কেউ প্রাইভেট টিচারের বাসায় পড়তে যাই কিনা আমার জানা নেই) তো টিচারের বউ ম্যাচের কাঠি বাঁচানোর জন্য গ্যাসের চূলা জালিয়ে রাখতেন। আমি যাওয়া মাত্রই আগে রান্না ঘরে গিয়ে চুলোটা বন্ধ করে দিতাম।মাসি আমাকে খুব বকা দিতেন (টিচারের বউকে্ আমরা মাসি বলে ডাকতাম) তারপর ও আমি শুনতাম না। এরপর আমি প্রতিদিনই ঐ কাজ করতে খাকলাম, এরকম কিছুদিন চলতে খাকলো। এরপর ও ওনি চুলো বন্ধ করতেন না। একদিন আমি ওনাকে ১২ প্যাকেট ম্যাচ কিনে দেই, যাতে ওনি অপ্রয়োজনে চুলা জালিয়ে না রাখেন। সেদিন ওনি লজ্জায় পড়ে গিয়েছিলেন এবং আমার ম্যাচগুলো ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন ওনি আর অপ্র্রয়োজনে চুলা জালিয়ে রাখবেন না।

আমাদের গলির মুখে একটি ওয়াসার ট্যাপ আছে। লাইফে যতবারই দেখেছি ট্যাপ টি খোলা, ততবারই বন্ধ করেছি।মহসিন স্কুলে পড়ার সময় টিফিন আওয়ারে এবং ক্লাস শেষে প্রায়ই ফ্যানের সুইচ বন্ধ করতাম অতিরিক্ত ফ্যান চললে ও বন্ধ করে দিতাম। একই কাজ করতাম মহসিন কলেজে এবং প্রিমিয়ার উইনিভার্সিটিতে ও। প্রিমিয়ার উইনিভার্সিটির রুম গুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এক এক টা এসি ৩০০০ ওয়াট করে কনজিউম করে।
আমাদের ক্লাস শেষ হতো রাত নয় টায়। মাঝে মাঝে আটটায় শেষ হয়ে যেত। তখন এসি গুলো অফ করার জন্য ক্লাস শেষে অফিস রুম থেকে পিয়ন
কে ডেকে নিয়ে আসতাম (এসির সুইচ উপরে বিধায় নাগাল পাওয়া যেত না, আর রিমোট থাকতো অফিস রুমে) ।আমাদের ক্লাস শুরু হতো সন্ধ্যা সাতটায় তার আগে বিকাল চারটায় বি বি এ র ক্লাস শেষ হতো। অনেক সময় গ্রুপ স্টাডি করা জন্য সাড়ে চারটায় যেতে হতো। গিয়ে দেখতা অনেক রুমের এসি চলছে । দেখে খুব খারাপ লাগতো। সাথে সাথেই আমি পিয়নকে রিকোয়েস্ট করে বন্ধ করার ব্যবস্থা করতাম।

এবার আসা যাক শিরোনাম নিয়ে
আমার মতে বাংলাদশে একটা মানচিত্র পেয়েছে মাত্র, প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা পায়নি।প্রতিদিন বাংলাদেশের কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে। এছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী করদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীনফোন প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা আয় করছে।আর আছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ইউনিলিবার বাংলাদেশ। কোটি কোটি ডলার চলে যাচ্চে মুনাফা আকারে অন্য দেশে। এটাকে বলা যেতে পারে শোষণের নতুন টেকনিক।এর সবই সম্ভব হচ্ছে তথাকতিখ কিছু রাজনিতিক নেতাদের কারণে। এরা সংসদ সদস্য হয়ে আসে কিছু দেশের অথবা কোং দালালী করার জন্য।
চলবে......................
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×