somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু মন মাতানো পেইন্টিং(তৈলচিত্র ব্লগ)

২৩ শে মার্চ, ২০১৩ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উপমহাদেশের চিত্রশিল্পীদের মধ্যে রাজা রবি ভার্মার অবদান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। নিজ প্রতিভায় তিনি উপমহাদেশের চিত্রশিল্পীদের মাঝে নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন। ১৮৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহন করা এই শিল্পী নিজের তুলির ছোঁয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন উপমহাদেশের চিত্রকলার ইতিহাসে। তিনি কেরালার রাজা ছিলেন।


০১. গ্যালাক্সি অব মিউজিশিয়ান
তার তুলির আচড়ে উঠে এসেছে ভারতের পৌরানিক চরিত্র, ভারতের মানুষের জীবন আচাড়। তার তৈলচিত্র গ্যালাক্সি অব মিউজিশিয়ানে উঠে এসেছে ভারতের মানুষের সঙ্গিতের প্রতি ভালবাসার চিত্র। ১৮৯৮ সালে আকাঁ এই তৈলচিত্রটি বর্তমানে দিল্লী মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।



০২. এ লেডি ইন হার ড্রেসিং রুম
উপমহাদেশের চিত্রকলার অগ্রদূত যে মানুষটাকে বলা যায় তিনি রাজ ভার্মা। রাজ পরিবারে জন্ম গ্রহন করা এই চিত্রশিল্পী উপমহাদেশের মধ্য সর্ব প্রথম ইউরোপীয়ান চিত্রকলা বিশারদদের কাছ থেকে পুরস্কার পান। ১৮৭৩ সালে তিনি ভিয়েনা আর্ট এক্সিবেশনে তিনি পুরস্কার পান।
এ লেডি ইন হার ড্রেসিং রুম নামক এই তৈলচিত্রটি তিনি ১৮৭৩ সালে কেরালায় নিজ প্রসাদে অংকন করেন। তৈলচিত্রে তিনি কেরালার এক যুবতীর ঢ্রেসিং রুমে বেলি ফুল দিয়ে নিজেকে সাজানোর ব্যাপারটা খুব সুন্দর করে তুলে এনেছেন তিনি।


অর্জুন ও শুভধরা
আমরা অনেক গ্রীক পুরান নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশও যে মিথে পরিপূর্ন তা আমাদের অগোচরে চলে গেছে। উপমহাদেশের মিথের নায়কদের যদি ধরা হয় তাহলে যার কথা প্রথমে আসবে তিনি আর কেউ না, মহাভারতের অর্জুন।
গ্রীক মিথের মত মহাভারতের মিথেও দেখা যায় দেবতাদের নারী প্রীতির কথা। অর্জুনের পিতা ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র এবং তার মা ছিলেন কুন্তি। মহাভারতে অর্জুনের জন্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে একদা অর্জুনের পিতা পান্ডু বনে শিকারে গেলে ভুল ক্রমে সে এক সন্ন্যাসীকে হত্যা করে ফেলে। সে তাকে অভিশাপ দেয় সে কখনও পিতা হতে পারবে না। তার ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম ছিল।
দেবতাদের আর্শীবাদের কারনে অর্জুন ছিলেন তৎকালীন সেরা তীরন্দাজ। তিনি পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম। 'অর্জুন' শব্দের অর্থ 'উজ্জ্বল', 'জ্বাজল্যমান', 'সাদা' অথবা 'রূপালি'। পাণ্ডব ভ্রাতৃগণের মধ্যে তাঁর স্থান তৃতীয়। অর্জুনকে নারায়ণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা নর-নারায়ণের অবতার মনে করা হয়। মহাভারতে তাঁকে 'চতুর্থ কৃষ্ণ' বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষ্ণ ছিলেন তাঁর প্রিয় বন্ধু তথা শ্যালক। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনাপর্বে কৃষ্ণ তাঁকে যে উপদেশাবলি প্রদান করেন তাই ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত।
শুভধরা ছিলেন অর্জুনের প্রথম স্ত্রী। অর্জুন ও শুভধরা তৈলচিত্রটি একেছেন উপমহাদেশের চিত্রকলার গুরু রাজা রবি ভার্মা। ১৮৯০ সালে আকাঁ এই তৈলচিত্রটি বর্তমানে মহারাজ ফেচাহ সিং মিউজিয়াম, গুজরাটে সংরক্ষিত আছে।


০৪. জটায়ু বধ
হিন্দু পুরানের অন্যতম এক মহাকাব্য রামায়ন। রামায়ন শুরুই হয় রামের স্ত্রী সিতাকে অপহরনের মাধ্যমে। লঙ্কার অধিপতি রাবন সীতাকে অপহরন করে। সেখান থেকে শুরু হয় রামায়নের মূল উপাখ্যান। সিতাকে অপহরনের সময় রামের পিতা দশরথের বন্ধু অর্ধ দেবতা বা ডেমি গড জটায়ু রাবনকে বাধা দেয়। অর্ধ দেবতা হওয়ার কারনে সে যে কোন পশু পাখির রূপ ধারন করতে পারত। তবে তার প্রিয় ছিল শকুন। সিতাকে অপহরনের সময় জটায়ু তা দেখে ফেলে। এবং নিজের সর্ব ক্ষমতা দিয়ে শকুন রূপী জটায়ু সীতাকে রক্ষা করতে চায় সে। কিন্তু রাবন জাটায়ুকে হত্যা করে।
উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পী রাজা রবি ভার্মা তার তুলির আঁচড়ে সেই হত্যা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এই তৈল চিত্রটি ১৯০৬ সালে আকাঁ হয়েছে। এটি বর্তমানে কর্নাটকের স্যার জয়চিমা রাজেন্দ্র আর্ট গ্যালারীতে সংরক্ষিত আছে।
[img|http://ciu.somewherein.net/ciu/image/112826/small/?token_id=0e188e14ae527ef4e72c7cf2fd58daec

জ্যাকুয়েস লুইস ডেভিডের ৪টি চিত্রকর্ম(তৈলচিত্র ব্লগ)
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:০৫
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) যুদ্ধে আল্লাহ হযরত মুয়াবিয়ার (রা.) পক্ষে ছিলেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



সূরাঃ ৫ মায়িদা, ৬৭ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭। হে রাসূল! তোমার রবের নিকট থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা’ প্রচার কর। যদি না কর তবে তো তুমি তাঁর রেসালাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×