উপমহাদেশের চিত্রশিল্পীদের মধ্যে রাজা রবি ভার্মার অবদান বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। নিজ প্রতিভায় তিনি উপমহাদেশের চিত্রশিল্পীদের মাঝে নিজের অবস্থান করে নিয়েছেন। ১৮৪৮ সালের ২৯ এপ্রিল ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহন করা এই শিল্পী নিজের তুলির ছোঁয়ায় জায়গা করে নিয়েছেন উপমহাদেশের চিত্রকলার ইতিহাসে। তিনি কেরালার রাজা ছিলেন।
০১. গ্যালাক্সি অব মিউজিশিয়ান
তার তুলির আচড়ে উঠে এসেছে ভারতের পৌরানিক চরিত্র, ভারতের মানুষের জীবন আচাড়। তার তৈলচিত্র গ্যালাক্সি অব মিউজিশিয়ানে উঠে এসেছে ভারতের মানুষের সঙ্গিতের প্রতি ভালবাসার চিত্র। ১৮৯৮ সালে আকাঁ এই তৈলচিত্রটি বর্তমানে দিল্লী মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
০২. এ লেডি ইন হার ড্রেসিং রুম
উপমহাদেশের চিত্রকলার অগ্রদূত যে মানুষটাকে বলা যায় তিনি রাজ ভার্মা। রাজ পরিবারে জন্ম গ্রহন করা এই চিত্রশিল্পী উপমহাদেশের মধ্য সর্ব প্রথম ইউরোপীয়ান চিত্রকলা বিশারদদের কাছ থেকে পুরস্কার পান। ১৮৭৩ সালে তিনি ভিয়েনা আর্ট এক্সিবেশনে তিনি পুরস্কার পান।
এ লেডি ইন হার ড্রেসিং রুম নামক এই তৈলচিত্রটি তিনি ১৮৭৩ সালে কেরালায় নিজ প্রসাদে অংকন করেন। তৈলচিত্রে তিনি কেরালার এক যুবতীর ঢ্রেসিং রুমে বেলি ফুল দিয়ে নিজেকে সাজানোর ব্যাপারটা খুব সুন্দর করে তুলে এনেছেন তিনি।
অর্জুন ও শুভধরা
আমরা অনেক গ্রীক পুরান নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশও যে মিথে পরিপূর্ন তা আমাদের অগোচরে চলে গেছে। উপমহাদেশের মিথের নায়কদের যদি ধরা হয় তাহলে যার কথা প্রথমে আসবে তিনি আর কেউ না, মহাভারতের অর্জুন।
গ্রীক মিথের মত মহাভারতের মিথেও দেখা যায় দেবতাদের নারী প্রীতির কথা। অর্জুনের পিতা ছিলেন দেবরাজ ইন্দ্র এবং তার মা ছিলেন কুন্তি। মহাভারতে অর্জুনের জন্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে একদা অর্জুনের পিতা পান্ডু বনে শিকারে গেলে ভুল ক্রমে সে এক সন্ন্যাসীকে হত্যা করে ফেলে। সে তাকে অভিশাপ দেয় সে কখনও পিতা হতে পারবে না। তার ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম ছিল।
দেবতাদের আর্শীবাদের কারনে অর্জুন ছিলেন তৎকালীন সেরা তীরন্দাজ। তিনি পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম। 'অর্জুন' শব্দের অর্থ 'উজ্জ্বল', 'জ্বাজল্যমান', 'সাদা' অথবা 'রূপালি'। পাণ্ডব ভ্রাতৃগণের মধ্যে তাঁর স্থান তৃতীয়। অর্জুনকে নারায়ণের কনিষ্ঠ ভ্রাতা নর-নারায়ণের অবতার মনে করা হয়। মহাভারতে তাঁকে 'চতুর্থ কৃষ্ণ' বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। কৃষ্ণ ছিলেন তাঁর প্রিয় বন্ধু তথা শ্যালক। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনাপর্বে কৃষ্ণ তাঁকে যে উপদেশাবলি প্রদান করেন তাই ভগবদ্গীতা নামে পরিচিত।
শুভধরা ছিলেন অর্জুনের প্রথম স্ত্রী। অর্জুন ও শুভধরা তৈলচিত্রটি একেছেন উপমহাদেশের চিত্রকলার গুরু রাজা রবি ভার্মা। ১৮৯০ সালে আকাঁ এই তৈলচিত্রটি বর্তমানে মহারাজ ফেচাহ সিং মিউজিয়াম, গুজরাটে সংরক্ষিত আছে।
০৪. জটায়ু বধ
হিন্দু পুরানের অন্যতম এক মহাকাব্য রামায়ন। রামায়ন শুরুই হয় রামের স্ত্রী সিতাকে অপহরনের মাধ্যমে। লঙ্কার অধিপতি রাবন সীতাকে অপহরন করে। সেখান থেকে শুরু হয় রামায়নের মূল উপাখ্যান। সিতাকে অপহরনের সময় রামের পিতা দশরথের বন্ধু অর্ধ দেবতা বা ডেমি গড জটায়ু রাবনকে বাধা দেয়। অর্ধ দেবতা হওয়ার কারনে সে যে কোন পশু পাখির রূপ ধারন করতে পারত। তবে তার প্রিয় ছিল শকুন। সিতাকে অপহরনের সময় জটায়ু তা দেখে ফেলে। এবং নিজের সর্ব ক্ষমতা দিয়ে শকুন রূপী জটায়ু সীতাকে রক্ষা করতে চায় সে। কিন্তু রাবন জাটায়ুকে হত্যা করে।
উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পী রাজা রবি ভার্মা তার তুলির আঁচড়ে সেই হত্যা দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন। এই তৈল চিত্রটি ১৯০৬ সালে আকাঁ হয়েছে। এটি বর্তমানে কর্নাটকের স্যার জয়চিমা রাজেন্দ্র আর্ট গ্যালারীতে সংরক্ষিত আছে।
[img|http://ciu.somewherein.net/ciu/image/112826/small/?token_id=0e188e14ae527ef4e72c7cf2fd58daec
জ্যাকুয়েস লুইস ডেভিডের ৪টি চিত্রকর্ম(তৈলচিত্র ব্লগ)
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




