আমি তখন সাপ্তাহিক রোববার'এ লিখতাম। হৃদয়ের কথা বিভাগটা আমার ভীষন প্রিয় ছিল। সেখানে অনেক বন্ধু হয়েছিল। আপনারা হয়তো জানেন, হৃদয়ের কথা বিভাগে ঠিকানা সহ লেখা ছাপা হতো। তখন কয়েকজন বন্ধু জুটেছিল। আমার নামে সপ্তাহে কমপক্ষে তিনটা চিঠি আসতো। তার মধ্য আমাকে লেখা একটা চিঠি আমার সহপাঠির হাতে পড়ায় সে তার জবাব দিয়ে তার ঠিকানায় লিখতে বলে এখন তারা ভাল বন্ধু। যদিও ঘটনাটা যখন জেনেছিলাম তখন কেমন যেন একটা অপ্রাপ্তির মাত্রা যোগ হয়েছিল। তারপর ও কিছু বন্ধু ছিল। আমি রোববারে লেখা বন্দ করে দিলাম। কারণ বুঝতেই পারছেন একটা মেয়ের কাছে এতো এতো চিঠি আসবে তা কেউ ভাল চোখে দেখে না, শহরের কথা ভিন্ন। আমি আমার গ্রামের কথা বলছি। তবু্ও বন্ধুদের চিঠি পেতে বেশ ভাল লাগতো। আমি যেন উত্তর দিয়ে অধির আগ্রহ নিয়ে বন্ধুদের চিঠির অপেক্ষায় থাকতাম। অনেকে ছবি পাঠিয়েছে। তাদের অনেকের সাথে এখন আর তেমন যোগাযোগ নেই। এখন আর আগের মত কেউ চিঠি লেখে না বিশেষ কোন দিন ছাড়া। আমার খুব ভাল একজন পেনফ্রেন্ড বন্ধু ছিল। ও একদিন আমার ছবি চেয়ে চিঠি লিখলো, আমি লিখলাম আমি দেখতে প্যাচারমত। তাই আমার ছবি তোমাকে দিতে পারবো না। তারপরও আমার ছবি দেখার ভীষণ আগ্রহ নিয়ে চিঠি লিখলো। যদিও সে আমাকে তার ছবি টা পাঠায়নি। আমার মাথায় চাপলো রাজ্যের যত দুষ্টু বুদ্ধি। কি করা যায়? অনেক ভেবে চিন্তে কিছু বিড়ালের ছবি পাঠালাম। যা আমার মায়ের কাছ থেকে কাথা সেলাইয়ের সময় সংগ্রহ করেছিলাম। তার পরে আর আমাকে সে চিঠির লেখেনি। একটা চিঠি লিখেছিল তার বন্ধু । যার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল বন্ধুর মাধ্যমেই। সেই আমাকে তার এক চিঠিতে জানালো, আমার বন্ধুটি আর আমাকে চিঠি লিখবে না কারন তার গার্ল ফ্রেন্ড আমার বিড়ালের ছবি সমেত চিঠিটা পড়েছে। এই জন্য আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছে বন্ধু নম্বর-২। সে লিখেছিল সে আর তোমাকে চিঠি লিখবে না কারন আমি অনাকাঙ্খিত ভাবে তোমার বন্ধুর বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি। আমি তার কথায় কিছু মনে করিনি। ভেবেছি রসিকতা করছে হয়তো আমি বিড়ালের ছবি পাঠিয়েছি এই জন্য সে অভিমান করেছে। না সে অভিমান করেনি আমার ছবি দেখার খায়েস মেটাতে গিযে তার গার্ল ফেন্ড পালাতে বসেছিল।
একটা বিশেষ কারণে বন্ধু দুজনের নাম দিলাম না। এখানে অন্য কিছু খুঁজতে গেলে মরিচিকার পিছনে হাটা হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



