যখন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে একটি সংবাদ পুরোটা পৃথিবীকে প্রদক্ষিন করে আবার একই স্থানে ফিরে আসতে সময় লাগে মাত্র ৬ মিনিট তখন আমরা বুঝতে পারি পৃথিবীর সময়ের চেয়ে দ্রুত ঘূর্নায়মান হচ্চে একটি সংবাদ। আর সংবাদের এই গতির মুল মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। এই যখন বাস্তবতা ঠিক তখনি খবর পাওয়া গেলো: জনপ্রিয় অনলাইন বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডট কম বন্ধ হয়ে গেছে।
দৈনিক আমার দেশ জানা্য়, গতকাল দুপুর থেকেই অনলাইনের নিউজ আপডেট হচ্ছে না। শীর্ষ নিউজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শীর্ষ নিউজ ও সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের সম্পাদক একরামুল হককে ৩১ জুলাই গ্রেফতারের পর থেকে সরকারের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যম দু’টি বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। একরামুল হককে দু’দফায় ৪ দিন রিমান্ডে ও টিএফআই সেলে নিয়েও নির্যাতন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত খবরের ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করলে সম্পাদককে জামিন দেয়া হবে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। কিন্তু সম্পাদক একরামুল হক জামিন পাননি। গ্রেফতারের পর তার নামে ৩টি চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় একরামুল হকের সহকর্মীরা অনলাইন বার্তা সংস্থাটির কাজকর্ম স্বাভাবিক রেখে সম্পাদকের মুক্তির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু চাপের মুখে তাদের সে চেষ্টা সফল হয়নি। একরামুল হকের স্ত্রী তার স্বামীর মুক্তির স্বার্থে গতকাল অনলাইন বার্তা সংস্থাটি বন্ধ রাখার পক্ষে মত দেন। এ অবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়েই অনলাইন বার্তা সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
শীর্ষ নিউজের চিফ রিপোর্টার নুরুল হাসান খান গতরাতে আমার দেশ’কে জানান, গতকাল বিকাল থেকেই তাদের বার্তা সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে তারা বাধ্য হয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, সম্পাদক মুক্তি পেলে আবার বার্তা সংস্থার কার্যক্রম চালু হবে বলে তারা আশা করছেন। এ নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে বলেও তিনি জানান।
অনলাইন বার্তা সংস্থা শীর্ষ নিউজ ডট কম দ্রুত বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করে অল্প সময়েই বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। কিন্তু একই মালিক ও সম্পাদকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজ সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নানা দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় তাদের রোষানলে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্পাদক একরামুল হককে প্রাথমিকভাবে শারীরিকভাবে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। পরে ৩১ জুলাই রাতে তাকে মগবাজারের বাসা থেকে গ্রেফতার করে তার নামে মোট তিনটি চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয়েছে। গ্রেফতারের আগের দিন একটি ও গ্রেফতারের পর আরও দু’টি চাঁদাবাজির মামলা দেয়া হয় তার নামে। মামলাগুলো এখন বিচারাধীন রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



