প্রায় দশটা বছর হতে চললো সে আছে বিলাতে, এতোটা ঠান্ডা অবশ্য আর দেখেনি। সামনে কৃষ্টমাস, সাদাদের বড় বড় দোকান জিসিপত্রে ঠাসা। কিন্তু মানুষ কৈ?? ঠান্ডার ঠেলায় কেউই বের হতে চায় না। তার উপর আজকাল লোকজেন নাকি কেনা-কাটা ঘরে বসে ইন্টারনেটে করে!!! এইটা আরেক আজব ব্যাপার লাগে তার কাছে। সে বুঝে উঠতে পারে না এটা কিভাবে সম্ভব। তার দোকানের জিনিসপত্তর তো লোকজন ইন্টারনেটে কিনে না। আর সেও বুঝে না তার সবজি সে ইন্টানেটে কিভাবে বেচবে।
সেলও দিয়েছে অনেক বড় বড় দোকানে।বড় বড় দোকানের এই সেল ব্যাপারটা ফরজ এর বড় আজব লাগে। আজ এত বছর ধরে দেখছে কিন্তু এখনো বুঝে উঠতে পারে না। আরো আজব লাগে এদের উল্টা কারবার দেখলে!!!
বাংগালী এলাকার সবজীর স্টল দিসেবে সে আর তার পার্টনার রমজানের সময় সবজীর দাম কিছুটা বাড়ায়। কারন তখন লোকজন কিনে বেশী। দাম একটু বেশী হলেও বেচা বিক্রি ভালই হয়। সে বুঝে না ব্যবসায়ী হিসেবে লাভের একটা সুযোগ কেন হাতছাড়া করবে। অথচ সাদাদের দোকানে উল্টা কারবার। কাষ্টোমার এই সময় কিনবেই; দাম বেশী হলেও। এই সময় এদের দোকানে জিনিস পত্তর যেমুন বেশী কাষ্টোমারও বেশী তবুও দাম থাকে কম। প্রতি বছর এই সময়টাতে ফরজ মিয়া সুযোগ বুঝে বেশ কিছু চকলেট কিনে রাখতো দেশে পাঠানোর জন্য। দেশ থেকে যখন আসে তখন ছোট মেয়েটা বলেছিল আসার সময় চকলেট আনতে। যতবারই চকলেট কিনেছে ততবারই এই কথাটা বুকে বেজেছে। বন্ধু-বান্ধব পরিচিত জন দেশে যাবার সময় সারা বছর অল্প অল্প করে পাঠাত।
এবছর আর কিনতে হয় নাই। পরিবার পরিজন সাথেই আছে এই বছর....তবুও কেন যেন খুব ইচ্ছে করছিল মেয়েটার জন্য কিছু চকলেট কিনে। কিন্তু এদের কাউকেই যে ফরজ মিয়ার চেনা মনে হয় না। ছেলে - মেয়ে গুলো তো বটেই বউটাকে যেন অচেনা মনে হয়।
(চলতে পারে..)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জানুয়ারি, ২০১১ বিকাল ৫:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



