শিরোনাম কাড়তে আমাদের কোন জুড়ি নেই। আজকাল আমরা ঘন ঘন খবরের শিরোনাম হচ্ছি। এটা আনন্দ না দু:খের কথা তা পাঠকদের জন্য তুলে রাখলাম। ক’দিন আগে বিবিসিতে বাংলাদেশে টেলিফোনে আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে একটি মজার প্রতিবেদন পড়ছিলাম। দেশে ভিওআইপি উচ্ছেদ অভিযান চলছে। বীর বিক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সবাই অবৈধ ভিওআইপি উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে। বাসায় অফিসে তল্লাশি চলছে। যন্ত্রপাতি উদ্ধার চলছে। খবরের শিরোনাম দেখে আমরা আনন্দে উতফুল্ল হয়ে ধেই ধেই করে নাচছি। ভেংগে ফেলা সহজ। গড়া কঠিন। এতো দিন নাকে সর্ষের তেল দিয়ে সবাই ছিলেন। এখন এই মহতী উদযোগ সফল হতে দেখে আমরা যার পর নাই খুশী হচ্ছি। কিন্তু এর ফলাফল কি হবে তা নিয়ে ভাবার মতো মস্তিস্ক কারও কি আছে?
যারা পয়সা বানাবার বানিয়ে নিয়েছেন। টেলিযোগাযোগ কাঠামো কোথায়? ভিওআইপি অবৈধ। মানি। কারণ, সরকার পয়সা পাচ্ছে না। লুটেপুটে খাচ্ছে অন্যরা। মানি। কিন্তু ভিওআইপির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ যে সূলভ করা হয়েছিল তার বিকল্প কি? গরীব খেটে খাওয়া মানুষগুলো সহজে দেশে বিদেশে ফোন করতো তার কি ব্যবস্থা হলো? সপ্তাহের পর সপ্তাহ অনেকেই ফোন করতে পারছে না। আমার অফিসের এক পিওন তার এক ভাইয়ের ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে বলে স্যার যদি একটু ইমেইল করে বলতেন এই মাসে টাকা না পাঠালে মায়ের চিকিতসা বন্ধ হয়ে যাবে? খবরটা যদি একটু দেওয়া যায়। আহারে। দেশের মাথা সেই বুদ্ধির ঢেঁকিদের চিন্তা ক্ষমতা? আমলা হতে পারলেই হয়, মাছি মারা কেরানীর যোগ্য উত্তরসূরী।
সব যন্ত্রপাতি না খুলে এগুলোকে নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেত? কিন্তু এখন শিরোনামের বড্ডো দরকার। সাফল্যের সূচীপত্র দীর্ঘ করার বড্ডো দরকার। বৈধতার জন্য যদি দুর্ভোগ হয়, তা মাথা পেতে নিতে হবে। বিকল্প ভাবনার সুযোগ নেই। প্রযুক্তি আশীর্বাদ। তাই চুরি চামারি করে স্বল্প খরচে যারা ভিওআইপি কাঠামো দাঁড় করিয়েছিল, তা না ভেংগে সরকার কম দামে বেসরকারী ফোন ব্যবস্থা অটুট রাখতে পারত। পয়সাও ইনকাম করতে পারত। এখন টিএন্ডটির দিকে তাকিয়ে থাকুন। হয়তো আরেক দশক লাগবে সেই কাঠামো দাঁড় করাতে। দুর্ভোগ কিনতে কি পয়সা লাগে?
মন খারাপ করে কি হবে? তার চেয়ে এখানে টোকা দিয়ে চলুন আরেক দফা রবীন্দ্র সংগীত শুনি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ১১:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



