আজকে আর লিখতে মন চাইল না। শুধু পড়তে মন চাচ্ছিল। পড়ার জন্য তেমন কিছু পাচ্ছিলাম না। বসে বসে কবিতার বই দেখছিলাম। হঠাত নন্দগোপাল সেনগুপ্তের "ছাগলছানা" কবিতাটা পড়ে বেশ মজা পেলাম। ব্লগে আজকাল কবিতা চর্চা একেবারে কমে গেছে। সবার গদ্যাসক্তি হয়েছে প্রবল। তাই ছন্দের সন্ধানে চলুন ছাগলছানা মুখস্থ করার চেস্টা করি। কবিরা যে ভবিষ্যত ভেবেই কবিতা লেখেন, এই কবিতা না পড়লে আমার বিশ্বাসই হতো না:
"দুস্টু ছাগলছানা,
ছোট্র ছাগলছানা,
এক্ষুণি উঠানেতে এসো না!
আমার হয়নি লেখা,
হয়নি বানান শেখা,
এক্ষুণি অত গায়ে ঘেঁষো না!
তুমি কথা শোনো নাক,
ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে থাকো,
এলোমেলো কত কথা বলো যে!
আমি আছি কত কাজে,
তুমি মোটে বোঝো না যে,
টেনে টেনে মাঠে নিয়ে চলো যে!
গাছপালা আছে ঢের
তাই দিয়ে দুপুরের
খাওয়াটা কি শেষ করা চলে না?
আরো তো ছাগল আছে,
যাওনা তাদের কাছে-
তারা বুঝি কেউ কথা বলে না?
মা গিয়েছে নদীর-পার,
এত কি ভাবনা তার?
সন্ধ্যায় সে তা ফির আসবে।
চুক চুক দুধু নিয়ে
বুকের ভিতর নিয়ে,
তুমি বড় দুস্টুটি
খুদে খুদে চোখ দুটি,
লাফ দিয়ে কোলে ওঠো কেন গো?
কচি শিং নিয়ে,
পায়ে পায়ে খোঁচা দিয়ে,
অভিমানে ফুলে ওঠে যেন গো!
হবে নাক কিছু আজ,
পড়াশোন কোনো কাজ,
তুমি এসে এ সময়ে ধরেছো-
সারাটা দুপুর বেলা,
করতেই হবে খেলা,
ধারাপাত .... একি তুমি পড়েছো?
মন বুঝি খুশি নাই,
রাগারাগি এত তাই?
বেশ চলো, একটুকু খেলিগে-
বই খাতা থাক পড়ে,
খামারের পাছ দোরে,
পাতা দিয়ে বড় গড়ে ফেলিগে।
খালি খালি অত তুমি,
করো নাক দুস্টুমি,
চুপ করে কোলে বসে থাকো না -
ছাগল হয়েছে হও,
দু-একটি কথা কও,
কানে কানে মা-মা বলে ডাকো না"
কবিতা মুখস্থ হলে বোনাস হিসেবে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

