সারারাত তারে দেখি। যতবার চোখ খুলি দেখি মেয়েটা আমার সামনে বসে আছে । শুধু বসে থাকে না, মাঝে মাঝে হাসে। খুনসুটি করে- চুল নিয়ে, চশমা নিয়ে.........। আমি খুন হই। তার চোখ কথা বলে ( চোখ দুটো ছিল জেগে//কত দিন যেন সন্ধ্যা-ভোরের নটকান-রাঙ্গা মেঘে)
একবার ভাবি স্বপ্ন কিনা?(স্বপ্নে তার সাথে হয় দেখা.............) এত রাতে আমার এত কাছে কেন মেয়েটা? না, স্বপ্ন না। কিন্তু আমি স্বপ্নের ভিতর তারে দেখতে চাই। তাই চোখ বন্ধ করে ফেলি। আবার চোখ খুলি। এইতো সে আমার এক হাতের ব্যবধানে বসে আছে(আমার এত কাছে , আশ্বিনের এত বড় আকাশে, আর কাকে পাবো বলো এত গভীর অনায়াসে...........)। এত কাছে যে হাত বাড়ালেই তারে ধরতে পারি, ছুয়ে দিতে পারি (এতটুকু চায়নি বালিকা! অতো হৈ রৈ, অতো ভীড়, অতো সমাগম! চেয়েছিল আরো কিছু কম!)।
মেয়েটা বসে আছে আমার মুখোমুখি (দুজনে মখোমুখি, গভীর দুখে দুখি........)। সারারাত। সারারাত আমরা কাছাকাছি। আামি গভীর নিদ্রায় তলিয়ে যেতে থাকি। আবার চোখ খুলি, আবার তারে দেখি। জেগে থাকার আপ্রাণ চেষ্ঠা করি। কিন্তু তার চোখে যে নেশা মাখানো (চোখ দুটো ঘুমে ভরে//ঝরা ফসলের গান বুকে নিয়ে আজ ফিরে যাই ঘরে)। সে নেশায় আমি ক্রমাগত ডুবে যেতে পারি।
আবার তার চোখ দেখার তেষ্ঠাই আমাকে জাগিয়ে তুলে। (গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার//তাকিয়ে দেখলাম পান্ডুর চাঁদ বৈতরনীর দিক থেকে তার অর্ধেক ছায়া ঘুটিয়ে নিয়েছে যেন কীর্তিনাশার দিকে)।আমি জাগি, ঘুমাই। ঘুমাই, জাগি। সারারাত সে আমার কাছে। আহ (সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটির কথা হয়)!
স্বপ্ন নয় (অর্থ নয়, বিত্ত নয়, কোন এক বোধ , আমাদের ক্রমাগত ক্লান্ত করে, ক্রান্ত করে)। বাস্তবে সে আমার কাছে । একদম কাছে। বাইরে বিশাল চাঁদ। জোৎস্না মাখা। আমরা চার কামরার ভিতরে। আমার কেবল মনে হতে থাকে কোন চাঁদটা বেশী মায়াবতি ( জোৎস্নায় ফেরা জাগুয়ারা চাঁদ দাঁতে ফালি ফালি করেছে আমারও প্রেমিক হৃদয়)।
সকালের দিকে বৃষ্টি নামে। এর মধ্যেই আলো ফুটলেই সে চলে যায়। ( হে বাদলের পরী, যাবে কত দুরে, ঘাটে বাধা কেতকি পাতার তরী)। আমি তার নামও জানি না। জিজ্ঞেস করার অবসরও পাইনি। সে চলে যায় (গোলাপের নীচে নিহত হে কবি কিশোর আমিও ভবঘুরেদের প্রধান ছিলাম)।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

