somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক ফ্যান ফিকশনঃ হিমু,মিসির আলী ও অন্যান্য... (চতুর্থ অংশ)

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের অংশ
৬.

চকচকে কাগজে র‍্যাপিং করা বাক্সটা নেড়েচেড়ে দেখতে দেখতে মিসির আলি বললেন, বাক্সটার আকার চারকোনা। তারমানে এর ভিতরে থাকা জিনিসটাও চারকোনা।

বাকেড় ভাই বললেন, চারকোনা বাক্সে চারকোনা জিনিস থাকবে এটা তো স্বাভাবিক। ইটস নরলাম ম্যাটার।

মিসির আলি বিরক্ত হয়ে বললেন, গোলাকার দেয়াল ঘড়ি রাখার বাক্স কি গোলাকার হয়?

'হয় না। আমি পিজ্জা খেয়ে দেখেছি। ইটস অল সো রাউন্ড বাট বাক্স চারকোনা।'

তর্কাতর্কি হতে পারে ভেবে আমাকে নাক গলাতে হলো। আমি নাক এগিয়ে বললাম, 'আমাদের বাক্সে কি আছে তাতে নজর দেওয়া উচিৎ। '

'হুম। এটা তোমাকে কে দিয়েছে?'
'বাদল।'
'এখানে কি আছে তা জানার আগ্রহের কারন?'

'বাদল এমন এক মেয়েকে এই উপহার দিতে চাচ্ছে, যার কাছে থেকে সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। একারণেই আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, ফিরিয়ে দেওয়া মানুষকে মানুষ কি দিতে পারে?'

'ইটস সো উইয়ার্ড। রাসেল ভাইকে জানানো উচিৎ।' বাকের ভাই এফ এম শুনতে শুনতে বললেন।

'ভালোবাসার মানুষের জন্য মানুষ তাজমহল বানাতে পারে, ট্রয়ের যুদ্ধ বাঁধাতে পারে, কিন্তু প্রত্যাখ্যাত ,মানুষের জন্য মানুষ কি করতে পারে? এটা আসলেই অনেক জটিল হয়ে যাচ্ছে।' মিসির আলি খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন।

আমি মুখ কাঁচুমাচু করে বললাম, 'একটা কথা বলি।'

মিসির আলি বাক্স থেকে মাথা তুলে বললেন, বল।

'খুব ক্ষুধা লেগেছে। গরম ভাত আর মচমচে আলু ভাজি, সাথে ঘি হবে?'

'সবই হবে। শুধু রান্না করতে হবে।'

বাকের ভাই বললেন, আই এম অলসো হাংগ্রি। হেই গাইস, চলেন পাক করি।'

বুঝলাম, বাকের ভাইকে এফ এম রোগে ধরেছে। আগে তো ভুলভাল ইংরেজি বলতেন। এখন ভুলভাল বাংলা বলছেন। আমি একটু মজা করি।

'বাকের ভাই, আমরা তো পুরুষ জাতি। আমাদের গাইস না ষাঁড়স বলা উচিৎ। ষাঁড়সসস।। চন্দ্রবিন্দু আছে, নাক দিয়ে বলতে হবে।'

'উকে, গাইস, মানে ষাঁড়সসস।'

শুধু গরম ভাত আর মচমচে আলু ভাজিই না সাথে কৈ মাছ তিনটাও ভাজি হলো। বেচারাদের আর লাল নীল একুরিয়ামে থাকা হলো না। ভাগ্য বড়ই নিষ্ঠুর। কিন্তু কৈ মাছ ভাজিটা চমৎকার হয়েছে। মজা লাগছে। একেই বলে কারও পৌষ মাস কারও সর্বনাশ।

মিসির আলি খেতে খেতে বললেন, যার ভাগ্যে যেটুকু রিজিক থাকে তা সে অবশ্যই পাবে। একটা ঘটনা বলি, একবার এক লোক নবীজি (সঃ) এর কাছে এসে বলল, সবার রিজিকই নাকি নির্ধারিত?

নবীজি (সঃ) বললেন, হ্যাঁ।
লোকটা তখন একটা গমের দানা হাতের তালুতে এনে বলল,'তাহলে বলেন তো এই গমের দানা কার রিজিকে আছে?'
'আমি কি করে বলব? সবকিছু জানেন আল্লাহ। আমি তার একজন বান্দা মাত্র।'

লোকটা নাছোড়বান্দা হলে নবীজি (সঃ) আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ:) এসে নবীজিকে জানিয়ে গেলেন, অমুক এলাকার তমুক বাড়ির অমুক লাল মোরগের রিজিকে এই দানা আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন।

লোকটাকে এটা জানাতেই লোকটা দ্রুত মুখে চালান করে দিয়ে বললেন, এখন বলেন আপনার আল্লাহ ভুল কিনা।

নবীজি (সঃ) কিছু বললেন না। শুধু একটু মুচকি হাসলেন।

এদিকে লোকটা দ্রুত দানাটা খেতে দিয়ে দানাটা গলায় না গিয়ে নাকে আটকে গেল। বেচারা তো খুব কষ্টে আছে। বেচারা বাধ্য হয়ে এক হেকিমের কাছে গেল। হেকিম ওষুধ দিল। ওষুধ দিতেই লোকটা হাঁচি দিল। হাঁচির চোটে গমের দানা নাক থেকে বেড়িয়ে উঠানে পড়ল। অমনি এক লাল মোরগ এসে সেটা খেয়ে নিল।

এই কৈ মাছ খেতে খেতে এই ঘটনার কথাই মনে হচ্ছে।

আমি বললাম, 'একটা কথা বলি।'

বাকের ভাই পানি পান করতে করতে বললেন, 'টেল। বল।'

'বাদল যে মেয়ের জন্য এই উপহার দেওয়ার জন্য আমাকে পাঠিয়েছে, সে মেয়েটা এক মাস ৪ দিন আগে মারা গিয়েছে। এ কারনেই আপনার কাছে আসা।'

মুহূর্তেই আমার মুখে কেউ পানি ঢালল। মনে হয় আমি জেগে আছি নাকি ঘুমিয়ে আছি সেটা জানার জন্য। আসলে তা না, বাকের ভাই উত্তেজনায় আমার মুখে কুলি করে দিয়েছে। ইটস সো ডার্টি।

বাকের ভাই বললেন, ইটস সো উইয়ার্ড। রাসেল ভাই, আই আম কামিং সুন।'

মিসির আলি অনেক ভেবে বিজ্ঞানী হ্যালির মতোই বললেন, 'নো কমেন্ট।',

আমাদের মাঝে একটা নীরবতা নেমে এল। পিন পতন নীরবতা।

১৪.১১.১৪

(চলবে)
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×