somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক ফ্যান ফিকশনঃ হিমু,মিসির আলী ও অন্যান্য... (ষষ্ঠ অংশ)

১৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের অংশ
৮.
আমি বেরিয়ে পড়লাম। ভালো লাগছে না। মিসির আলি বাক্স রহস্য উদঘাটন করুক, বাকের ভাই মুনাকে খুঁজে পাক, আমি হেঁটে আসি।

রাত বেশ গভীর। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোয় চারদিক ভরে আছে। চাঁদের আলো তাতে মোটেও পাত্তা পাচ্ছে না। 'সভ্যতা, তুমি দিয়েছ বেগ, কেড়ে নিয়েছ আবেগ।' আজকালকার কবিরা কি জ্যোৎস্না স্নান করে? তাদের কবিতায় তো চাঁদের স্থলে এখন ল্যাম্পপোস্টের স্থান।

ঈশ্বরচন্দ্র ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়ে বিদ্যাসাগর হোন, আর আমাদের সুপারস্টার সাকিব খান ল্যাম্পপোস্টের আলোয় বুয়েটে পড়াশোনা করে টেক্সটাইলের ইঞ্জিনিয়ার হোন। কেয়া ব্যাত হে!

নাহ! উদ্দেশ্যহীন ভাবে হাঁটতে ভালো লাগছে না। উদ্দেশ্য দরকার। সামনে একজন লোক হেঁটে যাচ্ছে। বাম কাঁধে ঝুলানো একটা ছোট ব্যাগ। বাম হাত দিয়ে শক্ত করে ব্যাগের বেল্ট ধরে ডান হাত দুলিয়ে দুলিয়ে হন হন করে হাঁটছে। আমিও কয়েক গজ পিছনে তার মতো ডান হাত দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটতে লাগলাম। মন্দ লাগছে না।

লোকটা বোধহয় টের পেয়েছে। কিছুক্ষণ হাঁটার গতি কমিয়ে দিয়েছিল, তারপর হাঁটার বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি বাড়িয়ে দিলাম। নিজেকে দুষ্ট লোক মনে হচ্ছে, মনে হচ্ছে কারও পিছু নিয়েছি। লোকটা ভয় মাখা চোখে একবার পিছনে তাকাল। আমি বোকার মতো হাসি দিলাম। লোকটা ভয় মাখা চোখ ফিরিয়ে নিয়ে জোরে হাঁটা শুরু করে দিল।

লোকটা অহেতুক ভয় পাচ্ছে, এতে আমার খারাপ লাগার কথা, কিন্তু আমার বেশ আনন্দ লাগছে। আমি দ্বিগুণ উৎসাহে তার পিছু নিচ্ছি। মানুষ সবসময় চায় কেউ তাকে ভয় পাক। স্বামী চায় স্ত্রী তাকে ভয় পাক, স্ত্রী চায় স্বামী তাকে ভয় পাক। বিয়ের রাতে একারণেই বিড়াল মারার একটা প্রথা আছে। এই বিড়াল বাস্তবের বিড়াল না, কাল্পনিক বিড়াল। যে মারতে পারবে, বাকি জীবনটা তার শাসনে কাটবে।

কিন্তু একটা কথা সর্বস্বীকৃত, জগতের সবচেয়ে পরাক্রমশালী লোকও তার স্ত্রীর কাছে অসহায়।

হঠাৎ মাথায় চাপা ব্যথা অনুভব করলাম। এটা তো খুব খারাপ। মনে হচ্ছে ভয়ংকর মাথা ব্যথা আবার আসছে। ব্যথা কাবু করার আগেই আমার মেসে ফেরা উচিৎ। গিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে মাথা ভেজা গামছায় ঢেকে ঠান্ডা মেঝেতে শুয়ে থাকতে হবে। কিন্তু মেসে ফিরতে ইচ্ছে করছে না। কড়া ঘুমের ওষুধ খেতে হবে। দশ মিলিগ্রামের চার-পাঁচটা হিপনল ট্যাবলেট।

পিছু নেওয়া বাদ দিয়ে একটা ফার্মেসিতে গেলাম। লোকটাকে কিছু বলার আগেই উঠে গেলেন। ভ্রু কুঞ্চিত করে এক গ্লাস পানি এনে দিলেন, ৫টা হিপনল দিলেন, আর একটা বেঞ্চ দেখিয়ে দিলেন। আমি তো অবাক, এনার ইনট্যুশন ক্ষমতা তো আমার চেয়ে বহুগুণ বেশি।

লোকটা বলল, 'আমি আপনাকে চিনি। আপনি হিমু ভাই। অনেক দিন আগে এসেছিলেন। অনেক কান্ড করেছিলেন। আমি মনে রেখেছি। এখন টেলিফোন নেই, মোবাইল আছে। লাগবে?'

'না। তবে আমার মোবাইলটা চার্জে দিন। খুব গুরুত্বপূর্ণ কল আসবে। রূপার কল আসবে।'

আমি বেঞ্চে শুয়ে পড়লাম। আমরা কাউকে কাউকে অকারণেই মনে রাখি। অনেক যত্নে মনে রাখি। ঠিক যেমন করে গ্রাম্য বঁধু সেলাইয়ের ফোঁড়ে লিখে রাখে তার কিশোরী মনের না বলা ভালোবাসার কথা।

মাথা ব্যথা বাড়ছে, ঘুমও আমাকে গ্রাস করছে। আমি তলিয়ে যাচ্ছি যেন কোন এক জলে। ময়ূরাক্ষীর জলে। তীরে ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা। তীরে যেন কেউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। চিরচেনা কেউ। আমি ডুবে যাচ্ছি, আবার ভেসে উঠছি। তীরের মানুষটা আমাকে ইশারায় ডাকছে। মানুষটা একজন নারী। খুব পরিচিত একজন নারী। কিন্তু সবকিছু কেমন ঝাপসা। একটা সময় সবকিছু অন্ধকার।

১৬.১১.১৪
(চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৩:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৯

প্রচারণার বেলুন যত বড়ই হোক, বাস্তবতার সূচের সামনে তা এক মুহূর্তেই চুপসে যায়।
=======================================
অক্সফোর্ড ইউনিয়ন ও অক্সফোর্ড বাংলা সোসাইটি নামের ব্রিটেনের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছোট সংগঠন থেকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাকাজার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×