[কাল্পনিক। বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলি কম বুঝি। কোনো কিছুর ভুল ব্যাখ্যা লিখে থাকলে দুঃখিত]
বিজ্ঞানের এক প্রফেসর একদিন ক্লাসে বলছিলেন পৃথিবীতে যুক্তি ছাড়া কোনো ঘটনা ঘটে না। আর পৃথিবীতে এখন বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান যেটা মানবে না, পৃথিবীও সেটা মানবে না। আর বিজ্ঞানে যুক্তিহীন কোনো কিছু সমর্থিত হয় না।
তো তিনি সেদিন ক্লাসে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহকে নিয়ে যে বিজ্ঞানের বিরোধিতা রয়েছে, সেটা ব্যাখ্যা করতে চাইলেন। তাই তিনি তার ক্লাসের নতুন এক ছাত্রকে দাঁড় করালেন।
প্রফেসর: তুমি কি সৃষ্টিকর্তা তথা আল্লাহকে বিশ্বাস করো?
ছাত্র: অবশ্যই, স্যার।
প্র: তিনি কি ভালো?
ছাত্র: কোনো সন্দেহ নেই, স্যার।
প্র: তার কি সবকিছু করার ক্ষমতা রয়েছে?
ছাত্র: এতেও কোনো সন্দেহ নেই, স্যার।
প্র: কিছুদিন আগে আমার ভাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কিন্তু সে দিন-রাত সৃষ্টিকর্তার কাছে রোগ থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছিল। আমরা কাউকে রোগমুক্ত করতে পারলে অবশ্যই করতাম। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা করেননি। তবুও তিনি কেন ভালো?
ছাত্র কোনো উত্তর দিতে পারলো না।
প্র: আমি জানি এর কোনো উত্তর তোমার কাছে নেই। ঠিক আছে, অন্যদিক থেকে চিন্তা করি। সৃষ্টিকর্তা যদি ভালো হয়, শয়তান কি ভালো?
ছাত্র: মোটেই না, স্যার।
প্র: শয়তানকে কে সৃষ্টি করেছে?
ছাত্র আমতা আমতা করে উত্তর দিলো: সৃষ্টিকর্তাই।
প্র: পৃথিবীতে কি খারাপ মানুষ, খারাপ বস্তু তথা evil things নেই?
ছাত্র: আছে, স্যার।
প্র: আর সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন?
ছাত্র: জ্বী, স্যার।
প্র: তাহলে সৃষ্টিকর্তা ভালো হলে তিনি খারাপ বস্তু কেন সৃষ্টি করলেন?
অল্পবয়সী ছাত্রের কাছে এই প্রশ্নেরও কোনো উত্তর ছিল না।
প্র: পৃথিবীতে অমানবিকতা, অত্যাচার, নির্যাতন, নিপীড়ন ইত্যাদি এসব রয়েছে। সত্যি কি না?
ছাত্র: সত্যি, স্যার।
প্র: এগুলো কে সৃষ্টি করেছে?
ছাত্র আবারো চুপ হয়ে গেল।
প্র: বিজ্ঞান আমাদের বলছে প্রতিটি সাধারণ মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয় (sense) রয়েছে আশেপাশের সবকিছুকে দেখার জন্য, শোনার জন্য, বোঝার জন্য, পর্যবেক্ষণ করার জন্য এবং অনুভব করার জন্য। যাদের মধ্যে এর কোনো একটি বা একাধিকটি নেই, তাদেরকেই প্রতিবন্ধী বলা হয়। তুমি কি প্রতিবন্ধী?
ছাত্র: না, স্যার।
প্র: তাহলে তুমি কি সৃষ্টিকর্তাকে দেখেছো, অনুভব করেছো, তার কথা শুনেছো?
ছাত্র মিনমিনিয়ে উত্তর করলো: না, স্যার।
প্র: তবুও তুমি বিশ্বাস করো সৃষ্টিকর্তা একজন আছেন?
ছাত্র: হ্যাঁ, স্যার।
প্র: পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যুক্তি ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী বিজ্ঞান বলছে তোমার সৃষ্টিকর্তা আসলে নেই। এখন তুমি কী বলবে?
ছাত্র: কিছুই বলবো না, স্যার। আমার শুধু বিশ্বাস (Faith) আছে সৃষ্টিকর্তার উপর।
প্র: হ্যাঁ, বিশ্বাস। এটাই বিজ্ঞানের প্রধান সমস্যা। বিজ্ঞান বিশ্বাসের উপর নির্ভর করতে রাজী নয়।
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো ছাত্র। প্রফেসর তার নিজের বক্তব্য পরিষ্কার করতে পেরেছেন মনে করে চলে যেতে উদ্যত হলে ছাত্র তাকে ডেকে থামালো।
ছাত্র: স্যার, অন্ধকার বলে কি কিছু আছে?
প্র: আরে, অবশ্যই আছে। থাকবে না কেন। অন্ধকার না থাকলে রাত আসতো কোত্থেকে? হাসতে লাগলেন প্রফেসর।
কিন্তু ছাত্রের মুখে হাসি নেই। ছাত্র নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিলো: আপনি ভুল বলছেন, স্যার। অন্ধকার বলে কিছু নেই।
ক্লাসের সবাই চুপ হলে গেল। বলে কি!
ছাত্র: স্যার, আপনি বিভিন্ন পাওয়ারের আলো বয়ে নিয়ে বেড়াতে পারেন। আপনার বিজ্ঞান দিয়ে বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন শক্তির আলো উৎপাদন করতে পারেন। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে সূর্য থেকে আমরা আলো পেয়ে থাকি। কিন্তু স্যার, আপনি কি অন্ধকার উৎপন্ন করতে পারবেন? সত্যি কথা হচ্ছে এটাই যে, অন্ধকার বলে কিছু নেই। থাকলে আপনি রাতের অন্ধকারকে আরো গাঢ় করে তুলতে পারতেন। আপনি স্যার চাইলেই এই রুমের আলো আরও উজ্জ্বল করতে পারবেন। কিন্তু রাতের অন্ধকারকে কি গাঢ় করতে পারবেন?
অন্ধকার বলে কিছু নেই, স্যার। আলোর অনুপস্থিতিই হচ্ছে অন্ধকার। যত আলো অপসারণ করবেন, অন্ধকার ততই গাঢ় হবে।
ক্লাসজুড়ে পিন-পতন নীরবতা। অকাট্য যুক্তি। সবার দৃষ্টি প্রফেসরের দিকে।
প্র: তা তুমি কী বলতে চাচ্ছো? তোমার পয়েন্টটা কী?
ছাত্র: আমি বলতে চাচ্ছি স্যার আপনার তর্কের যে মূল ভিত্তি, যুক্তি, সেটা ত্রুটিপূর্ণ।
প্র: ও আচ্ছা, তাই নাকি? ব্যাখ্যা করতে পারবে কী ভাবে বা কেন ত্রুটিপূর্ণ?
ছাত্র: স্যার, আপনি দু'টো জিনিসের উপর আপনার যুক্তি উপস্থাপন করছেন। সৃষ্টিকর্তা ভালো কি খারাপ, তিনি সত্যিই আছেন কি না ইত্যাদি। আপনার ধারনা হচ্ছে এই যে, সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায় কি না, ছোঁয়া যায় কিনা, শোনা যায় কিনা এসবের মধ্য দিয়ে তার অস্তিত্ব বিচার করা। কিন্তু স্যার, বিজ্ঞান সবকিছুর সঠিক ধারনা দিয়ে থাকে না। বিজ্ঞানের মতে, জীবনের বিপরীত কী স্যার?
প্র: অবভিয়াসলি মৃত্যু।
ছাত্র: স্যার, মৃত্যু বলে কিছু নেই। বিজ্ঞান এই কথা বুঝতে ভুল করেছে যে মৃত্যু বলে কিছু নেই। মৃত্যু ধরা যায় না, শোনা যায় না। তবুও কিন্তু বিজ্ঞান মৃত্যুকে বিশ্বাস করে।
স্যার, জীবনের অনুপস্থিতিই মৃত্যু।
ক্লাস নিশ্চুপ।
ছাত্র: স্যার, আপনি কি আপনার শিক্ষার্থীদেরকে এই শিক্ষা দেন যে তাদের বিবর্তন বানর থেকে?
প্র: অবশ্যই।
ছাত্র: স্যার, আপনি কি কখনও কোনো বানরকে মানুষ হতে দেখেছেন? বা মানুষের আদিজাতি কোনো বানরের সঙ্গে কথা বলেছেন যে আপনাকে বলেছে যে, তাদের নাতি-নাতনিরাই মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে?
পুরো ক্লাস হেসে উঠলো। একটু আগের মতো শুধু একজন হাসতে পারলো না। তখন ছিল ছাত্রটি, কিন্তু এবার হাসলেন না প্রফেসর। তবে মাথা ঝাঁকালেন। তিনি বুঝতে পারছেন তর্ক কোনদিকে যাচ্ছে।
ছাত্র: স্যার, কেউই প্রাণীজগতের এই বিবর্তন নিজ চোখে দেখেনি। তবুও খোদ বিজ্ঞান নিজেই এই বিবর্তনকে বিশ্বাস করে। আর যদি না করে, তাহলে কি আপনি আপনার মতামত বা ধারণাটাই আমাদেরকে শেখাচ্ছেন?
প্রফেসর নিশ্চুপ।
ছাত্র এবার খানিকটা উচ্চ স্বরে বলল, ক্লাসে কি এমন কেউ আছে যে প্রফেসরের ব্রেইন দেখেছে?
সবাই হাসিতে ফেটে পড়লো এই প্রশ্ন শুনে। প্রফেসর ছাত্রের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।
ছাত্র বলে চলল, এখানে কি এমন কেউ আছে যে প্রফেসরের ব্রেইন স্পর্শ করে দেখেছে, অনুভব করেছে?
অন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়ায় বোঝা গেল কেউই দেখেনি।
ছাত্র: তাহলে স্যার, আপনার যুক্তিবিদ্যা, পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী....
আপনার কোনো ব্রেইন নেই।
প্রফেসর নিচের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ছাত্র জিজ্ঞেস করলো: স্যার, যথাযথ সম্মানের সঙ্গে জিজ্ঞেস করছি, এরপরও আমরা আপনি যে আমাদের সঠিক পড়াচ্ছেন, এটা কী করে মানবো?
প্রফেসর মিনমিনিয়ে উত্তর দিলেন: আমার ধারণা, বিশ্বাস (Faith) করে।
ছাত্র: এটাই আমি বলতে চাচ্ছি, স্যার।
The link between Man and God is Faith.
That is all that keeps things moving & alive.
কপি-পেস্ট (অন্যত্র পোস্ট) নিষিদ্ধ।
বিজ্ঞাপনঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



