গতকাল আমার বান্ধবী হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো আমি খিচুড়ি পছন্দ করি কি না। ওকে খালি বান্ধবী বললে ভুল হবে। আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড হলো এই মেয়েটা। তো আমি কাল সকালে পরীক্ষার হলে বসেই ভূনা খিচুড়ির স্বপ্ন দেখছিলাম।
যাই হোক, না করলাম। বললাম আজ না আরেকদিন। কুরবানীর ঈদে গিয়ে মাংস খাওয়ার কথা বলে এড়ালাম। এছাড়াও গতকাল ও যখন বলল তখন প্রায় দেড়টা বাজে। তখন যাওয়ারও সময় ছিল না।
কিন্তু কে জানতো আজকে গতকালের তুলনায় আরো বেশি বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও আজই ওর বাসায় যাওয়া হবে?
বরাবরের মতোই ১২টার দিকে বলে বসলো ওর মা আজও খিচুড়ি রান্না করেছে তাই আমাকে যেতে হবে। আমি প্রথমে না করলাম। পরে বললাম, তুই আরো সকালে বললে হয়তো যেতে পারতাম। এখন তো দুপুর হয়ে গেছে। নামাজের ব্যাপার আছে। তাছাড়া রেডি হতেও তো সময় লাগে নাকি? তো ও মানবে না। ওর এক কথা আজ যেতেই হবে। এড়ানো যাবে না। তো আমি দুষ্টুমি করে বললাম তুই সকালে বললেই যেতে পারতাম। এখন দুপুরে বলছিস তাই আর যেতে পারছি না। আমার রিজিকটা নষ্ট করলি তুই।
কোন দুঃখে যে এই কথা বলতে গেছিলাম। ও এইটা আন্টিকে বলে দিলো। আন্টির সঙ্গেও আমার কখনো দেখা হয়নি বা আমাকে চিনতেন না। তবে আমার কথা জানতেন। তো উনি ওকে বললেন আমাকে যেতে বলতে। ব্যস! ওকে আর পায় কে। এখন আমি না গেলে নাকি ওর মায়ের কাছে ওর মান-সম্মান থাকবে না! কোন জ্বালায় পড়লাম!
পরে পড়লাম আরেক বিপদে। বাসায় ছাতা একটাই। সেটা নিয়ে আব্বু নামাজে চলে গেছে। আমি গোসল করে বের হয়ে আর ছাতা পেলাম না বাসায়। তখন ওকে অনলাইনে পেয়ে বললাম, দেখ দোস্ত এখন তো নতুন বিপদ। কিন্তু ও মানলো না। ওর কথা, পলিথিন মাথায় দিয়ে হলেও আজ যেতেই হবে। আন্টি নাকি আমি যাবো এর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। যেমন, ঘরের জিনিসপত্র ঠিকঠাক করা ইত্যাদি। এখন না গেলে আন্টি মাইন্ড করবেন।
বৃষ্টি যখন কমলো, তখন আমার আম্মু বাঁধালো আরেক ভেজাল। আম্মুর মতে, বৃষ্টির মধ্যে দাওয়াত খেতে গেলে নাকি খারাপ দেখায়। অবশ্য এদিকে ঘটনা আর দাওয়াত খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কী করা যায়! পরে কোনোরকমে বের হলাম। তখন বৃষ্টি থেমেছে।
যাই হোক, ওর বাসা চিনতে সমস্যা হলো না। বাসায় ঢোকার আগেই আন্টির সঙ্গে দেখা। উনি দরজা থেকে সোজা খাওয়ার টেবিলে বসালেন। খিচুড়ির সঙ্গে দিলেন বেগুন ভর্তা আর আলু ভর্তা। যথেষ্ট মজা হয়েছিল
খাওয়ার পর হাত মোছার জন্য কিছু নেই।
তারপর আর কি। ড্রয়িং রুমে বসে ওর সঙ্গে একশোটা গল্প করা। এর মধ্যে আবার আন্টি, ভাইয়া আর ভাবি বাইরে চলে গেল। আমরাও কোত্থেকে যেন রাজ্যের সব কথা এনে বলতে থাকলাম। এতো কথা কখনো বলেছি কি না সন্দেহ আছে। তবে ওর সাথে আমি কথা বেশিই বলি। বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা।
পাঁচটার দিকে বাসায় ফিরলাম। ওর কাল পরীক্ষা। আমারও পরীক্ষা। নাহলে হয়তো প্যাঁকপ্যাঁকানি সহজে থামতো না।
এখন রাত সাড়ে নয়টায় ও মেসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করছে, 'আমাকে দেখে কী মনে হলো?' আমি কতক্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। পরে বললাম, 'ঠিক আছে। নাটকীয় কায়দায় বলবো। তুই দেখতে যেমন হবে মনে করেছিলাম....(চলবে) বাকিটা কাল বলবো।'
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



