somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বান্ধবীর বাসা থেকে ফিরে আজাইরা পোস্ট /:)

০৮ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৯:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গতকাল আমার বান্ধবী হঠাৎ জিজ্ঞেস করলো আমি খিচুড়ি পছন্দ করি কি না। ওকে খালি বান্ধবী বললে ভুল হবে। আমার একমাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড হলো এই মেয়েটা। তো আমি কাল সকালে পরীক্ষার হলে বসেই ভূনা খিচুড়ির স্বপ্ন দেখছিলাম। :( ও জিজ্ঞেস করার পর বললাম, হ্যাঁ, করি। কেন? তখন ও বলল যে ওর মা নাকি খিচুড়ি রান্না করেছে। আমি বললাম, তাতে আমার কী? /:) তো ও তখন ওর বাসায় দাওয়াত দিলো। ওর বাসায় কখনো যাইনি। আসলে ওর সঙ্গে কখনো দেখাই হয়নি। পরিচয় নেটে আর ফোনে হলেও আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের জায়গা ঠিকই দখল করে নিয়েছে।

যাই হোক, না করলাম। বললাম আজ না আরেকদিন। কুরবানীর ঈদে গিয়ে মাংস খাওয়ার কথা বলে এড়ালাম। এছাড়াও গতকাল ও যখন বলল তখন প্রায় দেড়টা বাজে। তখন যাওয়ারও সময় ছিল না।

কিন্তু কে জানতো আজকে গতকালের তুলনায় আরো বেশি বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও আজই ওর বাসায় যাওয়া হবে?

বরাবরের মতোই ১২টার দিকে বলে বসলো ওর মা আজও খিচুড়ি রান্না করেছে তাই আমাকে যেতে হবে। আমি প্রথমে না করলাম। পরে বললাম, তুই আরো সকালে বললে হয়তো যেতে পারতাম। এখন তো দুপুর হয়ে গেছে। নামাজের ব্যাপার আছে। তাছাড়া রেডি হতেও তো সময় লাগে নাকি? তো ও মানবে না। ওর এক কথা আজ যেতেই হবে। এড়ানো যাবে না। তো আমি দুষ্টুমি করে বললাম তুই সকালে বললেই যেতে পারতাম। এখন দুপুরে বলছিস তাই আর যেতে পারছি না। আমার রিজিকটা নষ্ট করলি তুই। :((

কোন দুঃখে যে এই কথা বলতে গেছিলাম। ও এইটা আন্টিকে বলে দিলো। আন্টির সঙ্গেও আমার কখনো দেখা হয়নি বা আমাকে চিনতেন না। তবে আমার কথা জানতেন। তো উনি ওকে বললেন আমাকে যেতে বলতে। ব্যস! ওকে আর পায় কে। এখন আমি না গেলে নাকি ওর মায়ের কাছে ওর মান-সম্মান থাকবে না! কোন জ্বালায় পড়লাম!

পরে পড়লাম আরেক বিপদে। বাসায় ছাতা একটাই। সেটা নিয়ে আব্বু নামাজে চলে গেছে। আমি গোসল করে বের হয়ে আর ছাতা পেলাম না বাসায়। তখন ওকে অনলাইনে পেয়ে বললাম, দেখ দোস্ত এখন তো নতুন বিপদ। কিন্তু ও মানলো না। ওর কথা, পলিথিন মাথায় দিয়ে হলেও আজ যেতেই হবে। আন্টি নাকি আমি যাবো এর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। যেমন, ঘরের জিনিসপত্র ঠিকঠাক করা ইত্যাদি। এখন না গেলে আন্টি মাইন্ড করবেন। :(

বৃষ্টি যখন কমলো, তখন আমার আম্মু বাঁধালো আরেক ভেজাল। আম্মুর মতে, বৃষ্টির মধ্যে দাওয়াত খেতে গেলে নাকি খারাপ দেখায়। অবশ্য এদিকে ঘটনা আর দাওয়াত খাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কী করা যায়! পরে কোনোরকমে বের হলাম। তখন বৃষ্টি থেমেছে।

যাই হোক, ওর বাসা চিনতে সমস্যা হলো না। বাসায় ঢোকার আগেই আন্টির সঙ্গে দেখা। উনি দরজা থেকে সোজা খাওয়ার টেবিলে বসালেন। খিচুড়ির সঙ্গে দিলেন বেগুন ভর্তা আর আলু ভর্তা। যথেষ্ট মজা হয়েছিল :P। তারপর যথারীতি মাংস। খাওয়ার মধ্যেই ওর ভাই আর ভাবি আসলো। তাদের সঙ্গেও পরিচিত হলাম।

খাওয়ার পর হাত মোছার জন্য কিছু নেই। :-* বেসিনের উপর যে তোয়ালে থাকে সেটা নাকি ধোয়ার জন্য দিয়েছে। আর টিস্যু পেপারও শেষ। (আমার কপালেই সব...) আর শয়তানটা ওদের সামনেই বলে প্যান্টে হাত মুছতে। X(X(( আমি আর কী করি। হাতটা হাওয়ায় রেখেই শুকালাম। :((

তারপর আর কি। ড্রয়িং রুমে বসে ওর সঙ্গে একশোটা গল্প করা। এর মধ্যে আবার আন্টি, ভাইয়া আর ভাবি বাইরে চলে গেল। আমরাও কোত্থেকে যেন রাজ্যের সব কথা এনে বলতে থাকলাম। এতো কথা কখনো বলেছি কি না সন্দেহ আছে। তবে ওর সাথে আমি কথা বেশিই বলি। বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা। :D

পাঁচটার দিকে বাসায় ফিরলাম। ওর কাল পরীক্ষা। আমারও পরীক্ষা। নাহলে হয়তো প্যাঁকপ্যাঁকানি সহজে থামতো না। :P:P


এখন রাত সাড়ে নয়টায় ও মেসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করছে, 'আমাকে দেখে কী মনে হলো?' আমি কতক্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। পরে বললাম, 'ঠিক আছে। নাটকীয় কায়দায় বলবো। তুই দেখতে যেমন হবে মনে করেছিলাম....(চলবে) বাকিটা কাল বলবো।' =p~ =p~ ওর মেজাজ এখন চরমে। আমি ফের পড়তে বসতে যাচ্ছি। মাঝের সময়টায় পোস্টটা লিখে ফেললাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১১ রাত ১১:২৬
১৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×