somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুভি রিভিউ: Quarantine - গতকাল যে ছবিটা গা কাঁপিয়েছে :|

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৮:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
প্রথম প্রকাশ



একটি হরর মুভিতে দর্শকদের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মধ্যে ফেলতে হলে কী লাগে? ভয়ানক সব মেকআপ? কস্টিউম ডিজাইন? অডিও ইফেক্ট? নাকি ক্যামেরার কারসাজি?

আমার মতে, অডিও ইফেক্ট ও ক্যামেরার কারসাজিই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে কেবল ক্যামেরা আর ঘটনাতেই দর্শককে গা শিরশির করা অবস্থায় ফেলা যায়। গতকাল দেখা ছবি Quarantine-ই তার প্রমাণ।

গতকাল রাতে এলোমেলোভাবে চ্যানেল ঘোরানোর সময় এইচবিও-তে দেখলাম ৫ মিনিট পর Quarantine ছবি শুরু হবে। নাম শুনে ইন্টারেস্টিং লাগলো তাই আইএমডিবিতে সার্চ করলাম। ঠিক সার্চ করলাম বললে ভুল হবে। ফায়ারফক্সের লোকেশন বারে Quarantine imdb লিখে এন্টার দিলাম। সরাসরি ঐ মুভির পেজে চলে গেলো। ছবির প্লট দেখে নিশ্চিত হয়ে গেলাম এই ছবিটা দেখতে যাচ্ছি।

যেই কথা সেই কাজ। ছবিটা দেখলাম। আমার মনে হয়, হরর ফিল্মে এতো কম অডিও ইফেক্ট নিয়ে মুভি কমই আছে। পুরো ফিল্মে তেমন কোনো সাউন্ড ইফেক্ট তো নেই-ই, মেকআপও মাত্র শেষ দৃশ্যে কয়েক পলকের জন্য দেখা গেছে। এবারে আসুন কাহিনীটা জানা যাক।

সরকার হঠাৎই রাতের মধ্যভাগে একটি বিল্ডিং ভেতরে মানুষসহই সিল করে দেয়। ভেতরে তখন বেশকিছু মানুষ ছিল যারা জানতো না কী জন্য বিল্ডিংটি সিল করা হয়েছে। কিন্তু পরে সেই বিল্ডিং-এ প্রবেশের পর ভেতরের কাউকেই আর পাওয়া যায় না। অজ্ঞাত কারণে সবাই গায়েব। কী হয়েছিল তাদের ভাগ্যে? তারা কোথায় উধাও হয়ে গেছে? এসবের কোনো উত্তর নেই। হঠাৎই পাওয়া যায় একটি টিভি ক্যামেরা। টিভি ক্যামেরার ভিডিও টেপে রয়েছে সব সত্য। সে রাতে কী হয়েছিল তা জানতেই এই ভিডিও টেপ চালানো হয়।

আর এখানেই ছবির শুরু।

টেলিভিশন রিপোর্টার একটি মেয়ে আর ক্যামেরাম্যান স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের অফিসে যায় ফায়ারম্যানদের জীবনযাত্রা রেকর্ড করতে। তাদের বিল্ডিং-এর বিভিন্ন স্থান দেখানোর পর রাতের একটা সময়ে ৯১১-এ ফোন করে একটি মহিলার অসুস্থতার কথা জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে রিপোর্টার ও ক্যামেরাম্যানও যায় সেই বিল্ডিং-এ। বৃদ্ধার শরীরে ক্ষত দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের বদলে সেখানে আসে অসংখ্য পুলিশ। তারা মেগাফোনে ঘোষণা করে সবাইকে শান্ত থাকতে বলে। তারা জানায়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভেতরের সবাইকে বাইরে নিয়ে আসা হবে। অথচ পুলিশই হেলিকপ্টার দিয়ে বিল্ডিং থেকে বের হওয়ার সমস্ত পথ আটকে দিয়ে বিল্ডিংটিকে সিল করে দেয়।

ভেতরের মানুষগুলো জানেনা কী জন্য বিল্ডিংটি আটকে দেয়া হয়েছে। মোবাইলের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। বাইরের সঙ্গে সব রকম যোগাযোগ বন্ধ। ইলেকট্রিসিটি বিচ্ছিন্ন করার আগ মুহুর্তে ভেতরের মানুষগুলো বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে টিভিতে দেখে, বাইরে এক পুলিশ অফিসার রিপোর্টারদের জানাচ্ছেন, বিল্ডিংয়ের ভেতর থেকে সবাইকে বের করে নেয়া হয়েছে!

অথচ তারা সবাই ভেতরে। জীবিত। Quarantined.

ছবির চিত্রগ্রহণ কেমন আশা করি ইতোমধ্যেই বুঝতে পারছেন। একটি ভিডিওটেপই পুরোটা ছবি। এর বাইরে কোনো কথা নেই। ক্যামেরাম্যানের কথাবার্তা, রিপোর্টারের কথাবার্তা, বিল্ডিংয়ের ভেতরের বিভিন্ন দৃশ্য ইত্যাদি এমনভাবে ক্যামেরাবন্দী করা হয়েছে যেন এটা কোনো ছবি নয়, বাস্তব কোনো ভিডিওটেপ। আর এখানেই দর্শকদের রুদ্ধশ্বাসে রাখার আসল কৌশল।

আগেই বলেছি ছবিটিতে তেমন কোনো সাউন্ড ইফেক্ট বা মেকআপ নেই। তবুও ছবিটা দেখার সময় গা শিরশির করেছে একটাই কারণে, এর প্রতিটা মুহুর্ত ছিল রিয়েলিস্টিক। দেখার সময় মনোযোগ দিলে মনে হবে আপনিও তাদেরই একজন। একটা পর্যায়ে বিল্ডিং-এ আটকে দেয়া লোকগুলোর অসহায়ত্বটা আপনার মধ্যে সংক্রামিত হবে।

অবসর সময়ে দেখে নিতে পারেন দারুণ এই মুভিটি। এটি প্রথমে REC (ক্যামেরায় রেকর্ডিং-এর সময় যে লেখা উঠে) নামে প্রকাশিত হয় এবং পরে ২০০৮-এ রিমেক করে নাম পরিবর্তন করা হয়। এর সিকুয়েল REC 2 বের হয় ২০০৯-এ। সেটা দেখার ইচ্ছে আছে। সময় পেলেই বসে যাবো ভিন্নধর্মী হরর ফিল্মের স্বাদ উপভোগ করতে।

প্রথম প্রকাশ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:০৩
১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×