১। মানুষ
মানুষের ছিদ্দত দেখে কাঁদি, চুপি চুপি- যদি মানুষ জেনে যায় –
লাহনতের এমন নজির কলি জমানায় আর কখনো দেখিনি আমরা
কোথাও তৃষ্ণার জন্য তিরাস নাই, ভয়ংকর ছায়াশূন্য বিরান জগত
আমরা সূর্যের কছে ছায়াপ্রার্থী, নিঃসংকোচে মেঘের কাছে জলের মিনতি
মেঘের আছে জলহীনা উড়াঊড়ি, আর অনাদির বাষ্প। আমরা যারা আদি অধ্যায়-
অসীমের কারবার, অন্তহিন অন্তর্লিনতার চটি বই পড়ি – আদি অধ্যায়
আমরা যারা জন্ম ও মৃত্যুর পাহারাদার, সাক্ষী- কখনো কালভেরী, কখনো সানাঈ
মানুষের লান্নত দেখে কাঁদি, নিরিবিলি- যদি মানুষ জেনে যায় -
আমি বাঙলার মুন্ডিত মাঠে ফসলের জন্য সিজদারত
আমি আউলা বাতাসের খপ্পরে পড়েছি
আমি আমার মঞ্জিল মকসুদের প্রতিতিরন্দাজ
আমি আমারই মাঠে ঘূর্ণিমন্ডল, বিপ্রতীপ বাতাস
মানি মানুষের কষ্টই কবিতা, আমি জন্ম গ্রহণ করি কাব্যে
এই ছায়াশূন্য বিরান প্রান্তরে,
উদাম হিরম্ময় বাতাসের সাথে চৈতালি দোস্তালি পাতাবো ।।
২।
পড়শি বিষয়ক একটি পদ্য
অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্ধ্যায়, খবিশ তিমির যখন শিয়াল, অস্তিত্বের কাছাকাছি গোপন
গর্ভের সন্তান যখন, অহর্নিশ জ্বালাতন করে, শিবানির শিৎকার, মগমার্গে
যখন নালায়েক বাতাস গলা কামড়ে ধরে। আমি শিকার হয়ে যাই।
অবুঝ অশ্রু, শিশির সন্তর্পণে কুসমে কামাদ্র, জন্ম হয় অচেনা নদীর
আমি অচেনা নদীর জলে তোমারই অশরিরি ধারা, নদীর রেখা ধরে
উত্তরের দিকে যাবো।পশ্চিমে খোয়াই পথ।আমি দিগম্বর বনানির বুনো হাঁস।
সরোবরে সংঘবব্ধ সার্বভৌম পাখিদের অধিপতি, কানন কুহকে ঢাকা।
আচেনা তিমিরে আমি সার্বভৌম আদি, নক্ষত্রের বিমূর্ত রঙ, জন্মের প্রতিটি ক্ষণ মুখস্ত জানি
কোথায় আমাদের তল্লাট পুড়ে খাক। -সব জানি, কবিদের সব জানতে হয়।
৩।
নিয়ামত
পাহাড় গলে গলে পড়ছে, সর্বনাশ ধাওয়া করছে, পলাতক হাওয়া
আসমান অধির, মেঘজন্মের রেষারেষি, দিগন্ত ফাটাফাটি, রঙের ঘোড়া
আমি এই দেখে হাউ হাউ করে কাঁদছি।
আমি দেহক্ষেত্র রসুইঘর বানিয়েছি, একটু গোলাপজল আর বাতাবি লেবুর নিঃশ্বাস
আমার মনস্থির, প্রাণধর্মের মেশামেশি, জ্বলন্ত অগ্নিগিরি, আমি দোজখের রাঁধুনি
প্রিয়পাত্রবিষয়ী সকল সত্য আমার ।।
অশ্রু স্বাধীন, রোদনরিক্ত আমার চোখ, পৃথিবীর সমস্ত রিক্তের বেদন
নজরুলের নীরবতার মতো বাংলাদেশ, সমস্ত হাহাকার ইতিহাসময়
ফালি ফালি আসমানের টুকরা দিয়ে আমাদের চৌচালা ঘর
এখন মরা লাশের গন্ধ, শহর- লাশঘর। আমি অবিনাশি সঙ্গীতের প্রথম কলি
সর্বশেষ প্রস্ফুটিত পুষ্পের কাছে প্রাণ প্রার্থনা করি ।।
৪।
বিচার
ভয়াল তমসা ছিল, চেটেপুটে খেয়ে নিল সমস্ত আলো
এমন নীরবতা, মনে হয় অলক্ষী স্তদ্ধতা মানুষের স্বরকল্প, কাঁদে
এমন বিপদ আমাদের দেশে আর আসেনি কখনো
বাতাস শয়তানি করে, এই মধ্যরাতে সকল জানালা, পদ্ম পবিত্র জল, সরস্বতি নদী
জ্যোৎস্না, দহনস্নিগ্ধ সাদা খই, জুনের জুঁই প্রভাত, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায়
এমন স্পন্দন, স্পর্ধায় সমস্ত পর্দা একবার আমাদের পর্দানশিন করে
আমার অপরের খোঁজে আমি পর্দানশীন
আর আমি আমার মুখ দেখাবো না, ঢলপহরের আগে, মোরগবাগের সময়
শুধু একবার জলের কাছে, সমস্ত পাখির আগে আমি ছুঁয়ে যাই, প্রথম ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





