somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষকের দাবি, "আইনস্টাইনের তত্ত্ব পরিপূর্ণ করেছি.

০৮ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অধ্যাপক ওসমান গনি


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ওসমান গনি তালুকদার এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুসফিক আহমদ দাবি করছেন, তাঁরা যৌথভাবে গ্যালিলিও, নিউটন, আইনস্টাইন ও ডি-ব্রগলির তত্ত্বের সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের ১৫ বছরের গবেষণালব্ধ তত্ত্বের মাধ্যমে তাঁরা পেয়েছেন তিনটি সমীকরণ ও
কিছু মৌলিক ধ্রুব সংখ্যা। আর এই সমীকরণ ও ধ্রুব সংখ্যা দিয়ে পূর্ণতা লাভ করবে বা সম্প্রসারিত হবে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার মতবাদ।
সংবাদ সম্মেলনে আরো দাবি করা হয়, উপপারমাণবিক কণা নিউট্রিনোর আলোর গতিকে অতিক্রম করার সাম্প্রতিক এক পরীক্ষার খবরে বিশ্বে যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তার ইঙ্গিত আজ থেকে ১০ বছর আগেই অধ্যাপক ওসমান গনি তালুকদার তাঁর একটি বইয়ে দিয়েছিলেন। বইটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছিলেন, নিউট্রিনো নামের একটি বস্তুকণিকা আছে, যা আইনস্টাইনের সূত্রকে মানছে না। ওই সময়ে সংবাদপত্রেও তাঁর এই দাবির কথা প্রকাশিত হয়েছিল।
গতকাল শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুবেরি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষক ওসমান গনি তালুকদার এসব তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, আগামী ডিসেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের এই দাবি ও তত্ত্ব প্রমাণ করবেন। এ জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ওসমান গনি বলেন, তিনি ও মুসফিক আহমদ ১৯৯৬ সাল থেকে আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি (আপেক্ষিকতা) মতবাদ নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। প্রথমদিকে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলাদা কাজ শুরু করেন। তবে একটা ব্যাপারে দুজনেই একমত ছিলেন যে বস্তুকণিকার বেগ আলোর চেয়ে বেশি হতে পারে। পদার্থবিজ্ঞানের কিছু বিদ্যমান তত্ত্বের ভিত্তিতেই তাঁরা এই ধারণা পান। এই ধারণাগুলো তাঁরা প্রবন্ধ আকারে বিভিন্ন জার্নালে পাঠালেও তা প্রকাশিত হয়নি। পরে অধ্যাপক ওসমান গনি নিজ উদ্যোগে ২০০১ সালে 'অ্যান অল্টারনেটিভ অ্যাপ্রোচ টু দ্য রিলেটিভিটি' শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেন।
বইটি প্রকাশের সময় অধ্যাপক ওসমান গনি একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, বস্তুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে এবং নিউট্রিনোর কিছু ব্যবহার আইনস্টাইনের রিলেটিভিটির মতবাদকে লঙ্ঘন করে। দেশের শীর্ষ দুটি দৈনিকে তাঁর এই বক্তব্য ছবিসহ প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি অধ্যাপক মুসফিক আহমদ ও অধ্যাপক ওসমান গনির বেশ কিছু প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এই দুই গবেষক যৌথভাবে ঘোষণা করেন, এ পর্যন্ত আইনস্টাইনের মতবাদগুলো ছিল অসম্পূর্ণ। আইনস্টাইন পাঁচটি সমীকরণ এবং একটি মৌলিক ধ্রুব সংখ্যা দিয়ে গেছেন। আর তাঁদের নির্ণিত তিনটি সমীকরণ এবং কয়েকটি ধ্রুব সংখ্যার মাধ্যমে আইনস্টাইনের মতবাদ সম্প্রসারিত হবে এবং সেই সম্প্রসারিত রূপই একবিংশ শতাব্দীতে পদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি হবে বলে তাঁরা দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মুসফিক আহমদ সম্পর্কে অধ্যাপক ওসমান গনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, 'মুসফিক আহমদ আমার শিক্ষাগুরু। আমাদের এই গবেষণা মূলত মুসফিক আহমদের একটি এবং আমার নিজের একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে।'
অধ্যাপক ওসমান গনি আরো বলেন, এর বাইরেও মুসফিক আহমদের আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে, যার মধ্যে তিনি একটির নাম দিয়েছেন 'রেসিপ্রোকাল সাইমেট্রি'। এ-সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রবন্ধ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রবন্ধ পর্যবেক্ষকরা অত্যন্ত উঁচুমানের বলে মূল্যায়ন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুই গবেষক ছাড়া রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, রেজিস্ট্রার এম এ বারী, প্রক্টর চৌধুরী মুহম্মদ জাকারিয়া, ছাত্র উপদেষ্টা গোলাম সাবি্বর সাত্তার তাপু, জনসংযোগ কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন মিশ্রসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার বিশ্বাস, এই দুই গবেষক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।' গবেষণার কাজে তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও উপাচার্য আশ্বাস দেন।


সূত্রঃ কালের কন্ঠ

তাদের জানাই অভিনন্দন । আমরা আবারো প্রমান করলাম , আমরা সব পারি । শুধু একটু সুযোগ আর সহযোগীতা প্রয়োজন , আমদের এই বিজ্ঞানীদের জন্য ।
৩৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×