আমাদের ক্লান্তহীন অন্তহীন কথার জমাটবাধা শব্দের ভেতর থেকে ঝড়ে পড়া এক একটি জমানো বর্ণমালা দিয়ে তোমাকে অথবা নিজেকে বলা আমার অসমাপ্ত কথাগুলি সাজাতে গিয়ে দেখলাম শব্দের জটভাঙা শব্দগুলি আজ ডানা ভাঙা চড়ুই। নিরবে অথবা সরবে ব্যক্ত করা আমাদের সব আয়োজন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর আমরা ফিরে যাই নিজ নিজ জানালার পাশে। নিয়ত ভাঙা আর গড়ার টানাপোড়েনের মাঝে একদিন অন্যসব দিনের মতো সন্ধ্যার কাছে আত্মসমর্পন করে আবছায়া হয়। অবশেষে আমরা বুঝতে পারি আমাদের দেবার মধ্যে কোনো কার্পণ্য ছিল না -যা ছিল তা সবটুকু নেয়ার মাঝে সংকোচ। যেখান থেকে শুরু হলো আমাদের মিশে যাওয়া পথ, জানি আর ফেরা হবে না সেখানে। যেখানে যাব বলে একদিন সুতাহীন ঘুড়ির মতো মানচিত্রহীন পথ নির্দেশিকা পেয়েছিলাম নিজেদের অজান্তে জানি সেখানেও পৌঁছানো হবে না আর। তবে ধরা যাক, আজ থেকে বহুদিন পর কোনো একদিন আমরা চলে যাই যদি আমাদের স্বপ্নের চিলেকোঠায় - মুখোমুখি দেখা হলে পড়ে কী বলল দুজনের কাছে দুজন?
রুশোর সেই কথাটা মনে পড়ে যাচ্ছে কেন জানি বারবার। যদিও আমাদের ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে তার কোনো মিল নেই; তবে মিল খুঁজতে গিয়ে অমিলও নেই। তাই বলে যাই- মানুষ যেদিন একখণ্ড বাঁশের মাথায় লাল পতাকা গেড়ে মাটিতে বসিয়ে বলল- এটা আমার, সেদিনই ছিল সভ্যতার শেষ দিন। কথাটা খুব সাদামাটা ভাবে অসাধারণ। দাবির ভেতর দিয়ে যা পাওয়া যায় দখলের ভেতর দিয়ে তার সবটুকু হারায়। ধরো, কোনো এক বিষণ্ন দুপুরে দূর থেকে ভেসে আসা কোনো এক একাকী দোয়েলের নিজেকে হারাবার অথবা ফিরে পাবার আত্মচিৎকারে- আমাদের দুজনের কারো একজনের ঘুমভাঙা ক্লান্ত শরীরে যদি অতীতের ম্লান হওয়া ধূসর ভালোবাসাবাসিহীন স্মৃতির দিনগুলির ভেঙে যাওয়া টুকরো আয়নায় মুখ ভেসে ওঠে, তবে ছেলেবেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই স্বপ্নের ডাকটিকিটের খাতাটির মতো বেদনায় খুঁজে নেব কি তবে বেদনার সুখ?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


