somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিরচেনা তুমি

০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্টেশনে তপু দাঁড়িয়ে আছে । কাধে ব্যাগ , ধবধবে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট। অপেক্ষা করছে রুপার জন্য। ট্রেন ছাড়তে এখনো অনেক সময়।প্লাটফর্মে তেমন লোকের ভিড় নেই। কিছু ফেরিওয়ালা , কুলি আর ঘর ছাড়া কিছু মানুষ। সকাল ৭ টা। রোদ উঠে গেছে। তপু সিগারেট ধরালো । রুপা বারন করেছিল , এখন লুকিয়ে লুকিয়ে খায়। ছাড়তে পারে নি। রুপা তপুর দিকে এগিয়ে আসছে। শত বছরের পুরানো এই স্টেশনে আজ পরী নেমেছে । শাড়ীতে এই প্রথমবার রুপাকে দেখল । সিগারেট ফেলে দিল তপু। মানুষের সব চেয়ে বড় অভিশাপ হচ্ছে মায়া। এই মায়া না থাকলে কেউ আর কষ্ট পেত না। এতো মায়া সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের নেই। রুপা যখন পাশে এসে দাঁড়ায় নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয় তপুর। এই দুই বছরের পুরটা সময় কেটেছে ঘোরের মধ্যে। এতো ভালোবাসা মানুষের জীবনে না আসাই ভালো । হারানোর ভয় যে অনেক কষ্টের।

ট্রেন ছাড়তে আর কত বাকি?
তপু বলল ,”কিছু খেয়েছ তুমি?”
না।
পাশের বেঞ্জে বসে পড়লো দুজন।কিছু সময় কোনো কথা হলো না।রুপা ব্যাগ থেকে পানির বোতল তুলে নিল।
আচ্ছা আমাদের পৌছাতে কত সময় লাগবে?
জানি না , হয়তো ৮ ঘন্টা। তুমি সব কিছু নিয়ে এসেছো?
রুপা বলল,”না । হারমোনিয়ামটা আনতে পারলাম না।”
দাদা দেয় নি বুঝি?
চুপ করে আছে রুপা । একভাবে কিছু সময় কেটে গেল।অনেক সংকোচ ,দ্বিধা ভীড় করতে লাগলো মনে। হয়তো রুপারও ঠিক তাই হচ্ছে। অনবরত পা দোলাচ্ছে রুপা।মুখটা কি শান্ত। দীঘির জলের মত,শরতের আকাশের মত। ডান পায়ে নুপর পরেছে আজ । প্রথম টিউশনির টাকায় কেনা নুপুর।
ট্রন চলে এসেছে। এই স্টেশন থেকে তেমন যাত্রী ওঠে না। পুরো বগিতে হাতেগোনা কিছু মানুষ। ব্যাগ রেখে জানালার পাশে বসলো রুপা। তপু পাশে বসতেই কাধে মাথা রাখলো রুপা। কোনো সংকোচ নেই, এ যেন অনেক দিনে চেনা চওড়া কাধ। লোকে দেখবে বলে রিকক্সার হুড তুলে দেয়া রুপা আজ অবলিলায় তপুর কাধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে আছে। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। আস্তে আস্তে গতি বেড়ে যাচ্ছে, সব কিছু ছেড়ে দূরে চলে যাচ্ছে কিছু স্বপ্ন। হয়ত এই ট্রেনের অন্য কামরায় আরো কিছু স্বপ্ন চলে যাচ্ছে।বাতাসে রুপার চুল মুখে এসে পরছে। হাত দিয়ে সরিয়ে দিল তপু।রুপা আর একটু কাত হয়ে তপুর বা হাতটা জড়িয়ে ধরলো। সময় কেটে যাচ্ছে ,অসহ্য ভালোবাসায় পুড়ছে দুটি মানুষ।

একটা ছোট বাসা। সাদামাটা দেয়াল । রান্না ঘরে রুপা ,শাড়ীর আচল কোমরে গুজে রেখেছে। জানালা দিয়ে মায়াময় চাদের আলো মোমের আলোতে মিশে একাকার হয়েছে। চা নিয়ে পাশে বসল রুপা। কাপ এগিয়ে দিল তপুর দিকে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।সারাদিনের কান্তি একটু একটু করে কেটে যেতে শুরু করেছে। সিগারেট শেষ হতেই কাছে এগিয়ে এলো রুপা। কাধে মাথা রাখলো।মানুষের মনের কথা বোঝার ক্ষমতা নেই ঠিকই । তবুও মনে হলো দুজনেই নিচু স্বরে বলল ভালোবাসি। কোনো বাধা ছিল না দুজনার। বাধা হয়ে দাড়ালো একটা রাত ,কিছু পশুর মাতাল উন্মাদনা। যার হিংস্রতা থেকে বাচতে পারেনি রুপা। কিছু পশুর কামনার শিকার রুপা । দেহটাকে তারা হয়তো একবার ছিড়ে নিজেদের করে নিয়েছে। কিন্তু মনটাকে মেরে ফেলেছে চিরতরে। এতো দিনেও তপু ভোলাতে পারে নি। এই সমাজ রুপার মনটাকে বাচতে দেয় নি, অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে তপুর কাছ থেকে। হয়তো একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ,রুপা আবার হাসবে। সকালের রোদ এসে ছুয়ে যাবে রুপার নরম গাল। ভালোবাসায় ভরে যাবে সারাঘর।

ট্রেন থেমেছে। স্টেশনের বাইরে এসে রিকক্সা ঠিক করল তপু। রাস্তার ওপারে কিছু বখাটে ছেলে বসে আছে। রুপার দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।হেসে হেসে বলছে এই সেই ভিডিওর পরী। ভয়ে আতংকে কুকড়ে যাচ্ছে রুপা। আরো আকড়ে ধরেছে তপুকে। এই শহর তাকে বাচতে দেবে না।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আছ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯




এই পৃথিবীতে তুমি কোথায় আছ প্রজাপতির মত ?
হৃদয়ে কি দু:খ জাগে উত্তাল ঢেউয়ের মত কত
দেখ মধু মঞ্জুরী লতায় ফুল ফুটেছে তোমার আশায়
তুমি কি ছুঁয়ে দিবেনা তারে তব ভালোবাসায়।

এই পৃথিবীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

অনিচ্ছা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল: সিএনএন।

রাতভর উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।
যুদ্ধবিরতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সবাই যে যার মত নিঃসঙ্গ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৮



নিস্তব্ধ রাত অথবা দিনের দুপুর
যখন একাকি আনমন
নিঃসঙ্গতা এসে চোখে দাঁড়ায়, কোথাও কেউ নেই;
হতে হয় নিমেষই নিঃসঙ্গতার কাছে নমন।

কেউ আসে না মনের ঘরে
খোঁজ নিতে দেয় না কেউ উঁকি;
স্মৃতিঘরে ফিরে যেতেও চাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেপাল সিরিজ ১ঃ শিক্ষায় নুতন চেষ্টা

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

আসেন নেপালের নুতন সরকার এসে ১০০ দিনের যে পয়েন্ট গুলো ঘোষনা দিয়েছে তার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এই কয়েক দিনে কি করলো, জানি! অন্যান্ন পয়েন্ট নিয়েও লিখবো, আজকে শুধু শিক্ষা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের "ঘাস কাটা" এবং "মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" কৌশল

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩৩


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ভৃত্যসুলভ মিত্র মধ্যস্থতা করে আমেরিকা-ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে - এই খবর শুনে মনে সংশয় তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×