অনেকে বলতে পারেন বাংলাদেশ জাতীয় দল ওয়ানডে খেলে টেস্টের মত আর টেস্ট খেলে ওয়ানডের মত। কিন্তু আমি তা বলব না, বাংলাদেশ দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড় আসলে দলের জন্য না
বাংলাদেশের কতিপয় খেলোয়াড় যারা ওপেনিং এ নামেন তাদের স্ট্রাইক রেট প্রায় ৬৫% অনেক কম। কারন কতিপয় ক্রিকেট বোদ্ধারা বলেন একজন মেরে খেললে আরেকজনের ধরে খেলতে হবে। এর মানে হল বাংলাদেশ দলে, একজন ৬ মারলে আরেকজন ৬ বল নষ্ট করবে। তাহলে একজনের ৬ মেরে লাভ কী হল।এতবড় মাঠে তারা একটা সিঙ্গেল বের করতে পারেনা, আর তাদের হয়ত উদ্দেশ্য থাকে ৪০ বলে হোক ৫০ বলে হোক, ২০-২৫ রান করে আসা, তাহলে পরের ম্যাচে চান্স পাওয়া নিশ্চিত।
প্রায় প্রতি ম্যাচেই এমন হয়, আজকের খেলায় দেখুন, ২৯৯ রান করার উদ্দেশ্যে!!! (আমার মনে জয়ের উদ্দেশ্যে নয় তারা সম্মানজনক হারের উদ্দেশ্যে) তারা প্রথম ১৫ ওভারে যখন ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশান থাকে তখন কম করে হলেও, ১৫ ওভারে ৮০ রান নেয়া উচিত, তখন তারা করে মাত্র ৫৪ রান তাও ১ উইকেটে। ৫০ রান হয় ১৩.২ ওভারে।
আজকের চমক ছিল নাইমের ( ছক্কা নাইম???) ওপেনিং নামা। মনে করেছিলাম সে যখন নেমেছে আজকে হয়ত পাওয়ারপ্লেতে ভাল রান তোলার প্ল্যান আছে। কিন্তু সে আর কি খেলবে, নিজের সিনিয়রদের অনুসরন করে, দলের জয়পরাজয় বাদ দিয়ে, নিজের অবস্থান ধরে রাখার জন্য অন্তত ২০-২৫ করতে হবে তা ৪০-৫০ বলে হলেও। অবশেষে নিজের অবস্থান যখন অনেকটা নিশ্চিত তখন সে সাহস পেয়ে পেটাতে শুরু করে। যার ফলে ৫২ রান ৮২ বলে, নাহলে ৫২ রান ১০২ বলে হয়ত হত।
যাইহোক আমি নাইমকে শুধু দোষ দিচ্ছি না, সে দলের একটা ইউনিট মাত্র, তামিম ২১ রান ৩৮ বলে, সেও খারাপ খেলেছে।
দলের ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের হয়ত, বলে দেওয়া থাকে,
আর তখন তারা পেটাতে গিয়ে আউট হয়ে যায়, হয় একসাথে অনেকগুলো উইকেটের পতন।
অথচ তারা যদি বলগুলো নষ্ট না করে একটু অন্তত বলে বলে রান নিত তাহলে হয়ত ৬ বলে ৮ রান থাকত যা নেয়া সম্ভব।
এক্ষেত্রে ওপেনার ব্যাটসম্যানদের গুরু দায়িত্ব বল বেশি নষ্ট না করা।কিন্তু তারা দলের কথা না চিন্তা করে, দলে চান্স পাওয়ার চিন্তা করে অন্তত ৫০ বলে হলে ২০-২৫ রান নেয়ার চিন্তা করে।
আর এজন্য আশরাফুল, তামিমরাও হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের মারমুখি খেলা থেকে দলে চান্স পাওয়ার জন্য ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে হলেও ৫০ বলে ২০-২৫ নেয়ার জন্য আগ্রহী হয়।
এর কারন হল বাংলাদেশ দলের কালচার এবং ইতিহাসটাই এমন। যে বোর্ডের তোষামোদি করতে পারবে, যে পাওয়ারফুল সেই দলে চান্স পাবে, খেলোয়ারের পারফর্মেন্স শিথিলযোগ্য (!!!???)।
দেখুন আজ নাইমের জায়গায় শুভাগত হোম খেলতে পারত, নতুন হিসেবে খেলেও মাত্র ২-৩ ম্যাচেও তার বলে বলে রান ও এভারেজ রান ৩৫ প্রায়। এছাড়াও শাহারিয়ার নাফিজ, মাহমুদুল রিয়াদ (অসুস্থ!!!), ইলিয়াস সানি, আরো অনেক ভাল খেলোয়াড় আছে যারা ঘরোয়া লীগে খুবই ভাল খেলে।
স্বজনপ্রীতি, ব্যাক্তিগত পছন্দ, দুর্নীতি বাদ দিয়ে...পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে দলে প্লেয়ার নিতে হবে। অভিজ্ঞতার অবশ্যই দাম আছে, কিন্তু নতুনদের তুলনায় অভিজ্ঞরা যদি খারাপ খেলে তাহলে এই অভিজ্ঞদের তো বাদ দেয়াই দরকার। আর পাইপলাইনে যখন খেলোয়াড় আছে, তবে প্রতিযোগিতা ভিত্তিতে যারা ভাল খেলে তাদের জাতীয় দলে চান্স দিলেই তো খেলোয়াড়রা ভাল খেলার জন্য আগ্রহী হবে।
আর অনেক হয়েছে, এখন আর সম্মানজনক হার নয়, জয়ের জন্য খেলতে হবে। আয়ারল্যান্ড যদি ৩২০ রান উপরে তাড়া করে জিততে পারে, তাহলে আমরা কেন ২৯৯ নিতে পারব না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

